📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর খত্না

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর খত্না


রাসূলুল্লাহ (স) খতনাকৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। ইবন কাছীর বায়হাকীর রিওয়ায়াত উল্লেখপূর্বক আব্বাস ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিব হইতে এইভাবে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) মাখতুন অর্থাৎ খতনাকৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হন। ইবনুল জাওযী সীরাত-এ এই প্রসঙ্গে আনাস (রা)-এর রিওয়ায়াত এইভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করিয়াছেন, আমার জীবনের প্রদত্ত মর্যাদাসমূহের অন্যতম মর্যাদা হইল, আমি খত্নাকৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হইয়াছি যাহা সাধারণত দেখা যায় না। ইব্ন কাছীর সীরাত গ্রন্থে এই প্রসঙ্গে আরো বর্ণনা করিয়াছেন যে, কতক রাবী এই বর্ণনাটিকে মুতাওয়াতির” হাদীছের মর্যাদা দান করিয়াছেন।
যাদুল মা'আদ -এ উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর খতনা প্রসঙ্গে তিনটি মত পাওয়া যায় : (১) তিনি (স) খতনাকৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হইয়াছিলেন, (২) হযরত হালীমা সা'দিয়া-এর ঘরে থাকাকালে যখন জিব্রাঈল (আ) তাঁহার বক্ষ বিদীর্ণ করিয়াছিলেন তখন তিনি খতনাও করাইয়াছিলেন এবং (৩) তাঁহার পিতামহ 'আবদুল মুত্তালিব নিজেই তাঁহার খতনা করাইয়াছিলেন, যাহা আরবদের সাধারণ নিযম ছিল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইব্‌ল্লীসের কান্নাকাটি

📄 ইব্‌ল্লীসের কান্নাকাটি


রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্মগ্রহণকালে অভিশপ্ত ইবলীস ভীষণভাবে ক্রন্দন করিয়াছিল। আস্-সুহায়লী বাকী ইব্‌ন মাল্লাদ হইতে এই প্রসঙ্গে বর্ণনা করিয়াছেন যে, “নিঃসন্দেহে ইবলীস চারবার ভীষণভাবে কান্নাকাটি করিয়াছিলঃ (১) যখন সে অভিশপ্ত হইয়াছিল, (২) জান্নাত হইতে তাহাকে চিরতরে নামাইয়া দেওয়া হইয়াছিল, (৩) রাসূলুল্লাহ (স) যখন জন্মগ্রহণ করেন এবং (৪) যখন সূরা আল-ফাতিহা অবতীর্ণ হইয়াছিল” (ইব্‌ন কাছীর, আস্-সীরাতুন্- নাবাবিয়্যা, ১খ. পৃ. ২১২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খতমে নবুওয়াতের আলামতসহ জন্মগ্রহণ

