📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গাযওয়ার সংখ্যা

📄 গাযওয়ার সংখ্যা


বুখারী শরীফে ও তিরমিযী শরীফে যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা)-এর বর্ণনায় এবং মুসলিম শরীফে যায়দ ইব্‌ন আরকাম, জাবির ইবন আবদুল্লাহ, বুরায়দা (রা) প্রমুখের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর গাযওয়ার সংখ্যা উনিশ উল্লিখিত হইয়াছে। আবূ ইয়ালা জাবির (রা) হইতে গাযওয়ার সংখ্যা একুশ বলিয়াছেন। মুহিব্ব আত-তাবারী খুলাসাতুল ইসতী'আব কিতাবে ২২ সংখ্যা হওয়ার মতকে যথার্থ বলিয়াছেন। আবদুর রায্যাক (মুসান্নাফে) সা'ঈদ ইবনুল মুসায়্যাব হইতে 'চব্বিশ' বর্ণনা করিয়াছে। হাফিজ আবদুল গনী আল-মাকদিসী পঁচিশ সংখ্যা প্রসিদ্ধ হওয়ার দাবি করিয়াছেন এবং বর্ণনাটি ইবন ইসহাক, মূসা ইব্‌ন উকবা ও আবু মা'শার প্রমুখ সীরাতবিদগণের সহিত সম্পর্কিত বলিয়াছেন। আল-মাওরিদে হাফিজ আবদুল গনী মাকদিসীর এই বর্ণনা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন। ইবন ইসহাক হইতে তাঁহার অন্যতম প্রধান শিষ্য যিয়াদ আল-বাককাঈর বর্ণনায় গাযওযার সংখ্যা ছাব্বিশ। এই ক্ষেত্রে তিনি ইবন সা'দ (তাবাকাত)-এর বর্ণনাকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। ইবন সা'দ তাঁহার শিক্ষক মুহাম্মাদ ইবন উমার ইব্‌ন ওয়াকিদ আসলামী (যিনি ওয়াকিদী নামে সমধিক প্রসিদ্ধ) হইতে এবং মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক, মূসা ইব্‌ন উকবা ও আবূ মা'শার প্রমুখের মতে রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করিয়াছেন এমন গাযওয়ার সংখ্যা সাতাশটি। কেহ কেহ এই সংখ্যা উনত্রিশ বলিয়াছেন। পরবর্তী সীরাত গ্রন্থকার ও ঐতিহাসিকগণ ইবন সা'দের বর্ণনাকেই গ্রহণ করিয়াছেন (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৬৩, ৬৪২; মুসলিম, কিতাবুস সিয়ার, ২খ., পৃ. ১১৮; ইবন সা'দ, তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৫; 'উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ২৫৭; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ২২৩-২২৫; যুরকানী, ১খ., পৃ. ৩৮৮-৩৮৯; সুবুলুল হুদা, ৩খ., পৃ. ৮; আল-কামিল, ২খ., পৃ. ২; আল-বিদায়া, ৩খ., পৃ. ২৯৬-২৯৮)।

