📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর দৃঢ়তা

📄 সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর দৃঢ়তা


বনু কুরায়যার পুরাতন মিত্রগোত্র আওস। সেই আওস গোত্রেরই নেতা সা’দ ইবন মু’আয (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে সিদ্ধান্ত প্রদানের ভার অর্পণ করিয়াছিলেন শুনিয়া তিনি মদীনা হইতে আসামাত্র গোটা আওস গোত্রের আনসারগণ দুই দিক হইতে তাঁহাকে ঘিরিয়া ধরিলেন। তাঁহার মুখের একটি কথায় গোটা বনু কুরায়যা রক্ষাও পাইতে পারে, আবার সমূলে ধ্বংসও হইয়া যাইতে পারে। আওসগণ বলিলেন, সা’দ! মিত্রগোত্রের প্রতি সদয় হউন। সদয় সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য রাসূলুল্লাহ (স) আপনাকে বিচারক মনোনীত করিয়াছেন। তিনি কাহারও কথার কোন জবাব দিলেন না। তাঁহারা যখন বারংবার তাঁহাদের আবদারের পুনরাবৃত্তি করিতেছিলেন তখন তিনি বলিলেন: لَقَدْ أَنْ لِسَعْدٍ اَنْ لاَ تَأْخُذَهُ فِى اللَّهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ. “এখন সেই সময় সমুপস্থিত যখন সা’দের আর আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোন ভর্ৎসনাকারীর ভর্ৎসনার তোয়াক্কা করা উচিত নয়।”

লোকেরা যাহা বুঝিবার বুঝিয়া লইল। তাঁহাদের মধ্যকার কেহ কেহ ঐ সময়ে মদীনার গিয়া বনু কুরায়যার মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়া গিয়াছে বলিয়া প্রচার করিয়া দিল (ড. ইবন হিশাম, ৩য়, পৃ. ২০০, বাংলা ভাষ্য ই.ফা.)। কবি গোলাম মোস্তফা তাঁহার কাব্যিক ভাষায় ঐ সময়ের চিত্র অঙ্কন করিয়াছেন এইভাবে: “সা’দ একটু বিব্রত হইয়া পড়িলেন। আসিবার কালে সারা পথ আওস গোত্রের অন্যান্য মুসলমানও ইয়াহুদীদের সহিত আওস গোত্রের সৌহার্দ্যের পূর্বস্মৃতিও তাঁহার মনে জাগিতেছিল। কিন্তু হইলে কী হয়, সেই খাতিরে ত তিনি পক্ষপাতিত্ব করিতে পারেন না! কারণ মরণ সাগরের তীরে দাঁড়াইয়া কেমন করিয়া তিনি ন্যায়ের মর্যাদা ক্ষুন্ন করিবেন? করিলে তাঁহাকে যে জবাবদিহি করিতে হইবে! পক্ষপাত বিচার তাঁহাকে করিতেই হইবে—তাহাতে যে যাহা বলে বলুক। ইহাই ভাবিয়া সা’দ তাঁহার মনকে দৃঢ় করিলেন।

"তখনকার দৃশ্য বাস্তবিকই বড় করুণ। বন্দী ইয়াহুদীকে অপেক্ষা করিতে হইতেছে অন্য পার্শ্বে হযরত ও তাঁহার সাহাবাগণ দাঁড়াইয়া আছেন। আশা-নিরাশার আলো-আঁধারে ইয়াহুদীদের ভাগ্য, দোল খাইয়া ফিরিতেছে। স্তব্ধ প্রকৃতি এই অভিশপ্তদিগের শেষ পরিণতি দেখিবার জন্য যেন নীরবে অপেক্ষা করিতেছে” (বিশ্বনবী, পৃ. ২৫৭, ৭ম সংস্করণ, ১৯৬০, ১ম সং. ১৯৪২)।

