📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জিহাদের ফযীলাত ধাপে ধাপে

📄 জিহাদের ফযীলাত ধাপে ধাপে


**আল্লাহর পথে জিহাদের এক সকাল বা বিকাল:** হযরত আবূ আয়্যব, সাহল ইবন সা'দ, আবূ হুরায়রা ও আনাস (রা) প্রমুখ সাহাবী হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: الغدوة في سبيل الله او روحة خير من الدنيا وما فيها . "আল্লাহ্ পথে জিহাদের একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল দুনিয়া ও ইহার অভ্যন্তরে যাহা কিছু আছে উহা হইতে উত্তম"। অপর বর্ণনায় আছেঃ "আল্লাহ্র পথে এক সকাল অথবা এক বিকাল যাহার উপর সূর্য উদিয় হয় ও অস্তমিত হয় তাহার চাইতে উত্তম" (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৫, ৬, হাদীছ নং ২৭৯২, ২৭৯৩, ২৭৯৪, ২৭৯৬; মুসলিম, ২খ., ১৩৪, পৃ. ১৩৫)।

উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবন হাজার একটি হাদীছ উল্লেখ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) একটি সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করিলেন যাহাতে আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন রাওয়াহা (রা)-ও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বাহিনী রওয়ানা হইয়া গেলে ইব্‌ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এক ওয়াক্ত সালাতে উপস্থিত থাকিবার উদ্দেশ্যে কিছু সময় বিলম্ব করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন : والذي نفسي بيده لو انفقت ما في الارض ما ادركت فضل غدوتهم. "যাঁহার হাতে আমার জীবন তাঁহার কসম! সমগ্র পৃথিবীতে যাহা আছে উহা ব্যয় করিলেও তুমি তাহাদের এক সকালের ফযীলাত আহরণ করিতে পারিবে না"। ইহাতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ্ পথের এক সকাল বা এক বিকাল দুনিয়া হইতে উত্তম হওয়ার অর্থ দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ ব্যয় করা হইতেও উত্তম (ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১৮)।

**জিহাদে প্রহরীর দায়িত্ব পালন:** আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: طوبي لعبد اخد بعنان فرسه في سبيل الله اشعث رأسه مغبرة قدماه ان كان في الحراسة كان في الحراسة وان كان في الساقة كان في الساقة ان استأذن لم يؤذن له وان شفع لم يشفع. "অতিশয় সৌভাগ্যবান সেই বান্দা যে আল্লাহ্র পথে তাহার ঘোড়ার লাগাম ধরিয়া চলিতে থাকে। তাহার মাথা উস্কো-খুস্কো, দুই পা ধুলি মাখা। তাহাকে প্রহরার দায়িত্ব দেওয়া হইলে সে প্রহরায় নিয়োজিত থাকে, বাহিনীর পশ্চাদভাগে দায়িত্ব দেওয়া হইলে পশ্চাদভাগেই দায়িত্ব পালনে নিবেদিত থাকে। সে অনুমতি প্রার্থনা করিলে তাহাকে অনুমতি দেওয়া হয় না এবং কাহারও জন্য সুপারিশ করিলে তাহার সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না" (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৭০, হাদীছ নং ২৮৮৭)।

সাহল ইব্‌দুল হানজালিয়া (রা) হইতে বর্ণিত: হুনায়ন (হাওয়াযিন) যুদ্ধকালে এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (স) নৈশ প্রহরার দায়িত্ব পালনের আহবান জানাইলে আনাস ইব্‌ন আবূ মারছাদ গানাবী (রা) এই দায়িত্ব পালনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে গিরিপথে অবস্থান করিয়া সতর্কতার সহিত প্রহরার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিলেন। সারা রাত্রি প্রহরার দায়িত্ব পালনের পর সকালে তিনি ফিরিয়া আসিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন: আজ রাত্রে কি তুমি নিচে নামিয়াছিলে? আনাস বলিলেন, সালাত ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন ব্যতীত নহে। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন: তুমি (জান্নাত) অবধারিত করিয়া লইয়াছ। সুতরাং ইহার পর তুমি আর কোন (নফল) আমল না করিলেও তোমার কোন ক্ষতি হইবে না (আবূ দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ৩৩৮, ৩৩৯)।

