📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বদর প্রান্তরে উভয় পক্ষের অবতরণ

📄 বদর প্রান্তরে উভয় পক্ষের অবতরণ


বদর প্রান্তরে উভয় পক্ষের অবতরণ
কুরায়শদল সম্মুখে অগ্রসর হইয়া উপত্যকার দূরপ্রান্তে বাতনে ওয়াদী ও উঁচু বালুর ঢিবির পিছনে অবতরণ করিল। আর রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমানগণ উপত্যকার নিকট প্রান্তে বালুকাময় প্রান্তরে অবতরণ করিলেন। উহা ছিল নরম ভূমি। ফলে মানুষের পা ও জন্তু-জানোয়ারের ক্ষুর অবিয়া যাইতেছিল। প্রথমদিকে কাফিরগণ পানির নিকটবর্তী ছিল। ফলে তাহারা উহা সংরক্ষণ করিল। আর পুরাতন কূপও তাহারা সংস্কার করিয়া লইল। অপরদিকে কূপ হইতে দূরে থাকায় মুসলমানদের খুবই অসুবিধা হইল। তাহারা পিপাসার্ত রহিলেন। তাহাদের উযূ-গোসলেরও সমস্যা দেখা দিল। তখন শয়তান তাহাদের কতকের অন্তরে ক্রোধের সঞ্চার করিয়া দিল এবং এই বলিয়া কুমন্ত্রণা দিতে লাগিল, তোমরা ধারণা কর, তোমরাই হকের উপর আছ। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নবী আছেন, আর তোমরা আল্লাহর বন্ধু। অথচ মুশরিকগণ পানির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করিয়া লইয়াছে। তোমরা তৃষ্ণার্ত রহিয়াছ। তোমরা একাগ্রচিত্তে সালাত আদায় করিতেছ। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা সেই দিন রাত্রে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষণ করিলেন যাহাতে সমস্ত উপত্যকা প্লাবিত হইল। উহাতে মুশরিকদের ভীষণ অসুবিধা হইল। তাহারা সম্মুখে অগ্রসর হইতে পারিল না। কিন্তু মুসলমানদের জন্য ইহা রহমতস্বরূপ হইল। ইহা দ্বারা আল্লাহ তাহাদিগকে পবিত্র করিলেন, শয়তানের কুমন্ত্রণার ক্লেদ দূর করিলেন। বৃষ্টিপাতের ফলে তাহাদের ভূমি সমতল হইল। বালু আঁটিয়া মজবুত হইয়া গেল। ইহাতে তাহাদের পা শক্ত হইল। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ বদরের পানির নিকট গিয়া অবতরণ করিলেন। প্লাবনের পানি দ্বারা মুসলমানগণ তৃষ্ণা নিবারণ করিলেন, উযূ-গোসল সম্পন্ন করিলেন সওয়ারীগুলিকে পানি পান করাইলেন এবং নিজেদের পানপাত্রগুলি পূর্ণ করিয়া রাখিলেন। ইহার প্রতিই ইঙ্গিত করা হইয়াছে কুরআন কারীমের এই আয়াতে: اِذْ يُغَشِّيْكُمُ النُّعَاسَ اَمَنَةً مِّنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً لِّيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلٰى قُلُوْبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الْاَقْدَامَ. "স্মরণ কর, তিনি তাঁহার পক্ষ হইতে শান্তির জন্য তোমাদিগকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং আকাশ হইতে তোমাদের উপর বারি বর্ষণ করেন। উহা দ্বারা তোমাদিগকে পবিত্র করিবার জন্য, তোমাদের মধ্য হইতে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসরণের জন্য, তোমাদের হৃদয় দৃঢ় করিবার জন্য এবং তোমাদের পা স্থির রাখিবার জন্য" (৮:১১)।
