📄 আকীকার পশু
রাসূলুল্লাহ (স)-এর 'আকীকাতে কোন ধরনের পশু যবেহ করা হইয়াছিল এবং ইহার সংখ্যা সম্পর্কে প্রামাণ্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক এবং সীরাতগ্রন্থসমূহে সুস্পষ্ট কোন আলোচনা পাওয়া যায় না। তবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর 'আকীকা ও তৎসম্পর্কীয় যাবতীয় বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকায় অনেকগুলি উট কুরবানী করা হইয়াছিল এবং এই পশুগুলিকে আব্দুল মুত্তালিবই যবেহ করিয়াছিলেন।
সন্তান জন্মগ্রহণের পর মাতা-পিতা বা অভিভাবকদের একটি বিশেষ কর্তব্য হইতেছে, জন্মের ৭ম, ১৪তম বা ২১তম দিবসে আকীকা করা যাহাতে শিশুর শারীরিক, মানসিক প্রভৃতি প্রবৃদ্ধি কল্যাণের সাথে অব্যাহত থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার অশুভ প্রভাব হইতে মুক্ত থাকে। ইসলামী সমাজে ইহা শুধুমাত্র স্বীকৃত নয়, বরং মিল্লাতে ইব্রাহীম-এর সুন্নাত। কালের আবর্তে বিভিন্ন ইবাদাতের মধ্যে নির্ভেজাল তাওহীদের পরিবর্তে অনেক শিরক-কুফর-বিদআত প্রভৃতি অনুপ্রবেশ ঘটে। আকীকার মত খালিস ইবাদতের মধ্যেও যবেহকৃত পশুর তাজা রক্ত নবজাতকের মাথার তালুতে মাখা হইত। এই প্রসঙ্গে হযরত কাতাদা (রা)-এর রিওয়ায়াত পাওয়া যায়। ইব্ন কায়্যিম আল্-জাওযিয়্যা তাঁহার যাদুল-মা'আদ-এ উল্লেখ করেন, হাম্মাম বলিয়াছেন যে, কাতাদা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, তিনি কিভাবে রক্ত মাখাইতেন? তিনি বলেন, পশু যবেহ করা মাত্রই উহা হইতে তাজা রক্ত সংগ্রহ করা হইত। তারপর উহা নবজাতকের মাথার তালুতে ভালভাবে মাখানো হইত, এমনকি ঐ তাজা রক্ত চিকন সুতার ন্যায় সূক্ষ্ম ধারায় গড়াইয়া পড়িত। অবশেষে নবজাতকের মস্তক ভালভাবে ধৌত করা হইত এবং উহার কেশ মুণ্ডন করা হইত।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রাপ্ত তথ্য হইতে জানা যায় যে, তাদ্মিয়া (تدمية) অর্থাৎ 'তাজা রক্ত মাখানো" নিঃসন্দেহে জাহিলী যুগের সামাজিক রীতি। ইসলাম ইহাকে চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করিয়াছে। কোন কোন সাহাবী উক্ত রক্তের পরিবর্তে জাফরান মাখাইতেন। এই প্রসঙ্গে ইব্নুল কায়্যিম উল্লেখ করেন, এই প্রসঙ্গে আবূ দাউদ-এ উল্লিখিত বুরায়দা ইবনুল হুসায়ব-এর রিওয়ায়াতটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমাদের কাহারো সন্তান জন্মগ্রহণ করিলে আমরা বকরী যবেহ করিতাম এবং উহার রক্ত শিশুর মাথায় মাখাইয়া দিতাম। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের ইসলাম দান করিলেন। আমরা বকরী যবেহ করিতাম, নবজাতকের মাথার কেশ মুণ্ডন করিতাম এবং রক্তের পরিবর্তে জাফরান মাখাইয়া দিতাম।