رباط يوم في سبيل الله خير من الدنيا وما عليها. "আল্লাহ্র পথে এক দিনের জন্য (ইসলামী রাষ্ট্রের) সীমান্ত প্রহরা দেওয়া দুনিয়া ও তাহাতে যাহা কিছু আছে উহা হইতে উত্তম” (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৭৩, হাদীছ নং ২৮৯২)।

সালমান (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: رباط يوم وليلة خير من صيام شهر وقيامه وان مات جرى عليه عمله الذي كان يعمله واجرى عليه رزقه وامن الفتان "এক দিন ও এক রাত্রের সীমান্ত প্রহরা এক মাসের সিয়াম পালন ও ইবাদতে রাত্রি জাগরণ হইতে উত্তম। তাহার মৃত্যু হইলে সে যে কাজ করিতেছিল তাহার নামে উহা অব্যাহত থাকিবে ও তাহার জন্য রিযিক বরাদ্দ থাকিবে এবং তাহাকে বিপদে নিক্ষেপকারীদের হইতে নিরাপত্তা দেওয়া হইবে" (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১৪২)।

ফাদালা ইবন উবায়দ (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: كل الميت يختم على عمله الا المرابط فانه ينمو له عمله الى يوم القيامة وامن فتان القبر. "সকল মৃত ব্যক্তির (আমলের) পরিসমাপ্তি ঘটিবে কিন্তু সীমান্ত প্রহরী; তাহার আমল কিয়ামত পর্যন্ত পাইতে থাকিবে এবং কবরে বিপদগ্রস্তকারী (মুনকার-নাকীর) হইতে নিরাপদ থাকিবে” (আবূ দাউদ, ১খ., কিতাবুল জিহাদ, পৃ. ৩৩৮)।

**জিহাদ হইতে প্রত্যাবর্তনও জিহাদে গমনের সমতুল্য:** আবদুল্লাহ ইব্‌ন আম্র (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, قفلة كفزوة "(যুদ্ধ হইতে) প্রত্যাবর্তন (অথবা পুনঃ অভিযানে গমন) জিহاد অভিযানের ন্যায়” (আবু দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ৩৩৬)।

**মুজাহিদের মর্যাদার স্তরসমূহ:** আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: من امن بالله وبرسوله واقام الصلاة وصام رمضان كان حقا على الله ان يدخله الجنة جاهد في سبيل الله او جلس في ارضه التي ولد فيها . "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও তাঁহার রাসূলকে বিশ্বাস করিবে, সালাত কায়েম করিবে, রমযানের সিয়াম পালন করিবে তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর কর্তব্য হইয়া যাইবে। সে আল্লাহ্ পথে জিহাদ করুক অথবা যে ভূমিতে তাহার জন্ম হইয়াছে সেইখানে বসিয়া থাকুক"। তাহারা বলিল, আমরা লোকদিগকে (এই) সুসংবাদ পৌঁছাইয়া দিব কি? তিনি বলিলেন: ان في الجنة مائة درجة اعدها الله للمجاهدين في سبيل الله ما بين الدرجتين كما بين السماء والارض "নিশ্চয় জান্নাতে এক শতটি মর্যাদার স্তর রহিয়াছে যাহা মহান আল্লাহ তাঁহার পথের মুজাহিদগণের জন্য প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন, যাহার প্রতি দুই স্তরের মধ্যকার ব্যবধান আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান" (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৪, হাদীছ নং ২৭৯০, ৭৪২৩)।

**মুজাহিদের পায়ের ধুলি:** অবদুর রহমান ইন্ন জার (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ما اغبرت قدما عبد في سبيل الله (ساعة من النهار) فتمسه النار. "কোন বান্দার দুই পা আল্লাহ্র পথে জিহাদে গমন করার ফলে ধূলিমাখা হইলে আগুন তাহাকে স্পর্শ করিবে না” (বুখারী, হাদীছ নং ২৮১; জিহাদ বাব ১৬; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ৩৬)。

