📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আরব সমাজে শিশুদের দুগ্ধপান প্রথা

📄 আরব সমাজে শিশুদের দুগ্ধপান প্রথা


'প্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলীর প্রাপ্ত তথ্যে প্রমাণিত যে, যুগ যুগ ধরিয়া আরব সমাজে শিশু সন্তান লালন-পালন, দুগ্ধদান বা ধাত্রীমাতার প্রথা প্রচলিত ছিল। নবজাতক শিশু সন্তানদের লালন-পালনে আরবদের মধ্যে এমন এক চমৎকার প্রথার, প্রচলন ছিল যাহা অধুনা সৌদি যুগেও প্রত্যক্ষ করা যায়। সামাজিক প্রথানুযায়ী উচু ও সম্ভ্রান্ত বংশীয় লোকেরা তাহাদের নবজাতক শিশু সন্তানদিগকে বেদুঈন মহিলার কাছে সোপর্দ করিয়া প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পাঠাইয়া দিতেন। পরবর্তী যুগেও ধাত্রী মাতার তত্ত্বাবধানে লালন-পালন বা দুগ্ধদান প্রথা একটি সম্মানজনক পেশায় রূপান্তরিত হয়, এমনকি ইসলামী শরীয়াতে ধাত্রীমাতাকে সবিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হইয়াছে। দুধ ভাই-বোন ও পিতাকেও আত্মীয়তার পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়।
নবজাতক শিশু-সন্তানদেরকে শহরের আলো-বাতাস, পিতামাতা, আত্মীয়স্বজনের অকৃত্রিম ভালবাসা, স্নেহ-মমতা ইত্যাদি বঞ্চিত করিয়া দূরবর্তী মরুময় অঞ্চলে প্রেরণের রহস্য প্রসঙ্গে সীরাত বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে উর্দু দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা-এ উল্লিখিত হইয়াছে যে, যেন তাহারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার গ্রামীণ মুক্ত নির্মল ও নিষ্কলুষ সমীরণে অবগাহনের মধ্য দিয়া লালিত-পালিত হয়, তাহারা যেন ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও বিশুদ্ধ কথাবার্তায় পারদর্শিতা লাভ করে এবং সুস্থ-সবল দেহের অধিকারী হইয়া উঠে, সকল বিপদ-আপদ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সহিত মুকাবিলা করিতে পারে এবং অলংকার শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন ও বীরত্বের সহিত স্বাভাবিক, সহজ-সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হইয়া উঠে। ইব্‌ন হিশাম আরো উল্লেখ করেন, "ইহার ফলে স্ত্রীরা তাহাদের স্বামীদের সেবায় অধিক সময় নিয়োগ করিতে পারেন। হযরত 'আম্মার ইব্‌ন য়াসির (রা)-এর উক্তিতে ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি তাঁহার দুধবোন উম্মে সালামা (রা)-এর নিকট হইতে যায়নাব্‌ বিন্ত আবী সালামা-কে এই বলিয়া লইয়া যান যে, এই হতভাগিনী মেয়েটাকে বিদায় কর অর্থাৎ তাহাকে কোন দুধমায়ের কাছে সোপর্দ কর। কেননা তাহার জন্য তুমি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-কে অনেক কষ্ট দিয়াছ। ইন্ন হিশাম-এ উল্লিখিত হইয়াছে যে, ইহাতে শিশুরা শহরের বাহিরে বেদুঈনদের সহিত মেলামেশা করিবার অবাধ সুযোগ লাভ করিত এবং বিশুদ্ধ ভাষায় কথাবার্তায় অভ্যস্ত হইয়া উঠিত। ইহাতে

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে আমিনা কর্তৃক হালিমার কোলে সমর্পণ

📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে আমিনা কর্তৃক হালিমার কোলে সমর্পণ


