📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 উহুদ যুদ্ধে রওয়ানা

📄 উহুদ যুদ্ধে রওয়ানা


তৃতীয় হিজরীর ১১ শাওয়াল জুমু'আর দিন আসরের নামাযান্তে এক হাজার যোদ্ধাসহ রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা হইতে রওয়ানা হইলেন। দুইটি বর্ম পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স) ঘোড়ার পিঠে সওয়ার ছিলেন। সা'দ ইব্‌ন মু'আয ও সা'দ ইবন 'উবাদা (রা) বর্ম পরিহিত অবস্থায় তাঁহার অগ্রে, অবশিষ্ট সহযোদ্ধাগণ তাঁহার ডাইনে ও বামে কাতারবন্দী অবস্থায় অগ্রসর হইতেছিলেন। মদীনা ও উহুদের মধ্যবর্তী শায়খায়ন টিলার নিকট উপনীত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার বাহিনী পর্যবেক্ষণ করিলেন এবং অল্পবয়স্ক যে সমস্ত বালক অতি উৎসাহে যুদ্ধের জন্য বাহিনীতে শামিল হইয়া পড়িয়াছিলেন তাহাদিগকে ফেরত পাঠাইয়া দিলেন।

রাসূলুল্লাহ (স) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলেন যে, তিনি উহুদের যুদ্ধের জন্য বাহির হইবেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করিলেন এবং যুদ্ধের পোশাক পরিধান করিলেন। তিনি লৌহবর্ম ও শিরস্ত্রাণ পরিধান করিলেন। অতঃপর নিজ হাতে তরবারি লইয়া রওয়ানা হইলেন। সাহাবীগণ তাঁহার এই অবস্থা দেখিয়া ভাবিলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর মতামত পরিবর্তন করিয়াছি। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স)! আপনি যদি মদীনার ভিতরে থাকিয়া যুদ্ধ করিতে চান, আমরা প্রস্তুত আছি। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করিয়াছি। যখন কোন নবী যুদ্ধের পোশাক পরিধান করেন, তখন তিনি যুদ্ধ না করিয়া পোশাক খুলেন না। অতএব আমি যুদ্ধ না করিয়া পোশাক খুলিব না। অতঃপর তিনি যুদ্ধের জন্য রওয়ানা করিলেন (ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ৬৩)। তিনি এক হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধের জন্য রওয়ানা করিলেন। তিনি সাহাবীগণকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। জয়লাভ হইবেই।
ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনার ভিতর যুদ্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন। কিন্তু সাহাবীগণ বাহিরে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের মতামত গ্রহণ করিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ৬৪)।
তিনি মদীনার দিকে ফিরিয়া আসিলেন। তিনি সাহাবীগণকে পরামর্শ দিলেন যে, আল্লাহ্র পথে সব সময় সবর করিবে। এই জন্য সবর করা আবশ্যক। যুদ্ধের জন্য সাহাবীগণকে উৎসাহিত করিয়াছেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ২৯)। তিনি সাহাবীগণকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, তোমরা প্রস্তুত হও। তিনি যুদ্ধের জন্য রওয়ানা করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ২৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাহিনী পর্যবেক্ষণও অল্প বয়স্কগণকে ফেরত পাঠানো

📄 বাহিনী পর্যবেক্ষণও অল্প বয়স্কগণকে ফেরত পাঠানো


মদীনা ও উহুদের মধ্যবর্তী শায়খায়ন টিলার নিকট উপনীত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার বাহিনী পর্যবেক্ষণ করিলেন এবং অল্পবয়স্ক যে সমস্ত বালক অতি উৎসাহে যুদ্ধের জন্য বাহিনীতে শামিল হইয়া পড়িয়াছিলেন তাহাদিগকে ফেরত পাঠাইয়া দিলেন। ইহাদের সংখ্যা ছিল সতের (১৭)। রাফে' ইন্ন খাদীজ (রা) এবং তাঁহার সমবয়স্ক সামুরা ইব্‌ন জুনদুব ব্যতিক্রমী শক্তি-সাহস ও তীর বর্ষণে দক্ষতার জন্য স্বল্পবয়সী হইলেও বাহিনীতে থাকার অনুমতি লাভ করিলেন। [তাবারী, ৩খ., পৃ. ১২; সীরাতুর রাসূল, ২খ., পৃ. ১৯২]
ইহা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অল্পবয়স্ক বালকদিগকে যুদ্ধক্ষেত্রে লইয়া যাওয়া এবং শত্রুর সম্মুখে লইয়া গিয়া বিপদের মুখে ঠেলিয়া দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল এবং ব্যতিক্রমধর্মী সাহস ও দক্ষতার মূল্যায়ন করা হইত।

রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা হইতে বাহির হইবার পর সেনাবাহিনী পর্যবেক্ষণ করিলেন। তিনি দেখিলেন, কিছু অল্প বয়স্ক সাহাবীও আসিয়াছেন। তিনি তাহাদেরকে ফেরত পাঠাইয়া দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা এখন অল্প বয়স্ক, তোমাদের বয়স কম। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে ফেরত পাঠাইয়া দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা), যায়দ ইবন ছাবিত, উসামা ইবন যায়দ, বারা ইবন আযিব, উসাইদ ইবন যুহায়র, আমর ইবন হাযম, উমার ইবন ছাবিত, আবু সাঈদ খুদরী, যায়দ ইবন আরকাম, উবাদা ইবন ছাবিত, আত্তাব ইবন উসাইদ, উসামা ইবন যায়দ, রাফি ইবন খাদীজ, সামুরা ইবন জুনদুব এবং আবদুল্লাহ ইবন উমার প্রমুখ সাহাবীগণকে ফেরত পাঠাইয়া দিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৩০)।
কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) কিছু অল্প বয়স্ক সাহাবীকে অনুমতি দিয়াছিলেন। তাহারা দুইজন ছিলেন রাফি ইবন খাদীজ এবং সামুরা ইবন জুনদুব। রাসূলুল্লাহ (স) রাফি ইবন খাদীজকে অনুমতি দিলেন এই জন্য যে, তিনি ছিলেন তীরন্দাজ এবং তীর নিক্ষেপ করিতে পারদর্শী। রাসূলুল্লাহ (স) রাফিকে অনুমতি দিলে তাহার মা সামুরা ইবন জুনদুবের মা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স)! সামুরা তো রাফি অপেক্ষা শক্তিশালী। আপনি যদি রাফিকে অনুমতি দেন তাহা হইলে সামুরাকে কেন অনুমতি দিবেন না? সামুরা তো রাফিকে মল্ল যুদ্ধে পরাজিত করিতে পারে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মল্ল যুদ্ধ করিয়া দেখাও। মল্ল যুদ্ধে সামুরা রাফিকে পরাজিত করিল। তখন রাসূলুল্লাহ (স) সামুরাকে অনুমতি দিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৩০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুনাফিকদের স্বরূপ উন্মোচন

📄 মুনাফিকদের স্বরূপ উন্মোচন


উহুদ পাহাড়ের নিকটবর্তী হইতেই মুনাফিকসর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবায়্যি তাহার তিন শত অনুগামীসহ যুদ্ধক্ষেত্র হইতে এই বলিয়া দল ত্যাগ করিল, তিনি তো আমার কথা শুনিলেন না, শুনিলেন উহাদের কথা )أَطَاعَهُمْ وَعَصَائِی(। [সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৮-১২] আল্লাহ তা'আলা আল-কুরআনুল কারীমে তাহাদের ঐ মুনাফিকীর কথা প্রকাশ করিয়াছেন এইভাঃেবঃ
وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ التَقَى الْجَمْعَانِ فَبِاذْنِ اللهِ وَلِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ. وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالُوا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالاً لا اتَّبَعْنُكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيْمَانِ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ.
"যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হইয়াছিল সেদিন তোমাদের উপর যে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল তাহা আল্লাহ্ হুকুমে। ইহা মুমিনদিগকে জানিবার জন্য এবং মুনাফিকদিগকে জানিবার জন্য এবং তাহাদিগকে বলা হইয়াছিল, আইস! তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর অথবা প্রতিরোধ কর। তাহারা বলিয়াছিল, আমরা যদি যুদ্ধ জানিতাম তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করিতাম। সেদিন তাহারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীর নিকটতর ছিল। যাহা তাহাদের অন্তরে নাই তাহারা তাহা মুখে বলে। তাহারা যাহা গোপন রাখে আল্লাহ তাহা বিশেষভাবে অবহিত"। [৩: ১৬৬-৭]
মুনাফিকদের চলিয়া যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত রহিলেন সাত শত জন, তাঁহাদের মধ্য হইতে ১৫জন তরুণও বাদ পড়িল। মাত্র ১০০ জন বর্ম পরিহিত এবং গোটা বাহিনীতে কেবল দুই জন অশ্বারোহী ছিলেন, একজন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স) এবং অপরজন হযরত আবূ বুরদা ইব্‌ন নায়ার হারিছী (রা)। [তাবারী, ৩খ., পৃ. ১২] মুনাফিকদের কাটিয়া পড়ায় খায়রাজ গোত্রের বানূ সালামা শাখার মুসলিম যোদ্ধাগণ এবং আওস গোত্রের বানু হারিছা শাখার যোদ্ধাগণ প্রভাবান্বিত হওয়ার উপক্রম হইয়াছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহই তাহাদিগকে রক্ষা করেন। [৬ঃ ১২২; সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারী, ৭/৩৫৮, ৮/৩২৫; সহীহ মুসলিম, ২/৪০২; ইবন হিশাম, সীরাহ, ৩/৬৭]