**আল্লাহ মুজাহিদের যামিন:** আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: تكفل الله لمن جاهد في سبيله لا يخرجه من بيته الا جهاد في سبيله وتصديق كلمته بان يدخله الجنة أو يرجعه الى مسكنه الذى خرج منه مع ما نال من اجر او غنيمة. "যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং তাঁহার পথে জিহাদ করা ও তাঁহার কলেমার প্রতি বিশ্বাসই তাহাকে তাহার বাড়ী হইতে বাহির করে, তাহার ব্যাপারে আল্লাহ এই যামানত গ্রহণ করিয়াছেন যে, তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন অথবা তাহাকে তাহার প্রাপ্ত সওয়ার ও গনীমতসহ তাঁহার সেই নিবাসে পৌছাইয়া দিবেন যেখান হইতে সে বাহির হইয়াছিল” (মুসলিম, ২খ., জিহাদ, পৃ. ১৩৩)।

আবূ উমামা আল-বাহিলী (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ثلثة كلهم ضامن على الله عز وجل رجل خرج غازيا في سبيل الله عز وجل فهو ضامن على الله حتى يتوفهاه فيدخله الجنة او يرده مما نال من اجر او عنيمة. "তিন ব্যক্তির প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ্র দায়িত্বে। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পথে গাযী (মুজাহিদ)-রূপে বাহির হইল সে আল্লাহর দায়িত্বে— তিনি তাহাকে মৃত্যু দান করিয়া জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন অথবা তাহার প্রাপ্ত সওয়াব ও 'গনীমতসহ (তাহার বাড়িতে) ফিরাইয়া আনিবেন” (আবূ দাউদ, ১খ., জিহাদ, পৃ. ৩৩৭)。

**মুজাহিদের নিদ্রাও জাগরণ সমতুল্য:** মু'আয ইবন জাবাল (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: “যুদ্ধাভিযান দুই প্রকার। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অন্বেষণ করিল, নেতার আনুগত্য করিল, প্রিয় সম্পদ ব্যয় করিল, সংগীর সহিত সহজ আচরণ করিল এবং মন্দ কর্ম হইতে আত্মরক্ষা করিল তাহার নিদ্রা ও জাগরণ সবই সওয়াব” (আবূ দাউদ, জিহাদ, ১খ., ৩৪১)।

**মুজাহিদের দু'আ কবুলের নিশ্চয়তা:** সাহল ইবন সা'দ (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, "দুইটি দু'আ প্রত্যাখ্যাত হয় না অথবা অতি অল্পই প্রত্যাখ্যাত হয়। (এক) আযানের সময় দু'আ এবং (দুই) যুদ্ধ চলাকালে যখন একে অপরকে প্রচণ্ড আক্রমণ করিতে থাকে” (আবূ দাউদ, জিহাদ, ১খ., পৃ. ৩৪৪)。

আবূ সাঈদ খুদরী (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বনূ লিহয়ান অভিমুখে বাহিনী প্রেরণের সময় বলিলেন: “প্রতি দুইজনের মধ্য হইতে একজন যুদ্ধে যাইবে এবং সওয়াব তাহাদের মধ্যে সম্মিলিত হইবে” (মুসলিম, ইমরা, ২খ., পৃ. ১৩৮)।

**মুজাহিদের পরিবারস্থ নারীদের মর্যাদা:** বুরায়দা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: حرمة نساء المجاهدين على القاعدين كحرمة امهاتهم وما من رجل من القاعدين يخلف رجلا من المجاهدين في اهله فيخونه فيهم الا وقف له يوم القيامة .... وقال فخذ من حسناته ما شئت فالتفت الينا رسول الله ﷺ فقال فما ظنكم. "বাড়ীতে অবস্থানকারীদের দায়িত্বে জিহাদে গমনকারী নারীদের মর্যাদা তাহাদের মায়েদের মর্যাদার ন্যায়। বাড়িতে অবস্থানকারী যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে তাহার পরিবারের দেখাশুনা করিল এবং তাহাতে বিশ্বাসঘাতকতা করিল, তবে কিয়ামতের দিন তাহাকে দাঁড় করাইয়া দিয়া (মুজাহিদকে) বলা হইবে, তুমি তাহার আমল হইতে তোমার যাহা মন চায় নিয়া নাও। এই কথা বলিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের দিকে দৃষ্টি প্রদান করিয়া বলিলেনঃ তোমাদের কী ধারণা যে, এইরূপ সুযোগ দেওয়া হইলে সে কি করিবে (এবং মুজাহিদ পরিবারের নারীর মর্যাদা কত উচ্চ)" (মুসলিম, ২খ., ১৩৮; আবু দাউদ, ১খ., পৃ. ৩৩৮)।

