📄 মুসলিম ও কাফির বাহিনীর সমরোপকরণ
মুসলিম ও কাফির বাহিনীর সমরোপকরণ বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, ঘোড়া ২টি, এক বর্ণনামতে তিনটি, উট ৭০টি এবং পতাকা ছিল তিনটি। কাফিরদের সৈন্যসংখ্যা বাহির হওয়ার সময় ছিল ১৩০০, কিন্তু পথে কিছু সৈন্য চলিয়া যাওয়ায় তাহাদের সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১০০০। তাহাদের ঘোড়ার সংখ্যা ১০০, লৌহবর্ম ৬০০, অসংখ্য উট এবং পতাকা ছিল ৩টি।
প্রভাতবেলায় কুরায়শগণ হিংসা ও ক্রোধভরে সম্মুখপানে অগ্রসর হইল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বালুর ঢিবি হইতে উপত্যকার দিকে আগমন করিতে দেখিয়া বলিলেন, “হে আল্লাহ! এই কুরায়শদল তাহাদের অহংকারীদিগকে লইয়া আগমন করিয়াছে, তোমাকে চ্যালেঞ্জ করিয়াছে এবং তোমার রাসূলকে অবিশ্বাস করিয়াছে। হে আল্লাহ! তুমি যে সাহায্যের অঙ্গীকার আমার সহিত করিয়াছ সেই সাহায্য নাযিল কর। হে আল্লাহ সকাল বেলায় উহাদিগকে ধ্বংস কর"। তাহাদের দলের মধ্যে 'উতবা ইব্ন রাবী'আকে একটি লাল উটে আরোহী দেখিয়া তিনি বলিলেন, কওমের ভিতর কাহারও মধ্যে যদি কল্যাণ থাকিয়া থাকে তবে লাল উটের আরোহীর মধ্যে আছে। উহারা যদি উহার অনুসরণ করিত তবে সঠিক পথের সন্ধান পাইত। এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিলেন, হে আলী! হামযাকে ডাক। তিনি ছিলেন মুশরিকদের নিকটাত্মীয়। লাল উটের আরোহী কে? 'আলী (রা) বলিলেন, সে উতবা। সে কাফিরদিগকে যুদ্ধ করিতে নিষেধ করিতেছিল এবং তাহাদিগকে ফিরিয়া যাওয়ার নির্দেশ দিয়া বলিতেছিল, হে আমার কওম! তোমরা আমার মাথায় দোষ চাপাইয়া দিয়া বল যে, 'উতবা ভীরু-কাপুরুষ হইয়া গিয়াছে। কিন্তু আবূ জাহল তাহা অস্বীকার করিল।
খুফাফ ইব্ন ঈমা ইব্ন রূহাদা আল-গিফারীর নিকট দিয়া কুরায়শ দলের গমন করার সময় সে স্বীয় পুত্রকে দিয়া কিছু যবেহকৃত জন্তু হাদিয়া পাঠাইল এবং বলিয়া পাঠাইল, তোমরা সম্মত হইলে আমরা তোমাদিগকে অস্ত্র ও লোকবল দিয়া সাহায্য করিব। ইহার উত্তরে কুরায়শগণ বলিয়া পাঠাইল, তোমার সহৃদয় বার্তা আমাদের নিকট পৌছিয়াছে। তুমি-তোমার দায়িত্ব পালন করিয়াছ। আমাদের জীবনের কসম! আমরা যদি মানুষের সহিত যুদ্ধ করি তবে তাহাদের তুলনায় আমাদের কোনও দুর্বলতা ও অক্ষমতা নাই। আর যদি আল্লাহ্র সহিত যুদ্ধ করি, যেমনটি মুহাম্মাদ ধারণা করে, তাহা হইলে তো আল্লাহ্র মুকাবিলায় কাহারও কোনও শক্তি নাই।
কুরায়শদল যখন তাহাদের অবস্থানস্থলে অবতরণ করিবার পর তাহাদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাউযের নিকট আসিল। তাহাদের মধ্যে হাকীম ইব্ন হিযামও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহাদিগকে আসিতে দাও। আজ তাহাদের যে ব্যক্তিই এই হাউয হইতে পানি পান করিবে সে নিহত হইবে, তবে হাকীম ইন্ন হিযাম নিহত হইবে না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই বাণী সত্য হইয়াছিল। হাকীম ইব্ন হিযাম পরবর্তী কালে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খাঁটি মুসলমানরূপে জীবন যাপন করেন। অতঃপর তিনি যখনই খুব জোরদার কসম করিতে চাহিতেন তখন বলিতেন, সেই সত্তার কসম! যিনি আমাকে বদর যুদ্ধে রক্ষা করিয়াছেন।
📄 কুরায়শদের গুপ্তচর প্রেরণ
