📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গুপ্তচর বৃত্তি প্রতিরক্ষার অন্যতম উপাদান

📄 গুপ্তচর বৃত্তি প্রতিরক্ষার অন্যতম উপাদান


যে কোন যুদ্ধে গুপ্তচরদের বিরাট ভূমিকা থাকে। গুপ্তচরদিগকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম। এই গুরুদায়িত্বে প্রেরণ কালে হুযায়ফা (রা)-কে তিনি কিয়ামতের দিন তাঁহার নিজের সাহচর্যের ওয়াদা দিয়াছিলেন। [মুসলিম, ৩/১৪১৪]
ঝড়ের দাপটে, শীতের তীব্রতায়, ফেরেশতাগণের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও তাকবীর ধ্বনিতে ভগ্নহৃদয় কুরায়শ বাহিনী যখন দেশে ফিরিয়া যাইবার জন্য ব্যগ্র, আবূ সুফ্যান যখন তমসাচ্ছন্ন রাত্রিতে তাহার বিপর্যস্ত বাহিনীকে ফেরত চলিয়া যাইবার নির্দেশ দিতেছিলেন তখন তিনি বলিতেছিলেন, কুরায়শ সেনাগণ! নিজ নিজ পার্শ্বের লোকগুলিকে চিনিয়া লও এবং গুপ্তচর হইতে সাবধান থাক! রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রত্যুৎপন্নমতি গুপ্তচর সাহাবী হুযায়ফা (রা) তখন তাহাদের মধ্যে অবস্থান করিতেছিলেন। তিনি অন্ধকারের মধ্যে হাত বাড়াইয়া সাথে সাথে তাহার ডান পার্শ্বস্ত লোকটির হাত ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কে হে! উত্তর আসিল, মু'আবিয়া। বাম পার্শ্বস্থ লোকটির হাত ধরিয়া পরিচয় জিজ্ঞাসা করিতেই উত্তর আসিল, আমর ইবনুল 'আস। মধ্যবর্তী এই লোকটি যে তাহাদের শত্রুপক্ষের গুপ্তচর উহা কেহ ঘুণাক্ষরেও অনুমান করিতে পারিল না।
তারপর সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও আমর ইবনুল আসকে পরিখা মুখে ২০০ অশ্বারোহীসহ পাহারায় রাখিয়া কুরায়শদের বীরপুরুষগণ স্বদেশের পথে রওয়ানা হইল। তাহাদের আশঙ্কা ছিল পৃষ্ঠ প্রদর্শনরত পর্যুদস্ত কুরায়শ বাহিনী মুসলমানদের আক্রমণের শিকার হইতে পারে। ফেরেশতা বাহিনী হামরাউল আসাদ পর্যন্ত কুরায়শ বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবন করিয়া তাহাদিগকে বিতাড়িত করিয়া আসেন। কুরায়শদের রওয়ানা হওয়ার সংবাদ পাইয়া গাতাফানী বাহিনীও রওয়ানা হইয়া গেল এবং অবরোধ পরিহার করিয়া বানু কুরায়যা দুর্গে গিয়া প্রবেশ করিল। সমগ্র আরবের যুদ্ধ বাহিনীর এইভাবে ব্যর্থ মনোরথ হইয়া প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি আল-কুরআনে অনাগত কালের লোকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হইয়া রহিল! আল্লাহ তা'আলা এই প্রসঙ্গে বলেন:
وَرَدَّ اللهُ الَّذِيْنَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِيْنَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قويًّا عَزِيزاً .
"আল্লাহ কাফিরদিগকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরাইয়া দিলেন, তাহারা কোন কল্যাণ লাভ করে নাই। যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী"। [৩৩: ২৫]

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধকৌশল হিসাবে সমর সঙ্গীত বা উদ্দীপনামূলক কবিতা পাঠ

