📄 (ক) গাযওয়াসমূহ
গাযওয়া-১: হজ্জ্বযাত্রীদের পথে ফুরু' অঞ্চলের আবওয়া/ওয়াদ্দান অভিমুখে: রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পরচালনায় প্রথম গাযওয়া। হিজরতের দ্বাদশ মাস সফর (হিজরী)। পতাকাবাহী হযরত হামযা (রা), প্রতিপক্ষ কুরায়শ ও বনূ দামরা, দামারীদের নেতা আশজা ইব্ন আমরের সহিত অনাক্রমণ ও নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদিত হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ১-২খ., পৃ. ৫৯১; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৯৫; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী; তাবাকাত, ২খ., পৃ.৮; সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৪)।
গাযওয়া-২: ইয়াম্বু'-এর নিকটবর্তী শাম অভিমুখী সড়কের পার্শ্ববর্তী রিযওয়া অঞ্চলে জুহায়না গোত্রের পর্বত বুওয়াত অভিমুখে। ২য় হিজরী ত্রয়োদশ মাস রাবী'উল আওয়ালে। রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে ছিল দুই শত মুজাহিদ। শ্বেত পতাকাবাহী ছিলেন সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (রা), প্রতিপক্ষ ও লক্ষ্য ছিল এক শত মানুষ ও আড়াই হাজার উটসহ উমায়্যা ইব্ন খালাফের নেতৃত্বাধীন কুরায়শ কাফেলা। কোন যুদ্ধ হয় নাই (সীরাত ইব্ন হিশাম, খ.,১-২, পৃ. ৫৯৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮-৯; সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৫)।
গাযওয়া-৩: প্রথম বদর যাহা গাযওয়া সাওয়ান নামেও অভিহিত। বদর অঞ্চলের সাফ্রয়ান উপত্যকা অভিমুখে। হিজরতের ত্রয়োদশ মাস রাবী'উল আওয়াল (২য় হি.), কুরয ইব্ন জাবির আল-ফিহরী মদীনার পশুপালের উপর (যাহা চারণভূমিতে ছিল) চড়াও হইয়া উহা লুট করিয়া লইয়া যায়। তাহার শাস্তি বিধানের উদ্দেশ্যে এই গাযওয়া পরিচালিত হয়। কুরয নিরাপদে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হয় এবং কোন সংঘাত হয় নাই (সীরাত ইবন হিশাম, ১-২খ., পৃ.৬০১; তারীখে ইব্ন জারীর তাবারী, ২খ., পৃ. ২৯১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯; সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৬)।
গাযওয়া-৪: গাযওয়া আল-উশায়রা। হিজরতের ১৬শ মাসে জুমাদাল উখরা শাম অভিমুখী কুরায়শ বাণিজ্য কাফেলার পথরোধ করিবার লক্ষ্যে। রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রত্যক্ষ পরিচালনায় এই গাযওয়ায় মুজাহিদ ছিলেন ১৫০-২০০ জন মুহাজির। উশায়রা ইয়াম্বু প্রদেশের বানু মুদলিজ গোত্রের অঞ্চল। কুরায়শ কাফেলা কয়েক দিন আগে নিরাপদে চলিয়া যায়। এই অভিযানকালে রাসূলুল্লাহ (স) বানু মুদলিজ গোত্র ও তাহাদের মিত্র বানু দামরার সহিত অনাক্রমণ সন্ধি স্থাপন করেন। ইবন ইসহাক, ইব্ন হিশাম, ইন্ন কাছীর প্রমুখের বর্ণনায় উশায়রা অভিযান প্রথম বদর অভিযানের পূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে এবং ইবন হিশামের বর্ণনায় সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (রা)-এর সারিয়্যা উশায়রার সংযুক্তরূপে ও ইব্ন কাছীরের বর্ণনায় প্রথম বদরের সংযুক্তরূপে উপস্থাপিত হইয়াছে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ১-২খ., পৃ. ৫৯৮-৫৯৯; সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব ১; তাবাকাত, ২খ., সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৭)।
গাযওয়া-৫: বদর আল-কুবরা বা প্রসিদ্ধ বদর যুদ্ধ হিজরতের (২য়) ১৯তম মাস রমাযান। সিরিয়া হইতে প্রত্যাগমনকারী কুরায়শের বিশাল বাণিজ্য বহর আক্রান্ত হওয়ার আশংঙ্কায় তাহাদের হিফাজতের লক্ষ্যে আবূ জাহলের নেতৃত্বে আগত মুশরিক বাহিনী এবং (৩১৩, ৩০৫ মতান্তরে) মুসলিম মুজাহিদের বাহিনীসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নেতৃত্বে মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে সংঘটিত প্রথম প্রত্যক্ষ ও ঐতিহাসিক যুদ্ধ যাহা কাফিরদের শক্তি খর্ব করিবার ও ইসলামের বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করে। পবিত্র কুরআনে ইহার আলোচনা রহিয়াছে (দ্র. আল-কুরআন আল-ইমরান, আনফাল, ও অন্যান্য; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৬৪-৫৭৪; সীরাত ইব্ন হিশাম, ১-২খ., পৃ. ৬০৬-৭১৫; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ৩১৩-৪১১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১-২৭; সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৮-১৭২)।
গাযওয়া-৬: বানু কায়নুকা, হিজরতের (২হি.) ২০তম মাস শাওয়াল; মদীনার অন্যতম প্রধান ইয়াহুদী গোত্র বনূ কায়নুকা মহানবী (স)-এর সহিত চুক্তিবদ্ধ ছিল। বদরের পরে তাহারা বিশ্বাসঘাতকতা করিলে তাহাদিগকে মদীনা হইতে উচ্ছেদ করা হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৪৭; তারীখু তাবারী, ৩খ.; 'উয়ূনুল আছার, ২খ., পৃ. ৩৫২; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ২৮-২৯; সুবুলুল হুদা ৪খ., পৃ. ১৭৯)।
গাযওয়া-৭: সাবীক বা ছাতুর যুদ্ধ; হিজরতের (২হি.) ২২তম মাস ৫/২৫ যিলহজ্জ। বদরের পরাজয়ে ক্ষুব্ধ আবূ সুফ্য়ান ২০০ (১০০/৪০) আরোহী লইয়া গোপনে মদীনার সন্নিকটে উরায়দ নামক স্থানে আগমন করিয়া জনৈক আনাসারী ও তাহার সহকর্মীকে হত্যা করে এবং কিছু বাড়িঘর জ্বালাইয়া দিয়া পলায়ন করে। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার পশ্চাদ্ধাবন করিয়া কারাকাতুল কুদর পর্যন্ত তাহাকে তাড়া করেন। আবূ সুফ্য়ান ও তাহার বাহিনী ছাতুর বোঝা ও অন্যান্য আসবাবপত্র ফেলিয়া দ্রুত পলায়ন করে (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৪৪; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ৪১৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৩০। ইব্ন হিশাম ও ইব্ন কাছীরের বর্ণনায় সাবীক যুদ্ধ বনূ কায়নুকা অভিযানের পূর্বে ছিল।
গাযওয়া-৮: বনূ সুলায়মর বিরুদ্ধে কারারাতুল কুদর যুদ্ধ। হিজরতের ২৩তম মাস মুহররাম মাসের মাঝামাঝি সময়ে বানু সুলায়ম গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয় (মতান্তরে বদরের পূরে রমাযান বা শাওয়াল ০২ হি.)। বানু সুলায়ম ও গাতাফানীদের বাহিনী সমাবেশ ঘটাইবার সংবাদের প্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। শত্রুরা বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই (সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৪৩; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ৪১৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৩১; সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ১৭২)।
গাযওয়া-৯: গাযওয়া গাতাফান যাহা যূ-আমর নামেও অভিহিত। নাজদ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত নুখায়ল অঞ্চলে রাবী'উল আওয়াল-মতান্তরে যিলহজ্জে গাতফানের শাখা বনূ হারিছ ইব্ন মুহারিব (অথবা বনূ ছা'লাবা ইবন মুহারিব) মদীনা আক্রমণের লক্ষ্যে বাহিনী সমাবেশ ঘটাইবার গোয়েন্দা সংবাদের প্রেক্ষিতে তাহাদিগকে দমন করিবার জন্য এই অভিযানে পরিচালিত হয়। মুসলিম মুজাহিদ সংখ্যা ছিল চার শত পঞ্চাশজন। মুশরিক দলের প্রধান ছিল দু'ছুর ইবনুল হারিছ। শত্রুরা পাহাড়-পর্বতে পালাইয়া আত্মরক্ষা করে। ফলে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই। ইবন ইসহাক, ইবন হিশাম ও ইবন কাছীর প্রমুখের বর্ণনায় এই গাযওয়া ছিল বনূ কায়নুকা'-এর পূর্বে (তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ. ২; আন-নুওয়ায়রী, ১৭ খ., পৃ.৭৭; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৪৯; 'উয়ুনুল আছার, ১ খ., পৃ.৩৬২; তাবাকাত, ২ খ., পৃ.৩৪; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ১৭৬)।
গাযওয়া-১০ : গাযওয়া বনূ সুলায়ম বা গাযওয়া আল-ফুর; ৬ জুমাদাল উলা, ৩হি., মতান্তরে রাবী'উছ, ছানী বনূ সুলায়ম গোত্র বহু যোদ্ধা সমাবেশ ঘটাইয়াছে-এই সংবাদের প্রেক্ষিতে তিন শত মুজাহিদসহ রাসূলুল্লাহ (স) অভিযানে বাহির হন। প্রতিপক্ষ বিক্ষিপ্ত হইয়া যায় এবং যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ৪৬-৫০; মাগাযিল-ওয়াকিদী, ১ খ., পৃ. ১৯৬; তারীখ তাবারী, ৩ খ., পৃ. ২; 'উয়ূনুল আহার, ১ খ., পৃ. ৩৬২; আন-নুওয়ায়রী, ১৭ খ., পৃ. ৭৯; আল-কামিল, ২ খ., পৃ. ১৪২; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৩৫; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ১৭৮)।
গাযওয়া-১১: গাযওয়া উহুদ। হিজরতের ৩২তম মাস, ৭ শাওয়াল, ৩ হি. শনিবার (মতান্তরে ১১/১৫ শাওয়াল) অন্যতম প্রধান যুদ্ধ, যাহাতে সত্তরজন মুসলিম মুজাহিদ শাহাদত লাভ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (স) নিজেও আহত হন (বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য, কিতাবুল মাগাযী/কিতাবুল জিহাদ; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ৬০; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ১১; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৩৬; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ১৮২)।
গাযওয়া-১২: হামরাউল আসাদ উহুদের অব্যবহিত পরে (৮ শাওয়াল, ৩ হি.) আবূ সুফয়ান (কুরায়শী) বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবনের লক্ষ্যে (সীরাত ইবন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ১০১; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ৩৬; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৪৮; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ৩০৮)।
গাযওয়া-১৩: বানু নযীর-এর প্রতিরোধে। ৪ হিজরীর রাবী'উল আওয়ালে (মতান্তরে বদর ও উহুদের মধ্যবর্তী সময়ে বদরের ছয় মাস পরে। বি'রে মাউনা হইতে ফিরিবার পথে আমর ইবন উমায়্যার হাতে নিহত দুই আমেরী ব্যক্তির দিয়াত প্রদানে রাসূলুল্লাহ (স) বনু নাযীরকে আহবান জানাইলে বাহ্যত তাহারা উহাতে সম্মতি প্রকাশ করিল। কেননা তাহারা বনূ আমেরের সহিত মিত্রতা চুক্তির শর্তানুসারে ইহাতে বাধ্য ছিল। কিন্তু গোপনে তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করিলে তাহাদিগকে মদীনা হইতে নির্বাসিত করা হয় (সীরাত ইবন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ১৯০; মাগাযিল ওয়াকিদী, ১ খ., পৃ. ৩৭৪; দালাইলুন নুবৃওয়্যাহ, ৩খ., পৃ. ৩৬৪; বুখারী, ফিতাবুল মাগাযী, বাব বনু নাষীবের উৎখাত; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৮৬; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৫৭; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ৩২; বুখারী ২খ., পৃ. ৫৭৪)।