মৃত্যুশয্যা হইতে প্রিয়নবীর নির্দেশে সা'দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে আসিয়া উপনীত হইলেন এবং কাহারও সহায়তা ব্যতীত তাঁহার গাধার পিঠ হইতে অবতরণের শক্তি ছিল না। নবী করীম (স) সাহাবীগণকে নির্দেশ দিলেন : "তোমাদের নেতার জন্য দাঁড়াও এবং তাহাকে গাধার পিঠ হইতে নামাইয়া আম (দ্র. মুসনাদে আহমাদ)। সা'দ' নামিয়া আসিতেই রাসূলুল্লাহ (স) জানাইলেন, বনু কুরায়যার দুর্গবাসীরা তাহার সিদ্ধান্ত মানিয়া লইবে এই শর্তে আত্মসমর্পণে রাযী হইয়াছে। সা'দ (রা) তখন দৃঢ়তার সহিত জিজ্ঞাসা করিলেন : حکمی نافذ عليهم "আমার আদেশ তাহাদের ব্যাপারে কার্যকরী হইবে"? রাসূলুল্লাহ (স) ইতিবাচক জবাব দিলে তিনি আবার জিজ্ঞাসা করিলেন : وعلى المسلمين মুসলমানদের উপরও? রাসূলুল্লাহ (স) এইবারও ইতিবাচক জবাব দিলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে বিনয় দৃষ্টিতে তাকাইয়া তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন : وعلى من ههنا "আর এই দিকে যে মহান সত্তা রহিয়াছেন তিনিও মানিয়া লইবেন তো"?

যখন রায় কার্যকরী হওয়ার পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা লাভ করিলেন তখন গলদ গম্ভীর কন্ঠে তিনি ঘোষণা করিলেন : فانى احكم فيهم ان تقتل المقاتلة وان تسبى الذرية والنساء وتقسم أموالهم . "আমি রায় ঘোষণা করিতেছিঃ (১) তাহাদের মধ্যে যাহারা যুদ্ধক্ষম তাহাদিগকে হত্যা করা হউক; (২) শিশু ও নারীদিগকে বন্দী করা হউক এবং (৩) তাহাদের সম্পদসমূহ বণ্টন করা হউক" (দ্র. মুসলিম, অনুচ্ছেদ ৮৮, হাদীছ নং ৪৪৪৬; সহীহ বুখারী, বাব ১৬, হাদীছ নং ১২৭৬, কিতাবুল মাগাযী; আবু দাউদ, অধ্যায় ৫৭১, হাদীছ নং ১৭৭৪; সীরাত ইব্‌ন হিশাম, আরবী, ২খ., পৃ. ২৩০-৪০)।

রাসূলুল্লাহ (স) যে তাহার এই রায়ের প্রতি সন্তুষ্ট উহা পূর্ণই উক্ত হইয়াছে। ইহার মাত্র কয়েক দিন পরেই মসজিদে নববীর সন্নিকটস্থ ঐ তাঁবুতে চিকিৎসারত অবস্থায়ই হযরত সা'দ ইন্ন মুআয (রা) একেবারে মৃত্যুর মুখে দাঁড়াইয়া তাঁহার স্বগোত্রের সমস্ত লোকের আকৃতি আবদারকে অগ্রাহ্য করিয়া নির্ভীকভাবে সেদিন যে ঐতিহাসিক রায়টি ঘোষণা করিলেন, ইতিহাসে চিরদিন উহা মহানবী (স)-এর প্রতিরক্ষা কৌশল হিসাবে অক্ষয় হইয়া থাকিবে। কারণ এই ধরনের রায় কার্যকর না হইলে এই ইয়াহুদীরা ইসলাম ও মুসলমানদিগকে পুনরায় আক্রমণ করিত।