ইবনুল জাওযী, দিময়াতী, ইরাকী, সুহায়লী, ইন্ন কাছীর, ইন্ন হাজার প্রমুখ মনীষি ইব্‌ন সা'দ-এর সাতাইশ সংখ্যাকে গ্রহণ করিয়াছেন এবং বিভিন্ন বর্ণনায় সংখ্যার তারতম্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনকল্পে বলিয়াছেন, পূর্বসূরী বিশেষজ্ঞ সাহাবায়ে কিরাম তাঁহাদের বর্ণনায় নিজ নিজ অবগতি ও নিজের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন। চূড়ান্ত সংখ্যা উল্লেখ করা তাঁহাদের উদ্দেশ্য ছিল না এবং উহার অবগতি লাভের অবকাশও তাঁহাদের জন্য সীমিত ছিল। পরবর্তী গ্রন্থকারগণ পূর্বসূরী সকলের বর্ণনা একত্র ও সমন্বিত করিবার সুযোগ লাভ করিয়াছেন এবং পূর্বাপর গাযওয়া তালিকা বিন্যস্ত করিয়া সংখ্যা নিরূপণে সমর্থ হইয়াছেন। দ্বিতীয়ত, কোন কোন সাহাবী প্রথম দিকের গাযওয়ার সময় স্বল্প বয়স্ক হওয়ার কারণে উহাতে অংশগ্রহণ করেন নাই এবং উহার বিবরণ তাঁহাদের অবগতিতে সংরক্ষিত ছিল না। তৃতীয়ত, কোন কোন ক্ষেত্রে একই সমরাভিযানে দুইটি গাযওয়া সংঘটিত হওয়ায় অথবা কোন বৃহৎ গাযওয়া হইতে ফিরতি পথে অপর একটি গাযওয়া সংঘটিত হওয়ায় অথবা অল্প দিনের ব্যবধানে কাছাকাছি সময়ে দুইটি গাযওয়া সংঘটিত হওয়ায় অনেকে সেই দুইটিকে একটি গণনা করিয়াছেন। এইসব কারণে গাযওয়ার সংখ্যা সাতাশ হইতে কমিয়া ছাব্বিশ, বাইশ বা একুশ হইয়াছে। যেমন সুহায়লী বলিয়াছেন, খায়বার যুদ্ধের সন্নিকট সময়ে (ফিরতি পথে) ওয়াদিল কুরা যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে ইবন ইসহাক হইতে বাক্কাঈর বর্ণনায় গাযওয়ার সংখ্যা ছাব্বিশ বলা হইয়াছে। সুহায়লী আরও বলিয়াছেন, যাহারা গাযওযার সংখ্যা সাতাশ-এর কম গণনা করিয়াছেন তাঁহারা মূলত ঐগুলির কোন কোনটি অপরটির অতি সন্নিকটে, হওয়ার কারণে এইরূপ করিয়াছেন। যেমন (১) বুওয়াত (বা ওয়াদ্দান) ও আবওয়া গাযওয়াদ্বয় কাছাকাছি সময়ে (১ম হিজরী বর্ষের সফর ও রাবীউল আওয়াল মাসে) সংঘটিত হওয়ার কারণে এই দুইটিকে অভিন্ন গণনা করা হইয়াছে। (২) উহুদ যুদ্ধ সমাপ্তির সাথে সাথে সংঘটিত হওয়ার কারণে হামরাউল আসাদকে উহার সহিত একীভূত করা হইয়াছে। (৩) খন্দকের পরপরই এবং খন্দকে ইয়াহুদীদের বিশ্বাসভংগের পরিণতিতে বনূ কুরায়যার গাযওয়া সংঘটিত হওয়ার কারণে এই দুইটিকে অভিন্ন গণনা করা হইয়াছে। (৪) হুনায়ন হইতে ফিরিবার পথে তাইফ অবরোধ হওয়ার কারণে হুনায়ন ও তাইফকে একটি গণনা করা হইয়াছে (দ্র. যুরকানী, ১খ., পৃ. ৩৮৮; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৩খ., পৃ. ১০)।

নয়টি গাযওয়ায় প্রত্যক্ষ লড়াই সংঘটিত হয়। ইবন ইসহাক, ইবন সা'দ, ইবন হাম্, কাসতাল্লানী, ইবনুল আছীর প্রমুখ বলিয়াছেন, নয়টি গাযওয়ায় রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হইয়াছেন: (১) বদর (২) উহুদ, (৩) খন্দক, (৪) বনু কুরায়যা, (৫) বনূ মুসতালিক (মুরায়সী), (৬) খায়বার, (৭) ফাতহ মক্কা (মক্কা বিজয়), (৮) হুনায়ন ও (৯) তাইফ। কোন কোন বর্ণনামতে বনূ নাযীর যুদ্ধেও লড়াই হইয়াছে। ইহা ছাড়া ওয়াদিল কুরা ও আলগাবাকেও প্রত্যক্ষ লড়াই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে।