হালীমা সা'দিয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর দুধমাতা ছিলেন। তিনি বানূ সা'দ ইব্‌ বাক্স বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি ছিলেন চরম সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক। এই প্রসঙ্গে শায়খ 'আব্দুল্-হক্ মুহাদ্দিছ দিহলাবী বর্ণনা করেন, "হালীমা সা'দিয়া নিজ নামের আক্ষরিক অর্থে চরম সহনশীলতা, ব্যক্তিত্ব এবং সৌভাগ্যের গুণাবলীতে গুণান্বিত ছিলেন"। তিনি তায়েফের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেই বসবাস করিতেন এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর তালাশে মক্কায় আসিতেন। এই মর্মে দাইরা মা'আরিফ-এ বর্ণনা করা হইয়াছে, "তায়েফের পার্শ্ববর্তী এলাকা হইতে কিছু গ্রাম্য দুগ্ধদানকারিণী মহিলা তাহাদের অভ্যাস মাফিক মক্কা মুক্বারামাতে আসেন এবং দুগ্ধপোষ্য নবজাতক শিশুর তালাশ করিতে থাকেন"।
এই প্রসঙ্গে ইন্ন ইস্হাক-এর উদ্ধৃতিতে ইন্ন হিশাম তাঁহার সীরাত-এ উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর দুধমাতা হালীমা বিন্ত আবী যুওয়ায়ب আস্-সা'দিয়া বর্ণনা করিতেন যে, তিনি বানূ সা'দ ইব্‌ন বাক্স গোত্রের একদল মহিলার সাঙ্গে দুগ্ধজাত নবজাতকের সন্ধানে তাঁহার স্বামী ও শিশু সন্তানসহ বাহির হইলেন। তিনি আরো বলেন, ইহা ছিল দুর্ভিক্ষের বৎসর। আমাদের তেমন কিছুই ছিল না। একটি গাধার পিঠে আরোহণ করিলাম। আমাদের সাথে দুর্বল স্বাস্থ্যের একটি ক্ষীণকায় উটনীও ছিল। আল্লাহ্র কসম! উহার স্তনে এক ফোটা ও দুধ ছিল না। আমাদের সঙ্গের শিশুটির ক্ষুধার যন্ত্রণা ও কান্নাকাটিতে আমরা সকলে বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করিয়াছিলাম। আমার বুকে একটুকু দুধ ছিল না যে, উহা দ্বারা শিশুটি পরিতৃপ্ত হইতে পারে, এমনকি আমাদের উটনীর পালানেও সামান্য দুধ ছিল না যাহা সে পান করিয়া পরিতৃপ্ত হইত। তারপরও আমরা বৃষ্টি এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের আশা করিতাম। অতঃপর আমি স্বীয় গাধায় চড়িয়া রওয়ানা হইলাম। আমার বাহনটি জীর্ণশীর্ণ হওয়ায় খুবই ধীর গতিতে চলিতেছিল। ফলে আমরা সকলেই ক্লান্ত-শ্রান্ত হইয়া পড়িয়াছিলাম। অবশেষে মক্কায় পৌঁছিয়া আমরা নবজাতক খুঁজিতে লাগিলাম। আল্লাহ্র রাসূল (স)-কে গ্রহণের জন্য আমাদের কাফেলার প্রত্যেক মহিলার কাছে বিনম্রভাবে পেশ করা হইয়াছিল।
"তিনি অনাথ ও পিতৃহীন শিশু” ইহা শুনিয়া কেহই তাঁহাকে গ্রহণ করিবার ইচ্ছাটুকুও পোষণ করিল না, বরং সকলেই তাঁহাকে গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। ইহার কারণ এই ছিল যে, আমরা সকলেই শিশুর পিতা হইতে উত্তম প্রতিদান পাওয়ার আশা করিতাম। এমনকি আমরা পরস্পর বলাবলি করিতেছিলাম, ইয়াতীম শিশু! তাঁহার মা ও দাদা কি পরিমাণই বা আমাদেরকে পারিশ্রমিক দিবেন? এইজন্যই আমরা তাঁহাকে গ্রহণ করিতে অপছন্দ করিতেছিলাম। অবশেষে আমার সফরসঙ্গী মহিলারা প্রত্যেকেই এক একটি নবজাতক দুগ্ধপোষ্য শিশু লাভ করিয়াছিল। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের জন্য যখন আমরা সকলে একত্র হইলাম তখন আমি আমার স্বামীকে বলিলাম, "আমার সঙ্গিনীদের সঙ্গে খালি হাতে ফিরিয়া যাওয়াকে আমি অপছন্দ করিতেছি। নিশ্চয় আমি ঐ ইয়াতীম শিশুটির কাছে যাইব এবং তাঁহাকেই গ্রহণ করিব।" উত্তরে তিনি বলেন, "আচ্ছা, কোন আপত্তি নাই। তুমি তাঁহাকে গ্রহণ কর। হয়ত মহান আল্লাহ তাঁহার মধ্যে আমাদের জন্য কোন কল্যাণ নিহিত রাখিয়াছেন।" হালীমা বলেন, তারপর আমি সেই ইয়াতীম শিশুর কাছে গেলাম এবং অন্য কোন শিশু না পাওয়ার কারণে তাঁহাকেই গ্রহণ করিলাম।
শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে গ্রহণকালে হালীমা সা'দিয়াকে লক্ষ্য করিয়া সায়্যিদা আমিনা কিছু উপদেশ দান করিয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে যায়দ ইব্‌ন আস্লাম-এর রিওয়ায়াত ইবন সা'দ ও হাসান ই্যুত্ তারারাহ-এর কিতাবুশ্-শাওয়া'ইর (كتاب الشواعر)-এ উল্লেখ করেন, যখন হালীমা সা'দিয়া নবী কারীম (স)-কে গ্রহণ করিলেন তখন তাঁহার আম্মা সায়্যিদা আমিনা বলেন, আপনি ভালভাবে এই মর্মে শ্রবণ করুন যে, আপনি এমন এক মহান শিশুর দায়িত্বভার গ্রহণ করিতেছেন, যাঁহার বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব রহিয়াছে। আল্লাহ্র কসম! অন্যান্য গর্ভবতী মহিলারা যে নিদারুণ কষ্ট অনুভব করেন আমি তাঁহার গর্ভধারণে বিন্দুমাত্র কষ্ট অনুভব করি নাই। আস্-সুয়ূতী আরও উল্লেখ করেন, নবী আকরাম (স)-এর আম্মাজান যখন শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে হালীমা সা'দিয়ার কাছে সোপর্দ করিয়াছিলেন তখন তিনি বলেন, ওহে হালীমা! আপনি আমার সন্তানের সার্বিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন এবং যাহা কিছুই আপনি দেখিবেন উহা আমাকে অবহিত করাইবেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশু মুহাম্মাদ (স) উপলক্ষে পরিলক্ষিত বরকতসমূহ