**জিহাদের অভিযানকালে সাধারণ মৃত্যুও শাহাদাততুল্য**
আনাস (রা)-এর খালা উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) একদিন আমাদের এখানে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম করিলেন এবং ঘুমাইয়া পড়িলেন। পরে তিনি হাসিমুখে জাগ্রত হইলে আমি বলিলাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হউন। আপনার হাসিবার কারণ কি? তিনি বলিলেন: আমার উম্মতের কিছু লোকের দৃশ্য আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হইয়াছে যাহারা এই মহাসাগরের বিক্ষুব্ধ তরংগের উপর আরোহণ করিবে, তাহারা যেন সিংহাসনে সমাসীন রাজা-বাদশাহ। উম্মু হারাম (রা) বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দু'আ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দু'আ করিলেন এবং বলিলেন, তুমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত থাকিবে। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং পূর্বানুরূপ করিলেন। উম্মু হারাম (রা)-ও পূর্বানুরূপ বলিলে তিনি পূর্বানুরূপ জবাব দিলে। উম্মু হারাম বলিলেন, আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করিবার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করুন। তিনি বলিলেন, তুমি প্রথম দলে। পরবর্তী কালে হযরত মু'আবিয়া (রা)-এর নেতৃত্বে প্রথম (মুসলিম) নৌবাহিনীর অভিযানকালে উম্মু হারাম (রা) তাঁহার স্বামী 'উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর সহিত অভিযানে বাহির হইলেন। অভিযান হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া তাঁহারা শামে অবস্থান করিলেন। এই সময় তাঁহার আরোহণের জন্য একটি জন্তুযান তাঁহার নিকট লইয়া আসা হইল। তিনি জন্তযানে উঠিবার সময় উহা তাঁহাকে ফেলিয়া দিলে উহাতে তিনি ইনতিকাল করিলেন (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, হাদীছ নং ২৭৯৯-২৮০০, ২৮৭৭-২৮৭৮; মুসলিম, ২খ., ১৪১, ১৪২)।

আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: من لقى الله بغير اثر من جهاد لقى الله وفيه ثلمة. "যে ব্যক্তি জিহাদের কোন প্রকার আলামত ব্যতীত আল্লাহ্ সাক্ষাতে উপস্থি হইবে সে নিজের মধ্যে ত্রুটি ও অপূর্ণতা সহকারে আল্লাহ্ সাক্ষাতে উপস্থি হইবে” (তিরমিযী, ফাদাইলুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ২০০)।

**জিহাদের ধুলি, জিহাদের চিহ্ন ও রক্তবিন্দু:** আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, لا يلج النار رجل بكى من خشية الله حتى يعود اللبن في الضرع ولا يجتمع غبار في سبيل الله ودخان جهنم. "আল্লাহ্র ভয়ে যে ব্যক্তি ক্রন্দন করিয়াছে সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না, যতক্ষণ না দুধ স্তনে ফিরিয়া যাইবে এবং আল্লাহ্ পথের ধুলিকণা ও জাহান্নামের ধুয়া একত্র হইবে না" (তিরমিযী, ১খ., পৃ. ১৯৬-১৯৭)।

আবূ উমামা (রা) সূত্রে নবী (স) বলিয়াছেন : ليس شيئ احب الى الله من قطرتين واثرين قطرة دموع من خشية الله وقطرة دم تهراق في سبيل الله واما الاثران فاثر في سبيل الله واثر في فريضة من فرائض الله. "দুইটি ফোঁটা ও দুইটি চিহ্নের ন্যায় অন্য কিছু আল্লাহ্র অধিক প্রিয় নহে। (১) আল্লাহ্র ভয়ে অশ্রুর ফোঁটা এবং (২) আল্লাহ্র পথে প্রবাহিত রক্তের ফোঁটা। চিহ্ন দুইটি (১) আল্লাহ্র পথে (জিহাদের) চিহ্ন (দাগ) (২) এবং আল্লাহর (অন্যান্য) ফরযসমূহের কোন ফরয পালনের চিহ্ন" (তিরমিযী, ১খ., পৃ. ২০০)।