খন্দকের যুদ্ধে জনৈক বনূ কুরায়যা বংশীয় যোদ্ধা তীরবিদ্ধ করিয়া সা'দকে আহত করিয়াছিল এবং ইহাতেই শেষ পর্যন্ত তাঁহার মৃত্যু হইয়াছিল। এইজন্য তাঁহার পক্ষে বনু কুরায়যার বিরুদ্ধে এইরূপ একটি যথার্থ রায় দেওয়া সম্ভব হইয়াছিল (দ্র. শিবলী, সীরাতুন্নবী, ১খ., পৃ. ৪০৫, পাদটীকায়)। কিন্তু তাঁহার উক্ত সমালোচনা সঠিক নয়। কারণ ঐ তীর নিক্ষেপকারী কোন ইয়াহুদী ছিল না। তীর নিক্ষেপকারী লোকটি ছিল কুরায়শ বংশীয়। তাহার নাম ছিল ইবনুল আরিকা (দ্র. মুসলিম, হাদীছ নং ৪৪৪৬, ই.ফা. প্রকাশিত ৬ষ্ঠ খণ্ড, তাহার পূর্ণ নাম ছিল হাব্বান ইব্‌ন কায়স ইবনুল আরিকা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৪৯, বুখারী মুসলিমের বরাতে)। আল্লামা শিবলী নু'মানী লিখেন:

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিন্দু শাস্ত্রের বিধান

📄 হিন্দু শাস্ত্রের বিধান


হিন্দু শাস্ত্রের বিধান ইস্রায়েলীদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ভারতীয় হিন্দুগণ মুশরিক, যাহারা মুসলমানদের বিরোধিতা ও. তাহাদের প্রতি বৈরিতা পোষণে তাহাদের সমপর্যায়ের, তাহাদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হইয়াছে: لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا . "অবশ্য মুমিনদের প্রতি শক্রতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহুদী ও মুশরিকদিগকেই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখিতে পাইবে" (দ্র. ৫:৮২)।

ঐ হিন্দুজাতির অনুসরণীয় বেদের বাণী উহা হইতে কোন অংশে কম নহে। ঋগবেদও বলা হইয়াছে : রঙ্গ বীর চৌতহে মন্ডল কে মন্ত্র - ১৭ রজা - ১০ মেস পে এস নে পেয়াস পজার সিয়া হাম দুশমন কো লরাই মেইন তবাহ ওয়া গারত কিয়া (কাদিম হিন্দুস্তান কী তেজীব)। ঋগবেদ ৪ র্থ বৃত্ত, মন্ত্র ১৬, শ্লোক ১০-এ আছে : তিনি পঞ্চাশ সহস্র কৃষ্ণকায় শত্রুদের যুদ্ধে পরাজিত ও ধ্বংস করেন। রঙ্গ বেদ মন্ডল ১০ মন্ত্র ৬৭ রজা - ৭ হম নে দাসুন (গোলামুন) কো দো ঠুকরুন মেইন কিত্তা কর দিয়া ক্বধা ও কদর নে ইন কো অসি ওয়াস্তে পয়দা কিয়া থা, সঃ - ৩৮ - আমরা দাসদিগকে দুই টুকরা করিয়া কর্তন করিয়া দিলাম। নিয়তি তাঁহাদিগকে এইজন্যই সৃষ্টি করিয়াছিল। রঙ্গ বেদ মন্ডল ৩ মন্ত্র রজা ৬-৭ ওহ আন্দার জসনে ঔর তরাকো কিতল কিয়া ঔর কসবে কে গাওন কে গাওন বরবাদ কর দিহ্নে ওহ কালে দাসুন কী ফউজুন কো তবাহ কর দিয়া (উরদু তরজমে কদিম হিন্দুস্তান কী তেজীব মসনদে মসতির আর সী দত্ত)। সেই ইন্দ্র যিনি তরত্রাকে নিধন করেন এবং যিনি সম্পদের পর সম্পদ, গ্রামের পর গ্রাম বিধ্বস্ত করেন, তিনি কৃষ্ণকায় বাহিনীকে সংহার করেন (মিঃ আর. সি. দত্তের প্রাচীন ভারতের কৃষি-র উর্দু অনুবাদ, পৃ. ৩৭; রহমাতুল লিল-আলামীন, ২য়, পৃ. ১৫৬-১৫৭)।