📄 যুদ্ধকৌশল হিসাবে সমর সঙ্গীত বা উদ্দীপনামূলক কবিতা পাঠ


যুদ্ধকালে সমর সঙ্গীত বা উদ্দীপনামূলক কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আপন বাহিনীকে চাঙ্গা করিয়া তোলার প্রয়াসও এই যুদ্ধে লক্ষণীয়। পরিখা খননের কঠিন কাজে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (স) দৈহিকভাবে অংশগ্রহণ করেন। কোদাল চালনা করিতে, মাটি বহন ইত্যাদি কাজে তিনি সাহাবীগণের সঙ্গে ছিলেন। তাঁহার নূরানী বদন ধুলি ধুসরিত হয় সমস্ত দেহ ধূলা-বালিতে আচ্ছন্ন হইয়া যায়। [সহীহ বুখারী, ৫/৪৭; সহীহ মুসলিম, ৩/১৪৩০; ফাতহুল বারী, ৭/৩৯৫] কঠিন শিলা ভাঙ্গিতে গিয়া তিনি সোৎসাহে গাহিয়া উঠিলেন:
اللهم لو لا انت ما اهتدينا ولا تصدقنا ولا صلينا فانزلن سكينة علينا وثبت الاقدام ان لاقينا ان الأولى قد بغوا علينا وان ارادوا فتنة ابينا
"হে আল্লাহ! তুমি না থাকিলে পথের দিশা পেতাম না, না করিতাম সাক্কা-যাকাত, না পড়িতাম তোমার সালাত। নাযিল কর মোদের প্রতি তোমার সাকীনা (শান্তি), তওফীক দাও যুদ্ধে যেন আমরা ভাগি না। মুশরিকরা মোদের প্রতি করছে বাড়াবাড়ি, তারা যদিও অশান্তি চায় আমরা না চাহি"। [সহীহ বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৯, হাদীছ নং ২৮০৮; সহীহ মুসলিম, ২খ., পৃ. ১১২, হাদীছ নং ৪৫১৮]
মুসলমানগণ গর্বের সহিত মাটির ঝুড়ি লইয়া দৌড়াইতে দৌড়াইতে তাহাদের বায়'আতবদ্ধ হওয়ায় কথা ঘোষণা করিতেছিলেন গানের সুরে:
نحن الذين بايعوا محمدا - على الجهاد ما بقينا ابدا "আমরা সেই জাত মুহাম্মাদের হাতে নিলাম পণ। ইসলামে থাকবো অটল সারাটি জীবন"। [সহীহ মুসলিম, ২খ., পৃ. ১১৩]
জবাবে নবী করীম (স) বলিতেছিলেন-
اللهم لا عيش الا عيش الآخرة - فاغفر الانصار والمهاجرة "শান্তি-সুখ আখিরাতে দুনিয়ার জীবন জীবন না, আনসার ও মুহাজিরে আল্লাহ কর তুমি মার্জনা"। [মুসলিম, হাদীছ নং ৪৫২১]
আর-রাওদুল উনুফের বিবরণ হইতে জানা যায়, সর্বপ্রথম মহানবী (স) কোদাল হাতে লইয়া পরিখা খনলের উদ্দেশ্যে কোপ দিতে দিতে গাহিয়া উঠিলেন:
بسم الله وبه بدينا + ولو عبدنا غيره شقينا + حبذا ربا وحبذا دينا
"বিসমিল্লাহ আল্লাহর নামে শুরু করিলাম, অন্যেরে পুঁজিলে নিজে আভাগা হইতাম। কতই উত্তম মোদের পরোয়ারদিগার, কত না উত্তম ধর্ম ইসলাম তাঁহার"। [রাওদুল উনুফ, ৩খ., পৃ. ১৮৯; কান্দেহলবী, সীরতুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩১৫]
শুধু খন্দকের যুদ্ধেই নহে, হুনায়ন যুদ্ধের চরম বিপর্যয়ের সময় বার সহস্র মুসলিম সৈন্য যখন দিগ্বিদিক বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িলেন, তখন এক পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (স) একেবারে একাকী ছিলেন। যে এক শত সৈন্য ময়দানে টিকিয়া রহিয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বাগ্রবর্তী, অন্যরা পিছনে পড়িয়া গেলেন। [ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ৪৪]
খচ্চর পৃষ্ঠে উপবিষ্ট রাসূলুল্লাহ (স) নির্ভীক চিত্তে শত্রুর দিকে আগাইয়া চলিয়াছিলেন। তাঁহার চাচাত ভাই আবূ সুফিয়ান ইবন হারিছ প্রাণপণে খচ্চরের লাগাম টানিয়া ফিরাইয়া রাখিতে চেষ্টা করিতেছিলেন। নবী করীম (স)-এর মুখে তখন উচ্চারিত হইতেছিল:
انا النبى لا كذب + انا ابن عبد المطلب
"আমি আল্লাহর নবী মিথ্যুক নই কোন, আবদুল মুত্তালিবের সন্তান আমি জেনো"। [সহীহ বুখারী, ১/৪০১; সহীহ মুসলিম, ২/১০১]
এইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মহানবী (স) কবিতার সাহায্যে মুজাহিদ বাহিনীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধির প্রয়াস পাইতেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সহযোদ্ধাগণের দৃঢ়তায় চুক্তি সম্পাদন হইতে বিরত থাকা