গাযওয়া-১৪ : আখিরী (শেষ-দ্বিতীয়, তৃতীয়) বদر। উহুদ যুদ্ধ হইতে ফিরিয়া যাওয়ার সময় তখনকার মুশরিক নেতা আবূ সুফয়ান ঘোষণা করিয়া গিয়াছিল, আগামী বৎসর তোমাদের সঙ্গে বদরে সাক্ষাত হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমানগণ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করিলেন এবং ৪ হি. যিলকদের সূচনায় (মতান্তরে রিকা' যুদ্ধ হইতে ফিরিবার পর শা'বান মাসে) বদরে উপস্থিত হইলেন। আবূ সুফয়ান বাহিনী মক্কায় দুর্ভিক্ষজনিত পরিস্থিতির অজুহাতে স্বঘোষিত ওয়াদা ভঙ্গ করিয়া অনুপস্থিত থাকিল। ফলে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হইল না। মুসলমানগণ ব্যবসা-বাণিজ্য করিয়া বিপুল পরিমাণে লাভবান হইয়া মদীনায় ফিরিয়া আসিলেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ২০৯; মাগাযিল ওয়াকিদী, ১ খ., পৃ. ৩৮৭; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১০০; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৫৯; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ৩৩৭)।
গাযওয়া-১৫ : যাতুর রিকা' অভিযান। ৫ম হিজরীর মুহাররাম (মতান্তরে বনূ নাযীর অভিযানের পরে)। গাতাফানীদের শাখা গোত্র আনমার ছা'লাবা (ও মুহারিব) মদীনা আক্রমণের জন্য সেনা সমাবেশ করিতেছে, এই সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক এই অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে সালাতুল খাওফ-এর বিধান নাযিল হয়। শত্রুদল বিক্ষিপ্ত হইয়া যাওয়ায় যুদ্ধ হয় নাই। মুসলিম বাহিনীর যোদ্ধা সংখ্যা ছিল ৪০০/৭০০/৮০০ (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ২০২-২১৩; আনসাবুল আশরাফ, ১ খ., পৃ. ৬৩; মাগাযিল ওয়াকিদী, ১ খ., পৃ. ১৬৩; তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ., ৩৯; ইবন হাম্, পৃ. ১৮২; উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ৭২; আন-নুওয়ায়রী, ১৭ খ. পৃ. ১৭৬; দালাইলুল বায়হাকী, ৩খ., পৃ. ৩৬৯; সীরাতে হালাবিয়্যা, ২ খ., পৃ. ৩৫৫; বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৯২; মুসলিম, ২ খ.; জিহাদ অধ্যায়; আল-বিদায়া ৪ খ., পৃ. ৯৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৬১; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ১৭৫)।
গাযওয়া-১৬ : দূমাতুল জানদাল (শামের প্রবেশ মুখ) অভিমুখে। সংবাদ পৌঁছিল যে, দূমায় একদল সন্ত্রাস মানুষের উপর নিপীড়ন করে এবং পথচারীদের সর্বস্ব ছিনতাই করে ও বাণিজ্য কাফেলা লুটতরাজ করে। ৫ম হিজরীর রাবী'উল আওয়ালে এই অভিযান পরিচালিত হয়। শত্রু দলের এক হাজারের বাহিনী পালাইয়া যায় (সীরাত ইবন হিশাম, ৩ খ., পৃ.২১৩/২২৪; শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ৯৫; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ১০৫; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৬২; সুবুলুল হুদা, ৪ খ., পৃ. ৩৪২)।
গাযওয়া-১৭ : আল-মুরায়সী' বা বানুল মুসতালিক অভিযান ২ শা'বান, ৫ম হিজরী (মতান্তরে ৪র্থ হিজরী অথবা ৬ষ্ঠ হিজরী)। উম্মুল মু'মিনীন হযরত জুওযায়রিয়া (রা)-এর পিতা বনূ মুসতালিক গোত্রের শীর্ষ নেতা হারিছ ইব্ন আবূ দিরার-এর নেতৃত্বে বনূ মুসতালিক-এর যোদ্ধা সমাবেশ ঘটাইবার সংবাদের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (স) এই অভিযান পরিচালনা করেন। মুসলিম মুজাহিদদের সংখ্যা ছিল সাত শত। শত্রুদল হযরত উমার (রা)-এর মাধ্যমে ঘোষিত কলেমার দা'ওয়াত অস্বীকার করিলে প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে তাহাদের দশজন নিহত হয় এবং অবশিষ্ট সকল নারী-পুরুষ বন্দী হয়। একজন মুসলমান শাহাদত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধবন্দী সর্দার কন্যা জুওয়ায়য়িয়া (রা) কে মুক্ত করিয়া বিবাহ করিলে সাহাবায় কিরাম (রা) এই দাম্পত্য সম্বন্ধের সম্মানে সকল বন্দীকে মুক্ত করিয়া দেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ.২৮৯/৩০২; মাগাযী, আল-ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৪০৭; বুখারী, ২খ., পৃ.৫৯৩ মুসলিম, ২খ., জিহাদ, বাব-১; বিদায়া, ৪খ., পৃ.১৭৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৬৩; সুবুলুল হুদা., ৪খ., পৃ. ৩৪৪)।
গাযওয়া-১৮: খন্দক (পরিখা) বা আহযাব যুদ্ধ। ৫ম হিজরীর যিলকদ মাসের ৮ তারিখে (মতান্তরে ৪৯তম মাস রাবী 'উল আওয়ালে অথবা ৪র্থ হিজরীর শাওয়ালে) মক্কার মুশরিকদের নেতৃত্বে প্রায় সমগ্র আরবের সম্মিলিত যৌথ বাহিনী মদীনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে আগমন করিলে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর পরামর্শে মদীনার উন্মুক্ত প্রান্তরগুলিতে পরিখা খনন করিয়া শত্রুদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শত্রুদল দীর্ঘদিন মদীনা অবরোধ করিবার পরে আল্লাহর সৈনিক প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু ও শৈত্যপ্রবাহে পর্যুদস্ত হইয়া অবরোধ তুলিয়া ফিরিয়া যায়। ইহাই ছিল মদীনা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কা বা সীদের শেষ ও চূড়ান্ত আক্রমণ। ইহার পর হইতে তাহারা বিভিন্ন কারণে ও বিভিন্নরূপে পর্যুদস্ত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করিতে থাকে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ২১৪/২২৪; আনসাবুল আশরাফ, ১খ., পৃ. ১৬৫; বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৮ (৫/১০৭); ইন্ন হাযম, পৃ. ১৭৪; সীরাত হালাবিয়া, ২খ., পৃ. ৪০১; 'উয়ূনুল আছার, ২খ., পৃ. ৭৬; সীরাত শামিয়াহ, ৪খ., পৃ. ৫১২; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৪৪০; দালাইলুল বায়হাকী, ৩খ., পৃ. ৩৯২; নাওয়াবী, শরহু মুসলিম, ১২খ., পৃ. ১৪৫; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১০৬; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৬৫; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৬৩)।
গাযওয়া-১৯: বনু কুরায়ঞ্জা অভিযান: ৫ম হিজরী যিলকাদ মাস। খন্দক হইতে প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে জিবরীল (আ) পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় আসিয়া নিজে বনু কুরায়যার উদ্দেশ্যে গমনের ঘোষণা দেন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-কে বনু কুরায়যা অভিমুখে গমন করিবার জন্য আল্লাহ তা'আলার আদেশ অবহিত করেন। খন্দক যুদ্ধকালে তাহাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এই আদেশ দেওয়া হয়। হযরত আলী (রা) পতাকা বহন করেন। অবরুদ্ধ বনু কুরায়যা সা'দ ইব্ন মু'আয (রা) কে বিচারক মানিয়া আত্মসমর্পণ করে। সা'দ (রা) সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করিবার সিদ্ধান্ত প্রদান করিলে উহা বাস্তবায়ন করা হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ২৩৩; বুখারী, ২খ., কিতাবুল মাগাযী, বাব-খন্দক হইতে প্রত্যাবর্তন; মুসলিম, ২খ., কিতাবুল জিহাদ; সীরাত শামিয়া, ৫খ., পৃ. ৯; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১৩৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৭৪; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৩)।
গাযওয়া-২০: বানু লিয়ান অভিমুখে। ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উল আওয়াল, রাজী'-এর ঘটনায় হযরত খুবায়ব (রা) ও তাঁহার সঙ্গীদের নিহত হওয়ার প্রতিবিধান লক্ষ্যে লিহয়ানের হুযায়ল ইব্ন মুদরিকা গোত্রের বিরুদ্ধে এই গাযওয়া পরিচালিত হয়। শত্রুরা পাহাড়-পর্বতে লুকাইয়া আত্মরক্ষা করে। মক্কাবাসীদিগকে সন্ত্রস্ত করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) উসফান পর্যন্ত যাত্রাভিযান প্রলম্বিত করেন এবং ছোট ছোট দল (সারিয়্যা) বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করেন। ইব্ন ইসহাক, ইব্ন হিশাম ও ইন কাছীর প্রমুখের বর্ণনায় গাযওয়া বনূ লিহয়ান ৪র্থ হিজরীর তালিকাভুক্ত রহিয়াছে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ১৭১; মাগাযিল ওয়াকিদী ১খ., পৃ.৩৯৬; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ.৯৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৭৮; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৩০)।
গাযওয়া-২১: গাযওয়া যূ কারاد বা গাযওয়া আল-গাবা। একদল গাঅফানী ঘোড়সওয়ার ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উল আওয়ালে উয়ায়না ইবন হিস্স আল-ফাযারী গাবা অঞ্চলের চারণভূমিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উটপালের উপর আক্রমণ করে এবং আবূ যার (রা)-এর পুত্রকে হত্যা করে ও তাঁহার স্ত্রীকে ধরিয়া লইয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (স) ৫০০ মুজাহিদ সহকারে তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিয়া যূ কারাদ পর্যন্ত তাহাদিগকে বিতাড়িত করেন এবং উটপাল ফিরাইয়া আনেন। এই অভিযানে সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) সাহসিকতা ও যুদ্ধ কুশলতার সাক্ষর রাখেন। পতাকাবাহী ছিলেন মিকদাদ ইবন আমর (রা)। বুখারী ও অন্য অনেকের বর্ণনায় যী কারাদ/গাবা গাযওয়া খায়বারের পরে সংঘটিত হইয়াছে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ২৮১; বুখারী, ২খ., মাগাযী, বাব ৩৮, হাদীছ নং ৪১৯৪; কিবাতুল জিহাদ, বাব ১৬৬; মুসলিম, কিবাতুল জিহাদ, বাব ৪৫; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১৬৪; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১৭০; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮০; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৯৫)।
গাযওয়া-২২: হুদায়বিয়া সন্ধি ৬ষ্ঠ হিজরীর যিলকাদ মাসে যাহা বায়'আতে রিদওয়ান নামেও পরিচিত। রাসূলুল্লাহ (স) প্রায় দেড় হাজার সাহাবীসহ উমরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলে পথিমধ্যে মক্কাবাসী কাফিররা উহাতে বাধা প্রদান করে এবং দশ বছরের অনাক্রমণ চুক্তি সম্পাদিত হয়, যাহা পরবর্তীতে ইসলামের বিজয় ও বিস্তৃতির দুয়ার খুলিয়া দেয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, পৃ. ৩১৫; বুখারী, ২খ., মাগাযী, পৃ. ৫৯৭; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১৮৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯৫; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৩৩)।
