📄 যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলমানদের সহনশীলতা ও পরধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
ইয়াহুদীদের ইসলাম বৈরিতা ছিল সর্বজনবিদিত। আল-কুরআনে বলা হইয়াছে:
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا .
"অবশ্য মু'মিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহুদী ও মুশরিকদিগকে তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখিবে"। [৫:৮২]
আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন যেহেতু মুসলমানদের পথপ্রদর্শক, অমুসলিমদের অনেকেই এই কিতাবখানির প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন। বুখারী শরীফে বর্ণিত হইয়াছে:
عن عبد الله بن عمر أن رسول الله ﷺ نهى ان تسافر بالقرآن الى ارض العدو.
"আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স) বিধর্মী শত্রুদের ভূমিতে কুরআনসহ গমন করিতে বারণ করিয়াছেন"। [সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২৭৬৯, কিতাবুল জিহাদ]
শত্রুদের হাতে আল-কুরআনের অবমাননার আশঙ্কা থাকার কারণেই যে এই নিষেধাজ্ঞা তাহা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ইসলামে অন্য ধর্মের বা তাহাদের ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করার অনুমতি নাই। তাই খায়বার যুদ্ধে তাওরাতের কয়েকটি কপি মুসলমানদের হস্তগত হইলে ইয়াহুদীরা সেইগুলি তাহাদের নিকট ফিরাইয়া দেওয়ার আবেদন জানাইলে রাসূলুল্লাহ (স) সসম্মানে সেইগুলি ফেরত দানের নির্দেশ দিলেন। [তারীখুল খামীস, ২খ., পৃ. ৬০]
তারীখুল ইয়াহুদ ফী বিলাদিল 'আরাব গ্রন্থের (পৃ. ১৭০) বরাতে আল্লামা আবুল হাসান আলী নদবী ইয়াহুদী পণ্ডিত ডঃ ইসরাঈল ওয়েলফিন্সন-এর মন্তব্য উদ্ধৃত করিয়াছেন এইভাবে:
"এই ঘটনা থেকে আমরা পরিমাপ করতে পারি যে, এইসব ধর্মীয় সহীফার প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্তরে কোন পর্যায়ের শ্রদ্ধাবোধ ছিল। তাঁর এই উদারতা ও সহনশীলতার বিরাট প্রভাব পড়ে ইয়াহুদীদের ওপর। তারা তাঁর এই বদান্যতা ভুলতে পারে না যে, তিনি তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে এমন কোন আচরণ করেননি যা দ্বারা তার অসম্মান হয়। এর বিপরীতে তাদের সেই ঘটনা বেশ ভালই মনে আছে যখন রোমানরা খৃ. পূর্ব ৭০ সনে জেরুসালেম জয় করে ঐসব পবিত্র সহীফায় অগ্নিসংযোগ করে এবং সেসব পদদলিত করে। ঠিক তেমনি ঈর্ষাকাতর ও উগ্র সাম্প্রদায়িক খৃস্টানরা স্পেনে ইয়াহুদীদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালানোকালীন তাওরাতের সহীফাগুলোকে অগ্নিদগ্ধ করে। এই সেই বিরাট পার্থক্য যা ঐসব বিজয়ী (যাদের কথা একটু ওপরে বলা হল) এবং ইসলামের নবীর মধ্যে দেখতে পাই”। [নবীয়ে রহমত, বাংলা অনু., পৃ. ৩২৭]