📄 গাযওয়ার সংক্ষিপ্ত তালিকা
ইউসুফ সালিহীর বর্ণনা অনুসারে গাযওয়াসমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরূপঃ (১) গাযওয়াতুল আবওয়া যাহা ওয়াদ্দান নামেও পরিচিত, (২) গায়ওয়া বুওয়াত, (৩) কুরয ইব্ জাবিরের সন্ধানে গাযওয়া সাফওয়ান, যাহা প্রথম বদর নামেও পরিচিত, (৪) গাযওয়া আল-'উশায়রা, (৫) গাযওয়া বদর আল-কুবরা বা প্রসিদ্ধতম বদর যুদ্ধ, (৬) কুদ্র অঞ্চলে গাযওয়া বানু সুলায়ম, যাহা কারকারাতুল কুদর নামেও পরিচিত, (৭) গাযওয়া আস-সাবীক (ছাতুর যুদ্ধ), (৮) গাযওয়া গাতাফান, যাহা গাযওয়া যী আমর নামেও পরিচিত, (৯) হিজাযের বুহহ্বান অঞ্চলে গাযওয়া আল-ফুর' (১০) গাযওয়া বনু কায়নুকা, (১১) প্রসিদ্ধ গাযওয়া উহুদ, (১২) গাযওয়া হামরাউল আসাদ, (১৩) গাযওয়া বনূ নাযীর, (১৪) গাযওয়া বদর বা (উহুদ যুদ্ধশেষে ঘোষিত বদরের শেষ যুদ্ধ), (১৫) গাযওয়া দূমাতুল জানদাল, (১৬) গাযওয়া বানুল মুসতালিক যাহার অপর নাম আল-মুরায়সী, (১৭) গাযওয়া খন্দক বা পরিখা যুদ্ধ বা আহ্যাব যুদ্ধ, (১৮) গাযওয়া বনু কুরায়যা, (১৯) গাযওয়া বনূ লিয়ান, (২০) গাযওয়া হুদায়বিয়া, (২১) গাযওয়া যীকারাদ, (২২) গাযওয়া খায়বার, (২৩) গাযওয়া যাতুর রিকা যাহা গাযওয়া মুহারিব বা বনূ ছা'লাবা নামেও অভিহিত, (২৪) গাযওয়া উমরাতুল কাদা, (২৫) গাযওয়া আল-ফাতহ (মক্কা বিজয়) (২৬) গাযওয়া হুনায়ন (হাওয়াযিন/ আওতাস), (২৭) গাযওয়া তাইফ, (২৮) গাযওয়া তাবুক, এইগুলির সময়কাল ও ক্রমবিন্যাসে মুহাদ্দিছ ও সীরাত রচয়িতাগণ কিছু পূর্বাপর করিয়াছেন (সীরাতে ইব্ন হিশাম, ২/৪খ., পৃ. ৬০৮; সুবুলুল হুদা, ৩খ., পৃ. ৮; আল-বিদায়া, ৫খ., পৃ. ২৩৬; ৪খ., পৃ. ২৯৬, টীকা নং ২)।
📄 সারিয়্যার সংখ্যা
ইহার সংখ্যা গণনায় কেহ কেহ শুধু শত্রুর মুকাবিলা করিবার জন্য প্রেরিত বাহিনীকে সারিয়্যা তালিকাভুক্ত করিয়াছেন, কেহ বাণিজ্যিক কাফেলার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী দলকেও তালিকাভুক্ত করিয়াছেন এবং কেহ অন্যান্য উদ্দেশ্যে প্রেরিত অতি ক্ষুদ্র দল, এমনকি এক ব্যক্তি অভিযানকেও সারিয়্যা তালিকাভুক্ত করিয়াছেন। এই কারণেই সারিয়্যার সংখ্যা নির্ণয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়াছে। কাতাদা (র) হইতে হাকেমের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর গাযওয়া ও সারিয়্যার সংখ্যা তেতাল্লিশটি বর্ণিত হইয়াছে। এই বর্ণনা সম্বন্ধে মন্তব্য করিয়া হাকেম বলিয়াছেন যে, সম্ভবত কাতাদা ইহা দ্বারা শুধু সারিয়্যার সংখ্যাই