📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাদীছে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন গুণবাচক নাম

📄 হাদীছে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন গুণবাচক নাম


সহীহ মুসলিমে যুবায়র ইবন মু'ইম (রা)-এর রিওয়ায়াত এইভাবে উল্লেখ হইয়াছে :
عن جبير بن مطعم عن أبيه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان لي اسماء انا محمد وانا احمد وانا الماحى الذى يمحوا الله بي الكفر وانا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي وانا العاقب الذي ليس بعده احد وقد سماه الله رءوفا رحيما .
"জুবায়র ইবন মুত'ইম (রা) তাঁহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: আমার কতক নাম রহিয়াছে। আমি মুহাম্মাদ (সুপ্রশংসিত), আহমাদ (অধিক প্রশংসাকারী), আমি মাহী (নিশ্চিহ্নকারী), যাহার মাধ্যমে মহান আল্লাহ কুফরকে নিশ্চিহ্ন করিবেন। আমি হাশির (সমবেতকারী), কিয়ামত দিবসে সকল মানবজাতি আমার পদযুগলের কাছে সমবেত হইবে। আমি 'আকিব (শেষে আগমনকারী) যাঁহার শেষে আর কোন নূতন নবী-রাসূল আগমন করিবেন না। রাবী আরো বলেন, মহান আল্লাহ তাঁহার নাম রাখিয়াছেন রাউফ (পরম মমতাময়), রাহীম (পরম দয়ালু)" (সহীহ মুসলিম বিশারহি নববী, ১৫ খ., পৃ. ১০৪-১০৫; সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল মানাকিব, হাদীছ নং ৩৫৩২)।
মুহাম্মাদ ইব্‌ন জুবায়র এবং মুহাম্মাদ ইব্‌ন মায়সারা বর্ণিত রিওয়ায়াত-এ নামের সংখ্যা খামসাতুন (পাঁচ)-এর উল্লেখ রহিয়াছে।
কোন কোন বর্ণনায়, রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পাঁচটি নামের পরিবর্তে অতিরিক্ত আরো একটি নাম আল-খাতিম (সীলমোহরকারী) অথবা নবী-রাসূলের আগমনী-পরম্পরায় সর্বশেষ রাসূল ও নবী বর্ণিত হইয়াছে। নাফি' ইন্ন যুবায়র তাহার পিতার বর্ণিত রিওয়ায়াতটি ইমাম আহমাদ, বায়হাকী ও আবূ নু'আয়ম উদ্ধৃত করেন।
ইবন 'আদী-এর রিওয়ায়াত হইতে জানা যায় যে, রাসূলে কারীম (স)-এর মহান প্রতিপালকের নিকট দশটি নাম রহিয়াছে। পূর্বোল্লিখিত নামগুলি ব্যতীত অতিরিক্ত নামগুলি হইল: রাসূলুর রাহমা (পরম দয়াময় রাসূল), রাসূলুত্ তাওবা (তাওবাকারী রাসূল), রাসূলুল্ মালাহিম (যোদ্ধাদের রাসূল), আল-মুকাফী (সর্বশেষ রাসূল) এবং 'কুছাম' (শ্রেষ্ঠ ও পূণ্য দানবীর)। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) বর্ণিত রিওয়ায়াতে রাসূলুর-রাহমা ও রাসূলুত্-তাওবা-এর পরিবর্তে নাবিয়্যুর-রাহমা এবং নাবিষ্যুত্- তাওবা উল্লিখিত হইয়াছে।
আবুত্ তুফায়ল বর্ণিত রিওয়ায়াতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর আরো ৪টি গুণবাচক নাম, আল-ফাতিহ (উদ্বোধনকারী), আবুল (কাসিম-কাসিম-এর পিতা), ত্বাহা এবং য়াসীন উল্লিখিত হইয়াছে। ইবনুল জাওযী তাঁহার সীরাত-এর "আসমাউ নাবিয়ি‍্যنا মুহাম্মاد (স)" শীর্ষক অধ্যায়ে ইন্ন ফারিস আল-লুগাবীর উদ্ধৃতি উল্লেখপূর্বক রাসূলে কারীম (স)-এর ২৩টি নাম উল্লেখ করিয়াছেন। নবী (স)-এর পূর্বোল্লিখিত গুণবাচক নামগুলি ব্যতীত আরো কিছু নাম যথা : আদ্‌-দাহক (সর্বক্ষণ হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তি), আল-কাতান (সেবক), আল্-মুতাওয়াক্কিল (ভরসাকারী), আল-ফালিজ (বন্টনকারী), আল-আমীন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) আল-মুস্তাফা, (নির্বাচিত বা বাছাইকৃত সত্তা), আর-রাসূল, আন্-নাবী এবং আল-উম্মী (নিরক্ষর) ইত্যাদি বর্ণিত হইয়াছে।
সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ নামক গ্রন্থে বিভিন্ন মনীষীর উদ্ধৃতি উল্লেখপূর্বক রাসূলে কারীম (স)-এর ৭৫৯টি নাম আরবী বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো হইয়াছে। এই নামগুলির মধ্যে যেইগুলি আল-কুরআনুল কারীম এবং হাদীস শরীফে উল্লিখিত হইয়াছে সেইগুলি উল্লেখ করা হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপনাম

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপনাম


মুহাম্মাদ রিদা তাঁহার সীরাত গ্রন্থে আত্-তাহযীব (التهذيب)-এর উদ্ধৃতিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন নামের আলোচনা করত উপনাম প্রসঙ্গে বলেন, তাঁহার উপনাম (কুনয়াঃ) হইল আবুল কাসিম। তবে জিব্রাঈল (আ) তাঁহাকে আবূ ইব্রাহীম উপনামে ডাকিতেন। আবুল কাসিম এবং আবূ ইব্রাহীম উপনামে তাঁহাকে কেন সম্বোধন করা হইত বা উভয় নামে কেন নামকরণ করা হইয়াছিল, এই প্রসঙ্গে ইবনুল জাওযী তাঁহার 'সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ করেন, "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-কে আবুল কাসিম (ابو القاسم) উপনামে ডাকা হইত। কেননা তিনি ছিলেন তাঁহার প্রথম পুত্র সন্তান।" আবূ ইব্রাহীম উপনামে নামকরণ প্রসঙ্গে আনাস ইবন মালিক (রা)-এর উদ্ধৃতিতে ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেন, যখন ইব্রাহীম ইন মুহাম্মাদ (স) হযরত মারিয়া কিস্তিয়্যা-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্তর এই মুবারক নামে নিজেকে সম্বোধনের সংকল্প করিতেছিলেন, ঠিক এমনি এক মুহূর্তে হযরত জিব্রাঈল (আ) আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে সম্বোধন করিয়া বলিয়া উঠিলেন, "আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া আবা ইব্রাহীম” (ওহে ইব্রাহীম-এর পিতা! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক) এবং তিনি নিষেধ করেন যে, কেহ যেন আপনাকে এই উপনামে সম্বোধন না করে।
গ্রন্থপঞ্জী: পরবর্তী 'আকীকা' শীর্ষক নিবন্ধের গ্রন্থপঞ্জী দ্র.