ইব্‌ন ইসহাকের বর্ণনামতে মুসলিম বাহিনীর আল-হুবাব ইব্‌নুল মুনযির ইব্‌নুল জামূহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন, যাহা মুসলমানদের জন্য ছিল খুবই মঙ্গলজনক। তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের এই অবতরণস্থল কি আল্লাহই আপনাকে নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন যাহা হইতে আমরা আর সম্মুখে বা পিছনে যাইতে পারিব না; নাকি ইহা শুধু নিজেদের অভিমত এবং যুদ্ধের কৌশল মাত্র? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইহা নিছক নিজেদের অভিমত ও যুদ্ধের কৌশল মাত্র। হুবাব ইব্‌নুল মুনযির (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইহা আমাদের অবতরণস্থল নহে; বরং লোকজনসহ সম্মুখে চলুন, যাহাতে আমরা শত্রুপক্ষ হইতে পানির নিকটতর হইতে পারি। আমরা সেখানে অবতরণ করিব, অতঃপর পিছনের অন্যান্য কূপ নষ্ট করিয়া দিব। আর আমরা সেখানে একটি হাউজ নির্মাণ করিয়া উহাতে পানি পূর্ণ রাখিব। অতঃপর আমরা শত্রু পক্ষের সহিত যুদ্ধ করিব। তখন আমরা পানি পান করিতে পারিব আর উহারা পারিবে না। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি সঠিক মত ব্যক্ত করিয়াছ। ইব্‌ন সা’দ-এর বর্ণনামতে জিবরীল (আ) আসিয়া বলিলেন, হুবাব যাহা বলিয়াছে তাহাই সঠিক। হাফিজ ইব্‌ন কাছীর (র) ইব্‌ন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হুবাবের পরামর্শের সময় জিবরীল (আ) রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ডান পাশে ছিলেন। তখন এক ফেরেশতা আসিয়া বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ আপনাকে সালাম পাঠাইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তিনিই সালাম, তাঁহার হইতেই আসে সালাম এবং তাঁহার প্রতিই সালাম। ফেরেশতা বলিলেন, আল্লাহ আপনাকে বলিয়া পাঠাইয়াছেন যে, হুবাব ইব্‌নুল মুনযির যে পরামর্শ দিয়াছে তাহাই সঠিক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে জিবরীল! তুমি কি ইহাকে চিন? জিবরীল (আ) বলিলেন, আকাশের সকলকে আমি চিনি না, তবে সে সত্যবাদী, শয়তান নহে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ সম্মুখে অগ্রসর হইলেন। মধ্য রাত্রিতে তাঁহারা শত্রু পক্ষ হইতে পানির নিকটতর স্থানে আসিয়া অবতরণ করিলেন। তাঁহার নির্দেশে কূপগুলি বিনষ্ট করিয়া দেওয়া হইল। তাঁহারা যে কূপটির নিকট অবতরণ করিয়াছিলেন উহাতে হাউজ নির্মাণ করিয়া পানি পরিপূর্ণ করা হইল। অতঃপর তাঁহারা উহা হইতে নিজেদের পাত্রসমূহ পূর্ণ করিয়া লইলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য আরীশ নির্মাণ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য আরীশ নির্মাণ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য 'আরীশ নির্মাণ আরীশ হইল তাঁবু সদৃশ যাহার উপরে ছাউনী থাকে, তবে আকৃতিতে ছোট। একজন লোক ভালভাবে তাহার নিচে অবস্থান করিতে পারে। বদর প্রান্তরে পৌঁছিবার পর আনসার নেতা সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা) বলিলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আপনার জন্য একটি 'আরীশ নির্মাণ করিয়া দিব যাহার মধ্যে আপনি অবস্থান করিবেন এবং আপনার নিকটেই আমরা আপনার উট প্রস্তুত রাখিব, অতঃপর আমরা গিয়া শত্রুর মুকাবিলা করিব? আল্লাহ যদি আমাদিগকে সম্মানিত করেন এবং শত্রুর উপর বিজয়ী করেন তবে তাহাই হইবে আমাদের পছন্দনীয় ও কাম্য। আর যদি ভিন্ন ফয়সালা হয় তবে আপনি উটে আরোহণ করিয়া মদীনায় যাহারা থাকিয়া গিয়াছে, তাহাদের সহিত যাইয়া মিলিত হইবেন। হে আল্লাহর নবী। আপনার পিছনে তো এমন একটি দল রহিয়া গিয়াছে, আমাদের চেয়েও যাহারা আপনাকে বেশী ভালোবাসে। তাহারা যদি অনুমান করিতে পারিত যে, আপনি যুদ্ধের সম্মুখীন হইবেন তবে কখনও তাহারা আপনার পিছনে পড়িয়া থাকিত না। আল্লাহ তাহাদের দ্বারা আপনাকে হেফাজত করিবেন। তাহারা আপনাকে সৎপরামর্শ দিবে, আপনার সহিত একত্রে মিলিয়া যুদ্ধ করিবে।"
ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহার প্রশংসা করিলেন এবং তাহার মঙ্গলের জন্য দু'আ করিলেন। অতঃপর তাঁহার জন্য যুদ্ধের ময়দানের দিকে মুখ করিয়া একটু উঁচু জায়গায় আরীশ বানানো হইল। তিনি সেখানে থাকিয়া আল্লাহ্র নিকট কান্নাকাটি করিয়া দু'আ করেন এবং সময় সময় যুদ্ধের ময়দানে গিয়া তদারকি করেন। এক বর্ণনামতে আরীশে তাঁহার সহিত আবূ বাক্স (রা)-ও ছিলেন এবং সা'দ ইবন মু'আয (রা) তরবারি সজ্জিত অবস্থায় দরজায় দাঁড়াইয়া প্রহরা দেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুসলিম ও কাফির বাহিনীর সমরোপকরণ

📄 মুসলিম ও কাফির বাহিনীর সমরোপকরণ


মুসলিম ও কাফির বাহিনীর সমরোপকরণ বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, ঘোড়া ২টি, এক বর্ণনামতে তিনটি, উট ৭০টি এবং পতাকা ছিল তিনটি। কাফিরদের সৈন্যসংখ্যা বাহির হওয়ার সময় ছিল ১৩০০, কিন্তু পথে কিছু সৈন্য চলিয়া যাওয়ায় তাহাদের সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১০০০। তাহাদের ঘোড়ার সংখ্যা ১০০, লৌহবর্ম ৬০০, অসংখ্য উট এবং পতাকা ছিল ৩টি।
প্রভাতবেলায় কুরায়শগণ হিংসা ও ক্রোধভরে সম্মুখপানে অগ্রসর হইল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বালুর ঢিবি হইতে উপত্যকার দিকে আগমন করিতে দেখিয়া বলিলেন, “হে আল্লাহ! এই কুরায়শদল তাহাদের অহংকারীদিগকে লইয়া আগমন করিয়াছে, তোমাকে চ্যালেঞ্জ করিয়াছে এবং তোমার রাসূলকে অবিশ্বাস করিয়াছে। হে আল্লাহ! তুমি যে সাহায্যের অঙ্গীকার আমার সহিত করিয়াছ সেই সাহায্য নাযিল কর। হে আল্লাহ সকাল বেলায় উহাদিগকে ধ্বংস কর"। তাহাদের দলের মধ্যে 'উতবা ইব্‌ন রাবী'আকে একটি লাল উটে আরোহী দেখিয়া তিনি বলিলেন, কওমের ভিতর কাহারও মধ্যে যদি কল্যাণ থাকিয়া থাকে তবে লাল উটের আরোহীর মধ্যে আছে। উহারা যদি উহার অনুসরণ করিত তবে সঠিক পথের সন্ধান পাইত। এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিলেন, হে আলী! হামযাকে ডাক। তিনি ছিলেন মুশরিকদের নিকটাত্মীয়। লাল উটের আরোহী কে? 'আলী (রা) বলিলেন, সে উতবা। সে কাফিরদিগকে যুদ্ধ করিতে নিষেধ করিতেছিল এবং তাহাদিগকে ফিরিয়া যাওয়ার নির্দেশ দিয়া বলিতেছিল, হে আমার কওম! তোমরা আমার মাথায় দোষ চাপাইয়া দিয়া বল যে, 'উতবা ভীরু-কাপুরুষ হইয়া গিয়াছে। কিন্তু আবূ জাহল তাহা অস্বীকার করিল।
খুফাফ ইব্‌ন ঈমা ইব্‌ন রূহাদা আল-গিফারীর নিকট দিয়া কুরায়শ দলের গমন করার সময় সে স্বীয় পুত্রকে দিয়া কিছু যবেহকৃত জন্তু হাদিয়া পাঠাইল এবং বলিয়া পাঠাইল, তোমরা সম্মত হইলে আমরা তোমাদিগকে অস্ত্র ও লোকবল দিয়া সাহায্য করিব। ইহার উত্তরে কুরায়শগণ বলিয়া পাঠাইল, তোমার সহৃদয় বার্তা আমাদের নিকট পৌছিয়াছে। তুমি-তোমার দায়িত্ব পালন করিয়াছ। আমাদের জীবনের কসম! আমরা যদি মানুষের সহিত যুদ্ধ করি তবে তাহাদের তুলনায় আমাদের কোনও দুর্বলতা ও অক্ষমতা নাই। আর যদি আল্লাহ্র সহিত যুদ্ধ করি, যেমনটি মুহাম্মাদ ধারণা করে, তাহা হইলে তো আল্লাহ্র মুকাবিলায় কাহারও কোনও শক্তি নাই।