কেহ কেহ প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংঘটিত গাযওয়ার সংখ্যা আট বলিয়াছেন। তাহাদের কেহ খন্দক ও বনূ কুরায়যাকে, কেহ খায়বার ও ওয়াদিল কুরাকে এবং কেহ হুনায়ন ও তাইফকে অভিন্ন গণনা করিয়াছেন। নববীর মতে, মক্কা বিনা যুদ্ধে বিজিত হওয়া সংক্রান্ত ইমাম শাফি'ঈ (র)-এর অভিমতের প্রতি লক্ষ্য করিয়া মক্কা বিজয় এই তালিকা হইতে বাদ পড়িবে। সুতরাং সংখ্যা আটটি থাকিবে (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১১৮; আত-তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৫; আল-কামিল, ২খ., পৃ. ১২; 'উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ২৫৭; সুবুলুল হুদা, ৩খ., পৃ. ৮-৯)। তবে এইসব যুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তিনি উহাতে সরাসরি তীর-তরবারি ও অস্ত্র পরিচালনা করিয়াছেন। বরং ইহার অর্থ এই যে, এইসব যুদ্ধে তাঁহার সাহাবীগণ (রা) ও তাঁহাদের প্রতিপক্ষ কাফিরদের মধ্যে আঘাত-প্রত্যাঘাত সংঘটিত হইয়াছিল। আর অবশিষ্ট গাযওয়াসমূহে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ (স) শুধু উহুদ যুদ্ধে পার্শ্বের এক মুজাহিদ সাহাবীর নিকট হইতে একটি বল্লম হাতে নিয়া উহা দ্বারা (তাঁহার পূর্ব ঘোষণা বাস্তবায়নে) উবাই ইব্‌ন খালাফকে মৃদু আঘাত করিয়াছেন, যাহা উবাই-এর জন্য অসহনীয় যন্ত্রণা ও মৃত্যুর কারণ হইয়াছিল। তবে হাদীছে একথাও বর্ণিত হইয়াছে যে, আমরা কোন সেনাবাহিনীর সম্মুখীন হইলে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স) আক্রমণের সূচনা করিতেন। মনীষীদের মতে ইহার অর্থ প্রতীকি, সূচনা ও আক্রমণ শুরুর আদেশ প্রদান (শারহুল মাওয়াহিব, ১খ., পৃ. ৩৮৮; বরাত ফাতহুল বারী, সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ৯)।

এই সকল গাযওয়ার মধ্যে প্রধান গাযওয়া ছিল সাতটিঃ (১) বদর, (২) উহুদ, (৩) খন্দক, (৪) খায়বার, (৫) মক্কা বিজয়, (৬) হুনায়ন ও (৭) তাবুক। এই সকল গাযওয়া সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে সূরা ও আয়াত নাযিল হইয়াছে। যেমন বদর সম্পর্ক সূরা আল ইমরানের ৩: ১২১ আয়াত হইতে প্রায় সূরার সমাপ্তি পর্যন্ত। খন্দক ও বনু কুরায়যা সম্পর্কে সূরা আহযাব-এর প্রারম্ভ অংশ; বনূ নাযীর সম্পর্কে সূরা হাশর, হুদায়বিয়া ও খায়বার সম্পর্কে সূরা ফাত্হ। এই সূরায়ই পরবর্তী মক্কা বিজয়ের প্রতি ইংগিত রহিয়াছে এবং সূরা নাসর-এও উহার উল্লেখ রহিয়াছে। তাবুক প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা রহিয়াছে সূরা তাওবায় (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ., ৯-১০; অন্যান্য হাদীছ ও সীরাত গ্রন্থসমূহ)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গাযওয়ার সংক্ষিপ্ত তালিকা