রাসূলুল্লাহ (স) এক হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধের জন্য রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি মদীনা হইতে তিন মাইল দূরে শায়খাইন নামক স্থানে অবতরণ করিলেন। ইব্‌ন উবাই তিন শত সৈন্যসহ মদীনার দিকে ফিরিয়া গিয়াছিল। সে বলিয়াছিল, মুহাম্মাদ আমার মতামত গ্রহণ করেন নাই। তিনি অল্প বয়স্কদের মতামত গ্রহণ করিয়াছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি আমার মতামত গ্রহণ করেন নাই। তিনি কেন আমার কথা গ্রহণ করেন নাই। এই যুদ্ধে ব্যাপক সংখ্যক লোক নিহত হইবে। ইব্‌ন উবাই এই কথাগুলি বলিয়া তাহাদের মধ্য হইতে তিন শত সৈন্যসহ মদীনার দিকে ফিরিয়া গিয়াছিল। সে বলিয়াছিল, আমরা যুদ্ধ করিলে ব্যাপক সংখ্যক লোক নিহত হইবে।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন, ইব্‌ন উবাই মুনাফিকদের দলনেতা ছিল। সে যুদ্ধ না করার জন্য তাহার পক্ষ হইতে এই কথা বলিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৩১)। ইব্‌ন উবাইয়ের সঙ্গে মুনাফিকরা ফিরিয়া গেলে মুসলমানদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হইল। একদল সাহাবী বলিলেন, আমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিব। আর অন্যদল বলিল, না, আমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিব না। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম আনসারী বলিলেন, হে লোকসকল! তোমরা কেন আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিবে না? রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের সহিত রহিয়াছেন। তাহারা বলিল, আমরা যুদ্ধ করিলে নিহত হইব। আবদুল্লাহ ইবন আমর বলিলেন, তোমাদের মৃত্যু যদি নিশ্চিত হয়, তাহা হইলে শহীদ হওয়া উত্তম। আবদুল্লাহ ইবন আমর আনসারী তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ৭০-৭২)।
আবু জাবির আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম আনসারী তাঁহাকে শহীদ করার জন্য আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার এই কথা শুনিয়াছিলেন এবং তাঁহার নিকট অনুমতি চাহিয়াছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৩১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সৈন্যবিন্যাস