📄 শিশু মুহাম্মাদ (স) উপলক্ষে পরিলক্ষিত বরকতসমূহ


প্রাচীন ইতিহাসের প্রমাণ্য গ্রন্থাবলীতে হালীমা সা'দিয়া কর্তৃক শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে গ্রহণের পর তাঁহার মধ্যে অসংখ্য বরকত তথা হালীমা সা'দিয়া-র বুক দুধে ভরপুর হওয়া, শিশুদের ক্রন্দনহীন রাত যাপন, উটনী ও বকরীর পালান ভর্তি দুধ, স্বামী-স্ত্রী ও অন্যান্যদের নিশ্চিন্ত নিদ্রাগমন, গাধার শক্তিবৃদ্ধি ও ক্ষিপ্র গতিতে চলা, পশুদের তৃপ্তি সহকারে আহার গ্রহণ, গাণিতিক হারে শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর শারীরিক বর্ধিষ্ণুতা ইত্যাদি বর্ণনা পরিলক্ষিত হয়।
এই প্রসঙ্গে ইবন হিশাম ইবন ইসহাকের সুদীর্ঘ উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেন, হালীমা বলেন: আমি শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে গ্রহণ করিয়া কাফেলার কাছে ফিরিয়া আসিলাম। তাঁহাকে কোলে নিতেই আমার বুক দুধে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। শিশু মুহাম্মাদ (স) এবং তাঁহার ছোট দুইভাই তৃপ্তির সাথে দুধ পান করিল এবং উভয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাইয়া পড়িল। অথচ ইতোপূর্বে আমরা কখনও এত সহজে বিশ্রাম করিতে পারি নাই। আমার স্বামী আমাদের উটনীর কাছে গিয়া দেখিতে পাইলেন যে, উহার পালানও দুধে ভরপুর হইয়া গিয়াছে। তিনি উহা হইতে প্রচুর পরিমাণে দুধ দোহন করিলেন। আমরা উভয়ে তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করিলাম। ইহার পর নিশ্চিন্ত মনে শান্তিতে রাত্রিযাপন করিলাম। হালীমা বলেন, আমার স্বামী খুব ভোরে জাগ্রত হইয়া বলিলেন, "মহান আল্লাহ্র কসম! ওহে হালীমা, তুমি জানিয়া রাখ, নিশ্চয় আমরা এক বরকতময় মহান শিশুকে গ্রহণ করিয়াছি।" উত্তরে হালীমা বলেনঃ আমিও তো অনুরূপ মনে করিতেছি। অতঃপর তিনি বলেন, আমরা রওয়ানা হইলাম এবং তাঁহাকে কোলে লইয়া গাধার পিঠে আরোহণ করিলাম।
আল্লাহ্র শপথ! আমাদের বাহনটি এতই দ্রুতবেগে চলিতেছিল যে, অন্যান্য বাহনগুলিকে পিছনে ফেলিয়া দিয়াছিল। আমার সহযাত্রী মহিলারা বলিতে লাগিল, "হে আবূ যুওয়ায়ب-এর কন্যা! তোমার কি হইল? আমাদের জন্য একটুখানি অপেক্ষা কর। ইহা কি তোমার সেই গাধাটি নহে যাহার উপর তুমি আরোহণ করিয়া আসিয়াছিলে? আমি বলিলাম, আল্লাহ্র শপথ! ইহা তো সেই গাধাটিই। অতঃপর তাহারাও মহান আল্লাহ্র শপথ উচ্চারণ করিয়া বলিলেন, নিশ্চয় বাহনটির কোন বিশেষ অবস্থা হইয়াছে। হালীমা বলেন, অতঃপর আমরা নিজ নিজ ঘরে পৌছিলাম। শুষ্ক ও অনুর্বরতার দিক হইতে আমাদের এই অঞ্চলের ভূমির মত আল্লাহ্ যমীনে দ্বিতীয় আর কোন ভূমি আছে কিনা তাহা আমাদের জানা ছিল না। কিন্তু ইহার পরও আমাদের পশুগুলি তৃপ্তি সহকারে আহার করিয়া বাসায় ফিরিয়া আসিত। আমরা প্রচুর পরিমাণে দুধ দোহন করিতাম এবং তৃপ্তির সহিত উহা পান করিতাম। অথচ সম্প্রদায়ের লোকেরা তাহাদের পশুগুলির এক ফোটাও দুধ দোহন করিতে পারিত না, এমনকি উহাদের পালানেও দুধ মিলিত না।
সম্প্রদায়ের লোকেরা তাহাদের রাখালদের বলাবলি করিত, "ধিক তোমাদের! আবু যুওয়ায়ب-এর কন্যার রাখাল যেখানে তাহাদের পশুগুলি চরাইয়া থাকে সেখানে তোমাদের পশুগুলি চরাইতে পার না?" অতঃপর তাহারা তাহাদের পশুগুলি আমাদের পালের সহিত চরাইতে আরম্ভ করিল। কিন্তু তাহাদের পশুগুলি ক্ষুধার্ত অবস্থায়ই ফিরিয়া আসিত। এক ফোঁটা দুধও মিলিত না। অথচ আমাদের পশুগুলি পেট পূর্ণ করিয়া ও দুধভরা পালান নিয়া ফিরিয়া আসিত।
এভাবেই আমরা মহামহিমান্বিত রব্বুল 'আলামীনের পক্ষ হইতে উত্তরোত্তর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভ করিতে লাগিলাম। দেখিতে দেখিতে দুই বৎসর অতিবাহিত হইয়া গেল এবং আমি শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে দুধ ছাড়াইলাম। তিনি অন্যান্য শিশুদের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়িয়া উঠিতে লাগিলেন। দুই বৎসরেই তিনি সুস্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী হইয়া উঠিলেন। হালীমা সা'দিয়া-র বুকের দুধের বরকত প্রসঙ্গে সুয়ূতী আরও উল্লেখ করেন যে, দুধে এমন বরকত হইয়াছিল যে, যদি তাহাদের উভয়ের সহিত তৃতীয় কোন দুধপানকারী শিশু থাকিত নিঃসন্দেহে সেও পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করিতে পারিত।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর ইনসাফবোধ