**জিহাদের উপকরণ :** আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ আওফা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসলূল্লাহ (স) বলিয়াছেন: واعلموا ان الجنة تحت ظلال السيوف. "জানিয়া রাখ! জান্নাত তরবারির ছায়াতলে" (বুখারী, জিহাদ, বাব ২২, হাদীছ নং ২৮১৮, ২৮৬৬)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: بعثت بين يدى الساعة مع السيف وجعل رزقي تحت ظل رمحي. "আমি কিয়ামতের পূর্বক্ষণে প্রেরিত হইয়াছি তরবারি সহকারে এবং আমার রিযিক রাখা হইয়াছে আমার বর্শার ছায়াতলে” (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৮৮; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১১৬)।

উকবা ইব্‌ন আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে মিম্বারের উপরে বলিতে শুনিয়াছি: واعدوا لهم ما استطعتم من قوة الا ان القوة الرمي الا أن القوة الرمي الا ان القوة الرمي . "তোমরা তাহাদের (শত্রুদের) মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি" (৮ঃ ৬০)। শুনিয়া রাখ! শক্তি হইল তীরন্দাযী (দূর নিক্ষেপক অস্ত্র), শক্তি হইল তীরন্দাযী, শক্তি হইল তীরন্দাযী” (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১৪৩; কিতাবুল ইমারা)। উকবা ইবন 'আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি : ستفتح عليكم ارضون ويكفيكم الله فلا يعجز احدكم ان يلهو باسهمه. "অচিরেই বহু এলাকা তোমাদের জন্য বিজিত হইবে এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যথেষ্ট হইবেন। তবে তোমাদের কেহ যেন তাহার তীর ছুড়িতে অপারগ না হয়" (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১৪৩)।

উকবা ইবন 'আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি : ان الله عز وجل يدخل بالسهم الواحد ثلثة نفر الجنة صانعه يحتسب في صنعته الخير والرامى به و منبله والممد به ارموا واركبوا ولان ترموا احب الى من ان تركبوا كل ما يلهو به الرجل المسلم باطل الأرميه بقوس وتادييه فرسه وملاعبته اهله فانهن من الحق . "মহান আল্লাহ একটি তীরের বদৌলতে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন : (১) তীর নির্মাতা, যে উহা নির্মাণে কল্যাণ ও সওয়াবের উদ্দেশ্য রাখে, (২) তীর নিক্ষেপকারী এবং (৩) তীরের ফলা সরবরাহকারী। মুসলমানের সকল ক্রীড়া বাতিল তিনটি ব্যতীত, (১) তীর-ধনুক দ্বারা ক্রীড়া (প্রশিক্ষণ), (২) ঘোড়ার প্রশিক্ষণ ও ঘোড়দৌড় এবং (৩) স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক। এইগুলি সঠিক ও যথার্থ” (তিরমিযী, ১খ., ফাদাইলুল জিহাদ, পৃ. ১৯৭; আবূ দাউদ, ১খ., পৃ. ৩৪০, জিহাদ)। আবূ দাউদের বর্ণনায় আরও আছে, من ترك الرمي بعد ما علمه رغبة عنه فانها نعمة تركها او كفرها فليس منا او عصى - مسلم) . "যে ব্যক্তি তীরন্দাযী শিখিবার পরে উহাতে অনীহা দেখাইয়া উহা বর্জন করিল সে অবশ্য একটি নিআমত বর্জন করিল অথবা উহাতে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিল"। মুসলিমের বর্ণনায় আছে, "সে আমাদের দলভুক্ত নহে অথবা অবাধ্যতা দেখাইল" (আবূ দাউদ, ১খ., পৃ. ৩৪০; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১০৭)।

আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, উরওয়া ইবনুল জা'দ, আনাস ইবন মালিক (রা) প্রমুখ হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, الخيل معقود فى نواصيها الخير الى يوم القيامة الاجر والمغنم. "ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ সম্পৃক্ত রহিয়াছে: সওয়াব ও গনীমত” (বুখারী, ১খ., কিতাবুল জিহাদ, বাব ৪৩-৪৪, মানাকিব, বাব ২৮, হাদীছ নং ২৮৪৯, ২৮৫০, ২৮৫১, ৩১১৯, ২৮৫২, ৩৬৪৩, ৩৬৪৪, ৩৪৫; মুসলিম, কিতাবুল ইমারা, ২খ., পৃ. ১৩২; তিরমিযী, ফাদাইলুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ২০২)।

**জিহাদে গোয়েন্দাগিরি ও গুপ্তচরের গুরুত্বঃ** জাবির (রা) বলেন, "আহযাব (খন্দক) যুদ্ধকালে (এক রাত্রে) রাসূলুল্লাহ (স) আহবান করিলেন, শত্রুদের সংবাদ কে লইয়া আসিতে পারে? যুবায়র (রা) বলিলেন, আমি। নবী (স) পুনরায় একই কথা জিজ্ঞাসা করিলে এবারও যুবায়র (রা) বলিলেন, আমি। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, প্রত্যেক নবীর হাওয়ারী (অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী) থাকে, আমার হাওয়ারী হইল যুবায়র" (বুখারী, জিহাদ, হাদীছ নং ২৮৪৬, ২৮৪৭, ২৯৯৭, ৩৭১৯, ৪১১৩, ৭২৬১)।

**জিহাদে হতাহত হওয়া ও শাহাদাতের ফযীলাত:** জুনদুব ইব্‌ন্ন সুফয়ান (রা) হইতে বর্ণিত। কোন অভিযানে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আংগুল আহত হইয়া রক্ত বাহির হইলে তিনি বলিলেন: هل انت الا اصبع دميت وفي سبيل الله ما لقيت. "তুমি তো একটি অংগুলি মাত্র, তুমি রক্তরঞ্জিত হইয়াছ; তুমি যাহা কিছু ভুগিয়াছ তাহা আল্লাহ্ পথেই” (বুখারী, জিহাদ, বাব ৯, হাদীছ নং ২৮০২)।

**যখমের রক্তে মিশকের সুঘ্রাণ:** আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, لا يلج النار رجل بكى من خشية الله حتى يعود اللبن في الضرع ولا يجتمع غبار في سبيل الله ودخان جهنم. "আল্লাহ্র ভয়ে যে ব্যক্তি ক্রন্দন করিয়াছে সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না, যতক্ষণ না দুধ স্তনে ফিরিয়া যাইবে এবং আল্লাহ্ পথের ধুলিকণা ও জাহান্নামের ধুয়া একত্র হইবে না" (তিরমিযী, ১খ., পৃ. ১৯৬-১৯৭)।

আবূ উমামা (রা) সূত্রে নবী (স) বলিয়াছেন : ليس شيئ احب الى الله من قطرتين واثرين قطرة دموع من خشية الله وقطرة دم تهراق في سبيل الله واما الاثران فاثر في سبيل الله واثر في فريضة من فرائض الله. "দুইটি ফোঁটা ও দুইটি চিহ্নের ন্যায় অন্য কিছু আল্লাহ্র অধিক প্রিয় নহে। (১) আল্লাহ্র ভয়ে অশ্রুর ফোঁটা এবং (২) আল্লাহ্র পথে প্রবাহিত রক্তের ফোঁটা। চিহ্ন দুইটি (১) আল্লাহ্র পথে (জিহাদের) চিহ্ন (দাগ) (২) এবং আল্লাহর (অন্যান্য) ফরযসমূহের কোন ফরয পালনের চিহ্ন" (তিরমিযী, ১খ., পৃ. ২০০)।

**জিহাদের উপকরণ :** আবদুল্লাহ ইব্‌ن আবূ আওফা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসলূল্লাহ (স) বলিয়াছেন: واعلموا ان الجنة تحت ظلال السيوف. "জানিয়া রাখ! জান্নাত তরবারির ছায়াতলে" (বুখারী, জিহাদ, বাব ২২, হাদীছ নং ২৮১৮, ২৮৬৬)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: بعثت بين يدى الساعة مع السيف وجعل رزقي تحت ظل رمحي. "আমি কিয়ামতের পূর্বক্ষণে প্রেরিত হইয়াছি তরবারি সহকারে এবং আমার রিযিক রাখা হইয়াছে আমার বর্শার ছায়াতলে” (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব ৮৮; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১১৬)।