ঋগ্বেদের শ্লোকে উল্লিখিত কৃষ্ণকায় দাস বা বেশ্য বলিতে কাহাদিগকে বুঝানো হইয়াছে ? তাহারা যে মধ্য এশিয়ার গৌরবর্ণের মরুচারী আর্যদের দৃষ্টিতে কৃষ্ণকায় আদিম ভারতীয় ডোম, কোল, তামিল, দ্রাবিড় ও আদিম সমাজের সাধারণ লোকজন ছিল উহা বলাই বাহুল্য। মনুসংহিতার পাতায় পাতায় তাঁহাদের মনুষ্যত্বের ও অধিকার বঞ্চিত জীবনের চিত্র বিধৃত হইয়াছে যাহার দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ এখানে নাই। হযরত সা'দ (রা)-এর বনু কুরায়যার বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়ের যে বিরোধিতা করার কোন সুযোগ কোন ইয়াহুদী, খৃষ্টান বা হিন্দু আর্য পণ্ডিতের নাই, এই কথাটি বুঝাইবার জন্যই কেবল এই আলোচনায়টুকু করিতে হইল।

স্বয়ং বনু কুরায়যার ইয়াহুদীরা এবং তাহাদের খাযরাজ বংশীয় বন্ধুগণ হযরত মু'আয (রা)-কে বিচারকরূপে মনোনীত করার জন্য প্রস্তাব দিয়াছিল এবং এই শর্তেই তাহারা আত্মসমর্পণ করিয়াছিল যে, তিনি যে রায় দিবেন, বিনা বাক্য ব্যয়ে তাহারা সেই সিদ্ধান্ত মানিয়া লইবেন। উহা না করিয়া তাহারা যদি রাসূলুল্লাহ্ (স) প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করিত, তাহা হইলে তিনি কী সিদ্ধান্ত দিতেন উহা তাহারা বুঝিতে পারিত। বনু কুরায়যা খন্দকের যুদ্ধেই যে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল তাহা নহে, বদর যুদ্ধেও তাহারা মক্কার কুরায়শদিগকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়া সাহায্য করিয়া মদীনা সনদের শর্ত লঙ্ঘন করিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) দয়াপরবশ হইয়া সেই সময় তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়াছিলেন। কাজী সুলায়মান মনসূরপুরী বলেন: "আমাদের কাছে এমনটি বিশ্বাস করার সঙ্গত কারণ ও নজীর রহিয়াছে যাহার উপর ভিত্তি করিয়া বলা চলে যে, বনু কুরায়যার ইয়াহুদীরা যদি তাহাদের ভাগ্যের ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর ছাড়িয়া দিত তবে তাহাদের বেশি হইতে বেশি যে শাস্তি দেওয়া হইত তাহা হইত, যাও, খায়বারে গিয়া বাস কর। বনূ নাষীর ও বনু কায়নুকার ইয়াহুদীদের ব্যাপারে তাঁহার সিদ্ধান্তই ইহার বাস্তব নজীর। রাসূলুল্লাহ (স) তো স্বয়ং বনু কুরায়যার কোন কোন ইয়াহুদীর প্রতিও বদান্যতা প্রদর্শন করিয়া রাজকীয় বদান্যতাস্বরূপ উক্ত সিদ্ধান্তের ব্যতিক্রম ঘোষণা করিয়াছিলেন। ইহা ছাড়া রিফা'আ ইব্‌ন শামুয়েল নামক ইয়াহুদীকেও তিনি ক্ষমা করিয়াছিলেন (দ্র. রহমতুললিল আলামীন, উর্দু, ১খ., পৃ. ১৫৬-১৫৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভারমিংহাম-এর স্বীকারোক্তি

📄 ভারমিংহাম-এর স্বীকারোক্তি


"Quraish had allied themselves to the Bedouins and the Jews, and their formixable Clayton was preparing to deal a decision blow to Islam. The Banu Nadhir who had taken refuge at Khaibar incited their hosts against the new power that had risen threatening all anarchistic Arabia; they represented Muhammad as a tyrant waiting to put all the tribes into chains. The Bedouins of Tihama and Nejd Joined Quraish in a body and the confedaration had spies in the very heart at Medina amongst the Jews of Banu quraidhah who designed, almost openly, the ruin of their burdensome ally. The situation, if prolonged might have become serious, the more so because Banu Quraidhah had allied themselues with the Ummah" (The Life of Mohamet, P. 326).

