📄 গুপ্তচর অস্ত্রধারণ করিবে না
সাধারণত একটি যুদ্ধে কেবল সশস্ত্র যোদ্ধাগণই থাকে না, উহাতে যোদ্ধা ছাড়াও গুপ্তচর, সেবক-সেবিকা প্রভৃতি বিভিন্ন শ্রেণীর লোক থাকে এবং তাহাদের কাহারও ভূমিকাকে খাটো করিয়া দেখার উপায় নাই। আধুনিক যুগে প্রতিটি সেনা বাহিনীর সহিত ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এবং মেডিকেল কোরও রীতিমত বাহিনীর সৈন্য ছাতা ও পদস্থ কর্মকর্তার মর্যাদায় যুদ্ধে শামিল থাকেন। উহুদ যুদ্ধে আমরা প্রত্যক্ষ করিয়াছি যে; পঞ্চাশজন তীরন্দাজকে কেবল গিরিশৃঙ্গ পহরায় নিযুক্ত রাখা হইয়াছিল এবং যুদ্ধের জয় বা পরাজয় কোন অবস্থায় তাঁহাদিগকে ঐ স্থান ত্যাগ করিতে নিষেধ করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। খন্দকের যুদ্ধে আমরা লক্ষ্য করিলাম তীব্র শীতের রাত্রিতে অন্ধকারের মধ্যে হযরত হুযায়ফা (রা)-কে শত্রুশিবিরে রাসূলুল্লাহ (স) প্রেরণ করিলেন এবং সাথে সাথে তাঁহাকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলিলেন :
اذْهَبْ فَأْتِنِي بِخَبَرِ الْقَوْمِ وَلاَ تَذْعَرْهُمْ عَلَيَّ.
“যাও, সম্প্রদায়ের সংবাদ লইয়া আস! কিন্তু উহাদিগকে আমার উপর ক্ষেপাইবার মত কোন উস্কানিমূলক কাজ করিয়া বসিও না।” [মুসলিম, ৩/২98]
মুসলিমের ঐ হাদীসেই হুযায়ফার নিজের বর্ণনা :
فَلَمَّا وَلَّيْتُ مِنْ عِنْدِهِ جَعَلْتُ كَأَنَّمَا أَمْشِى فِى حَمَّامٍ حَتَّى أَتَيْتُهُمْ فَرَأَيْتُ أَبَا سُفْيَانَ يَصْلَى ظَهْرَهُ بِالنَّارِ تَوَضَّعْتُ سَهْمًا فِى كَبْدِ الْقَوْسِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْمِيَهُ فَذَكَرْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ رَمَيْتُهُ لَأَصَبْتُهُ.
“যখন আমি নবী করীম (স)-এর নিকট হইতে প্রস্থান করিলাম তখন আমার নিকট মনে হইতেছিল যে, আমি যেন হাম্মামের উষ্ণ পানিতে বিচরণ করিতেছি (অর্থাৎ তীব্র শীতের রাত্রিতেও শীত বোধ করিতেছিলাম না)। চলিতে চলিতে আমি তাহাদের একেবারে নিকটে চলিয়া গেলাম। লক্ষ্য করিলাম আবু সুফিয়ান আগুনে তাহার পিঠ সেঁকিতেছে। আমি তীর নিক্ষেপ করিতে মনস্থ করিয়া ধনুর্কে তাহা সংযোজনও করিলাম, এমন সময় আমার মনে পড়িয়া গেল রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিয়া দিয়াছেন, “উস্কানিমূলক এমন কিছু করিও না যাহাতে উহারা আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হইয়া উঠে” (তাই আমি তীর নিক্ষেপে বিরত রহিলাম)। ‘যদি আমি তীর নিক্ষেপ করিতাম তাহা হইলে উহা অবশ্যই লক্ষ্যভেদ করিত’”। [মুসলিম, ৩/ ১৪১৪-১৪১৫; যুরকানী, ২খ., পৃ. ১১৮; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা আস্-সাহীহা, ২খ., পৃ. ৪০১]
খন্দকের অবরোধ সমাপ্ত হইলে নবী করীম (স) প্রত্যাবর্ত্তনকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দান করিলেন :
الان نَغْزُوهُمْ وَلاَ يَغْزُونَنَا نَحْنُ نَسِيرُ إِلَيْهِمْ.
“এখন হইতে আমরা তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিব, তাহারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা আর করিতে পারিবে না। আমরাই বরং তাহাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিব”।