উকবা ইব্‌ন আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে মিম্বারের উপরে বলিতে শুনিয়াছি: واعدوا لهم ما استطعتم من قوة الا ان القوة الرمي الا أن القوة الرمي الا ان القوة الرمي . "তোমরা তাহাদের (শত্রুদের) মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি" (৮ঃ ৬০)。শুনিয়া রাখ! শক্তি হইল তীরন্দাযী (দূর নিক্ষেপক অস্ত্র), শক্তি হইল তীরন্দাযী, শক্তি হইল তীরন্দাযী” (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১৪৩; কিতাবুল ইমারা)। উকবা ইবন 'আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি : ستفتح عليكم ارضون ويكفيكم الله فلا يعجز احدكم ان يلهو باسهمه. "অচিরেই বহু এলাকা তোমাদের জন্য বিজিত হইবে এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যথেষ্ট হইবেন। তবে তোমাদের কেহ যেন তাহার তীর ছুড়িতে অপারগ না হয়" (মুসলিম, ২খ., পৃ. ১৪৩)।

উকবা ইবন 'আমের (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি : ان الله عز وجل يدخل بالسهم الواحد ثلثة نفر الجنة صانعه يحتسب في صنعته الخير والرامى به و منبله والممد به ارموا واركبوا ولان ترموا احب الى من ان تركبوا كل ما يلهو به الرجل المسلم باطل الأرميه بقوس وتادييه فرسه وملاعبته اهله فانهن من الحق . "মহান আল্লাহ একটি তীরের বদৌলতে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন : (১) তীর নির্মাতা, যে উহা নির্মাণে কল্যাণ ও সওয়াবের উদ্দেশ্য রাখে, (২) তীর নিক্ষেপকারী এবং (৩) তীরের ফলা সরবরাহকারী। মুসলমানের সকল ক্রীড়া বাতিল তিনটি ব্যতীত, (১) তীর-ধনুক দ্বারা ক্রীড়া (প্রশিক্ষণ), (২) ঘোড়ার প্রশিক্ষণ ও ঘোড়দৌড় এবং (৩) স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক। এইগুলি সঠিক ও যথার্থ” (তিরমিযী, ১খ., ফাদাইলুল জিহাদ, পৃ. ১৯৭; আবূ দাউদ, ১খ., পৃ. ৩৪০, জিহাদ)。আবূ দাউদের বর্ণনায় আরও আছে, من ترك الرمي بعد ما علمه رغبة عنه فانها نعمة تركها او كفرها فليس منا او عصى - مسلم) . "যে ব্যক্তি তীরন্দাযী শিখিবার পরে উহাতে অনীহা দেখাইয়া উহা বর্জন করিল সে অবশ্য একটি নিআমত বর্জন করিল অথবা উহাতে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিল"। মুসলিমের বর্ণনায় আছে, "সে আমাদের দলভুক্ত নহে অথবা অবাধ্যতা দেখাইল" (আবূ দাউদ, ১খ., পৃ. ৩৪০; ফাতহুল বারী, ৬খ., পৃ. ১০৭)।

আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, উরওয়া ইবনুল জা'দ, আনাস ইবন মালিক (রা) প্রমুখ হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, الخيل معقود فى نواصيها الخير الى يوم القيامة الاجر والمغنم. "ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ সম্পৃক্ত রহিয়াছে: সওয়াব ও গনীমত” (বুখারী, ১খ., কিতাবুল জিহাদ, বাব ৪৩-৪৪, মানাকিব, বাব ২৮, হাদীছ নং ২৮৪৯, ২৮৫০, ২৮৫১, ৩১১৯, ২৮৫২, ৩৬৪৩, ৩৬৪৪, ৩৪৫; মুসলিম, কিতাবুল ইমারা, ২খ., পৃ. ১৩২; তিরমিযী, ফাদাইলুল জিহাদ, ১খ., পৃ. ২০২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00