কুরায়শগণ তাহাদের স্থানে অবতরণ করিয়া সব কিছু গুছাইয়া লইবার পর 'উমায়র ইব্ন ওয়াহ্ আল-জুমাহীকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা জানিবার জন্য প্রেরণ করিল। 'উমায়র তাহার ঘোড়া লইয়া মুসলিম বাহিনীর চতুর্দিকে চক্কর দিল। অতঃপর তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া বলিল, তাহাদের সংখ্যা তিন শত পুরুষ। সামান্য বেশীও হইতে পারে, কমও হইতে পারে। তবে আমাকে আরও একটু সময় দাও। আমি দেখিয়া আসি যে, তাহাদের আত্মগোপন করিবার কোনও জায়গা বা তাহাদিগকে সাহায্য করিবার কিছু আছে কিনা। অতঃপর সে পূর্ণ উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়াইল, এমনকি বহু দূর পর্যন্ত চলিয়া গেল, কিন্তু কিছুই দেখিতে পাইল না। সে কুরায়শদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া বলিল, আমি কিছুই দেখিতে পাই নাই। তবে হে কুরায়শদল! আমি দেখিয়াছি কিছু উট যাহা মৃত্যু বহন করিতেছে। ইয়াছরিবের পানি বহন করার উট নিশ্চিত মৃত্যু বহন করিতেছে। একমাত্র তরবারি ব্যতীত উহাদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ করিবার এবং আশ্রয় লইবার আর কিছুই নাই। আল্লাহ্র কসম! আমার ধারণামতে তাহাদের এক ব্যক্তিও নিহত হইবে না তোমাদের একজনকে হত্যা না করা পর্যন্ত। তাহারা যখন তোমাদের মধ্য হইতে তাহাদের সমসংখ্যক লোক হত্যা করিবে তখন তাহার পর কল্যাণকর যিন্দেগী আর কি থাকিবে? কাজেই তোমাদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করিয়া দেখ।
অতঃপর কুরায়শগণ আবূ সালামা আল-জুশামীকে প্রেরণ করিল। সে তাহার ঘোড়ায় করিয়া মুসলমানদের চতুষ্পার্শ্বে ঘুরিয়া আসিয়া বলিল, আল্লাহ্র কসম! আমি কোনও শক্তিমত্তা দেখি নাই; অস্ত্রশস্ত্র বা অশ্বের পালও দেখি নাই। তবে এমন এক জাতিকে দেখিয়াছি যাহারা তাহাদের পরিবারের নিকট ফিরিয়া যাওয়ার কামনা করে না। তাহারা এমন কওম যাহারা মৃত্যুর দিকে নির্ভয়ে অগ্রসর হয়। তরবারি ব্যতীত তাহাদের প্রতিরক্ষা করিবার বা আশ্রয় লইবার আর কিছুই নাই। তাহাদের চক্ষুর পুতলি যেন ঢালের নিচে থাকা পাথর। তাই তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করিয়া দেখ।
📄 হাকীম ইন্ন হিযামের প্রস্তাব ও আবূ জাহলের প্রত্যাখ্যান
হাকীম ইব্ন হিযাম 'উতবা ইবন রাবী'আর নিকট গিয়া বলিল, হে আবুল ওয়ালীদ! আপনি কুরায়শদের মধ্যে বয়বৃদ্ধ ও মান্যবর নেতা। আপনি কি শেষ যমানা পর্যন্ত সর্বদা সুনামের সহিত স্মরণীয় হইয়া থাকিতে চাহেন? উতবা বলিল, তাহা কিভাবে, হে হাকীম! হাকীম ইন্ন হিযাম বলিলেন, আপনি লোকজনসহ প্রত্যাবর্তন করিবেন এবং আপনার মিত্র 'আমর ইবনুল হাদরামীর বিষয়টি নিজের যিম্মায় লইবেন। উতবা বলিল, আমি অবশ্যই তাহা করিব। আর তুমি আমাকে এই ব্যাপারে সহযোগিতা করিবে। সে তো আমার মিত্র, তাই তাহার রক্তপণ দেওয়া এবং তাহার সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব আমারই উপর। তুমি একটু হানজালিয়ার পুত্রের (আবূ জাহল) নিকট যাও। কারণ লোকের মধ্যে বিবাদ বাঁধাইয়া দেওয়ার ব্যাপারে তাহাকে ছাড়া অন্য কাহাকেও আমি ভয় করি না।
অতঃপর 'উতবা দাঁড়াইয়া বক্তৃতা দিতে শুরু করিল।সে বলিল, ওহে কুরায়শদল! আল্লাহ্ কসম, তোমরা মুহাম্মাদ ও তাঁহার সঙ্গীদের সহিত সাক্ষাত করিয়া কিছুই করিতে পারিবে না। আল্লাহ্র কসম! যদি তোমরা তাহাকে পরাস্ত কর তবে অবশ্যই তোমাদের কেহ এমন লোকের মুখমণ্ডলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিবে, যে তাহার প্রতি দৃষ্টিপাত করিতে অপছন্দ করে। সে হয়ত বা তাহার চাচাতো ফুফাতো মামাতো ভাইকে অথবা তাহার নিজের পরিবারের কাহাকেও হত্যা করিবে। তাই তোমরা ফিরিয়া চল। আর বিষয়টি মুহাম্মাদ ও অন্য সকল আরবের মধ্যে ছাড়িয়া দাও। তাহারা যদি তাঁহাকে পরাস্ত করে তবে তোমাদের মনস্কামনা সিদ্ধ হইবে। আর যদি অন্য রকম কিছু হয় তবে সে তোমাদেরকে এমন অবস্থায় পাইবে যে, তোমরা তাহার বিরুদ্ধে কোনরূপ খারাপ পদক্ষেপ গ্রহণ কর নাই, যাহা তোমরা চাহিতেছ।