📄 গাযওয়ার সংক্ষিপ্ত তালিকা


ইউসুফ সালিহীর বর্ণনা অনুসারে গাযওয়াসমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরূপঃ (১) গাযওয়াতুল আবওয়া যাহা ওয়াদ্দান নামেও পরিচিত, (২) গায়ওয়া বুওয়াত, (৩) কুরয ইব্‌ জাবিরের সন্ধানে গাযওয়া সাফওয়ান, যাহা প্রথম বদর নামেও পরিচিত, (৪) গাযওয়া আল-'উশায়রা, (৫) গাযওয়া বদর আল-কুবরা বা প্রসিদ্ধতম বদর যুদ্ধ, (৬) কুদ্র অঞ্চলে গাযওয়া বানু সুলায়ম, যাহা কারকারাতুল কুদর নামেও পরিচিত, (৭) গাযওয়া আস-সাবীক (ছাতুর যুদ্ধ), (৮) গাযওয়া গাতাফান, যাহা গাযওয়া যী আমর নামেও পরিচিত, (৯) হিজাযের বুহহ্বান অঞ্চলে গাযওয়া আল-ফুর' (১০) গাযওয়া বনু কায়নুকা, (১১) প্রসিদ্ধ গাযওয়া উহুদ, (১২) গাযওয়া হামরাউল আসাদ, (১৩) গাযওয়া বনূ নাযীর, (১৪) গাযওয়া বদর বা (উহুদ যুদ্ধশেষে ঘোষিত বদরের শেষ যুদ্ধ), (১৫) গাযওয়া দূমাতুল জানদাল, (১৬) গাযওয়া বানুল মুসতালিক যাহার অপর নাম আল-মুরায়সী, (১৭) গাযওয়া খন্দক বা পরিখা যুদ্ধ বা আহ্যাব যুদ্ধ, (১৮) গাযওয়া বনু কুরায়যা, (১৯) গাযওয়া বনূ লিয়ান, (২০) গাযওয়া হুদায়বিয়া, (২১) গাযওয়া যীকারাদ, (২২) গাযওয়া খায়বার, (২৩) গাযওয়া যাতুর রিকা যাহা গাযওয়া মুহারিব বা বনূ ছা'লাবা নামেও অভিহিত, (২৪) গাযওয়া উমরাতুল কাদা, (২৫) গাযওয়া আল-ফাতহ (মক্কা বিজয়) (২৬) গাযওয়া হুনায়ন (হাওয়াযিন/ আওতাস), (২৭) গাযওয়া তাইফ, (২৮) গাযওয়া তাবুক, এইগুলির সময়কাল ও ক্রমবিন্যাসে মুহাদ্দিছ ও সীরাত রচয়িতাগণ কিছু পূর্বাপর করিয়াছেন (সীরাতে ইব্‌ন হিশাম, ২/৪খ., পৃ. ৬০৮; সুবুলুল হুদা, ৩খ., পৃ. ৮; আল-বিদায়া, ৫খ., পৃ. ২৩৬; ৪খ., পৃ. ২৯৬, টীকা নং ২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়্যার সংখ্যা

📄 সারিয়্যার সংখ্যা


ইহার সংখ্যা গণনায় কেহ কেহ শুধু শত্রুর মুকাবিলা করিবার জন্য প্রেরিত বাহিনীকে সারিয়‍্যা তালিকাভুক্ত করিয়াছেন, কেহ বাণিজ্যিক কাফেলার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী দলকেও তালিকাভুক্ত করিয়াছেন এবং কেহ অন্যান্য উদ্দেশ্যে প্রেরিত অতি ক্ষুদ্র দল, এমনকি এক ব্যক্তি অভিযানকেও সারিয়‍্যা তালিকাভুক্ত করিয়াছেন। এই কারণেই সারিয়‍্যার সংখ্যা নির্ণয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়াছে। কাতাদা (র) হইতে হাকেমের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর গাযওয়া ও সারিয়্যার সংখ্যা তেতাল্লিশটি বর্ণিত হইয়াছে। এই বর্ণনা সম্বন্ধে মন্তব্য করিয়া হাকেম বলিয়াছেন যে, সম্ভবত কাতাদা ইহা দ্বারা শুধু সারিয়‍্যার সংখ্যাই বুঝাইয়াছেন। কিন্তু আল-বিদায়ায় ইব্‌ন কাছীর এই মন্তব্য করিয়াছেন, কাতাদা হইতে ইমাম আহমাদের বর্ণনায় উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর গাযওয়া ও সারিয়্যার সংখ্যা তেতাল্লিশ; চব্বিশটি বা'ছ (সারিয়‍্যা) এবং উনিশটি গাযওয়া (সম্ভবত কাতাদা শত্রুদলের প্রতিরোধ ব্যতীত অন্যান্য উদ্দেশ্যে প্রেরিত অতি অল্প সংখ্যার দলগুলি হিসাব করেন নাই)। সুতরাং হাকেমের মন্তব্য যথাযথ নহে।