📄 খতমে নবুওয়াতের আলামতসহ জন্মগ্রহণ


হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর শুভ জন্মগ্রহণ হইতেই তাঁহার উভয় কাঁধের মধ্যভাগে “খাতামুন্-নুবুওয়াতের” বিশেষ চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। এই প্রসঙ্গে ইব্‌ন কাছীর 'সীরাত-এ ইব্‌ন ইসহাক' এর রিওয়ায়াত এইভাবে উল্লেখ করিয়াছেন যে, হিশাম ইব্‌ন 'উরওয়া তাঁহার পিতার সূত্রে উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদা আইশা, (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, “মক্কা নগরীতে এক ইয়াহুদী বসবাস করিত, সে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করিত। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) যে রাত্রিতে ভূমিষ্ঠ হন তিনি এ রাত্রে কুরায়শদের এক সমাবেশে বলিলেন, “হে কুরায়শ সম্প্রদায়! অদ্য রাত্রে তোমাদের মাঝে কোন নবজাত মহান শিশু জন্মগ্রহণ করিয়াছে কি? উত্তরে বলিলেন, আল্লাহ্ শপথ! এই ব্যাপারে আমাদের জানা নাই। অতঃপর তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, তোমরা ভালভাবে খোঁজখবর লও এবং যাহা কিছু আমি বলিতেছি তাহা ভালভাবে স্মরণ রাখ এবং মনোযোগ দিয়া শ্রবণ কর, “অদ্য রাত্রেই আখেরী উম্মতের আখেরী নবী ভূমিষ্ঠ হইয়াছেন, যাহার উভয় কাঁধের মাঝে খাতামুন্-নুবুওয়াতের চিহ্ন রহিয়াছে। তিনি দুই রাত্রি যাবৎ কোন দুধ পান করিবেন না। জনৈক জিন্ন তাহার হাত তাঁহার মুখের উপর স্থাপন করার কারণে তিনি দুই রাত্র দুধপান হইতে বিরত থাকিবেন।” ইবন কাছীর মন্তব্য করিয়াছেন যে, এই ধরনের আরও কাহিনী রহিয়াছে যেইগুলি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (আল-বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৪৮)।
অতঃপর কওমের লোকেরা তাহার কথায় ও বক্তব্যে আশ্চর্যন্বিত হইয়া সকলেই ঐ মজলিস হইতে পৃথক হইয়া স্বীয় বাড়ীতে গিয়াছিলেন এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিবারের কাছে ইয়াহুদী পণ্ডিতের খবর পৌঁছাইয়াছিলেন। ফলে তাহারা বলিলেন, "আল্লাহর শপথ! এইমাত্র আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব-এর ঘরে এক নবজাত শিশু জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, যাহার নাম রাখা হইয়াছে মুহাম্মাদ (প্রশংসিত)।” অতঃপর তাহারা পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিল, তোমরা ইয়াহূদী পণ্ডিতের বাণী শ্রবণ করিয়াছ কি? এক মহান শিশুর জন্মগ্রহণের সংবাদ পাইয়াছ কি? অতঃপর তাহারা সকলে ইয়াহূদী পণ্ডিতের কাছে পৌঁছাইয়া এই সংবাদ প্রদান করিলে তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, আমাকে শিশু মুহাম্মাদ-এর কাছে নিয়া চল, আমি তাঁহাকে একনজর দেখিব। তাহারা তাহাকে সায়্যিদা আমিনা-এর কাছে নিয়া গেলেন এবং তিনি বিনয়ের সাথে তাঁহার কাছে বলিলেন, "আপনার শিশুকে আমাদের কাছে একটু দিন।" তিনি শিশু মুহাম্মাদকে তাহাদের কাছে দিলেন এবং তাহারা তাঁহার স্কন্ধের কাপড় উন্মোচন পূর্বক সুন্দর নিদর্শন মোহরে নবুওয়াত দেখিতে পাইলেন। উহা দেখা মাত্রই ইয়াহূদী পণ্ডিত বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া গিয়াছিলেন। দীর্ঘক্ষণ পরে হুঁশ ফিরিবা মাত্রই সঙ্গীরা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার কি হইয়াছিল? উত্তরে বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! আজ বানু ইসরাঈল হইতে নবুওয়াতের ধারা বিদায় নিয়াছে। হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা কতই না খোশনসীব! আল্লাহ্র কসম! তোমরা এমন বিজয় লাভ করিবে যাহার খবর পূর্ব-পশ্চিমে পৌঁছায়া যাইবে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জন্ম সম্পর্কিত অলৌকিক ঘটনাবলী