গাযওয়া-২৩: খায়বার অভিযান। ৭ম হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে এবং ইব্ন ইসহাক, ইব্ন হিশাম, ইব্ন কাছীর প্রমুখের মতে, ৭ম হিজরীর বর্ষ সূচনায় (যুহরী হইতে বর্ণিত একটি মতে ৬ষ্ঠ হিজরীতে)। মদীনা হইতে বিতাড়িত ইয়াহুদীরা খায়বারে বসতি স্থাপন করিয়াছিল। ইহা ছাড়া ইয়াহুদীদের স্বভাবজাত বিদ্বেষ ও চক্রান্ত নির্মূল করা নূতন ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য ছিল। এই কারণে ইয়াহূদীদিগকে পদানত করিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খায়বার অভিযান পরিচালিত হয় এবং ইয়াহুদীরা পরাজিত ইয়া অধীনতা চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য হয় (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৩২৮; আদ-দুরার, পৃ. ১৯৬; বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৩; মাগাযীল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৬৩২; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ১৯৫; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৩৭৫; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৬; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১০৬; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ১১৫)。
গাযওয়া-২৪: (ওয়াদিল কুরা), খায়বার হইতে ফিরিবার পথে। ইয়াহুদীরা পরাজয় স্বীকার করিয়া অধীনতা চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য হয়। খায়বার অভিযানের সহিত সংযুক্ত হওয়ার কারণে অনেক ঐতিহাসিক ও গ্রন্থকার ওয়াদিল কুরা অভিযানকে স্বতন্ত্ররূপে তালিকাভুক্ত করেন নাই (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৩৩৮; মাগাযীল ওয়াকিদি, ২খ., পৃ. ৭১০; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৪৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৯; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ১৪৮)।
গাযওয়া-২৫ : মক্কা বিজয়, রমযান ৮ম হিজরী। মক্কার কুরায়শ ও মুশরিক পক্ষ হুদায়বিয়া সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করিলে মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত লওয়া হয় এবং নির্বিঘ্নে মক্কা বিজিত হয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬১২; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৩৮৯; দালাইলুল বায়হাকী, ৫খ., ৯.; বিদায়া, ৪খ., ৩১৭; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৩৪; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২০০)।
গাযওয়া-২৬: গাযওয়া হুনায়ন, হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে (হাওয়াযিন ও তাইফের ছাকীফ গোত্রদ্বয় সম্মিলিত প্রতিরোধে চুক্তিবদ্ধ হইয়াছিল। মক্কা বিজয়ের পর শাওয়াল ৮ম হিজরীতে এই অভিযান পরিচালিত হয় এবং বিপুল পরিমাণ গনীমত অর্জিত হয় (বুখারী, ২খ., ৬১৭; মুসলিম ২খ., কিতাবুল-জিহাদ; 'উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ২৪২; শারহুল মাওয়াহিব, ৩খ., পৃ. ৫; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৮৮৫; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৪৩৭; ৪খ., পৃ. ৮০; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩৬৮; সীরাত শামিয়াহ ৫খ., পৃ. ৪৫৯; তারীখে তাবারী, ৩খ., ১২৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৪৯; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৩১০)।
গাযওয়া-২৭: তাইফ অভিযান। মক্কা বিজয় ও হুনায়নের পরে, শাওয়াল ৮ম হিজরী। প্রায় এক মাস অবরোধের পর (ইবন হিশামের বর্ণনায় সতর দিন) রসূলুল্লাহ (স) মুসলিম বাহিনীকে অবরোধ আদেশ দেন। পরে ৯ম হিজরীতে তাইফবাসীদের প্রতিনিধিদল আসিয়া আত্মসমর্পণ-করে ও ইসলাম গ্রহণ করে (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬১৯; দালাইলুল বায়হাকী, ৫খ., পৃ. ১৫৯; ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৪; সীরাত হিশাম, ৫খ., পৃ. ৩৯৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৫৮; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ৩৮২)।
গাযওয়া-২৮: রোমানদের বিরুদ্ধে প্রসিদ্ধ তাবুক অভিযান, রজব ৯ম হিজরী। প্রতিপক্ষ ময়দান ত্যাগ করায় যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গোত্র ও সামন্ত রাজাদের সহিত সন্ধিচুক্তি সাক্ষরিত হয় (তারীখে তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৪২, বুখারী, ২খ., পৃ. ৬৩৩, সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৫১৫; মাগাযিল ওয়াকিদী, ৩খ., পৃ. ৯৮৯; উয়ুনুল আছার ২খ., পৃ. ২৭৪; শারহুল মাওয়াহিব, ৩খ., পৃ. ৬২; সীরাত শামিয়া, ৫খ. পৃ. ৬২৫; ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ৯০; বিদায়া, ৫খ., পৃ. ৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬৫-১৬৮; সুবুলুল হুদা, ৫খ. পৃ. ৪৩৩)।
📄 (খ) সারিয়্যাসমূহ
সারিয়্যা-১: হামযা ইবন 'আবদুল মুত্তালিব (র)-এর সারিয়্যা। হিজরতের পরবর্তী সপ্তম মাস রমাযানে (১ম হিজরী) রাসূলুল্লাহ (স) ইসলামের প্রথম যুদ্ধ পতাকা হযরত হামযা (রা)-কে প্রদান করিয়া তাঁহাকে ঈস অঞ্চলের সমুদ্র তীরে প্রেরণ করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের এবং উহার বাহক ছিলেন হামযা (রা)-এর মিত্র আবূ মারছাদ আল-গানাবী (রা)। মুসলিম মুজাহিদ সংখ্যা ছিল ত্রিশজন মুহাজির। লক্ষ্য ছিল আবূ জাহলের নেতৃত্বে শাম হইতে মক্কাভিমুখে আগত তিন শত সদস্যের বাণিজ্য কাফেলার পথরোধ করা। ইহাতে উভয় পক্ষের মিত্র মাজদী ইবন আমর আল-জুহানী উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা করিয়া দিলে কোন যুদ্ধ ও হানাহানি ব্যতীত পক্ষদ্বয় নিজ নিজ অবস্থানে ফিরিয়া যায় (তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৬; বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৬-৩০০; সীরাত ইন্ন হিশাম, ১-২খ. পৃ. ৫৯; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১১১)।
সারিয়্যা-২: উবায়দা ইবনুল হারিছ ইবনুল মুত্তালিব-এর সারিয়্যা। হিজরতের অস্টম মাস শাওয়ালে (১ম হিজরী) বাতনে রাবিগ অভিমুখে। মুসলিম মুজাহিদ সংখ্যা ছিল ষাট (মতান্তরে আশি) জন মুহাজির। শ্বেত পতাকাবাহী ছিলেন মিসতাহ ইব্ন উছাছা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব। মুসলিম বাহিনী ছানাইয়াতুল মুররা-র সন্নিকটে (মতান্তরে আহ্যা নামক জলাধারের নিকটে) কাফিরদের বিরাট বাহিনীর সম্মুখীন হয়। দুই শত সদস্যের দলটির নেতৃত্বে ছিল আবু সুফ্যান (মতান্তরে 'ইকরিমা ইব্ন আবু জাহল অথবা মিকরায ইবন হাম্স। কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই (তাবাকাত, ২খ. পৃ. ৯; ইব্ন হিশাম, ১-২ খ., পৃ. ৫৯১; বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৭, ২৯৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৩)।
ইবন ইসহাক, ইব্ন হিশাম প্রমুখের মতে উবাদা (রা)-এর সারিয়্যা প্রথম এবং হামযা (র)-এর সারিয়্যা দ্বিতীয়। যুহরী, মূসা ইব্ন উকবা, ওয়াকিদী প্রমুখের মতে সারিয়্যা হামযাই সর্বপ্রথম। মূলত উভয় সারিয়্যার সময় অতি সংলগ্ন হওয়ার কারণে এই বিরোধ দেখা দিয়াছে (বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৬, ২৮৭, ২৯৮, ৩০৩-৩০৪)।
সারিয়্যা-৩: সা'দ ইব্ন আবী ওয়াককাস (রা)-এর সারিয়্যা, হিজরতের নবম মাস যিলকাদ (১ম হিজরী), হিজাযের অন্তর্গত খায়বার অভিমুখে। শ্বেত পতাকাবাহী ছিলেন মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ ('আমর) আল-বাহরানী, মুজাহিদ সংখ্যা বিশ (একুশ) জন। প্রতিপক্ষ কুরায়শ বাণিজ্য কাফেলাকে প্রতিরোধ করিবার লক্ষ্যে অভিযান চালানো হয়। কাফেলা একদিন পূর্বে নিরাপদে চলিয়া যায়, ফলে কোন সংঘাত ঘটে নাই (সীরাত ইবন হিশাম, ১-২খ., পৃ. ৬০০; সুবুলুল হুদা ৫খ., পৃ. ১৫)।
সারিয়্যা-৪: সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (রা)-এর সারিয়্যা। মিত্র গোত্র মুযায়নার পার্শ্ববর্তী কুরায়শের শাখা গোত্র বনূ কিনানার বিরুদ্ধে। হিজরী ২য় বর্ষের জুমাদাল উখরা অথবা রজব মাসে। সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (র)-এর পরিচালনায় আট (অথবা এক শত) সদস্যের অভিযান। এই সারিয়্যার বিবরণ অস্পষ্ট ও মতভেদপূর্ণ। ইহা ও পূর্ববর্তী ৩নং সারিয়্যা অভিন্ন হইতে পারে (দ্র. সীরাত ইন্ন হিশাম, ১-২ খ., পৃ. ৬০০; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৬)।
সারিয়্যা-৫: আবদুল্লাহ ইব্ন জাহ্শ (রা)-এর সারিয়্যা, হিজরতের উদ্দেশ্যে সপ্তদশ মাস বদর প্রথম বদর হইতে প্রত্যাবর্তনের পরে আবদুল্লাহ ইব্ন জাহশের নেতৃত্বে মুহাজির সদস্যের সংক্ষিপ্ত বাহিনী। উদ্দেশ্য ছিল শাম হইতে প্রত্যাগমনকারী কুরায়শ বাণিজ্য কাফেলার (যাহাদের উদ্দেশ্যে উশায়রা অভিযান পরিচালিত হইয়াছিল এবং তাহারা নিরাপদে শাম চলিয়া গিয়াছিল। পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, মক্কা ও তায়ফের মধ্যবর্তী নায়লায় অবস্থানের নির্দেশপ্রাপ্ত এই দলটির হাতে বিশিষ্ট কুরায়শ নেতা আমর ইবনুল হাদরামী নিহত হয় রজব মাসের শেষ অথবা শা'বানের প্রথম দিন। বাহ্যত এই ঘটনা পরবর্তী প্রধান যুদ্ধ বদরের কারণে হইয়াছিল। পবিত্র কুরআনে ২: ২১৭ ও পরবর্তী আয়াতে এই ঘটনার প্রতি ইংগিত আছে (সীরাত ইন্ন হিশাম, ১-২খ., পৃ. ৬০১-৬০৬; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ৩০৪-৩০৮; মাগাযীআল- ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৩২; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১০; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৬)।
সারিয়্যা-৬: উমায়র ইব্ন আদী ইবন খারাশ আল-খিতমী (রা)-এর সারিয়্যা (বা'ছ); হিজরতের (২য়) মাসে ২৫ রমাযানে বদরের অব্যবহিত পরে বনূ উমায়্যা ইব্ন যায়দ গোত্রের মহিলা কবি আসমা বিন্ত মারওয়ানকে শায়েস্তা করিবার লক্ষ্যে। 'আসমা নবী করীম (স) বিরদ্ধে উসকানীমূলক কবিতা রচনা করিত। উমায়র (রা) তাহাকে হত্যা করেন (সীরাতে ইব্ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৬৩৬-৫৭৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ২৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১)।
সারিয়্যা-৭: সালিম ইবন উমায়র (রা)-এর সারিয়্যা (বা'ছ); বনু আমর ইব্ন আওফের সদস্য আবু (ইব্ন্ন) 'আঙ্ক ইয়াহুদীর বিরুদ্ধে, হিজরতের (২হি.) ২০তম মাস শাওয়াল। সে উসকানীমূলক কবি রচনা করিত। সালিম (রা) তাহাকে হত্যা করেন। ইন্ন হিশামের বর্ণনায় অসমা বিন্ত মারওয়ানকে হত্যার ঘটনা আবু আক্ককে হত্যার পরে এবং উহার অনুবর্তী ঘটনারূপে হইয়াছিল (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ২৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৩)।