📄 সহযোদ্ধাগণের দৃঢ়তায় চুক্তি সম্পাদন হইতে বিরত থাকা


আল্লাহর রাসূল (স) যেহেতু তাঁহার প্রিয় অনুসারিগণের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন (بالمؤمنين رءوف رحيم) তাই খন্দকের যুদ্ধের সম্মিলিত কাফির বাহিনীর দীর্ঘ অবরোধে মুসলমানদের প্রাণান্তকর কষ্ট হইতেছে দেখিয়া এক পর্যায়ে তিনি বানু গাতাফানের সহিত প্রতি বৎসর খায়বারের উৎপন্নজাত খেজুরের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে চুক্তি করিতে মনস্থ করিয়া এই মর্মে একটি চুক্তিপত্র লিখাইয়া লইলেন। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের পূর্বক্ষণে তিনি এই ব্যাপারে সাহাবীগণের পরামর্শ চাহিলেন। আওস ও খাযরাজ গোত্রপতিগণ সবিনয়ে জানিতে চাহেন যে, উহা কি ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশের ভিত্তিতে, নাকি আপনার ব্যক্তিগত অভিমত? ওহী ভিত্তিক নির্দেশ হইলে বলিবার কিছু নাই। আর যদি একান্তই আমাদের প্রতি অনুকম্পাবশত আপনার ব্যক্তিগত অভিমত হইয়া থাকে তাহা হইলে আরয করিব, ইসলাম-পূর্ব যুগে কোন দিন উহারা ক্রয় বা আপ্যায়ন সূত্রে ছাড়া মদীনার একটি খেজুর দানাও লাভ করিতে পারিত না। এখন যেহেতু ইসলাম দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে গৌরবান্বিত করিয়াছেন এবং আপনার যোগ্য নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হইয়াছি, কাজেই আমরা কেন এইরূপ হীনতা স্বীকার করিব? ফলে রাসূলুল্লাহ (স) সন্ধির এই আলোচনা স্থগিত করিয়া দেন। [মাজমা'উয যাওয়াইদ, ৬/১৩২; তাবাকাত ইবন সা'দ, ২/৭৩; সীরাত ইব্‌ন হিশাম, ৩/১১০-৩১১; নাদরাতুন নাঈম, ১/৪৭৫-৪৭৮]
সাহাবীগণের, পরামর্শকে যে রাসূলুল্লাহ (স) কীরূপ মূল্যায়ন করিতেন, তাঁহার নিজের অভি finishingেতের উপর তাহাদের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিয়া উহুদ যুদ্ধের সময়ের মত খন্দকের যুদ্ধেও সেই প্রমাণ রাখিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আল্লাহ্র দরবারে ফরিয়াদ ও বিজয় প্রার্থনা