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 স্টেনলী লেনপুল বলেন

📄 স্টেনলী লেনপুল বলেন


"স্টেনলী লেনপুল বলেন: "Of the sentences on the three clans, that at exile, passed upon two of them, was clement enough. They were a turbulent set, always setting the people of Medina by the ears; and finally, a followed by an insurection resulted in the expulsion of one tribe; and insubordination, alliance with enemies and a suspicion of conspiracy against the Prophet's life, ended Similarly for the second. Both tribes way to bring Muhammad and his religion to ridicule and destruction. The only question is whether punishment was not too light. Of them an arbiter appointed by themselves, When Quraish and their allies are beseizing Medina and had well night stormed the defences, this Jews tribe entered into negotiations with the enemy, which were only circus dented by the diplomacy of the Prophet. When the beslized had retained, Muhammad naturally demanded an explanation at the Jews. They reinstated in their dogged way and were themsalves besieged and consented to surrender of discretion. Muhammad, however, consented to the appointing at a chief of a tribe allied to the Jews as the judge who should pronouns sentence upon them. This chief gave sentence that the men, in number some 600 should be killed, and the woman and children enslaved and the sentence was carried out. If was a harsh, bloody sentence; but it must be remembered that the crime of these men was high treason against the state, during a time of seize and one need not be surprised of the summary executing of a traitorous clan. (Studies in a Mosque, page 69).

"পূর্বোক্ত তিনটির মধ্যে দুইটি গোত্রের প্রতি প্রদত্ত নির্বাসনের দণ্ডাদেশ ছিল যথেষ্ট মৃদু বা হালকা। তাহারা ছিল একটি উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী। অহরহ তাহারা মদীনার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিতে লাগিয়াই থাকিত। অবশেষে কলহ, তারপর বিদ্রোহ একটি গোত্রের নির্বাসন পর্যন্ত গড়ায়। অবাধ্যতা, শত্রুদের সহিত যোগসাজশ ও নবীর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রজন্ত্রিত অবিশ্বাস দ্বিতীয় গোত্রটিরও অনুরূপ পরিণতি ডাকিয়া আনে। উভয় গোত্রই মূল সন্ধিচুক্তি লঙ্ঘন করে। তাহারা মুহাম্মদ (স) এবং তাঁহার ধর্মকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও ধ্বংসু করার কোন প্রচেষ্টাই বাদ দেয় নাই। এই ব্যাপারে একটি মাত্র প্রশ্ন, তাহাদের এই শাস্তি কি একান্তই হালকা ছিল না? কেবল তৃতীয় গোত্রটি ভয়ানক শাস্তির সম্মুখীন হয়, তাহাও আবার মুহাম্মদের দ্বারা নহে, বরং তাহাদেরই স্ব-নিয়োজিত একজন সালিশের দ্বারা। কুরায়শ এবং তাহাদের মিত্র বাহিনীর দ্বারা যখন মদীনা অবরুদ্ধ হয় এবং মদীনার প্রতিরোধ ভাঙ্গিয়া পড়ার উপক্রম হয় তখন উক্ত ইয়াহুদী গোত্রটি শত্রুদের সহিত যোগসাজশে লিপ্ত হয়। নবীর কূটনৈতিক ব্যবস্থার ফলেই উহা হইতে নিস্তার পাওয়া যায়। অবরোধ প্রত্যাহৃত হইলে মুহাম্মদ (স) স্বভাবতই ইয়াহুদীদের নিকট উহার কৈফিয়ত তলব করেন। তাহারা তাহার একগুয়েমীপূর্ণ জবাব দেয়, নিজেরাই নিজেদের জন্য অবরোধের পথ বাছিয়া লয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয়। যেমন করিয়াই হউক মুহাম্মদ (স) ইয়াহুদীদের একজন মিত্র গোত্রপতিকে তাহাদের ব্যাপারে রায় দেওয়ার জন্য বিচারক নিয়োগে সম্মতিদান করেন। সেই গোত্রপতিই যে রায় দিলেন সেই রায় কার্যকরী করা হয়। ইহা একটি রূঢ় ও রক্তক্ষয়ী রায় ছিল সন্দেহ নাই, তবে বিশ্বাসঘাতক গোত্রের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচারের রায় কার্যকরী হওয়ার জন্য কাহারও বিস্মিত হওয়ার মত কিছু নাই" (দ্র. স্টাডিজ ইন এ মস্ক, পৃ. ৬৮, London, Eden Remington, 1893)।

