📄 আসমা ইয়াহুদীকে হত্যা
ইসলামের শত্রুদের গুপ্ত হত্যার তালিকায় প্রথম নামটি ছিল এক ইয়াহুদী নারীর। সেও কবি ছিল এবং তাহার নাম আসমা ইয়াহুদীয়া। তাহার কবিতার মাধ্যমে সে নবী করীম (স)-এর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও উত্তেজনা ছড়াইত। বদর হইতে রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যাবর্তন না করিতেই সে আবারও ঐরূপ কবিতা রচনা করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিন্দা করিতে লাগিল। অন্ধ সাহাবী উমায়র ইব্ন আদী (রা)-এর তাহা আর বরদাশত হইল না। তিনি তাহাকে হত্যার সঙ্কল্প করিলেন। রাতের অন্ধকারে তিনি হাতড়াইতে হাতড়াইতে আসমার গৃহে উপনীত হইলেন এবং নিদ্রামগ্ন আসমার পার্শ্বে শায়িত শিশুদিগকে সরাইয়া তরবারির এক কোপে তাহার দেহকে দ্বিখণ্ডিত করিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছিয়া সমস্ত বিবরণ তাঁহাকে অবগত করিয়া শঙ্কিত হৃদয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এইজন্য কি আমাকে জবাবদিহি করিতে হইবে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: এইজন্য দুইটি ভেড়াও শিং গুতাগুতি করিবে না। মুসান্নাফ হাম্মাদ ইব্ন সালামায় বর্ণিত হইয়াছে যে, ঐ নারী রাসূলুল্লাহ (স) ও ইসলামের প্রতি এতই বৈরী ভাবাপন্ন ছিল যে, মাসিক ঋতুস্রাবের রক্তমাখা নেকড়া মসজিদে নিক্ষেপ করিত। রাসূলুল্লাহ (স) উমায়র (রা)-এর এই কাজে সন্তুষ্ট হইয়া বলেনঃ "আল্লাহ ও তদীয় রাসূলকে অদৃশ্যে অজ্ঞাতে থাকিয়া সাহায্য করিয়াছে এমন কোন ব্যক্তিকে দেখিতে চাহিলে তোমরা উমায়রকে দেখ"। অন্ধ হইয়াও তিনি হাতড়াইতে হাতড়াইতে শত্রুর নিকট পৌঁছিয়া তাহার ঈমানী দায়িত্ব পালন করেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহাকে অন্ধ বলিও না, বরং বাহ্য দৃষ্টিতে সে অন্ধ হইলেও অন্তরের দিক হইতে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন। ২য় হিজরীর রমযানের পঁচিশ তারিখে তিনি এই কর্মটি সম্পাদন করেন (দ্র. যুরকানী, ১খ., পৃ. ৪৫৩; আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল, পৃ. ৯৪-১০৩; তাবাকাত ইবন সা'দ, ২/১৮; উষুনুল আছার, ২/২৯৩; সীরাতুর রাসূল, ২/১৬৫-৬)।
📄 আবু রাফে' ইব্ন আবিল হুকায়ককে হত্যা
তাহার আসল নাম ছিল আবদুল্লাহ, তাহাকে সাল্লামও বলা হইত, কিন্তু আবু রাফে' উপনামেই সর্বাধিক পরিচিতি ছিল। তাহার পিতার নাম ছিল আবুল হুকায়ক; তাই সাল্লাম ইব্ন আবুল হুকায়ক ও আবু রাফে' ইব্ন আবুল হুকায়ক উভয় নামেই তাহার পরিচিতি পাওয়া যায়। খায়বারের নিকট একটি দুর্গে সে বাস করিত। খন্দক যুদ্ধের জন্য কুরায়শ বা অন্যান্য গোত্রকে সংগঠিত এবং তাহাদিগকে প্রচুর অর্থ দিয়া সাহায্য করিয়া এই ইয়াহুদী বণিকটি ইসলামের প্রচুর ক্ষতিসাধন করে। সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি বৈরিতার ব্যাপারে অর্থব্যয়ে সর্বদা অত্যন্ত তৎপর ও মুক্তহস্ত ছিল। কা'ব ইব্ন আশরাফের সে অন্যতম বন্ধু ও সহযোগী ছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১০৭)।
মদীনার আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে আবহমান কাল হইতেই সর্বক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলিয়া আসিতেছিল। কা'বের হত্যাকারীরা সকলেই ছিলেন আওস গোত্রীয়। তাই খাযরাজ গোত্রীয়গণ তাহারই সমপর্যায়ের অন্য ইয়াহূদী শত্রু আবু রাফে'-কে হত্যা করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের তাগিদ অনুভব করিলেন এবং সত্য সত্যই তাঁহার কাছে ইহার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে সেই অনুমতি দান করিলেন (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ২৬২)।
আবদুল্লাহ ইব্ন আতীকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল আবূ রাফে'-কে হত্যার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। তাহাদিগকে প্রেরণের সময় রাসূলুল্লাহ (স) সতর্ক করিয়া দিলেন, সাবধান! কোন শিশু বা নারীকে যেন হত্যা না করা হয়।
বুখারীর হাদীছে আছে, সাহাবী বারা'আ ইবন 'আযিব (রা) বর্ণনা করেন, ৩ হিজরীর জুমাদাল উখরা মাসের এক গোধূলি লগ্নে তাহারা খায়বারে গিয়া উপনীত হন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, সে একটি দুর্গে বসবাস করিত। দুর্গদ্বারে গিয়া তাহারা উহার ভিতরে প্রবেশের ফন্দি-ফিকির করিতেছিলেন। দলনেতা সাথীদিগকে একটু তফাতে ও আড়ালে রাখিয়া নিজেই আগে অগ্রসর হইলেন। সন্ধ্যার অন্ধকারে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেছেন এইরূপ ভান করিয়া সুযোগের অপেক্ষায় রহিলেন। এমন সময় দুর্গরক্ষী হাঁক দিল, ভিতরে কেহ ঢুকিতে চাহিলে ঢুকিয়া পড়, আমি কিন্তু ফটকদ্বার বন্ধ করিয়া দিতেছি। অমনি তিনি তাড়াতাড়ি উঠিয়া দুর্গাভ্যন্তরে প্রবেশ করিলেন। দ্বাররক্ষী তাহাদের নিজেদের লোক মনে করিয়া তাঁহাকে ঢুকিতে দিল। তিনি গভীরভাবে লক্ষ্য করিলেন, দ্বাররক্ষী একটি খুঁটির সাথে চাবিগুচ্ছ ঝুলাইয়া রাখিয়া ভিতরে চলিয়া গেল।