📄 শিশু মুহাম্মাদ (স)-এর ইনসাফবোধ


'আর-রাওদুল্ উনুফ'- এ উল্লিখিত হইয়াছে যে, হালীমা সা'দিয়া উল্লেখ করেন, যখনই আমি শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে দুধ পান করাইবার জন্য কোলে নিতাম এবং তাঁহার কাছে উভয় স্তন পেশ করিতাম যেন তিনি তাঁহার পছন্দমত দুধ পান করিতে পারেন, তিনি তৃপ্তি সহকারে দুধপান করিতেন এবং একই সাথে তাঁহার দুধভাইও পরিতৃপ্তি সহকারে দুধ পান করিতেন। ইবন ইসহাক ব্যতীত সকল ঐতিহাসিক উল্লেখ করিয়াছেন যে, রাসূলে কারীম (স) কখনও মা হালীমা আস্-সা'দিয়া-র একটি স্তন ছাড়া অন্যটি গ্রহণ করিতেন না। অথচ তিনি তাঁহার জন্য দ্বিতীয় স্তনটিও পেশ করিতেন। কিন্তু মুহাম্মাদ (স) উহা গ্রহণ করিতেন না, যেন তিনি পূর্ণভাবে এই কথা অনুভব করিতেন ও জানিতেন যে, হালীমার দুধ মুবারকে তাঁহার সহিত আরও অংশীদার রহিয়াছে। সত্যিই তিনি ছিলেন সত্য, ন্যায় তথা ইন্সাফ-এর প্রতীক এবং অংশীদারের অংশ প্রদানে আজন্ম ন্যায়বিচার ও সমমর্মিতার তুলনাহীন প্রতীক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00