এক বর্ণনামতে সে ইহাও বলিয়াছিল, আমি এমন এক জাতিকে দেখিতে পাইতেছি যাঁহারা মৃত্যুর আকাঙ্খা পোষণকারী। তোমরা তাঁহাদের নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। তোমাদের মঙ্গল হউক। হে আমার কওম! আজ তোমরা আমার মাথায় সমস্ত দোষ চাপাইয়া দাও এবং বল যে, 'উতবা কাপুরুষ হইয়া গিয়াছে। অথচ তোমরা জান যে, আমি তোমাদের মধ্যে কাপুরুষ নহি।
হাকীম ইব্ন হিযাম বলেন, অতঃপর আমি আবূ জাহলের নিকট গেলাম। সে তখন তাহার লৌহবর্ম পরিধান করিতেছিল। আমি তাহাকে বলিলাম, হে আবুল হাকাম। উতবা আমাকে এই বলিয়া আপনার নিকট প্রেরণ করিয়াছে (যাহা সে বলিয়াছিল তাহা উল্লেখ করিলাম)। তখন সে বলিল, "আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মাদ ও তাহার সঙ্গীদিগকে দেখিয়া উতবা ভীত হইয়া পাড়িয়াছে। কখনও না, আল্লাহ্র কসম! আমরা কখনও প্রত্যাবর্তন করিব না যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের ও মুহাম্মাদের মধ্যে কোনও ফয়সালা করিয়া দেন। উতবা যাহা বলিয়াছে তাহার অন্য কোনও কারণ নাই, বরং সে দেখিয়াছে যে, মুহাম্মাদ আর তাঁহার সঙ্গীবৃন্দ একটি উটের খোরাক। আর তাহাদের মধ্যে তাহার পুত্রও রহিয়াছে। তাই সে তোমাদিগকে ভীতি প্রদর্শন করিতেছে"।
আবু জাহল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করিবার জন্য মুসলমানদের হাতে নিহত 'আমর ইবনুল হাদরামীর ভ্রাতা 'আমের ইবনুল হাদরামীর নিকট লোক পাঠাইয়া বলিল, তোমার মিত্র এই উতবা লোকজনসহ ফিরিয়া যাইতে চাহিতেছে। অথচ তুমি স্বচক্ষে তোমার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্র দেখিতে পাইতেছ। উঠ এবং কুরায়শদের কতক প্রদত্ত অঙ্গীকার মুতাবিক তোমরা তাহাদের নিকট সাহায্য চাও এবং তোমার দ্রুতৃহত্যার প্রতিশোধ দাবি কর।
অতঃপর আমের ইবনুল হাদরামী দাঁড়াইয়া গেল। সে পরনের কাপড় খুলিয়া 'হায় আমর! হায় আমর' বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল। ইহার ফলে রণোন্মাদনা সৃষ্টি হইল। লোকজনের মনোভাব কঠোর হইল এবং তাহারা যে অমঙ্গলের উপর ছিল তাহার প্রতি আরও সুদৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ হইল। আর উতবা যে সিদ্ধান্তের প্রতি তাহাদিগকে আহবান জানাইয়াছিল তাহা ভণ্ডুল হইয়া গেল।
অতঃপর উতবার নিকট যখন তাহার সম্বন্ধে আবূ জাহলের উক্তি পৌছিল তখন সে বলিল, ‘নিতম্বে হলুদ রংকারী’ অতি সত্বর জানিতে পারিবে যে, কাহার নাড়ি ফাটিয়াছে, আমার না তাহার? অতঃপর ‘উতবা মস্তকে পরিধান করিবার জন্য শিরস্ত্রাণ তালাশ করিল, কিন্তু সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন কোনও শিরস্ত্রাণ মিলিল না যাহা দ্বারা সে স্বীয় মস্তক আচ্ছাদিত করিতে পারে। ইহা দেখিয়া সে তাহার চাদর মস্তকে জড়াইয়া লইল এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইল।