সারিয়্যা-৮: মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র ইয়াহুদী কা'ব ইবনুল আশরাফকে হত্যার অভিযান। কা'ব ছিল অত্যন্ত কুচক্রী ও নবী বিদ্বেষী। কবিতা দ্বারা সে নবী করীম (স)-কে কষ্ট দিত। হিজরতের ২৫তম মাসে, ৪ঠা রাবী'উল আওয়াল (৩হি.) মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) কৌশলে তাহাকে হত্যা করেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৫১; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী ২খ., বাব ৪২; 'উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ৩৫৬; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৬-১০; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৩১-৩৪; সুবুলুল হুদা, খ. ৬.পৃ. ২৫-২৯)।
সারিয়্যা-৯: যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা কারাদা অভিমুখে। হিজরতের ২৮তম মাস জুমাদাল উখরা ৩হি.। হযরত যায়দ (রা)-এর প্রথম সারিয়্যা। নাজদ অঞ্চলের কারাদা অভিমুখে। কুরায়শরা সিরিয়ায় বাণিজ্য সফরের জন্য মদীনার সন্নিকটে সাগর পাড়ের পথ পরিহার করিয়া ইরাকগামী নাজদ অঞ্চলের পথ গ্রহণ করিলে তাহাদের গতিরোধের লক্ষ্যে যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর পরিচালনায় ১০০ মুজাহিদের বাহিনী প্রেরিত হয়। আবূ সুফ্যান অথবা সাফওয়ান ইবন উমায়্যা (হুওয়ায়তিব) প্রমুখের নেতৃত্বে বাণিজ্য কাফেলা শীর্ষস্থানীয়রা পালাইয়া যায় এবং মুসলিম বাহিনী বিপুল পরিমাণ গনীমত লাভ করে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩ খ., পৃ.৫০; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৭-৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৩২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৩৬)।
সারিয়্যা-১০: আবূ সালামা আবদুল্লাহ ইব্ন আবদুল আসাদ (রা)-এর সারিয়্যা, বনূ আসাদ ইব্ন খুযায়মা গোত্রের (যায়দ অঞ্চলের সন্নিকটে) কাতান (জলাধার) অভিমুখে ১৫০ জন মুজাহিদের বাহিনী। হিজরতের ৩৫তম মাস মুহররাম ৪ হিজরীর সূচনায়। তুলায়হা ইব্ন খুওয়ায়লিদ ও তাহার ভাই সালামা ইব্ন খুওয়ায়লিদ রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহবান করিতেছে-এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। শত্রুরা বিক্ষিপ্ত হইয়া পালাইয়া যায়। মুসলিম বাহিনী গণীমত লাভ করে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ৬১২; দালাইলুল বায়হাকী, ৩ খ., পৃ. ৩১; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৫০; সুবুলুল হুদা, ৬ খ., পৃ. ৩৪)。
সারিয়্যা-১১: আবদুল্লাহ ইব্ন উনায়স (রা)-এর সারিয়্যা; ৫ মুহাররাম, ৪ হিজরী। রসূলুল্লাহ (স) অবহিত হইলেন যে, খালিদ ইব্ন সুফ্যান (বর্ণনান্তরে সুফ্যান ইব্ন খালিদ) ইব্ন নুবায়হ হুযালী উরানা নিম্নভূমিতে ও নাখলায় মদীনা আক্রমণের লক্ষ্যে হুযায়ল লিয়ান গোত্রের যোদ্ধা সমাবেশ করিতেছে। তাহাকে শায়েস্তা করিবার জন্য আবদুল্লাহ ইব্ন উনায়স (রা)-কে প্রেরণ করা হয়। শত্রদল বিক্ষিপ্ত হইয়া গেল এবং আবদুল্লাহ (রা) সুফ্যান (খালিদ)-কে হত্যা করিলেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৬১৯; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ১৬০; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৫০; সুবুলুল হুদা, ৬ খ., পৃ. ৩৬)।
সারিয়্যা-১২: মুনযির ইব্ন আমর আস-সাইদী (রা)-এর সারিয়্যা যাহা বি'রে মা'উনা যুদ্ধ নামে সমধিক পরিচিত। হিজরতের ছত্রিশতম মাস সফর ৪ হি.। আমের ইবনুত তুফায়ল এবং বনূ সুলায়ম-এর শাখাগোত্র রি'ল ও যাকওয়ান এবং লিয়ান ও উসায়্যা প্রভৃতি গোত্র প্রতারণা করিয়া ৭০ জন মুসলিম মুবাল্লিগকে শহীদ করে, যাহারা সুফফা নিবাসী এবং কু'ররা' (কুরআনে পারদর্শী বা হাফিজ) ছিলেন (সীরাতে ইবন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ১৮৩; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ৮১; মাগাযিল ওয়াকিদী, ১ খ., পৃ. ৩৭৪; তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ. ৩৩; ইব্ন হাযম, পৃ. ১৭৮; 'উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ৬১; আন-নুওয়ায়রী, ১৭ খ., পৃ. ১৩০; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, ২৮ বাব, হাদীছ নং ৪০৯০; দালাইলুল বায়হাকী, ৩খ., পৃ. ৩৩৮; তাবাকাত, ২ খ., পৃ. ৫১; সুবুলুল হুদা, ৬ খ., পৃ. ৫৭; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৩৮৫)।
সারিয়্যা-১৩: মারছাদ ইব্ন আবূ মারছাদ আল-গানাবী অথবা আসিম ছাবিত (রা)-এর সারিয়্যা, যাহা রাজী'-এর ঘটনা নামে সমধিক পরিচিত। সফর ৪হি. হুযায়ল লিহয়ানের শাখা 'আদাল ও কারাহ গোত্রদ্বয়ের লোকেরা তাহাদের গোত্রে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী থাকিবার কথা বলিয়া মুবাল্লিগ জামা'আত প্রেরণের আবেদন করে। ১০ জন সাহাবী (রা)-এর একটি দল প্রেরিত হয়। আহবানকারীরা প্রতারণা করিয়া মুসলিম মুবাল্লিগগণকে গ্রেফতার ও হত্যা করে (সীরাত ইবন হিশাম, ৩ খ., পৃ. ১৬৯; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, ১০ বাব, হাদীছ নং ৩৯৮৯; আল-বিদায়া, ৪ খ., পৃ. ৭১; তাবাকাত, ৬ খ., পৃ. ১৬৯; সুবুলুল হুদা, ৬ খ., পৃ. ৩৯; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৩৮৫)।
সারিয়্যা-১৪ : কুরাতা অভিমুখে মুহাম্মাদ ইবন মাসলমা (রা)-এর সারিয়্যা। হিজরতের ৫৩তম মাস ৬ষ্ঠ হিজরীর মুহাররমের ১০ তারিখে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) দারিয়্যা অঞ্চলের বনূ কিলাবের একটি শাখাগোত্রকে শায়েস্তা করিবার জন্য ৩০জন আরোহীসহ অভিযানে প্রেরিত হন। শত্রুরা পালাইয়া আত্মরক্ষা করে। মুজাহিদগণ উট ও ছাগল গনীমত হিসাবে লাভ করেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১২; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৭১, ৫খ., পৃ. ২৩৬; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৭৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৭১)।
সারিয়্যা-১৫ : উক্বাশা ইব্ন মিহসান (রা)-এর সারিয়্যা। বনু আসাদের জলাধার গাম্র অভিমুখে ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উল আওয়ালে। মুজাহিদ সংখ্যা ছিল চল্লিশজন। শত্রুরা পালাইয়া যায়। মুজাহিদগণ দুই শত উট গনীমতরূপে লাভ করেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১২; আল-ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৫০; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৮৩; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৪; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৭৭-৭৮)।
সারিয়্যা-১৬ : মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর সারিয়্যা। যুলকাসসা অভিমুখে 'বনু হা'লাবা, বনু উওয়াল ও বনূ মু'আবিয়ার বিরুদ্ধে, ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উছ ছানী মাসে। শত্রুরা আত্মগোপন করিয়া থাকিয়া অতর্কিত আক্রমণে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার নয়জন সঙ্গীকে শহীদ করে। মুহাম্মাদ নিজে মারাত্মকভাবে আহত হইলে জনৈক মুসলমান তাঁহাকে মদীনায় লইয়া আসেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১২; আল-ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৫১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৫; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৭৯)।
সারিয়্যা-১৭ : আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা)-এর সারিয়্যা। ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উছ ছানী মাসে। বনু মুহারিব, ছা'লাবা ও আনমারের বিরুদ্ধে চল্লিশজন মুজাহিদসহ। শত্রুরা হায়ফা-তে বিচরণরত মদীনার পশুপাল লুট করিবার পরিকল্পনা করিলে উহা নস্যাত করিবার জন্য এই সারিয়্যা প্রেরিত হয়। শত্রুরা পালাইয়া যায়। এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করিলে তাহাকে ছাড়িয়া দেওয়া হয়। মুজাহিদগণ উটপাল ও অন্যান্য আসবাবপত্র গনীমতরূপে লাভ করেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬০৯-৬১২; আল-ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৫১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৮১)。
সারিয়্যা-১৮ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা, বাত্ন-ই নাখল অঞ্চলের আল-জামূম / হামুম অভিমুখে, বনূ সুলয়াম-এর বিরুদ্ধে, ৬ষ্ঠ হিজরীর রাবী'উছ ছানী মাসে। ছাগল ও উট পালের গনীমত অর্জিত হয় (সীরাতে ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১২; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৮২)।
সারিয়্যা-১৯ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা, ঈস অভিমুখে। ৬ষ্ঠ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে। শাম হইতে প্রত্যাগমনকারী একটি বাণিজ্য কাফেলার উদ্দেশ্যে ১৭০ জন মুজাহিদের বাহিনী প্রেরিত হয়। এই অভিযানে রাসূলুল্লাহ (স)-এর জ্যেষ্ঠ জামাতা আবুল 'আস ইবনুর রাবী'-এর সম্পদও মুসলমানদের দখলে আসে। পরে তাহা ফেরত দেওয়া হয়। আবুল আস মক্কাবাসীদের মালপত্র বুঝাইয়া দেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিয়া মদীনায় চলিয়া আসেন (বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৭; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৮৩)।
সারিয়্যা-২০ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা নুখায়ল-এর নিকটবর্তী তারাফ অভিমুখে, বনূ ছা'লাবার বিরুদ্ধের ৬ষ্ঠ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে। মুজাহিদ সংখ্যা ছিল পনের জন। যাযাবররা পালাইয়া যায়। মুজাহিদগণ পর্যাপ্ত সংখ্যক উটের গনীমত লাভ করেন (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১৬; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৫৩; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৭; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৮৭)।
সারিয়্যা-২১ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা, ওয়াদিল-কুরার বিপরীতে হিস্স্সা অভিমুখে, জুযাম-এর শাখাগোত্র উযায়ল-এর নেতা হুনায়দ ইবনুল আরিখ ও তাহার পুত্র উগারিখ ইবনুল হুনায়দ এর শান্তি বিধানের লক্ষ্যে। দিয়া আল-বালবী (রা) সম্রাট কায়সারের নিকট হইতে উপঢৌকনসহ প্রত্যাবর্তনকালে হুনায়দ ও তাহার একদল জুযামকে সঙ্গে লইয়া উহা লুট করিয়া রাখিয়া দেয়। পাঁচ শত মুজাহিদের বাহিনী সহ যায়দ (রা) অভিযানে বাহির হন এবং হুনায়দ ও তাহার পুত্রসহ অনেকে নিহত হয় ও অনেকে বন্দী হয়। পাঁচ হাজার ছাগল ও এক হাজার উটের বিশাল গনীমত হস্তগত হয়। পরে জীবিত বন্দীদের মুক্ত করিয়া দেওয়া হয়। ওয়াকিদী ও ইবন সা'দ-এর বর্ণনামতে এই সারিয়্যা ছিল ৬ষ্ঠ হিজরীর জুমadাল আখিরা মাসে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১৬; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৫৬; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৩-২০৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৮৮)।