📄 জন্ম সম্পর্কিত অলৌকিক ঘটনাবলী


আম্বিয়া আলায়হিমুস্ সালাম-এর জন্মগ্রহণকালীন মুহূর্ত হইতে প্রাক নবুওয়াত সময়ে কিছু কিছু বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়, যেইগুলি মুহাদ্দিছগণের পরিভাষায় ইরহাসাত (إرهاصات) বলা হয়। সায়্যিদুল মুরসালীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্মগ্রহণের মুবারক মুহূর্তে এই সম্পর্কীয় কিছু অলৌকিক ঘটনাবলীর বর্ণনা প্রামাণ্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায়। হাফিজ ইবন হাজার 'আসকালানীর ফাতহুল বারীতে এই প্রসঙ্গে উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্মগ্রহণকালীন সময়ে পারস্যের রাজপ্রাসাদে ফাটল দেখা দেয় ও উহার গম্বুজ ভূমিতে ধ্বসিয়া পড়ে, পারসিকদের মন্দিরের অগ্নি নির্বাপিত হইয়া যায় যাহা ইহার পূর্বে হাজার বৎসরে নির্বাপিত হয় নাই এবং সাওয়া নদী শুকাইয়া যায়।
মু মুহাম্মাদ ইদরীস কান্ধলাবী তাঁহার 'সীরাতুল-মুস্তাফা'-এ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন, যে, ভোর বেলাতে পারস্য-সম্রাট ভীত-সন্ত্রস্থ হইয়া পড়িলেন। কিন্তু তাহার এই ভয়-বিহ্বল অবস্থা প্রকাশ না করিয়াই রাজপ্রাসাদের সভাসদদিগকে একত্র করিয়া আলাপ-আলাচনায় মগ্ন ছিলেন। ইতোমধ্যে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিসমূহ নির্বাপিত হওয়ার সংবাদ পৌঁছাইলে সম্রাট ইহাতে আরো চিন্তাগ্রস্ত হইয়া পড়িলেন। এইদিকে অগ্নিপূজারীদের প্রসিদ্ধ পুরোহিত মূবিযান (مویذان) বলিল, সেও এই রাত্রে একটি স্বপ্ন দেখিয়াছে, কিছু শক্তিশালী উট আরবের ঘোড়াগুলিকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে। এমনকি ঐগুলি দিজলা নদী অতিক্রম করিয়া বিভিন্ন শহরে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। তারপর পারস্য সম্রাট মূবিযানের নিকটে ইহার ব্যাখ্যা জানিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, হয়ত-বা আরবভূমি হইতে কোন প্রকার বিপদ আসিতে পারে। কিন্তু পারস্য সম্রাট কিছুতেই এতটুকু ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হইতে পারিলেন না। তাই তিনি নু'মান ইবনুল মুনযির-এর কাছে বার্তা পাঠাইলেন যে, সে যেন সম্রাটের কাছে এমন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রেরণ করে যে সম্রাটের সকল প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হয়।
অতঃপর তিনি আবদুল মাসীহ আল-গাস্সানী নামীয় এক প্রবীণ ও খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিকে সম্রাটের নিকট প্রেরণ করিলেন। তিনি রাজদরবারে উপস্থিত হইলে সম্রাট তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি যে সকল বিষয় জিজ্ঞাসা করিব সে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান আছে কি? উত্তরে 'আবদুল মাসীহ বলিলেন, জাঁহাপনা! আপনি প্রশ্ন করুন। যদি আমি ঐ বিষয়ে অবগত থাকি তাহা হইলে অবশ্যই উহার উত্তর দিব। অন্যথায় আমি এমন কোন বিজ্ঞ পণ্ডিতের সন্ধান দিব যিনি আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের জওয়াব দিতে সক্ষম হইবেন। সম্রাট কর্তৃক বিষয়টি জানিবার পরে আবদুল মাসীহ বলিলেন, আমার মামা 'সাতীহ' সম্ভবত এই সম্পর্কে আরো ভালভাবে উত্তর দিতে পারিবেন। তিনি শামদেশে বসবাস করেন।
