📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর ইনসাফবোধ

📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর ইনসাফবোধ


'আর-রাওদুল্ উনুফ'- এ উল্লিখিত হইয়াছে যে, হালীমা সা'দিয়া উল্লেখ করেন, যখনই আমি শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে দুধ পান করাইবার জন্য কোলে নিতাম এবং তাঁহার কাছে উভয় স্তন পেশ করিতাম যেন তিনি তাঁহার পছন্দমত দুধ পান করিতে পারেন, তিনি তৃপ্তি সহকারে দুধপান করিতেন এবং একই সাথে তাঁহার দুধভাইও পরিতৃপ্তি সহকারে দুধ পান করিতেন। ইবন ইসহাক ব্যতীত সকল ঐতিহাসিক উল্লেখ করিয়াছেন যে, রাসূলে কারীম (স) কখনও মা হালীমা আস্-সা'দিয়া-র একটি স্তন ছাড়া অন্যটি গ্রহণ করিতেন না। অথচ তিনি তাঁহার জন্য দ্বিতীয় স্তনটিও পেশ করিতেন। কিন্তু মুহাম্মাদ (স) উহা গ্রহণ করিতেন না, যেন তিনি পূর্ণভাবে এই কথা অনুভব করিতেন ও জানিতেন যে, হালীমার দুধ মুবারকে তাঁহার সহিত আরও অংশীদার রহিয়াছে। সত্যিই তিনি ছিলেন সত্য, ন্যায় তথা ইন্সাফ-এর প্রতীক এবং অংশীদারের অংশ প্রদানে আজন্ম ন্যায়বিচার ও সমমর্মিতার তুলনাহীন প্রতীক।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর যবানীতে উচ্চারিত প্রথম কাব্য

📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর যবানীতে উচ্চারিত প্রথম কাব্য


` এই প্রসঙ্গে আস্-সুয়ূতী উল্লেখ করেন, ইমাম বায়হাকী ও ইব্‌ন আসাকির ইব্‌ন আব্বাস সূত্রে বর্ণনা করেন, হালীমা সা'দিয়া প্রায়ই আলোচনা করিতেন যে, যখন রাসূলে কারীম (স) দুধ পান ছাড়িয়া কথাবার্তা বলিতে আরম্ভ করিলেন তখন শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর যবান মুবারক হইতে প্রথম এই কাব্যটি উচ্চারিত হয়: اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا - وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيْلاً. "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ মহিমান্বিত, অজস্র প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁহারই জন্য। তিনি কতইনা পাক-পবিত্র, যাঁহার পবিত্রতা-গুণকীর্তন সকাল-সন্ধ্যায় সব সময় করা হয়।"
এটাই ছিল মুহাম্মাদ (স)-এর সর্বপ্রথম বাক্য।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হালীমার গৃহে অবস্থানকালে তাঁহার কার্যক্রম

📄 হালীমার গৃহে অবস্থানকালে তাঁহার কার্যক্রম


মুহাম্মাদ ইবন সা'দ উল্লেখ করিয়াছেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) হালীমা সা'দিয়ার গৃহে সুদীর্ঘ ৪ বৎসর লালিত-পালিত হইয়াছিলেন। এই সময় মেষ চরাইতে তিনি তাঁহার দুধভাই-বোনের সহিত গ্রাম-পল্লীর অনতিদূরে আসা-যাওয়া করিতেন। রাসূলে কারীম (স) পরবর্তীকালে অনেক সময় শিশুকালের পশুচারণের কথা আনন্দের সহিত আলোচনা করিতেন। এই প্রসঙ্গে ইবন সা'দ হযরত জাবির ইব্‌ন 'আব্দুল্লাহ (রা) বরাতে উল্লেখ করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, একবার আমরা নবী কারীম (স)-এর সহিত মাঠে গিয়াছিলাম। আমরা জঙ্গল হইতে কিবাছ (কাবাছ) নামীয় এক প্রকার ফল ছিড়িয়া খাইতে আরম্ভ করিলাম। তখন তিনি আমাদিগকে বলিলেন: তোমরা সর্বাধিক কালো ফলগুলি আহরণ কর। কেননা ঐ ফলগুলিই বেশী সুস্বাদু। আমি শিশুকালে যখন মেষ চরাইতাম তখন কালো ফলগুলি গ্রহণ করিতাম। আমরা বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি মেষ চরাইয়াছেন? তিনি বলিলেনঃ হাঁ, প্রত্যেক নবীই মেষ চরাইয়াছেন।
হযরত মুহাম্মাদ (স) শিশুকাল হইতে খেলাধূলার প্রতি বিমুখ ছিলেন, এমনকি তিনি ক্রীড়ামোদীদের নিকট হইতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখিতেন। এই প্রসঙ্গে আস্-সুয়ূতী ইমাম বায়হাকী ও ইবন 'আসাকির-এর সুদীর্ঘ উদ্ধৃতি উল্লেখ পূর্বক বলেন, যখন তিনি (স) কিছু চলাফেলা করিতে আরম্ভ করেন তখন মাঝে মাঝে বাহিরে যাইতেন এবং ঐ সমস্ত বাচ্চাদের প্রতি লক্ষ করিতেন যাহারা খেলাধূলা করিত। কিন্তু তিনি তাহাদের সংশ্রব হইতে দূরে থাকিতেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হালীমার গৃহে শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর শারীরিক প্রবৃদ্ধি

📄 হালীমার গৃহে শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর শারীরিক প্রবৃদ্ধি


হালীমা সা'দিয়ার গৃহে অবস্থানকালে শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর শারীরিক প্রবৃদ্ধি ছিল খুবই বেশী। এই প্রসঙ্গে 'আল্লামা শিবলী নু'মানী উল্লেখ করেন যে, স্যার উইলিয়াম মূর' তাঁহার 'লাইফ অফ মুহাম্মাদ' গ্রন্থে লিখিয়াছেন, মুহাম্মাদ (স)-এর শারীরিক প্রবৃদ্ধি ছিল খুবই দ্রুত। তিনি ছিলেন বর্ধিষ্ণু দেহ-মন ও সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী। তিনি পূত-পবিত্র ও নির্মল আখলাকের অধিকারী ছিলেন। স্বাধীনতাপ্রিয় ও অন্যের অমুখাপেক্ষী হওয়ার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। ইমাম যাহাবী তাঁহার সীরাত-এ উল্লেখ করেন, শিশু মুহাম্মাদ (স) হালীমা সা'দিয়া-র ঘরে লালনপালনকালে এক এক দিনে এক মাসের শিশুর ন্যায় স্বাস্থ্যবান ও নাদুস-নুদুস হইতেছিলেন এমনকি তিনি এক মাসে এক বছরের শিশুর মত বাড়িয়া উঠিতেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00