সারিয়্যা-২২ : হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর সারিয়্যা বনূ ফাযারা অভিমুখে। অতর্কিত আক্রমণে শত্রুরা পর্যুদস্ত নিহত ও বন্দী হয় (বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৫০; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ২৯০; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ, বাব ১৪ হাদীছ নং ৪৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯২)।
সারিয়্যা-২৩ : ওয়াদিল কুরা অভিমুখে যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা। ৬ষ্ঠ হিজরীর রজব মাসে বনূ ফাযারার বিরুদ্ধে, এই অভিযানে কতক সহযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন এবং যায়দ (রা), ও মারাত্মকভাবে আহত হন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১৪-৬১৭; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৯; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯৩)।
সারিয়্যা-২৪ : হযরত আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (রা)-এর সারিয়্যা, দুমাতুল জানদাল অভিমুখে। ৬ষ্ঠ হিজরীর শা'বান মাসে। রাসূলুল্লাহ (স) নিজ হাতে তাহাকে পাগড়ী বাধিয়া দেন। প্রতিপক্ষের আসবাগ ইবন আমর ও তাহার লোকজন খৃষ্ট ধর্ম ত্যাগ করিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। ইব্ন আওফ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশ অনুসারে সর্দার কন্যা তুমাবির বিনতুল আসবাগকে বিবাহ করেন। এই তুমাষিরই ছিলেন আবূ সালামা ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ আওফ (রা)-এর মাতা (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩১; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ.; বিদায়া ৪খ., পৃ. ২০৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৯; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯৩)।
সারিয়্যা-২৫ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা, মাদয়ান অভিমুখে, বহু যুদ্ধবন্দী সংগৃহীত হয়। (সীরাত ইব্ন হিশাম, -৩-৪খ., পৃ. ৬৩৫; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯৬)।
সারিয়্যা-২৬ : হযরত আলী (রা)-এর সারিয়্যা, ফাদাক অঞ্চলের বনূ সা'দ ইব্ন বাক্স অথবা বনূ আবদুল্লাহ ইবন সা'দ অভিমুখে, ৬ষ্ঠ হিজরীর শা'বান মাসে (ইবন কাঙ্গীরের বর্ণনায় বনূ আসাদ ইব্ন বাকর অভিমুখে)। গোয়েন্দা সংবাদ তথ্য ছিল এইরূপ যে, খায়বারের ইয়াহুদীদিগকে সাহায্য করিবার জন্য তাহারা একটি যোদ্ধাদল গঠন করিয়াছে। আলী (রা)-এর বাহিনী অতর্কিত আক্রমণ করিয়া তাহাদিগকে বিক্ষিপ্ত করিল এবং দুই হাজার ছাগল ও পাঁচ শত উটের গনীমত অর্জন করিল (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৮৯-৯০; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯৭)।
সারিয়্যা-২৭ : যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা, ওয়াদিল কুরা অভিমুখে, ফাযারা গোত্রের শাখা বনূ বাদরের বিরুদ্ধে। ৬ষ্ঠ হিজরীর রজব মাসে বনূ ফাযারার বিরুদ্ধে একটি অভিযানে যায়দ (রা) মারাত্মকভাবে আহত হইয়াছিলেন এবং তাঁহার কতিপয় সঙ্গী শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন। উহার প্রতিবিধানে রমযান ৬ষ্ঠ হিজরীতে পুনরায় অভিযান প্রেরিত হয়। অন্য বর্ণনামতে যায়দ (রা) শাম হইতে সাহাবীগণের বাণিজ্য-সম্ভারসহ ফিরিবার পথে বনূ ফাযারার অন্তর্গত বনূ বাদরের লোকেরা মারধর করিয়া উক্ত সম্ভার লুট করিয়া নেয়। যায়দ (রা) মদীনায় ফিরিয়া আসিলে সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-এর বাহিনী প্রেরণ করেন। যুদ্ধে বাদরীরা নিহত ও বন্দী হয় এবং তাহাদের দুর্ধর্ষ নারী উম্মু কিরফা ফাতিমা বিন্ত রাবী'আ ইব্ন বাদরকে হত্যা করা হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১৪-৬১৭; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯০; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৯৯)।
সারিয়্যা-২৮ : আবদুল্লাহ ইব্ন আবূ আতীক (রা)-এর সারিয়্যা, বিচ্ছিন্নতাবাদী ইয়াহুদী নেতা আবু রাফে' সাল্লাম ইব্ন আবুল হুকায়ক-কে হত্যার লক্ষ্যে, খায়বার অভিমুখে ৬ষ্ঠ হিজরীর রমযান মাসে। আবু রাফে' গাতাফান গোত্র ও পার্শ্ববর্তী মুশরিকদের রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিত। আনসার আওস গোত্রের মুজাহিদগণ ইতোপূর্বে রাসূল বিদ্বেষী কা'ব ইবনুল আশরাফকে হত্যা করিয়াছিল। পূণ্যকর্ম প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ হইয়া আনসার খাযরাজীগণ বনূ নাযীরের তখনকার নেতা আবু রাফেকে পৃথিবী হইতে সরাইয়া দেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করিলে উহা মঞ্জুর করা হয় এবং আবদুল্লাহ ইব্ন আবূ আতীক (রা)-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সারিয়্যা এই অভিযান সম্পন্ন করে (সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ২৭৪, ৬১৯; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৬৭৭, বাব: আবু রাফেকে হত্যা প্রসঙ্গে, হাদীছ নং ৪০৩৮; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ২৭৪; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ১৫৬; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯১; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১০)।
সারিয়্যা-২৯ : আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর সারিয়্যা। খায়বারের ইয়াহুদী নেতা ইয়ুসায়র ('উসায়র) ইব্ন রিযাম (রাযিম)-কে শায়েস্তা করিবার লক্ষ্যে। খায়বারের নেতা আবূ রাফে নিহত হওয়ার পর ইয়াহুদীরা 'উসায়রকে তাহাদের নেতা মনোনীত করে। উসায়রও তাহার পূর্বসূরীর পদাংক অনুসরণ করিয়া গাতাফানীদিগকে উত্তেজিত করিতে লাগিল। ৬ষ্ঠ হিজরীর শাওয়াল মাসে ত্রিশ সদস্যের বাহিনীসহ আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (ও আবদুল্লাহ ইব্ন উনায়স) (রা)-কে প্রেরণ করা হইল। আবদুল্লাহ (রা) আবু 'উসাায়রকে খায়বারের আমিন নিযুক্তির প্রলোভন দেখাইলে সে মদীনার উদ্দেশে সফর শুরু করিল। কিন্তু পথিমধ্যে তাহার মনোভাব পরিবর্তিত হইয়া বিশ্বাসঘাতকতা করিতে উদ্যত হইলে সতর্ক মুসলিম মুজাহিদদের হাতে 'উসায়র ও তাহার সঙ্গীরা নিহত হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১৮; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫১; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ২৯৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১১১)।
সারিয়্যা-৩০: কুরয ইব্ন জাবির আল-ফিহরী (রা) অথবা সাঈদ ইব্ন যায়দ (রা)-এর সারিয়্যা। উরানা ('উকল/বাজীলা)-দের শায়েস্তা করা ও শান্তি বিধানের জন্য। ৬ষ্ঠ হিজরীর শাওয়াল মাসে। উরায়না ও উক্ত গোত্রের একদল লোক মদীনায় আসিয়া ইসলাম গ্রহণ করিবার পরে মদীনার আবহওয়া তাহাদের অনুকূল না হওয়ার কথা অবহিত করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে সরকারী সাদাকার উটপাল চরাইবার প্রান্তরে অবস্থানের অনুমতি প্রদান করেন। তাহারা মুরতাদ্দ হইয়া উটপালের তত্ত্বাবধায়ক রাসূলুল্লাহ (স)-এর গোলাম ইয়াসার (রা)-কে হত্যা করিয়া উটপাল লইয়া পালাইয়া যায়। তাহাদিগের পশ্চাদ্ধাবন করিয়া ধরিয়া আনিবার জন্য বিশজন ঘোড়সওয়ারসহ হযরত কুরয ইব্ন জাবির (রা) অথবা সা'ঈদ ইব্ন যায়দ (রা)-কে প্রেরণ করা হয়। বাহিনী সন্ত্রাসী মুরতাদ্দদিগকে ধরিয়া আনে এবং তাহদিগকে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দিয়া হত্যা করা হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৪খ., পৃ. ৬৪০; বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, বাব ১৭; মুসলিম, কিতাবুল কাসামা, হাদীছ নং ৯; আবু দাউদ, কিতাবুল হুদুদ, হাদীছ নং ৪৩৪৬; তিরমিযী, কিতাবুত তাছারাত, হাদীছ নং ৯২; নাসাঈ, কিতাবুত তাহরীম, ইবন মাজা, কিতabুল হুলুদুল, হাদীছ নং ২০; মুসনাদে আহমাদ, ৩খ., পৃ. ১৬৩, ১৭৭ ফাহুল বারী, ১২খ., পৃ. ১১১; মাপাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৫৭০ দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৮৫, আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২০৪, তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯৩; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১১৫)।
সারিয়্যা-৩১: আমর ইবন উমায়্যা আদ-দামরী ও সালামা ইব্ন আসলাম ইব্ন হারিছ (রা)-এর সারিয়্যা। আবু সুফয়ান রাসূলুল্লাহ (স)-কে গোপনে বা অতর্কিতে হত্যা করিবার উদ্দেশ্যে জনৈক বেদুঈনকে অর্থ দ্বারা প্রলুব্ধ করে। এই অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে লোকটি মদীনায় রিসালাত দরবারে পৌঁছিয়া ধরা পড়ে এবং সত্য কথা স্বীকার করিয়া ইসলাম গ্রহণ করে। ইহার পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে আমর ইবন উমায়্যা (রা) ও সালামা ইব্ন আসলাম (রা)-কে, ইব্ন হিশামের বর্ণনায় জাব্বার ইন্ন সাখর আনসারী (রা)-কে আবূ সুফয়ানকে অতর্কিতে হত্যার উদ্দেশ্যে মক্কায় পাঠানো হয়। মক্কাবাসীরা তাহাদিগকে সন্দেহ করিলে তাহারা পালাইয়া আত্মরক্ষা করিয়া মদীনায় ফিরিয়া আসেন (সীয়াজ ইব্ হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩৩; তারিখ ভাষায়ী, ৩খ., পৃ. ৩২; শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৭৮; দালাইলুল বায়হাকী, ৩খ., পৃ. ৩৬৩; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৭৯; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৯৩; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১২৩)।
সারিয়্যা-৩২ : নাজদ অভিমুখে আবান ইবন সা'দ ইবনুল আস ইবন উমায়্যা (রা)-এর সারিয়্যা। এই সারিয়্যাতে মুসলমানগণ বিজয়ী হয় (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১২৮)।
সারিয়্যা-৩৩: হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর সারিয়্যা, হাওয়াযিন গোত্রের অনুৰর্তী অঞ্চল তুরাবা অভিমুখে, ৭ম হিজরীর শা'বান মাসে। শত্রুরা পালাইয়া জীবন রক্ষা করে (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬০৯; মাগাবিল ওয়াকিদি, ২খ., পৃ. ৭২২; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৬০৯; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৬১৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১৭; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৩০)।
সারিয়্যা-৩৪ : বনূ ফাযারা (বনূ কিলাব)-এর বিরুদ্ধে হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর সারিয়্যা; যারিয়্যা অঞ্চলে। ৭ম হিজরীর শা'বান মাসে (আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫০; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ২৯০; ভাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১৭; সুবুলুল হুলা, ৬খ., পৃ. ১৩১)।