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সৈন্যবিন্যাস


উহুদের ময়দানে মুসলিম বাহিনী উপস্থিত হওয়ার পূর্বে শায়খায়নে থাকিতেই সূর্য অস্ত গেল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে হযরত বিলাল (রা) আযান দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইমামতিতে সালাত সম্পন্ন হইল। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) সারা রাত প্রহরায় নিযুক্ত রহিলেন। শেষ রাত্রিতে আবার সৈন্যবাহিনী রওয়ানা হইল। উহুদের নিকটবর্তী হইলে ফজরের ওয়াক্ত হইল। সালাতশেষে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার বাহিনীকে এমনভাবে বিন্যাস করিলেন যে, উহুদ পাহাড় মুসলিম বাহিনীর পশ্চাতে এবং মদীনা শহর তাহাদের সম্মুখে রহিল। আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা)-এর নেতৃত্বে পঞ্চাশজন তীরন্দাযকে তিনি উহুদ পাহাড়ের সম্মুখস্থ আয়নায়ন পাহাড়ের শীর্ষদেশে এই উদ্দেশ্যে মোতায়েন করিলেন, যাহাতে মুশরিক বাহিনীর সম্ভাব্য পশ্চাত দিকের আক্রমণ হইতে মুসলিম বাহিনী নিরাপদ থাকিতে পারে। তিনি তাহাদিগকে তাগিদ দিলেন যেন মুসলিম বাহিনীর চরম বিজয় বা চরম পরাজয়েও তাহারা স্থান ত্যাগ না করেন। এই ব্যাপারে তিনি জোর তাগিদ দিয়া এই পর্যন্ত বলিয়াছিলেনঃ إِنْ رَأَيْتُمُونَا تَخْطَفُنَا الطَّيْرُ فَلَا تَبْرَحُوا مَكَانَكُمْ هٰذَا وَإِنْ رَأَيْتُمُونَا هَزَمْنَا الْقَوْمَ وَأَوْطَأْنَاهُمْ فَلَا تَبْرَحُوا مَكَانَكُمْ.
"যদি তোমরা দেখিতে পাও যে, পাখী আমাদিগকে ছোঁ মারিয়া লইয়া যাইতেছে তাহা হইলেও তোমরা স্থান ত্যাগ করিবে না। আর যদি দেখ আমরা তাহাদিগকে পরাজিত ও দলিত-মথিত করিয়া ফেলিতেছি তবুও তোমরা স্থান ত্যাগ করিবে না"। [সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৩০৩৯; ফাতহুল বারী, ৭/৩৫৭, ৮/৩২৫; ইবন হিশাম, সীরাহ, ৩/৬৭; ইবন সা'দ, ২/৩৯-৪০; হাকেম, ২/২৯৬]
যুদ্ধের পতাকা মুস'আব ইবন উমায়র (রা)-কে অর্পণ করা হয়। যুবায়র ইব্‌দুল আওয়াম (রা) দক্ষিণ বাহিনীর এবং মুনযির ইবন উমার (রা) বাম বাহিনীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। নবী করীম (স)-এর তরবারি লাভ করিয়া আবূ দুজানা (রা) তাহার হক আদায় করেন। [আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ১০৪] যুদ্ধের শুরুতেই মুশরিকদের পতাকাবাহী তালহা ইব্‌ন উছমান এবং তাহাদের অপর বীরপুরুষ সাবা ইব্‌ন আবদুল উয্যার চ্যালেঞ্জের জবাবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়া হযরত আলী (রা) ও হযরত হামযা (রা) তাহাদের উভয়কে হত্যা করিয়া তাঁহাদের বীরত্ব প্রদর্শন করেন। [তাবারী, তাফসীর, ৭/২৮১] মুসআব ইবন উমায়র, আবু দুজানা, আবূ তালহা, সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস (রা) প্রমুখ সাহবীও অপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শন করেন। [বুখারী, ফাতহুল বারী, ৭/৩৬৭; মুসলিম, ২/২৮৪; আহমাদ, ২১/৬০৫৯]

রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা হইতে রওয়ানা করার পর শায়খাইন নামক স্থানে অবতরণ করেন। তিনি যুদ্ধ সম্পর্কে ব্যাপক সংখ্যক পরিকল্পনা গ্রহণ করিলেন এবং যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইব্‌ন উবাই নামক মুনাফিক তাহার তিন শত সৈন্যসহ সেখান হইতে ফিরিয়া গিয়াছিল। অবশিষ্ট ছিল সাত শত সৈন্য। রাসূলুল্লাহ (স) উহুদ পাহাড়ের নিকট শিবির স্থাপন করিলেন। তিনি সাহাবীগণকে নির্দেশ দিলেন যে, উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করার জন্য।
রাসূলুল্লাহ (স) পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে আবদুল্লাহ ইবন জুবায়র (রা)-এর নেতৃত্বে উহুদ পাহাড়ের নিকটবর্তী একটি গিরিপথে মোতায়েন করিলেন। তিনি তাহাদিগকে নির্দেশ দিলেন, শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য। তিনি তাহাদেরকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, তোমরা আমার নির্দেশ ব্যতীত এই স্থান হইতে কেহ নামিবে না। তোমরা যদি দেখ যে, আমরা বিজয় লাভ করিয়াছি, তবুও তোমরা এই স্থান হইতে নামিবে না। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হইয়াছি, তবুও তোমরা আমাদের সাহায্য করিতে আসিবে না। এই গিরিপথ হইতে তোমরা শত্রুদেরকে প্রতিহত করিবে। তিনি আবদুল্লাহ ইবন জুবায়রকে নির্দেশ দিলেন, তোমার ঘোড়সওয়ারী সৈন্যগণকে এই স্থান হইতে প্রতিহত করিবে (ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ৭২)।
রাসূলুল্লাহ (স) সেনাবাহিনীর সম্মুখভাগে যুহায়র ইবন সিনানকে, দক্ষিণ পার্শ্বে আবু বকর (রা)-কে, বাম পার্শ্বে উমার (রা)-কে, মধ্যভাগে আলী (রা)-কে, শেষভাগে হামযা (রা)-কে, ডানদিকে আবদুল্লাহ ইবন জুবায়র (রা)-কে এবং বামদিকে খালিদ ইবন ওয়ালীদকে নিযুক্ত করিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ২৬৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00