আবু রাফে' দুর্গের অভ্যন্তরস্থ গৃহের দোতলায় বাস করিত। রাত্রে তাহার ঘরে রীতিমত জমজমাট মজলিস বসিত। মজলিসশেষে সকলে যখন নিজ নিজ ঘরে চলিয়া গেল এবং প্রকৃতি নিস্তব্ধ হইল তখন দলনেতা আবদুল্লাহ ইব্ন আতীক নির্দিষ্ট স্থান হইতে চাবিগুচ্ছ লইয়া একটি একটি করিয়া দরজা খুলিতে খুলিতে অন্ধকারে আচ্ছন্ন আবু রাফের শয়নকক্ষে ঢুকিয়া আবূ রাফে বলিয়া ডাক দিলেন।। আবু রাফে 'কে' বলিয়া উঠিতেই তিনি তাহার উপর তরবারি চালাইলেন। কিন্তু তাহা অন্ধকারে তাহার গায়ে লাগিল না। সে চীৎকার করিয়া উঠিল। এইবার অন্যরূপ কন্ঠে আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করিলেন, আবু রাফে! কি হইল? এ কিসের আওয়াজ? সে বলিল, এইমাত্র কে যেন আমার প্রতি তরবারি চালাইল! আবু রাফের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হইতেই আবদুল্লাহ এইবার সুনির্দিষ্টভাবে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া তরবারি চালাইলেন। এইবার তরবারি তাহার দেহে লাগিল। আবদুল্লাহ ইব্ন আতীক নিজে বর্ণনা করেন, তারপর তাহার মৃত্য নিশ্চিত করার জন্য তরবারি তাহার পেটে ঠেকাইয়া আমি জোরে চাপ দিলাম। তরবারি তাহার পেট ভেদ করিয়া পিঠে গিয়া ঠেকিল। তারপর তাহার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া আমি একে একে দরজা খুলিয়া সিঁড়ি বাহিয়া অন্ধকারের মধ্যে নামিতে গিয়া উপর হইতে পড়িয়া আমার পায়ের গোছার একটি হাড় ভাঙ্গিয়া গেল। তাড়াতাড়ি পাগড়ী খুলিয়া পা বাঁধিয়া আমি সঙ্গিগণকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে গিয়া সেই সুসংবাদ শুনাইলাম। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে আমি আমার পা মেলিতেই তিনি উহাতে পবিত্র হস্ত বুলাইয়া দিলেন এবং আমি পূর্ণ সুস্থ হইয়া গেলাম (দ্র. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৩৮; বুখারী, ২/৫৭৭)।
শত্রুদের সহিত সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হইয়া তাহাদিগকে পরাস্ত করার মত এই সমস্ত শত্রু সর্দার ও বড় বড় কবি ও দলনেতাকে গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে নির্মূল করায় শত্রুপক্ষ দুর্বল ও নেতৃশূন্য হইয়া পড়ে। সেই যুগে এই কবিরা বর্তমান যুগের প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা পালন করিত। এই কবিদের কবিতা মুখে মুখে প্রচারিত হইয়া বিদ্বেষ ও উত্তেজনা ব্যাপকভাবে ছড়াইয়া পড়িত। তাই তাহাদিগকে নিমূর্ল করা ইসলামের স্বার্থে ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হইয়া উঠিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর আত্মোৎসর্গকারী সাহাবীগণ প্রাণের ঝুঁকি লইয়া তাই এই গুরুদায়িত্ব পালন করিয়া ইতিহাসে অমর হইয়া রহিয়াছেন। গুপ্তহত্যার মাধ্যমে এই অপশক্তিকে নির্মূল না করিলে ইহারা আরও অনেক যুদ্ধ ও রক্তপাতের কারণ হইয়া দাঁড়াইত। ইহাদিগকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দেওয়ার পর মুসলমানগণ ও আল্লাহর রাসূল (স) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিলেন।
The execution of the half dogen mwrked gews is generwler colled assaisination, became a muslim was sent secrethy to kill each of the criminals. The reason is almost tooobvious tobeed explanation. There were no police or law corerts al medina; some one of the followers of Mohammad must therefore be the executor of the sentance of death, and it was balter it should be done guetely, as the excenting of a man openlybefore his clan would have caused a braw and more bloodshed and relliation, till the whole city had become mexcd up in the quared. If secret assasination isthe woed for such decds, secrel assassinationwas necessway part of the internal government of medina. The man must be killed and best inthe war, in saying this I assume that muhammad was cognisant of the deed , and that it was nat merely a case at private vengeans; but in several instancer the cvidence that trece these execntions to Muhammads or der is either entirly wanting or is too doubt fue toclaine owr credence" (স্টাডিজ ইন এ মস্ক্ : পৃ. ৬৮)।