সারিয়্যা-৩৫: বাশীর ইবন সা'দ (রা)-এর সারিয়্যা, বনূ মুরয়ার নিবাস ফাদাক অভিমুখে। ৭ম হিজরীর শা'বান মাসে। প্রথমে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের পরাস্ত করে। পরে পাল্টা আক্রমণে ৩০ সদস্যের মুসলিম দলের অনেকে শাহাদাত লাভ করেন এবং আমর ইবন সা'দ মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে ইহার প্রতিবিধানে গালিব ইবন আবদুল্লাহকে প্রেরণ করা হয়। ইব্ন হিশাম ইহাকে গালিব ইন্ন আব্দুলল্লাহ (রা)-এর সারিয়্যারূপে তালিকাভুক্ত করিয়াছেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৪খ., পৃ. ২৫২; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১৮-১১৯; সুবুলুল হুদা, ৫খ., পৃ. ১৩২)。
সারিয়্যা-৩৬: গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-এর সারিয়্যা, আল-মায়ফাআহ নামক স্থানে অবস্থানকারী বনু 'উয়াল ও বনু আব্দ ইব্ন হা'লাবার বিরুদ্ধে ৭ম হিজরীর রমযানে। গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ ছিলেন ১৩০ সদস্যের মুজাহিদ বাহিনীর আমীর (মাগাযিল ওয়াকিলী, ২খ., পৃ. ৭২৪; বুখারী, ২খ., পৃ.৬১২; মুসলিম, ১খ., পৃ. ৬৪; দালাইলুল বায়হাকী, ২খ., পৃ. ১৫২; সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬০৯; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১৯; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ১৩৩)।
-সারিয়্যা-৩৭: ইয়ামান ও জাবার-এর বিরুদ্ধে বাশীর ইয়ূন সা'দ (রা)-এর সারিয়্যা, ৭ম হিজরীর শাওয়াল মাসে। মুজাহিদ সংখ্যা ছিল ৩০০। উন্নায়না ইব্ন হিসন পাতাফার্মীদের একটি দলকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিয়া হুবাবে সমবেত করে। মুসলিম বাহিনীর আগমন সংবাদে উহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া পলায়ন করে এবং উট ও ছাগলের গনীমত অর্জিত হয় (ভাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২০; সুমুদুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৩৪)।
সারিয়্যা-৩৮: বনূ সুলায়ম অভিমুখে ইব্ন আবিল আওজা আখরাম আস-সুলামী (রা)-এর সারিয়্যা। মুজাহিদ সংখ্যা ছিল ৫০ জন। ৭ম হিজরীর যিলহজ্জ মাসে। ইব্ন আবিল আওজা তাঁহার স্বগোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তাহারা উহাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়া মুসলিম দলকে বেষ্টন করিয়া ফেলে এবং প্রচণ্ড আঘাতে প্রায় সকলে শাহাদাত বরণ করেন। কতিপয় সঙ্গীসহ দলনেতা মারাত্মক আহত অবস্থায় মদীনায় ফিরিয়া আসেন (মাগাযিল ওয়াকিদী, ৩খ., পৃ. ১০১; আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৬৮; সীরাত ইব্ন্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬১২; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৩; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৩৬)।
সারিয়্যা-৩৯: কাদীদ অঞ্চলে বনু মুলাওহ-এর বিরুদ্ধে গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ আল-লায়ছী আল-কালবী (র)-এর সারিয়্যা, ৮ম হিজরীর সফর মাসে। মুসলিম মুজাহিদগণ গনীমতসহ প্রত্যাবর্তনকালে শত্রুরা পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে মেঘ-বৃষ্টি ছাড়াই অর্তকিতে আগত ঢল শত্রুদের পথে অন্তরায় হইয়া দাঁড়ায়। মুসলমানরা নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করে (মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭২৪; দালাইলুল বায়হাকী, ২খ., পৃ. ২৯৬; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৪খ., পৃ. ২৭১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৪; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৩৭)।
সারিয়্যা-৪০: ফাদাক অঞ্চলে বনু মুররার বিরুদ্ধে, গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-এর সারিয়্যা। ইহা ছিল বনু মুররার বিরুদ্ধে প্রেরিত অভিযানে বাশীর ইবন সা'দ (রা)-এর বাহিনীকে খুন-যখম করিবার প্রতিশোধমূলক পাল্টা অভিযান (পূর্ববর্তী.... নং সারিয়্যা ৩৫ দ্রষ্টব্য)। প্রথমে যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা)-এর নেতৃত্বে বাহিনী গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে গালিব (রা) আগমন করিলে তাঁহার পরিচালনায় ২০০ অথবা ৩০০ সদস্যের এই বাহিনী প্রেরিত হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬০৯; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭২৬, ৭২৭; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৪০)।
সারিয়্যা-৪১: সিয়্য অভিমুখে হাওয়াযিন-এর শাখাগোত্র বনূ আমের-এর বিরুদ্ধে শুজা' ইব্ন ওয়াহ্হ্ আল-আসাদী (রা)-এর সারিয়্যা, ৮ম হিজরী, শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়। মা'দিনের বিপরীত দিকে রুকবা নামক স্থানে হাওয়াযিন গোত্রের একটি দল সমবেত হইয়াছিল। মুজাহিদ বাহিনী বিপুল সংখ্যায় উট ও ছাগল গনীমতরূপে লাভ করে (বুখারী, ১খ., খুমুস প্রসঙ্গ, বাব ১৫; মুসলিম, জিহাদ, বাব ১২, হাদীছ নং ৩৫; মুওয়াত্তা মালিক, জিহাদ, নফল অধ্যায়; দালাইলুল বায়হাকী, ৪থ., ৩৫৬; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৭৩; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭৫৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৭প; সুবুলুল হুদা ৬খ., পৃ. ১৪২)।
সারিয়্যা-৪২: কা'ব ইবন উমায়র গিফারী (রা)-এর সারিয়্যা, শাম-এর প্রবেশমুখ, ওয়াদিল কুরা-র বিপরীতে যাতু আল্লাহ্ অঞ্চলে বনু কুদা'আর বিরুদ্ধে। ৮ম হিজরীর রাবী'উল আওয়াল মাসে। ১৫ সদস্যের মুজাহিদ দলটি দা'ওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যে সফর করিতেছিল। শত্রুদের বিরাট দল ইসলামের আহবান প্রত্যাখ্যান করিয়া তীর বর্ষণ শুরু করে এবং প্রায় সকলকে শহীদ করে। মাত্র একজন মারাত্মক আহত অবস্থায় আত্মরক্ষা করিয়া ফিরিয়া আসেন। শত্রুদের পলাইয়া যাওয়ার সংবাদ অবগত হওয়ার পর পাল্টা অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত হয় (মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭৫২; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৩৫৭, সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৬২১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৭৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৭-১২৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৪৩)।
সারিয়্যা-৪৩ : শামের সন্নিকটে বালকা অঞ্চলে প্রসিদ্ধ মুতা অভিযান, ৮ম হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে। তিন হাজার মুজাহিদের এই বাহিনীর তিন সিপাহসালার যায়দ ইব্ন হারিছা, জা'ফার ইব্ন আবু তালিব ও আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) পরপর শাহাদত লাভ করিবার পর খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)-এর পরিচালনায় মুজাহিদরা নিরাপদে মদীনায় ফিরিয়া আসে (বুখারী, ২খ., পৃ. ২০০, সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৩৭০; ৪খ., পৃ. ১৫; তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ. ১০৭; আনসাবুল আশরাফ, ১খ., পৃ. ১৬৯; ইবনুল আহীর, ২খ., পৃ. ১৯৮; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭৫৬; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৩৬১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৪৪)।
সারিয়্যা-৪৪ : আমর ইবনুল আস (রা)-এর সারিয়্যা, যাতুস সালাসিল অভিমুখে, সিরীয় সীমান্ত সংলগ্ন ওয়াদিল কুরা বিপরীতে, ৮ম হিজরী, জুমাদাল আখিরা মাসে। মুজাহিদ সংখ্যা ৩০০ জন। বনু কুদাআ-র শাখা বনু বুলায়্য ছিল আস ইব্ন ওয়াইল-এর মাতুল গোত্র, বনূ কুদাআ-র শাখা বনু উযরা ও বালকায়ন মদীনার বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছে মর্মে সংবাদের ভিত্তিতে এই বাহিনী প্রেরিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল 'আমর ইবনুল 'আস (রা)-এর মাতুল গোত্রের সমর্থন লাভ করা। পরে ইবনুল 'আস (রা)-এর আবেদনের ভিত্তিতে আবু 'উবায়দা (রা)-এর পরিচালনায় প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় মুজাহিদের (৩০০ সদস্যের) সাহায্যকারী বাহিনী পাঠানো হয় এবং সম্মিলিত বাহিনী 'আমর ইবনুল 'আস (রা)-এর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে (তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ. ১০৪; বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২৫; মাগাযিল ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৭৬৯; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩২; (৪খ. পৃ. ২৭২); 'উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ২০৪; আর-রাওদুল উনুফ, ২খ., ৩৫৯; সীরাত হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ১৯০; শারহুল মাওয়াহিব, ৩খ., পৃ. ২৭৮; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৩১; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৩১১; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩১১)।
সারিয়্যা-৪৫ : আবু 'উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা)-এর সারিয়্যা, ৮ম হিজরীর রজব মাসে। ইহা সারিয়্যাতুল খাবাত নামেও পরিচিত। ৩০০ সদস্যের মুজাহিদ বাহিনী জুহায়না গোত্রের নিবাস অঞ্চলে সাগর সৈকতে নিরাপত্তা প্রহরার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইয়াছিল। পাথেয় ফুরাইয়া যাওয়ার কারণে দৈনিক একটি খেজুর খাইয়া এবং পরে খেজুরের আঁটি চুষিয়া এবং গাছের পাতা খাইয়া জীবন রক্ষা করিতে হইয়াছিল। এই বাহিনী পরে সাগরের এক বিরাটকায় মাছ দ্বারা আঠার দিন আহার করিয়াছিল (বুখারী, মাগাযী, ২খ., পৃ. ৬২৫; হাদীছ নং ৪৩৬১; মুসলিম, যাবাইহ, বাব-৪ হাদীছ ১৭, ১৮; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৪০৭, ৪০৮; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩২; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩১৪; ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ৭৭; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৩২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৭৬)।