ইবন ইসহাক বলিয়াছেন, সারিয়‍্যা ও বা'ছ আটত্রিশটি। আবূ উমার ইবন 'আবদুল বারর আল-ইসাতী'আব-এর ভূমিকায় সাতচল্লিশটি বলিয়াছেন। ইবন সা'দ তাঁহার তাবাকাত গ্রন্থে পূর্বসূরীদের উদ্ধৃতিতে সাতচল্লিশ বলিয়াছেন। আবুল ফাত্‌হ 'উয়ূনুল আছার-এ ইবন ইসহাক, ওয়াকিদী, ইবন সা'দ প্রমুখের বরাতে সাতচল্লিশটি বলিয়াছেন। ইবনুল আছীর আল-কামিলে বিভিন্ন বর্ণনার উদ্ধৃতিতে পঁয়ত্রিশ অথবা আটচল্লিশ বলিয়াছেন। ইবন ইউসুফ সালিহী সুবুলুল হুদায় মুহাম্মাদ ইবন উমার (আল-ওয়াকিদী)-এর বরাতে আটচল্লিশ বলিয়াছেন এবং আবুল ফাদল হইতে ছাপ্পান্ন ও মাস'উদী হইতে ষাট বর্ণিত হইয়াছে। ইরাকী আলফিয়াতুস সীরাত গ্রন্থে উহা সমর্থন করিয়াছেন। তবে তিনি বলিয়াছেন যে, হাকেম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্‌ন নাস্ত্র এই সংখ্যা সত্তর পর্যন্ত পৌছাইয়াছেন। ইরাকী হাকেমের বরাতে আল-ইকলীল কিতাবে এই সংখ্যা এক শত-এর উর্দ্ধে হওয়ার বর্ণনা উদ্ধৃত করিয়াছেন। অতঃপর ইরাকী মন্তব্য করিয়াছেন, ইকলীলের অনুরূপ বর্ণনা আমি অন্য কাহারও নিকট পাই নাই। হাফিয ইব্‌ন হাজার বলিয়াছেন, সম্ভবত হাকেম কতক গাযওয়া সংযুক্ত করিয়া এই সংখ্যা সাব্যস্ত করিয়াছেন। হাকেম বুখারাবাসী তাহার আস্থাভাজন ব্যক্তির বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্‌ নাসর-এর কিতাবে সারিয়্যা ও বা'ছ-এর সংখ্যা সত্তরের অধিক পাঠ করিয়াছেন।

সর্বশেষ উল্লিখিত উদ্ধৃতিসমূহ বর্ণনার পর সালিহী বলিয়াছেন, আমার অবগতি অনুসারে সারিয়‍্যা ও বা'ছ-এর সংখ্যা যাহা যাকাত উসূলের উদ্দেশ্য ব্যতীত (অন্যান্য সামরিক উদ্দেশ্যে প্রেরিতে হইয়াছিল) সত্তরের অধিক হইবে (আল-বিদায়া, ২খ., পৃ. ২৯৬; তাবাকাত, ২খ. পৃ. ৫; উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ২৫৭; ফাতহুল বারী, ৭খ., 'কিতাবুল জিহাদ, বাব প্রথম গাযওয়া এবং বাব গাযওয়া সারিয়‍্যার সংখ্যা; আল-কামিল, ২খ., পৃ. ১৭২; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৫খ., পৃ. ২৩৬-২৪২; সীরাত ইন্ন হিশাম, ২/৪খ., পৃ. ৬০৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00