📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সমুদ্রোপকূলের দিকে অভিযান প্রেরণের কারণ

📄 সমুদ্রোপকূলের দিকে অভিযান প্রেরণের কারণ


দীন ইসলাম যেখানে শান্তির ধর্মরূপে আত্মপ্রকাশ করিয়াছে সেখানে হযরত হামযা (রা)-এর নেতৃত্বে প্রথম অভিযানটিই সমুদ্রোপকূলের দিকে কেন প্রেরিত হইয়াছিল, কেই এই প্রশ্ন সঙ্গতভাবেই করিতে পারেন। আল্লামা শিবলী নু'মানী অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্যভাবে ইহার জবাব দিয়াছেন এইভাবে:
বাস্তব ঘটনা এই যে, মদীনায় পদার্পণ করার পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর সর্বপ্রথম কাজ ছিল আত্মরক্ষার ব্যবস্থা অবলম্বন। কেবল তাঁহার নিজের বা মুহাজিরগণের নহে, মদীনাবাসী আনসার সাহাবীগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যও উহা জরুরী হইয়া পড়িয়াছিল। কেননা তাহারা রাসূলুল্লাহ (স) ও মুহাজিরগণকে আশ্রয় দিয়াছেন এই অজুহাতে কুরায়শগণ মদীনা ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাহাদের সকল গোত্রকে ঐক্যবদ্ধ করিয়া যুদ্ধের দাবানল প্রজ্জ্বলিত করে। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (স) দুইটি ব্যবস্থা অবলম্বন করেন। প্রথমটি হইতেছে সিরিয়ার সহিত কুরায়শদের বাণিজ্য বন্ধ করিয়া দেওয়া- যাহাতে তাহারা চুক্তি করিতে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য যে, এই সিরীয় বাণিজ্য ছিল তাহাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার বড় অবলম্বন ও গর্বের বিষয়। দ্বিতীয় যে ব্যবস্থাটি রাসূলুল্লাহ (স) গ্রহণ করিয়াছিলেন তাহা হইল মদীনার আশপাশের গোত্রসমূহের সহিত মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন।
উপরিউক্ত উদ্দেশ্যে বদর যুদ্ধের পূর্বে তিনি পঞ্চাশ হইতে এক শতজনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনী মক্কার দিকে প্রেরণ করিতে থাকেন। দ্বিতীয় হিজরীর সফর মাসে আবওয়ার দিকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সশরীরে যুদ্ধযাত্রার পূর্বেই তিনি তিনটি বাহিনী এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিয়াছেন বলিয়া সীরাতবেত্তাগণ লিখিয়াছেন। ঐগুলিকে সীরাত শাস্ত্রের পরিভাষায় সারিয়‍্যা নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। ঐ সারিয়‍্যাগুলি হইতেছেঃ (১) সারিয়‍্যা হামযা (রা), (২) সারিয়‍্যা 'উবায়দা ইবনুল হারিছ (রা) এবং (ত) সারিয়‍্যা সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা)। কিন্তু ঐ অভিযানসমূহে কোন রক্তপাতের ঘটনা ঘটে নাই। সীরাতবেত্তাগণ ঐ সমস্ত সারিয়‍্যার উদ্দেশ্য বর্ণনা করিতে গিয়া লিখিয়াছেন যে, কুরায়শদের বাণিজ্যিক কাফেলাসমূহকে প্রতিহত করাই ছিল ঐগুলির উদ্দেশ্য। অন্য কথায় তাহাদের সিরীয় বাণিজ্যের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিই ছিল কাঙ্ক্ষিত ব্যাপার। ইসলামের শত্রুরা বলিয়া থাকে যে, ছিনতাই ও রাহাজানির উদ্দেশ্যেই সাহাবীগণের এই অভিযানগুলি প্রেরণ করা হইয়াছে। কিন্তু ঐ অভিযোগ নিতান্তই মূর্খতাপ্রসূত এই জন্য যে,
প্রথমত, ইসলামী শরীয়তে ছিনতাই, রাহাজানি বা দস্যুতা একটি মহাপাপ। দ্বিতীয়ত, বাস্তবে এইরূপ কিছুই ঘটে নাই। ঐ সমস্ত অভিযানের কোন একটিতেও সাহাবাগণ কোন কাফেলাকে লুণ্ঠন করিয়াছেন বলিয়া জানা যায় না। দস্যুতা বা তস্করবৃত্তির জন্য তৌ তাহাদের বাণিজ্যিক কাফেলাগুলিই ছিল সর্বোত্তম। কিন্তু বাস্তবে এমনটি ঘটে নাই।
জুহায়না গোত্রের সাথে পূর্বাহ্নেই রাসূলুল্লাহ (স) মৈত্রীচুক্তি করিয়াছিলেন। তাই কুরায়শদের মিত্ররূপে তাহাদের আর মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের অবকাশ ছিল না (দ্র. শিবলী নু'মানী, সীরাতুন্নবী, ১খ., পৃ. ৩০৯-৩১০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রথম পতাকা প্রসঙ্গ

📄 প্রথম পতাকা প্রসঙ্গ


হযরত হামযা (রা)-এর প্রতি আরোপিত উপরোল্লিখিত কবিতায় রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক সর্বপ্রথম তাহারই হস্তে পতাকা তুলিয়া দেওয়ার কথা ব্যক্ত হইলেও ইব্‌ন হিশাম বলেন, আমাদের নিকট যে তথ্য বিদ্যমান তাহা হইল উবায়দা ইবন হারিছই প্রথম সামরিক ঝাণ্ডা লাভ করিয়াছিলেন। তবে সাথে সাথে ইন হিশাম এই কথাও বলিয়াছেন, আসলে কে প্রথম পতাকা পাইয়াছেন তাহা আল্লাহই ভাল জানেন (দ্র. ইবন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ২খ., পৃ. ২৮৫, ইফা প্রকাশিত বাংলা অনু.)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00