অন্যত্র Lane Poole লিখেন: "মনে রাখতে হবে যে, তাদের অপরাধ ছিল দেশের সঙ্গে গাদ্দারী এবং তাও আবার অবরোধকালীন। যেসব লোক ইতিহাসে এটা পড়েছে যে, (জেনারেল) ওয়েলিংটনের ফৌজ যে পথ দিয়ে যেত, সেসব পথ চিনতে পারা যেত পলাতক সৈনিক ও লুটপাটকারীদের লাশ দ্বারা যা গাছের ডালে লটকানো থাকতো, তাদের একটি গাদ্দার গোত্রের একটি কাতুকুতু ফয়সালার প্রেক্ষিতে নিহত হওয়ার ব্যাপারে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই" (নবীয়ে রহমত, পৃ. ২৭৭, Selection from the koran, page IXV-এর বরাতে)।

আর. ডি. সি. বলে বলেনঃ "মুহাম্মদ আরবে একা ছিলেন। এই ভূখণ্ডটি আকার-আয়তনের দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ এবং এর লোকসংখ্যা ছিল পঞ্চাশ লাখ। কেবল তিন হাজার সৈন্যের একটি ক্ষুদ্র সেনাদল ছাড়া তাদের নিকট এমন কোন সৈন্যবাহিনী ছিল না যারা লোকদের আদেশ পালনে ও আনুগত্য প্রদর্শন বাধ্য করতে পারে। এই বাহিনীও আবার পূর্ণ অস্ত্রসজ্জিত ছিল না। আর মুহাম্মদ যদি এক্ষেত্রে কোনরূপ শৈথিল্য কিংবা গাফলতিকে প্রশ্রয় দিতেন এবং বনী কুরায়যাকে তাদের বিশ্বাস ভঙ্গের কোনরূপ শাস্তি না দিয়েই ছেড়ে দিতেন, তাহলে আরব উপদ্বীপে ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হত। ইয়াহুদীদের হত্যার ব্যাপারটি কঠোর ছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু তাদের ধর্মের ইতিহাসে এটা কোন অভিনব ব্যাপারই ছিল না এবং মুসলমানদের দিক দিয়ে এ কাজের পেছনে পূর্ণ বৈধতা ও অনুমোদন বর্তমান ছিল। এর ফলে অপরাপর আরব গোত্রসমূহ ও ইয়াহুদীরা কোনরূপ চুক্তিভঙ্গ ও গাদ্দারী করবার পূর্বে তার পরিণতি কত খারাপ হতে পারে তা চিন্তা করতে বাধ্য হয়। কেননা মুহাম্মদ (স) যে তাঁর ফয়সালা কার্যকরী করতে কতটা পারঙ্গম তা তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিল" (প্রাগুক্ত, সূত্র The Messenger The Life of Muhammad, London 1946, p. 202-3)। মোটকথা, সমর কৌশল হিসাবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই পদক্ষেপ যে অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল উহা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকমাত্রই স্বীকার করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00