বুঝাইয়াছেন। কিন্তু আল-বিদায়ায় ইব্ন কাছীর এই মন্তব্য করিয়াছেন, কাতাদা হইতে ইমাম আহমাদের বর্ণনায় উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর গাযওয়া ও সারিয়্যার সংখ্যা তেতাল্লিশ; চব্বিশটি বা'ছ (সারিয়্যা) এবং উনিশটি গাযওয়া (সম্ভবত কাতাদা শত্রুদলের প্রতিরোধ ব্যতীত অন্যান্য উদ্দেশ্যে প্রেরিত অতি অল্প সংখ্যার দলগুলি হিসাব করেন নাই)। সুতরাং হাকেমের মন্তব্য যথাযথ নহে।
ইবন ইসহাক বলিয়াছেন, সারিয়্যা ও বা'ছ আটত্রিশটি। আবূ উমার ইবন 'আবদুল বারর আল-ইসাতী'আব-এর ভূমিকায় সাতচল্লিশটি বলিয়াছেন। ইবন সা'দ তাঁহার তাবাকাত গ্রন্থে পূর্বসূরীদের উদ্ধৃতিতে সাতচল্লিশ বলিয়াছেন। আবুল ফাত্হ 'উয়ূনুল আছার-এ ইবন ইসহাক, ওয়াকিদী, ইবন সা'দ প্রমুখের বরাতে সাতচল্লিশটি বলিয়াছেন। ইবনুল আছীর আল-কামিলে বিভিন্ন বর্ণনার উদ্ধৃতিতে পঁয়ত্রিশ অথবা আটচল্লিশ বলিয়াছেন। ইবন ইউসুফ সালিহী সুবুলুল হুদায় মুহাম্মাদ ইবন উমার (আল-ওয়াকিদী)-এর বরাতে আটচল্লিশ বলিয়াছেন এবং আবুল ফাদল হইতে ছাপ্পান্ন ও মাস'উদী হইতে ষাট বর্ণিত হইয়াছে। ইরাকী আলফিয়াতুস সীরাত গ্রন্থে উহা সমর্থন করিয়াছেন। তবে তিনি বলিয়াছেন যে, হাকেম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্ন নাস্ত্র এই সংখ্যা সত্তর পর্যন্ত পৌছাইয়াছেন। ইরাকী হাকেমের বরাতে আল-ইকলীল কিতাবে এই সংখ্যা এক শত-এর উর্দ্ধে হওয়ার বর্ণনা উদ্ধৃত করিয়াছেন। অতঃপর ইরাকী মন্তব্য করিয়াছেন, ইকলীলের অনুরূপ বর্ণনা আমি অন্য কাহারও নিকট পাই নাই। হাফিয ইব্ন হাজার বলিয়াছেন, সম্ভবত হাকেম কতক গাযওয়া সংযুক্ত করিয়া এই সংখ্যা সাব্যস্ত করিয়াছেন। হাকেম বুখারাবাসী তাহার আস্থাভাজন ব্যক্তির বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্ নাসর-এর কিতাবে সারিয়্যা ও বা'ছ-এর সংখ্যা সত্তরের অধিক পাঠ করিয়াছেন।
সর্বশেষ উল্লিখিত উদ্ধৃতিসমূহ বর্ণনার পর সালিহী বলিয়াছেন, আমার অবগতি অনুসারে সারিয়্যা ও বা'ছ-এর সংখ্যা যাহা যাকাত উসূলের উদ্দেশ্য ব্যতীত (অন্যান্য সামরিক উদ্দেশ্যে প্রেরিতে হইয়াছিল) সত্তরের অধিক হইবে (আল-বিদায়া, ২খ., পৃ. ২৯৬; তাবাকাত, ২খ. পৃ. ৫; উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ২৫৭; ফাতহুল বারী, ৭খ., 'কিতাবুল জিহাদ, বাব প্রথম গাযওয়া এবং বাব গাযওয়া সারিয়্যার সংখ্যা; আল-কামিল, ২খ., পৃ. ১৭২; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৫খ., পৃ. ২৩৬-২৪২; সীরাত ইন্ন হিশাম, ২/৪খ., পৃ. ৬০৯)।