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকা


রাসূলুল্লাহ (স)-এর 'আকীকাতে কুরায়শদের মাঝে ইহার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে উহার প্রকৃতি ও স্বরূপ ছিল বিভিন্ন রকমের। ইসলাম-পূর্ব যুগে আকীকা উৎসব ছিল অন্যান্য উৎসবসমূহের অন্যতম। আকীকা উপলক্ষ্যে তৎকালীন আরব সমাজে বিভিন্ন কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। তবে ইহার প্রকৃতি ও স্বরূপ ছিল বিভিন্ন রকমের। রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকা প্রসঙ্গে প্রামাণ্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক সীরাত গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত কোন মতামত পাওয়া যায় না। তবে আকীকা ও তৎসংশ্লিষ্ট যাবতীয় প্রাপ্ত তথ্যাবলী ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ হইল:
'আকীকা ইবরাহীম (আ)-এর সুন্নাত। তৎকালীন আরব সমাজে ইহার ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই প্রসঙ্গে দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা-এ উল্লেখিত হইয়াছে যে, আকীকা ইব্রাহীম (আ)-এর সুন্নাত মুতাবিক সমগ্র আরব জাহানে বিশেষ করিয়া মক্কার কুরায়শদের মধ্যে ইহার ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ-এ বর্ণিত হইয়াছে যে, "প্রকৃত প্রস্তাবে খতনা, যবেহ (কুরবানী) প্রভৃতি ইবরাহীমী প্রথার ন্যায় 'আকীকাও একটি প্রাচীন প্রথা। ইহা ছিল প্রাচীন আরবের একটি প্রসিদ্ধ উৎসব। এই প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত হইয়ছে: Doughty-র মতে (Travels in Arabian deserta, ১খ., ৪৫২) আকীক আরব ভূমিতে সর্বাধিক অনুষ্ঠিত উৎসবসমূহের অন্যতম।
'আকীকার পরিচয় প্রসঙ্গে দাইরা মা'আরিক ইস্লামিয়্যা-এ বর্ণিত হইয়াছে, 'আকীকা এমন এক কুরবানীর নাম যাহা সন্তান জন্মের সপ্তম দিবসে করা হইয়া থাকে। ইহা বিভিন্ন অর্থেও ব্যবহৃত হইয়া থাকে। যেমন, "সন্তান ভূমিষ্ঠ হইবার সময় তাহার মাথায় যে চুল থাকে, সেইগুলিকেও আকীকা (কর্তনযোগ্য) বলা হইয়া থাকে। কেননা উহা কাটিয়া ফেলা হয় অর্থাৎ ঐ চুলগুল কাটার যোগ্য বিধায় উহাকে আকীকা বলা যায়। আবার কখনো সন্তান জন্মের ধারাবাহিকতায় যবেহকৃত পশুকেও আকীকা বলা হয়।
তবে শরীআতের পরিভাষায়: আকীকা এমন সুন্নাত কুরবানীকে বলা হইয়া থাকে, যাহা সাধারণত সন্তান ভূমিষ্ঠ হইবার সপ্তম দিবসে করা হইয়া থাকে। নবজাতকের নামকরণ ও কেশমুণ্ডন উপলক্ষে পশু কুরবানীর নাম 'আকীকা।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকা প্রসঙ্গে কাযী মুহাম্মাদ সুলায়মান তাঁহার সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ করেন: “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব নিজেই দীর্ঘকাল যাবত অনাথ জীবনের মুখামুখি হইয়াছিলেন। তাঁহার ৪৪ বৎসর বয়সের প্রিয়তম সন্তান আবদুল্লাহ্ ঔরসে ভূমিষ্ঠ নবজাতকের আগমনী সংবাদ শ্রবণ করিবা মাত্রই ঘরে আসিলেন এবং নবজাতক শিশুকে খানায়ে কা'বাতে নিয়া যান। তথায় এই ইয়াতীম-অনাথ শিশুর জন্য প্রাণ খুলিয়া দু'আ করিয়াছিলেন। জন্মের সপ্তম দিবসেই দাদা 'আব্দুল মুত্তালিব কুরবানী দিয়াছিলেন এবং এই সময় সকল কুরায়শকে দাওয়াত করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শুভজন্মের সপ্তম দিবসেই 'আব্দুল মুত্তালিব তাঁহার নামে আকীকা দিয়াছিলেন এবং কুরায়শ গোত্রের সকলকে দাওয়াত করিয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে ইদ্রীস কান্ধলবী তাঁহার সীরাত গ্রন্থে আরো উল্লেখ করেন, "হাফিজ ইব্‌ন 'আব্দুল বার লিখিত 'ইসতীআব'-এর উদ্ধৃতিতে যুরকানী এই সকল বর্ণনা ইমাম মালিক-এর ব্যাখ্যায় ইবন 'আব্বাসের রিওয়ায়াত উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু ইব্‌ন 'আব্বাসের বর্ণনায় শুধুমাত্র 'আকীকার কথা উল্লেখ রহিয়াছে। উহাতে "সপ্তম দিবস" এবং "দাওয়াত"-এর বর্ণনা উল্লেখ নাই। তবে এই প্রসঙ্গে ইমাম সুয়ূতী ইমাম বায়হাকী ও ইব্‌ন 'আসাকির-এর উদ্ধৃতি উল্লেখপূর্বক বিষয় দুইটি আল্- খাসাইসুল কুবরা-এ উল্লেখ করিয়াছেন।
কোন কোন বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকা নবুওয়াতের পরে তিনি নিজে করিয়াছিলেন বলিয়া জানা যায়। এই প্রসঙ্গে হাফিজ ইব্‌ন কায়্যিম উল্লেখ করেন, "ইব্‌ন আয়মান হযরত আনাস (রা) হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) নবুওয়াত লাভ করিবার পর স্বয়ং তাঁহার পক্ষ হইতে আকীকা করিয়াছিলেন।" এই প্রসঙ্গে ইমাম আবূ দাউদ (র) ভিন্ন বর্ণনা সূত্রে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে ইমাম আহমাদ বলেন, উহা মুনকার পর্যায়ের বর্ণনা। বর্ণনাকারী 'আব্দুল্লাহ ইবন মুহাররম দুর্বল গুণসম্পন্ন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আকীকার পশু