সারিয়্যা-৪৬ : আবু কাতাদা-রিবঈ আনসারী (রা)-এর সারিয়্যা, নাজদ অঞ্চলে বনূ মুহারিবের নিবাস জাযীরা অভিমুখে, ৮ম হিজরীর শা'বান মাসে। ইবন হিশাম ও ইব্ন কাছীরের বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইব্ন আবূ হাদরাদ (রা)-এর সারিয়্যা গাবা অভিমুখে। মুজাহিদগণ বিশাল উটবহরের গনীমত লাভ করেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., ৬২৯; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., ৩০০; মাগাযীল ওয়াকিদী, ২খ., ৭৭৯ বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫৪; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৩২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৮৫)।
সারিয়্যা-৪৭ : আবু কাতাদা (রা)-এর সারিয়্যা, ইদাম অভিমুখে, ৮ম হিজরীর রমযান মাসে। ইবন হিশাম ও ইব্ন কাছীর প্রমুখের বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইব্ন আবূ হাদরাদ (রা)-এর সারিয়্যা। এই সারিয়্যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল পরিকল্পিত মক্কা অভিযান হইতে প্রতিপক্ষের দৃষ্টি অন্যদিকে নবিদ্ধ করা (সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৬২৬; ৪খ., ২৭৬; দালাইলুল বায়হাকী, ৪খ., পৃ. ৩০৮; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৩৩; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৯০)।
সারিয়্যা-৪৮ : জুহায়না গোত্রের হুরাকাত অঞ্চল অভিমুখে। উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর সারিয়্যা। বুখারীর বর্ণনামতে মুতা অভিযানের পরে (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬১২; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৬২৩; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩১৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৯২)।
সারিয়্যা-৪৯ : মক্কা বিজয়ের অনুবর্তী অভিযানরূপে নাখলায় অবস্থিত কুরায়শ ও সমগ্র বনূ কিনায়া-র বৃহত্তম প্রতিমা 'উয্যা (প্রতিমা ও মন্দির) ধ্বংসের লক্ষ্যে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের সারিয়্যা, ২৫ রমযান, ৮ম হিজরী (তারীখে তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৩৩; দালাইলুল বায়হাকী, ৫খ., পৃ. ৭৭, ৪০৮; ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ২১; হাদীছ নং ৪২৯৯; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৪৩৬; মাগাযী, ওয়াকিদী, ২খ., পৃ. ৮৭৩; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৪৫; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৯৬)।
সারিয়্যা-৫০ : মক্কা বিজয়ের অনুবর্তী অন্যতম অভিযান হুযায়লীদের মন্দির ও প্রতিমা সুওয়া ধ্বংসের লক্ষ্যে আমর ইবনুল আস (রা)-এর সারিয়্যা, রমযান, ৮ম হিজরী (বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৪৩১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৪৬; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৯৮)।
সারিয়্যা-৫১ : মক্কা বিজয়ের অনুবর্তী অন্যতম অভিযান আওস, খাযরাজ ও গাসসানীদের প্রতিমা মানাত ধ্বংসের জন্য সাগর সৈকতের মুশাল্লাল অভিমুখে সা'দ ইব্ন যায়দ আল-আশহালী (রা)-এর অভিযান। রমাযান, ৮ম হিজরী, ২০ জন অশ্বারোহীর বাহিনী। (আল-বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৪৩১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৪৬-১৪৭; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ১৯৯)।
সারিয়্যা-৫২: ইয়ালামলাম-এর সন্নিকটে অবস্থানকারী বনূ কিনানা-র শাখা বনূ জাযীমা-র প্রতি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের দাওয়াতী অভিযান। ৩৫০ জন মুহাজির আনসারের সম্মিলিত দল খালিদ ভুল করিয়া কিছু রুও মুসলিমকে হত্যা করিলে পর রসুলুল্লাহ (স) আলী (রা)-কে প্রেরণ করিয়া তাহাদিগকে দিয়াত ও ক্ষতিপুরণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২২; হাদীছ নং ৪৩৩৯; সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৪২৮; ৪খ., পৃ. ৭৪; মাগাবিল ওয়াকিদী ২খ., পৃ. ৮৮০; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৪৭-১৪৮.; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩৩৮; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২০০)।
সারিয়্যা-৫৩: হুনায়ন যুদ্ধের অনুবর্তীরূপে বিজিত দলের সেনা সমাবেশের বিরুদ্ধে আবু 'আমের আশ'আরী (রা)-এর সারিয়্যা, আওতাস অভিমুখে, শত্রুরা পরাজিত হয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬১৯; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৪৫৪; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩৮৬; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৫১-১৫৩; সুবুলুল হুদা, ৬ খ., পৃ. ২০৬)।
সারিয়্যা-৫৪: যুল-কাফ্ফায়ন অভিমুখে আমর ইবন হামামা দাওসীর প্রতিমা ধ্বংসের লক্ষ্যে তুফায়ল ইব্ন আমর দাওসী (র)-এর সারিয়্যা, শাওয়াল ৮ম হিজরী। এই অভিযান হইতে ফিরিবার সময় তুফায়ল (রা) দাব্বাবা (দুর্গের দেয়াল বিধ্বংসী ট্যাংক) ও মিনজানীক (পাথর ছুড়িবার কামান) লইয়া আসেন (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪ খ., পৃ. ৪৭৮; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৩৯৫; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৫৭; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১০;)।
সারিয়্যা-৫৫: ইয়ামান অঞ্চলের সাদা অভিমুখে কায়স ইবন সা'দ ইবন উবাদা (রা)-এর সারিয়্যা (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১১)।
সারিয়্যা-৫৬: উয়ায়না ইন্ন হিস্স আল-ফাযারী (রা)-এর সারিয়্যা বনূ তামীমের বিরুদ্ধে। বনূ তামীমের নিবাসও সুয়ার মধ্যবর্তী স্থানে। মুহাররাম ৯ম হিজরী। মুহাজির- আনসার সম্মিলিত ৫০ জন মুজাহিদের বাহিনী (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬২১; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬০; সুবুলুল হুদা ৬খ., পৃ. ২১২)।
সারিয়্যা-৫৭: বনূ হারিছার বিরুদ্ধে প্রেরিত আবদুল্লাহ ইব্ন আওসাজা (রা)-এর সারিয়্যা (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১৩)।
সারিয়্যা- ৫৮: তুরবার সন্নিকটে খাছ'আম গোত্রের বিরুদ্ধে কুতবা ইব্দ 'আমের (আমের ইন্ন কুতবা) ইব্ন হাদীদা (রা)-এর ২০ সদস্যের সারিয়্যা, সফর ৯ম হিজরী (তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬২; সুবুলুল হুদা ৬খ., পৃ. ২১৪)。
সারিয়্যা-৫৯: কুরাতা অঞ্চলে বনূ কিলাবের বিরুদ্ধে দাহ্হাক ইন্ন সুফ্যান কিলাবী (রা)-এর সারিয়্যা, রাবী'উল আওয়াল ৯ম হিজরী (তাবাকাত, ২খ., ১৬৩; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১৫)।
সারিয়্যা-৬০: আলকামা ইবন মুজাযযিযয আল-মুদলিজী (রা)-এর সারিয়্যা, হাবাশার বিরুদ্ধে রাবী 'উছ-ছানী ৯ম হিজরী। একদল হাবাশাবাসীর সেনা সমাবেশের সংবাদের প্রেক্ষিতে ৩০০ মুজাহিদের একটি বাহিনী প্রেরিত হয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২২; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৩৯; তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬৩; সুবুলূল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১৬)।
সারিয়্যা-৬১: পূর্ববর্তী সারিয়্যার সংযুক্ত ও অনুবর্তী আবদুল্লাহ ইব্ন হুযাফা আস-সাহমী (রা)-এর সারিয়্যা (বুখারী, ২খ., ৬২২; মুসলিম, ২খ., কিতাবুল ইমারা, বাব ৮, হাদীছ ৪০; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., ৬৪০; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ২৫৭; ফাতহুল বারী, ৮খঃ, পৃ. ৫৮)।
সারিয়্যা-৬২ : আব্দ-এর দুই গোত্রপতি জায়ফার ইবনুল জুলানদী ও আমর ইবনুল জুলানদীকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করিবার জন্য আমর ইবনুল আস (রা)-এর সারিয়্যা ইন্ন কাছীরের বর্ণনায় ৮ম হিজরীর শেষদিকে এই অভিযানে উল্লিখিত অঞ্চলের অগ্নিপুজক ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বেদুঈনদের সহিত জিযয়া প্রদানের চুক্তি সম্পাদিত হয় (আল-বিদায়া ৩/৪খ., ৩৭৪)।
সারিয়্যা-৬৩: তাঈ (তাই) গোত্রের প্রতিমা (মন্দির) ফুল্স ধ্বংসের লক্ষ্যে প্রেরিত হযরত আলী (রা)-এর সারিয়্যা; ১৫০ মুজাহিদের বাহিনী, আদী ইব্ন হাতিম পলায়ন করে এবং তাহার ভগ্নী সাফফানা বিন্ত হাতিম বন্দীরূপে মদীনায় নীত হয় (তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬৪; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২১৭; আল-কামিল, ২খ., ১৫৬; সীরাত ইন্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৫৭৯; বিদায়া, ৫খ., পৃ. ৭৫)।
সারিয়্যা-৬৪: উফ্রা ও বালিয়্যি গোত্রদ্বয়ের নিবাস জুবাব (জিনাব) অভিমুখে উক্বাশা ইব্ন মিহসান (রা)-এর সারিয়্যা, ৯ম হিজরীর রাবী'উছ-ছানী মাসে (তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১৬৪; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২২০)।
সারিয়্যা-৬৫ : তাবুক অভিযানের অনুবর্তীরূপে দুমাতুল জানদালের শাসনকর্তা উকায়দির ইব্ন আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)-এর সারিয়্যা। উকায়দির বশ্যতা স্বীকার করিয়া সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হয় (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৫২৬; বিদায়া, ৫খ., পৃ. ২১; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২২০; দালাইলুল বায়হাকী, ৫খ., পৃ. ২৪৫)।
সারিয়্যা-৬৬: হাকীফ গোত্রের (তাইফে অবস্থিত) প্রতিমা লাত (মন্দির) ধ্বংস করিবার জন্য আবূ সুয়ান ইব্ন হারব (অথবা খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ) ও মুগীরা ইব্ন শু'বা (রা)-এর সারিয়্যা (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৬৪১; আদ-দুরার, ৪খ., ১৮২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২২৬; মাগাযী লিল-ওয়াকিদী, ৩খ., পৃ. ৯৬০; তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩১২, ছাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদল আগমন প্রসঙ্গে)।
সারিয়্যা-৬৭: বিদায় হজ্জের পূর্বে আবূ মূসা আশ'আরী (রা) ও মু'আয ইব্ন জাবাল (রা)-এর দাওয়াতী অভিযান, ইয়ামান অভিমুখে (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২২; বিদায়া, ৫খ., পৃ. ১১৫; সুবুলুল হুদা, ৬খ. পৃ. ২২৯; ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ৬৫)।
সারিয়্যা-৬৮: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)-এর সারিয়্যা, নাজরানের বনূ আবদিল মা'দান (বনুল হারিছ ইব) কা'ব অভিমুখেও দা'ওয়াতী অভিযান। রাবী'উল আওয়াল ১০ম হিজরী। (বিদায়া-ইবন ইসহাক হইতে, রাবী'উছ-ছানী অথবা জুমাদাল উলা ১০ম হিজরী)। প্রতিপক্ষ ইসলাম গ্রহণ করায় যুদ্ধ হয় নাই (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., পৃ. ৫৯২)।
সারিয়্যা-৬৯: মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সারিয়্যা একদল পল্লীবাসীর বিরুদ্ধে। (সুবুলুল হুদা, ৬খ., ২৩৩ পৃ.)