রাসূলুল্লাহ (স) ও তাঁহার সঙ্গীদের সংখ্যাস্বল্পতা দেখিয়া কুরায়শদের নেতা আবুল বাখতারী ইব্ন হিশাম, ‘উতবা ইবন রাবীআ, আবু জাহল ইব্ন হিশাম প্রমুখ বলিতে লাগিল, غَرَّ هَؤُلَاء دَيْنُهُمْ (উহাদের দীন উহাদিগকে বিভ্রান্ত করিয়াছে)। প্রকৃতপক্ষে তাহারা মনে করিয়াছিল, সংখ্যাধিক্যের মধ্যেই বিজয় নিহিত। আল্লাহ তা'আলা তাহাদের ধারণা খণ্ডন করিয়া এই আয়াত নাযিল করিলেন: إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَّرَضٌ غَرَّ هَؤُلَاءِ دِينُهُمْ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ. "স্মরণ কর, মুনাফিক ও যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা বলে, ইহাদের দীন ইহাদিগকে বিভ্রান্ত করিয়াছে। কেহ আল্লাহর প্রতি নির্ভর করিলে আল্লাহ তো পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়" (৮:৪৯)।
ইব্নুল মুনযির ও ইব্ন আবী হাতিম (র) ইব্ন্ন জুরায়জ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বদর যুদ্ধের দিন আবু জাহল দাঁড়াইয়া গর্বভরে বলিল, উহাদিগকে কায়দামত পাকড়াও কর এবং রশি দ্বারা মজবুত করিয়া বাঁধ, উহাদের একজনকেও হত্যা করিও না। তখন নাযিল হইল: إِنَّا بَلُونَاهُمْ كَمَا بَلُونَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ. "আমি উহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছি যেভাবে পরীক্ষা করিয়াছিলাম উদ্যান অধিপতিগণকে" (৬৮: ১৭)।
📄 সাহাবীদেরকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর জ্ঞানগর্ভ উপদেশ
রাসূলুল্লাহ (স) সমবেত সাহাবীদিগকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করিবার জন্য সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা প্রদান করেন। প্রথমেই তিনি আল্লাহ্ প্রশংসা করিয়া বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা যাহার প্রতি তাহাদিগকে উৎসাহিত করিয়াছেন আমিও তাহার প্রতি তোমাদিগকে উৎসাহিত করিতেছি এবং তিনি যাহা করিতে নিষেধ করিয়াছেন আমিও তাহা নিষেধ করিতেছি। আল্লাহ মহান, তিনি হকের নির্দেশ দেন, সত্য পছন্দ করেন, সৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্ম অনুযায়ী মর্যাদা দান করেন। তোমরা হকের মনষিলে পৌঁছিয়াছ। তিনি কেবল সেই আমলই কবুল করেন যাহা তাঁহার সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। নিরাশার সময় ধৈর্যধারণ করিলে আল্লাহ উহার দ্বারা মুশকিল আসান করিয়া দেন এবং দুঃখ-কষ্ট হইতে পরিত্রাণ দান করেন। আখিরাতে উহার বিনিময়ে তোমরা মুক্তি পাইবে। তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্ নবী আছেন। তিনি তোমাদিগকে সতর্ক করেন এবং সৎকাজের নির্দেশ দেন। তাই আজ তোমরা এমন কাজ করিতে লজ্জাবোধ করিও যাহা দেখিলে তিনি রাগান্বিত হন। কারণ তিনি ইরশাদ করিয়াছেন (৪০:১০):
لَمَقْتُ اللَّهِ اَكْبَرُ مِنْ مُقْتِكُمْ اَنْفُسَكُمْ.
"তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক" (৪০:১০)।
আল্লাহ তাঁহার কিতাবে যাহা নির্দেশ করিয়াছেন তাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিও, উহা মজবুতভাবে ধারণ কর। তাহা হইলে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইবেন এবং তোমাদের প্রতি রহমত ও মাগফিরাতের যে ওয়াদা করিয়াছেন তাহা তোমরা লাভ করিবে। কারণ তাঁহার ওয়াদা হক, তাঁহার কথা সত্য এবং তাঁহার শাস্তি কঠোর। আমি ও তোমরা মহান আল্লাহ্র সহিত রহিয়াছি। তাঁহার নিকটই আমরা আশ্রয় চাহি, তাঁহারই উপর ভরসা করি এবং তাঁহারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে। আল্লাহ আমাদিগকে এবং সকল মুসলমানকে ক্ষমা করুন।