📄 আকীকার পশু


রাসূলুল্লাহ (স)-এর 'আকীকাতে কোন ধরনের পশু যবেহ করা হইয়াছিল এবং ইহার সংখ্যা সম্পর্কে প্রামাণ্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক এবং সীরাতগ্রন্থসমূহে সুস্পষ্ট কোন আলোচনা পাওয়া যায় না। তবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর 'আকীকা ও তৎসম্পর্কীয় যাবতীয় বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর আকীকায় অনেকগুলি উট কুরবানী করা হইয়াছিল এবং এই পশুগুলিকে আব্দুল মুত্তালিবই যবেহ করিয়াছিলেন।
সন্তান জন্মগ্রহণের পর মাতা-পিতা বা অভিভাবকদের একটি বিশেষ কর্তব্য হইতেছে, জন্মের ৭ম, ১৪তম বা ২১তম দিবসে আকীকা করা যাহাতে শিশুর শারীরিক, মানসিক প্রভৃতি প্রবৃদ্ধি কল্যাণের সাথে অব্যাহত থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার অশুভ প্রভাব হইতে মুক্ত থাকে। ইসলামী সমাজে ইহা শুধুমাত্র স্বীকৃত নয়, বরং মিল্লাতে ইব্রাহীম-এর সুন্নাত। কালের আবর্তে বিভিন্ন ইবাদাতের মধ্যে নির্ভেজাল তাওহীদের পরিবর্তে অনেক শিরক-কুফর-বিদআত প্রভৃতি অনুপ্রবেশ ঘটে। আকীকার মত খালিস ইবাদতের মধ্যেও যবেহকৃত পশুর তাজা রক্ত নবজাতকের মাথার তালুতে মাখা হইত। এই প্রসঙ্গে হযরত কাতাদা (রা)-এর রিওয়ায়াত পাওয়া যায়। ইব্‌ন কায়্যিম আল্-জাওযিয়্যা তাঁহার যাদুল-মা'আদ-এ উল্লেখ করেন, হাম্মাম বলিয়াছেন যে, কাতাদা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, তিনি কিভাবে রক্ত মাখাইতেন? তিনি বলেন, পশু যবেহ করা মাত্রই উহা হইতে তাজা রক্ত সংগ্রহ করা হইত। তারপর উহা নবজাতকের মাথার তালুতে ভালভাবে মাখানো হইত, এমনকি ঐ তাজা রক্ত চিকন সুতার ন্যায় সূক্ষ্ম ধারায় গড়াইয়া পড়িত। অবশেষে নবজাতকের মস্তক ভালভাবে ধৌত করা হইত এবং উহার কেশ মুণ্ডন করা হইত।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রাপ্ত তথ্য হইতে জানা যায় যে, তাদ্‌মিয়া (تدمية) অর্থাৎ 'তাজা রক্ত মাখানো" নিঃসন্দেহে জাহিলী যুগের সামাজিক রীতি। ইসলাম ইহাকে চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করিয়াছে। কোন কোন সাহাবী উক্ত রক্তের পরিবর্তে জাফরান মাখাইতেন। এই প্রসঙ্গে ইব্‌নুল কায়্যিম উল্লেখ করেন, এই প্রসঙ্গে আবূ দাউদ-এ উল্লিখিত বুরায়দা ইবনুল হুসায়ব-এর রিওয়ায়াতটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমাদের কাহারো সন্তান জন্মগ্রহণ করিলে আমরা বকরী যবেহ করিতাম এবং উহার রক্ত শিশুর মাথায় মাখাইয়া দিতাম। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের ইসলাম দান করিলেন। আমরা বকরী যবেহ করিতাম, নবজাতকের মাথার কেশ মুণ্ডন করিতাম এবং রক্তের পরিবর্তে জাফরান মাখাইয়া দিতাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00