📄 আল্লাহ্র দরবারে ফরিয়াদ ও বিজয় প্রার্থনা


রাসূলুল্লাহর (স) দু'আকে মুমিনের অস্ত্র বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন। তিনি বলেন: الدعاء سلاح المؤمن . "দু'আ হইল মু'মিনের অস্ত্র"। الدعاء مخ العبادة "দু'আ হইতেছে ইবাদতের সারনির্যাস"।
জিহাদ একটি সর্বোৎকৃষ্ট ইবাদত এবং জিহাদে অস্ত্রের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। রাসূলুল্লাহ (স) জিহাদের ময়দানে বারবার এই অস্ত্র প্রয়োগ করিয়াছেন। মুসনাদে আহমাদের হাদীছে আছে : আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেন, অবরোধের ফলে আমাদের কষ্টের কথা বলিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে দু'আ করিবার জন্য আবেদন জানাইলে তিনি বলিলেন, তোমরা এইভাবে দু'আ করিবেঃ اللهم استر عوراتنا + وامن روعاتنا . “হে আল্লাহ! আমাদের ত্রুটিসমূহকে গোপন করুন এবং আমাদের ভয়-ভীতি দূর করিয়া দিন"।
সহীহ বুখারীর হাদীছে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) তখন এইভাবে দু'আ করেন- اللهم منزل الكتاب ومجرى السحاب وهازم الاحراب واهزمهم وانصرنا عليهم. "হে কিতাব নাযিলকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী ও যূথবদ্ধ বাহিনীকে পরাস্তকারী আল্লাহ! উহাদিগকে পরাস্ত করুন এবং উহাদের বিরুদ্ধে আমাদিগকে জয়যুক্ত করুন"।
মুসনাদে আহমাদ ও তাবাকাতে ইবন সা'দের বর্ণনায় আছে যে, নবী করীম (স) মসজিদে আহযাবে হাত উঠাইয়া দণ্ডায়মান অবস্থায় এইরূপ দু'আ করিয়াছিলেন। আবূ নু'আয়মের রিওয়ায়াতে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলিয়া পড়ার পর দু'আটি করিয়াছিলেন বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। [যুরকানী, ২খ., পৃ. ১২০, পাদটীকায়]
আল্লাহ তা'আলা তাঁহার এই দু'আ কবুল করেন। ফলে পূর্ব কথিত ঝঞ্ঝাবায়ু প্রবাহিত হইয়া কাফির বাহিনীর সবকিছু তছনছ করিয়া দেয় এবং তাহারা পালাইয়া যাইতে বাধ্য হয়। হুযায়ফা (রা)-কে কাফির বাহিনীর মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য প্রেরণকালে আল্লাহর রাসূল দু'আ করিয়াছিলেন:
اللهم احفظه من بين يديه ومن خلفه وعن يمينه وعن شماله ومن فوقه ومن تحته. “হে আল্লাহ! তুমি তাহাকে সম্মুখ দিক, পশ্চাৎ দিক, ডান দিক, বাম দিক, ঊর্ধ্ব ও অধঃ দিক হইতে হিফাযত করিও"। [যুরকানী, ২খ., পৃ. ১১৮]
পরদিন ভোরের আকাশ ছিল নির্মল মেঘমুক্ত। দীর্ঘ অবরোধের পর মদীনাবাসীদের জীবনে আবার স্বচ্ছন্দের হাতছানি। সদলবলে ঘরে ফিরিতে ফিরিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখে উচ্চারিত হইল:
لا اله الا الله وحده لاشريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير. آیبون تائبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده. "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি এক-লা শরীক। রাজ্য তাঁহারই, প্রশংসাও একমাত্র তাঁহারই। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহর দিকে রুজুকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী, আমাদের প্রভুর স্তুতিকারীরূপে (আমরা ঘরে ফিরিতেছি)। আল্লাহ তাঁহার ওয়াদাকে সত্য করিয়া দেখাইয়াছেন, তাঁহার বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন এবং সম্মিলিত বাহিনীকে তিনি একাই পরাস্ত করিয়াছেন"। [বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৯০]
শরীফে উদ্ধৃত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা)-এর মুসলিম রিওয়ায়াত হইতে জানা যায় যে, খন্দকের যুদ্ধের অবরোধ চলাকালে রাসূলুল্লাহ (স) সর্বক্ষণিকভাবে দু'আ করিয়া চলিয়াছিলেন:
اللهم منزل الكتاب سريع الحساب اهزم الاحزاب. “হে কিভাব অবতরণকারী ও দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! সম্মিলিত বাহিনীকে পর্যুদস্ত ও প্রকম্পিত করিয়া দিন"। [বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ৪১১; মুসলিম, ৬খ., পৃ. ১৯০, হাদীছ নং ৪৩৯৩; কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৯০]
মুসলমানদের চরম দুর্দিনে মদীনা অবরোধের বিপদজনক মুহূর্তে বানু কুরায়যা ইয়াহুদী গোষ্ঠী চুক্তিভঙ্গ করিয়া শত্রুবাহিনীতে যোগ দেওয়ার দুঃসংবাদ শ্রবণে বিমূঢ় মুহূর্তে নবী করীম (স)-এর পবিত্র যবানে উচ্চারিত হইল:
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনিই আমাদের উত্তম কর্মনির্বাহক"। [৩: ১৭৩]
রাসূলুল্লাহ (স) এইরূপ দু'আ করিয়াছেন বদর রণাঙ্গনে, তায়েফে, হুনায়নে, মক্কা বিজয়কালে, আরও কত যুদ্ধে ও বিপদাপদে। বদরের যুদ্ধের দিন যখন উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ চলিতেছিল তখন তিনি ছাউনীতে কিবলামুখী হইয়া আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাইতেছিলেন:
اَللّٰهُمَّ اَنْجِزْ لِىْ مَا وَعَدْتَّنِىْ اَللّٰهُمَّ اِنْ تُهْلِكُ هٰذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ اَهْلِ الْاِسْلَامِ لَا تُعْبَدُ فِى الْاَرْضِ.
“হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন তাহা পূরণ করুন! হে আল্লাহ! মুসলমানদের এই ক্ষুদ্র দলটি যদি আজ ধ্বংস হইয়া যায়, তাহা হইলে পৃথিবীবক্ষে আর আপনার ইবাদত হইবে না”।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00