📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র ধ্বংস

📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র ধ্বংস


কোন জাতির মধ্যে এই শ্রেণীর মুনাফিকরা হইতেছে অন্তর্ঘাতী শত্রু। ইহাদিগকে উপেক্ষা করা সমীচীন নহে। যতদূর সম্ভব শীঘ্র উহাদের কেন্দ্র ধ্বংস করিয়া ফেলাই উচিত। তাই নবী করীম (স) দ্রুত সেই দিকে মনোযোগ দিলেন। কিছু সংখ্যক মুনাফিক সুওয়ায়লিম নামক ইয়াহূদীর বাড়ীতে বসিয়া অতি সংগোপনে দল পাকাইতেছে এবং মুসলমানগণকে অভিযানে বাহির হইতে বাধা দিতেছে, এই সংবাদ পাইয়া তিনি ঐ ইয়াহূদীর গৃহটি পোড়াইয়া দিবার জন্য লোক প্রেরণ করিলেন। [সীরাত ইব্‌ন হিশাম, ৪/২১৭-২১৮; বাংলা ভাষ্য, ৪খ., পৃ. ১৭১-১৭২]

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনার প্রশাসন

📄 মদীনার প্রশাসন


রাসূলুল্লাহ (স) যে কোন অভিযানে নির্গত হওয়ার পূর্বেই মদীনায় তাঁহার প্রতিনিধি হিসাবে কোন একজন সাহাবীকে রাখিয়া যাইতেন। তাবুক অভিযানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি কালে মদীনায় তাঁহার প্রতিনিধিরূপে তিনি মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা আনসারীকে রাখিয়া গেলেন। আহলে বায়তের দেখাশোনার জন্য হযরত আলী (রা)-কেও তিনি মদীনায় রাখিয়া গেলেন। মদীনায় হযরত আলী (রা)-এর উপস্থিতি মুনাফিকদের জন্য তাহাদের তৎপরতা চালাইবার পক্ষে বড় অন্তরায় হইল। তাই এই ব্যাপারে তাহারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করিয়া কোনমতে আলীও যাহাতে মদীনা ছাড়িয়া চলিয়া যান সেইজন্য বলাবলি করিতে থাকে যে, তাবুক সফরে আলী অপাংক্তেয় বিবেচিত হইয়াছেন; তাই তাহাকে নেওয়া হয় নাই। এইরূপ অপপ্রচারে প্রভাবান্বিত হইয়া আলী (রা) মদীনার বাহিরে আল-জুরুফে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছিয়া এই বিষয়ে অবগত করিয়া তাঁহাকে তাবুকে সঙ্গে লইয়া যাওয়ার জন্য জিদ ধরিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ না, বরং মূসা (আ) তুর পাহাড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমনকালে হারুন (আ) যখন স্বীয় গোত্রে তাঁহার প্রতিনিধিস্বরূপ ছিলেন তোমার মর্যাদাও সেইরূপ। [বুখারী, আস-সহীহ, ৫/১৭; মুসলিম, আস-সহীহ, ৭/১২০-১২১]

বিভিন্ন জিহাদে রাসূলুল্লাহ (স)-এর তিনজন পরীক্ষিত সাহাবী এবং ৮২জন বেদুঈন যাহারা বনী গিফার গোত্রের এবং ওজরগ্রস্ত অসহায় শ্রেণীর ছিলেন, মদীনায় রহিয়া যান। [ফাতহুল বারী, ৮/১১৪; তাবারী, তাফসীর, ১১/৫৮] আবদুল্লাহ ইবন উবাই ও তাহার দলভুক্তদের কথা আলাদা। তাহারা সংখ্যায় ছিল প্রচুর। [ফাতহুল বারী, ৮/১১৯] তাহাদের মুনাফিক কুখ্যাতির জন্য উহারা ধর্তব্যের বা আলোচনার মধ্যে ছিল না। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার মত তীক্ষ্ণধী সম্পন্ন লোককে স্থলবর্তী করিয়া এবং আল্লাহ্র সিংহ হযরত আলী (রা)-কে মদীনায় রাখিয়া না গেলে মুনাফিকদিগকে লইয়া ইবন উবাই মদীনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর দীর্ঘ ৫০ দিনের অনুপস্থিতির সুযোগে কী তুলকালাম কাণ্ডই না ঘটাইয়া বসিত কে জানে! যুদ্ধ বা অভিযানকালে মদীনা প্রশাসনকে গুরুত্ব সহকারে বহাল রাখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) সেই সম্ভাব্য অঘটন হইতে মদীনাকে রক্ষা করিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মসজিদ দিরার ধ্বংস