কুরায়শদল যখন তাহাদের অবস্থানস্থলে অবতরণ করিবার পর তাহাদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাউযের নিকট আসিল। তাহাদের মধ্যে হাকীম ইব্‌ন হিযামও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহাদিগকে আসিতে দাও। আজ তাহাদের যে ব্যক্তিই এই হাউয হইতে পানি পান করিবে সে নিহত হইবে, তবে হাকীম ইন্ন হিযাম নিহত হইবে না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই বাণী সত্য হইয়াছিল। হাকীম ইব্‌ন হিযাম পরবর্তী কালে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খাঁটি মুসলমানরূপে জীবন যাপন করেন। অতঃপর তিনি যখনই খুব জোরদার কসম করিতে চাহিতেন তখন বলিতেন, সেই সত্তার কসম! যিনি আমাকে বদর যুদ্ধে রক্ষা করিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের গুপ্তচর প্রেরণ

📄 কুরায়শদের গুপ্তচর প্রেরণ


কুরায়শগণ তাহাদের স্থানে অবতরণ করিয়া সব কিছু গুছাইয়া লইবার পর 'উমায়র ইব্‌ন ওয়াহ্ আল-জুমাহীকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা জানিবার জন্য প্রেরণ করিল। 'উমায়র তাহার ঘোড়া লইয়া মুসলিম বাহিনীর চতুর্দিকে চক্কর দিল। অতঃপর তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া বলিল, তাহাদের সংখ্যা তিন শত পুরুষ। সামান্য বেশীও হইতে পারে, কমও হইতে পারে। তবে আমাকে আরও একটু সময় দাও। আমি দেখিয়া আসি যে, তাহাদের আত্মগোপন করিবার কোনও জায়গা বা তাহাদিগকে সাহায্য করিবার কিছু আছে কিনা। অতঃপর সে পূর্ণ উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়াইল, এমনকি বহু দূর পর্যন্ত চলিয়া গেল, কিন্তু কিছুই দেখিতে পাইল না। সে কুরায়শদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া বলিল, আমি কিছুই দেখিতে পাই নাই। তবে হে কুরায়শদল! আমি দেখিয়াছি কিছু উট যাহা মৃত্যু বহন করিতেছে। ইয়াছরিবের পানি বহন করার উট নিশ্চিত মৃত্যু বহন করিতেছে। একমাত্র তরবারি ব্যতীত উহাদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ করিবার এবং আশ্রয় লইবার আর কিছুই নাই। আল্লাহ্র কসম! আমার ধারণামতে তাহাদের এক ব্যক্তিও নিহত হইবে না তোমাদের একজনকে হত্যা না করা পর্যন্ত। তাহারা যখন তোমাদের মধ্য হইতে তাহাদের সমসংখ্যক লোক হত্যা করিবে তখন তাহার পর কল্যাণকর যিন্দেগী আর কি থাকিবে? কাজেই তোমাদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করিয়া দেখ।
অতঃপর কুরায়শগণ আবূ সালামা আল-জুশামীকে প্রেরণ করিল। সে তাহার ঘোড়ায় করিয়া মুসলমানদের চতুষ্পার্শ্বে ঘুরিয়া আসিয়া বলিল, আল্লাহ্র কসম! আমি কোনও শক্তিমত্তা দেখি নাই; অস্ত্রশস্ত্র বা অশ্বের পালও দেখি নাই। তবে এমন এক জাতিকে দেখিয়াছি যাহারা তাহাদের পরিবারের নিকট ফিরিয়া যাওয়ার কামনা করে না। তাহারা এমন কওম যাহারা মৃত্যুর দিকে নির্ভয়ে অগ্রসর হয়। তরবারি ব্যতীত তাহাদের প্রতিরক্ষা করিবার বা আশ্রয় লইবার আর কিছুই নাই। তাহাদের চক্ষুর পুতলি যেন ঢালের নিচে থাকা পাথর। তাই তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করিয়া দেখ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00