সারিয়্যা-৭০: ইয়ামান অভিমুখে আলী (রা)-এর দাওয়াতী অভিযান (সীরাত ইবন হিশাম, ৩-৪খ, পৃ. ৬৪১; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৩৮)।
সারিয়্যা-৭১: বনু আব্ক্স অভিমুখ সারিয়্যা (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪১)।
সারিয়্যা-৭২: রিইয়া আস-সুহায়মীর বিরুদ্ধে প্রেরিত বা'ছ (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪১)।
সারিয়্যা-৭৩: বনূ বাহিলার বিরুদ্ধে আবূ উমামা সুদায়্যি ইব্ন আজলান (রা)-এর অভিযান (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪৩)।
সারিয়্যা-৭৪: নকল কা'বা (ইয়ামানের) খালাসা (বা যুল-খালাসা) ধ্বংসের লক্ষ্যে জারীর ইব্ন আবদুল্লাহ বাজালী (রা)-এর সারিয়্যা; ১৫০ আহমাসী সদস্যের বাহিনী নকল কা'বাটি ভস্মীভূত ও ধুলিস্যাৎ করিয়া দেয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২৪; বিদায়া, ৪খ., পৃ. ৪৩১-৪৩২; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪৪)।
সারিয়্যা-৭৫: বিদায় হজ্জের পূর্বে ইয়ামান অভিমুখে হযরত আলী (রা) ও খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (সুবুলুল হুদায় খালিদ ইবন সা'ঈদ ইবনুল আস)-এর দাওয়াতী অভিযান। যাকাত উসুল করা এবং দীনী দা'ওয়াত ছিল ইহার লক্ষ্য (বুখারী, ২খ., মাগাযী ৬২৩; মুসনদ আহমদ, ৫খ., ৩৫১, ৩৫৯ দালাইলুল বায়হাকী, ৫খ., পৃ. ৩৯৫; ফাতহুল বারী, ৮খ., পৃ. ৬৫; বিদায়া, ৫খ., পৃ. ১২০; তাবাকাত, ২খ., ১৭০; সুবুলুল হুদা, ৬খ., ২৪৬; সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ. পৃ. ৬৪১)।
সারিয়্য্যা-৭৬: নাজদ অভিমুখে প্রেরিত যাহাদের হাতে ইয়ামানের ইয়ামামা গোত্রের সর্দার বন্দী হইয়া মদীনায় নীত হয় এবং তিন দিন বন্দী জীবন যাপনের পর মুক্তি লাভ করিয়া স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে (সীরাত ইব্ন হিশাম, ৩-৪খ., ৬৩৮; বিদায়া, ৫খ., ৪৮-৪৯; এবং ছুমামা (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে)।
সারিয়্যা-৭৭: খাছ'আমীদের নিকট প্রেরিত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)-এর বা'ছ (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪৭)।
সারিয়্যা-৭৮: আবূ সুফয়ান ইবনুল হারিছ-এর নিকট আমর ইব্ন মুররা আল-জুহানী (রা)-এর বা'ছ। (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪৭)।
সারিয়্যা-৭৯: সর্বশেষে সারিয়্যা বালকা অঞ্চলের উন্না অভিমুখে উসামা ইব্ন যায়দ ইন হারিছা (রা)-এর সারিয়্যা; ২৬ সফর, ১১তম হিজরী। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার ওফাতের পূর্বে এই সারিয়্যার পরিকল্পনা তৈরী করেন এবং ঐ অঞ্চলে মৃতা যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সেনাপতিগণের অন্যতম যায়দ (র)-এর পুত্র উসামা (রা)-কে উহার সিপাহসালার নিয়োগ করেন। আবু বকর ও উমার (র)-এর ন্যায় প্রবীণ ও সম্মানিতগণও এই 'বাহিনীর তালিকাভুক্ত ছিলেন। বাহিনী রওয়ানা করিয়া মদীনার বহিঃসীমা অতিক্রম করিবার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওফাতের পর খলীফাতুল মুসলিমীন আবূ বাক্স (রা) দূরদর্শিতার পরিচয় প্রদান করিয়া ইসলাম ও ইসলামী রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষার স্বার্থে উক্ত বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখিবার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং উহা বাস্তবায়িত করেন (সীরাত ইবন হিশam, ৩-৪খ., পৃ. ৬০৬, ৬৪১; আল-বিদায়া, ৫খ., পৃ. ২৪১, ২৪২; বুখারী, ২খ., পৃ. ৬৪১; তাবাকাত, ২খ., ১৮৯-১৯২.; আল-কামিল, ২খ., পৃ. ১৯৯; সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৪৮)।
পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, উল্লিখিত তালিকায় সময়ের পূর্বাপর এবং সেনাধিনায়কের নাম ও আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ে বিরোধ রহিয়াছে। তালিকার সহিত উদ্ধৃত গ্রন্থাদি ব্যতীত আল-বিদায়া, ৫খ., ২৩৩-২৪১ পৃষ্ঠায় সারিয়্যাসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ রহিয়াছে। ইবনুল আছীরের আল-কামিলেও বিন্যস্ত বিষরণ রহিয়াছে।
গাযওয়া, সারিয়্যা ও বা'ছ-এর তালিকা দীর্ঘ হইলেও ইহার অধিকাংশ প্রত্যক্ষ ও আক্রমাণাত্মক যুদ্ধের জন্য ছিল না। অনেকগুলি ছিল দা'ওয়াতী কাফেলার ভ্রমণ ও অভিযান। অধিকাংশ ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রস্তুতি প্রতিরোধ ও আগেই নস্যাৎ করিয়া দেওয়ার লক্ষ্যে, যুদ্ধ অনিবার্য হইলেই, যাহার সংখ্যা অতি নগণ্য, প্রত্যক্ষ যুদ্ধ হইয়াছে। যুদ্ধ বিজয়ের পর কখনও কোন অমানবিক আচরণ করা হয় নাই এবং কখনও কিছু বাড়াবাড়ি হইয়া গেলে উহার যথাসাধ্য ক্ষতিপূরণ করা হইয়াছে। সর্বোপরি হিসাব করিলে দেখা যাইবে যে, নববী যুগে সংঘটিত প্রত্যক্ষ যুদ্ধসমূহে উভয় পক্ষের নিহতদের সংখ্যা হাজারের চাইতে কম হইবে। এই বাস্তবতার আলোকে ইসলামের বিরুদ্ধে আরোপিত যুদ্ধোন্মত্ততা, শক্তি প্রয়োগে ও জোর যবরদস্তী করিয়া দীন প্রচার বা মুসলমান করিবার অভিযোগ এবং ইসলামের নবীকে যুদ্ধবাজ সাব্যস্ত করিবার অপপ্রয়াস সম্পূর্ণ অলীক ও ভিত্তিহীন। ইসলাম বিদ্বেষীরাই শুধু বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হইয়া এই অভিযোগ উত্থাপন করিয়াছে। অবশ্য অমুসলিম বিদ্বানবর্গ ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে নিরপেক্ষ মনোবৃত্তির অধিকারিগণ ন্যায়নীতি রক্ষা করিয়া স্বীকৃতি দিয়াছেন। যে, ইসলাম তাহার সৌন্দর্য ও অনুপমতার কারণেই এবং ইসলামের নবী ও তাঁহার অনুসারিগণের উচ্চ মানবিক গুণে গুণান্বিত হওয়ার কারণে প্রচার-প্রসার লাভ করিয়াছে এবং ইসলামই যে বিধস্ত ও বিক্ষুদ্ধ মানবতাকে লালন ও সার্বিক সাফল্যে উন্নীত করিতে পারে। সুতরাং ইসলামের গাযওয়া, সারিয়্যা ও জিহাদ মানব হত্যার জন্য নহে, ইসলামের জিহাদ বিশ্বশান্তির জন্য, মাজলুমের সুরক্ষার জন্য, ইনসাফ ও মানবতার বিকাশের জন্য এবং আল্লাহ্র বিধান বাস্তবায়িত করিয়া সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে, বান্দাকে আল্লাহর সঙ্গে জুড়িয়া দেওয়ার জন্যই নিবেদিত। এই জিহাদই ইসলামের অন্যতম চলমান ফরয এবং ইহা সবোর্চ্চ ও সর্বোত্তম সফলতা লাভের উপায়।