📄 মসজিদ দিরার ধ্বংস


রাসূলুল্লাহ (স) তাবুক অভিযানে নির্গত হওয়ার পূর্বেই মদীনার মুনাফিকগণ মসজিদে নববী হইতে কিছু দূরে ঐ মসজিদেরই বিকল্প একটি মসজিদ নির্মাণ করিয়া কৌশলে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমোদন আদায় করার লক্ষ্যে তাঁহার নিকট ঐ মসজিদ উদ্বোধন করার জন্য আবেদন জানায়। অভিযান জনিত ব্যস্ততার জন্য এবং সম্ভবত এই ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হইতে কোন নির্দেশ না পাওয়ায় নবী করীম (স) পরে দেখা যাইবে বলিয়া সেখানে যাওয়া স্থগিত রাখেন। তাবুক অভিযানকালে মুনাফিকদের স্বরূপ উদঘাটিত হইয়া গেল। তারপর আর তাহাদের মনোরঞ্জনেরও কোন অবকাশ রহিল না। এইদিকে আল্লাহ তা'আলা তাহাদের ঐ তথাকথিত মসজিদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁহার রাসূলকে স্পষ্টভাবে জানাইয়া দিলেন। [৯:১০৭] তাই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে তাবুক অভিযান হইতে ফিরিয়াই উহা ধ্বংস করিয়া দেওয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করিয়া তাহাদের সাদাকা গ্রহণ করিতে, তাহাদের জানাযা পড়িতে, তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতে এবং কোন যুদ্ধে তাহাদের আগ্রহ প্রকাশ সত্ত্বেও তাহাদিগকে সাথে লইতে তাঁহার নবীকে নিষেধ করিয়া দিলেন। [৯: ৮০, ৮৩, ৮৪] এইভাবে মুসলিম সমাজ মুনাফিকদের অনিষ্টতা হইতে রক্ষা পাইল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কাঠার সাধনা

📄 কাঠার সাধনা


হিজরী ২ সালের ১৭ রমযানে অনুষ্ঠিত বদর যুদ্ধ হইতে শুরু করিয়া নবম হিজরীর রজব মাসের তাবুক অভিযান পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ অভিযানগুলির প্রতি দৃষ্টি দিলে একটি ব্যাপার অত্যন্ত স্পষ্ট হইয়া উঠে এবং তাহা হইল তাঁহার সংগ্রাম সাধনার কঠোরতা। বদর ও তাবুকের মত গুরুত্বপূর্ণ বরং সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য দুইটি অভিযানই রমযান মাসে এবং কঠিন খরতাপের মধ্যে পরিচালিত হয়। খন্দক ও তাবুকে যাত্রার সময় অনটন ছিল সীমাহীন। খন্দক যুদ্ধের সময় পাথর কাটিয়া পরিখা খননের সুকঠিন কর্মটি করার সময় সাহাবীগণ যখন তাহাদের পেটে উপবাস জনিত কারণে পাথর বাঁধার দৃশ্য দেখাইলেন তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার নিজ পেটে বাঁধা দুইটি পাথর তাঁহাদিগকে দেখাইয়াছিলেন। ঐ সময় বিশাল একটি শিলাখণ্ড যখন কোনক্রমেই ভাঙ্গা যাইতেছিল না তখন সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-কে ঘটনাটি জানাইতে গিয়া বলিয়াছিলেন, তিন দিন ধরিয়া আমরা কোন খাদ্য গ্রহণ করিতে পারি নাই। পেটে পাথর বাঁধা অবস্থায়ই আল্লাহর রাসূল (স) কোদাল হাতে লইয়া তিনটি আঘাতে উহা ভাঙ্গিয়া দিলেন। [মিশকাত, পৃ. ৪৪৮; তিরমিযীর বরাতে সীরাতুর রাসূল, ২খ, পৃ. ৩১৭]
তীব্র দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ শত মাইলের মরুপথ অতিক্রম করিয়া যুদ্ধযাত্রার মাধ্যমে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁহারই সঙ্গে সফর করিয়া যে কঠোর সহনশীলতার অনুশীলন করিলেন তারপর আর কঠোর ও কঠিন বলিয়া তাঁহাদের কাছে কোন কাজ ছিল না। এই কঠোর অনুশীলনই যে স্বল্পকালের মধ্যে পারস্য ও রোমক সাম্রাজ্যের বিশাল এলাকা জয়ের জন্য মুসলিম বাহিনীকে উপযুক্ত করিয়া গড়িয়া তুলিয়াছিল তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। তাই ব্রিগেড়িয়ায় গুলযার আহমদ বলেন, মহানবী (স) যে তীব্র খরতাপ ও শীতের মধ্যে অভিযানসমূহে সাহাবীগণকে রওয়ানা করাইয়াছেন এবং যেভাবে নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের সৈন্যগণকে অনুশীলন করাইয়াছেন উহা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে সময় মানসিক ও দৈহিক শ্রম সর্বাধিক পরিমাণে করিতে হয়। বদr যুদ্ধের পর মুসলমান সৈন্যদিগকে দেখিলে কাফিরদের মধ্যে রীতিমত ত্রাসের সঞ্চার হইত। [সায়্যারা ডাইজেষ্ট, লাহোর, রাসূল নম্বর, ২খ., পৃ. ২৪১]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00