অতঃপর সম্রাট 'আবদুল মাসীহকে ইহার সঠিক ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য জানিবার জন্য তাহার মামার নিকট পাঠাইলেন। তিনি তাহার মামার কাছে এমন সময় পৌছিলেন যখন তিনি অন্তিম শয্যায় শায়িত। 'আবদুল মাসীহ তাহাকে সালাম দিলেন এবং কবিতার কয়েকটি পংক্তি পাঠ করিয়া শুনাইলেন। 'আবদুল মাসীহ-এর কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া "সাতীহ” তাহার দিকে ফিরিয়া তাকাইলেন এবং বলিলেন, 'হে আবদুল মাসীহ! তোমাকে বনূ সাসানের বাদশাহ আমার নিকট এইজন্য প্রেরণ করিয়াছেন যে, তাহার রাজপ্রাসাদ প্রকম্পিত হইয়াছে, প্রজ্বলিত অগ্নি নির্বাপিত হইয়াছে। আর পুরোহিত স্বপ্ন দেখিয়াছে যে, কিছু শক্তিশালী উট আরবীয় ঘোড়াগুলিকে দ্রুতবেগে তাড়াইয়া লইয়া যাইতেছে। হে আবদুল মাসীহ! তুমি ভালভাবে স্মরণ রাখ। যখন মহান আল্লাহর কালামের তিলাওয়াত অধিক হইতে থাকিবে, যষ্ঠিধারীর আবির্ভাব ঘটিবে এবং মাসাওয়া উপত্যকা প্রবাহিত হইবে, সাওয়া নদী শুকাইয়া যাইবে, আর পারসিকদের অগ্নিকুণ্ড নির্বাপিত হইয়া যাইবে তখন সাতীহের জন্য এই শাম অঞ্চল আর শাম থাকিবে না। পারস্য রাজপ্রাসাদ হইতে যতগুলি প্রাচীরের চূড়া ধ্বসিয়া পড়িয়াছে, বনী সাসান-এর অনুরূপ সংখ্যক নারী-পুরুষ পারস্য শাসন করিবে। আর যাহা কিছু সংঘটিত হইবার ছিল তাহা সংঘটিত হইয়া গিয়াছে। এই পর্যন্ত বলিয়াই সাতীহ মারা যায়।
ইহার পর 'আবদুল মাসীহ পারস্যে ফিরিয়া আসিলেন এবং সমস্ত ঘটনা সবিস্তারে খুলিয়া বলিলেন। বর্ণনা শুনিয়া সম্রাট কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, চৌদ্দজন শাসকের শাসনকাল কত বৎসর যাবত স্থায়ী হইবে? উত্তরে 'আবদুল মাসীহ বলিলেন, ইতোমধ্যে মাত্র ৪ বৎসরে দশজনের শাসনকাল শেষ হইয়া গিয়াছে। আর মাত্র ৪ জনের শাসনকাল অবশিষ্ট রহিয়াছে। সায়্যিদিনা 'উছমান (রা)-এর খিলাফাতকালে বাকীদের শাসনকালের চিরসমাপ্তি ঘটে। মুহাম্মাদ ইদরীস কান্ধলাবী, (সীরাতুল মুস্তাফা, রব্বানী বুক ডিপো দিল্লী, ১৯৮১ খৃ., ১খ, পৃ. ৫৫-৫৭; আরো বিস্তারিত বর্ণনার জন্য দ্র. ইব্‌ন সায়্যিদিন নাস, উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ২৯; ইবন কাছীর, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, প্রাগুক্ত, ১খ., পৃ. ২১৫-২১৮)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্মগ্রহণের সময়ের আরও কিছু অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে ইবন হাজার 'আসকালানী ফাতহুল বারীতে তাবারানীর উদ্ধৃতি উল্লেখপূর্বক উছমান ইবন আবিল-আস (রা)-এর রিওয়ায়াত এইভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, আমার মা আমার কাছে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্মগ্রহণকালীন মুহূর্তে সায়্যিদা আমিনা-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন এবং ঘরের প্রতিটি জিনিসে নূর আর নূর দেখিতে পাইয়াছিলেন। আকাশের নক্ষত্রগুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করিতেই মনে হইতেছিল, ঐগুলি যেন আমার কোলেই ঝুঁকিয়া পড়িতেছে। সায়্যিদা আমিনা তাঁহাকে প্রসব করিতেই তাঁহার উদর হইতে এমন এক নূর বা জ্যোতি বিচ্ছুরিত হইয়াছিল, যাহাতে সম্পূর্ণ ঘর আলোকিত হইয়াছিল। ফলে চতুর্দিকে আমি নূর আর নূর দেখিতে পাইলাম।
এই প্রসঙ্গে 'ইরবাদ ইবন সারিয়া (রা) এবং আবূ উমামা (রা)-এর রিওয়ায়াত-এ এইভাবে বর্ণিত হইয়াছে যে, আমি সায়্যিদিনা ইবরাহীম (আ)-এর দু'আর ফসল, 'ঈসা রূহুল্লাহ (আ)-এর সুসংবাদ এবং আমার মাতার উদর হইতে এমন এক নূর বা জ্যোতি প্রকাশ হইয়াছিল যাহার আলোতে সিরিয়ার সকল মহল আলোকিত হইয়াছিল। ইবন কাছীর সীরাত গ্রন্থে আবদুর রহমান ইবন 'আওফ (রা)-এর মাতা শিফা বিনত 'আমর ইবন 'আওফ (রা) হইতে উল্লিখিত হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এমন নূর বা জ্যোতি প্রকাশিত হয় যাহা দ্বারা রোম সাম্রাজ্যের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হইয়াছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00