📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশুকালের সেই সফর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্মৃতিচারণ

📄 শিশুকালের সেই সফর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্মৃতিচারণ


আমিনা শিশু মুহাম্মাদ (স)-কে লইয়া যায় আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রে সফরে গিয়া দারুন-নাবিগায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি এক মাস আরব্য গ্রহণ করিয়াছিলেন। সেখানেকার বহু ঘটনা রাসূলুল্লাহ (স)-এর মনে রেখাপাত করিয়াছিল। পরবর্তী কালে মদীনায় হিজরত করিবার পর বানু 'আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের ঘাটিতে গমন করিলে রসূলুল্লাহ্ (স) তাহা চিনিয়া ফেলেন। উহার স্মৃতিচারণ করিতে গিয়া তিনি বলেনঃ “এই স্থানগুলিতে আমি আনসার গোত্রের জনৈক বিনম্রা কিশোরীর সহিত খেলা করিয়াছি। বালকদের সহিত পাখি উড়ানোর খেলায় অংশগ্রহণ করিয়াছি। দারুন নাবিগার প্রতি তাকাইয়া তিনি বলেনঃ আমাকে লইয়া এখানেই আমার মাতা অবস্থান করিয়াছিলেন। এই গৃহেই আমার পিতা 'আবদুল্লাহকে দাফন করা হইয়াছিল। বানূ 'আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের কূপে আমি সুন্দরভাবে সাঁতরাইয়াছি। ইয়াহুদী গোত্রের লোকেরা তাহাকে দেখিয়া কথা কাটাকাটি শুরু করিয়াছিল। উম্ম আয়মান বলেনঃ আমি উহাদের জনৈক ইয়াহুদীকে বলিতে শুনিলাম, এই লোকটি এই উম্মতের নবী এবং ইহাই তাঁহার হিজরত স্থান।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ্ ও আমিনার শেষ গন্তব্য

📄 আবদুল্লাহ্ ও আমিনার শেষ গন্তব্য


রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে তাঁহার সম্মানিত মাতা ও পিতার ইনতিকাল তাঁহাদের শেষ গন্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। তবে আমারা মুক্তিপ্রাপ্ত ছিলেন কিনা এই ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায় না। সহীহ মুসলিমের একটি রিওয়ায়াত এই মর্মে বর্ণিত হইয়াছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ زَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَي مَنْ حَولَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمُ الْمَوْتَ.
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার মাতার কবর যিয়ারত করিতে গিয়া নিজেও কাঁদিলেন এবং আশপাশের লোকজনকেও কাঁদাইলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আমি মহান প্রতিপালকের নিকট তাঁহার (মাতার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাহিলাম। আমাকে উহার অনুমতি দেওয়া হয় নাই। উহার পর আমি তাঁহার কবর যিয়ারত করিবার অনুমতি প্রার্থনা করিলাম, আমাকে উহার অনুমতি দেওয়া হইল। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত কর। কারণ ইহা মরণকে স্মরণ করাইয়া দেয়” (মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, জাওয়াবু যিয়ারাতি কুবুরিল মুশরিকীন, দেওবন্দ, তা,বি, ১খ, পৃ. ৩১৪ সৌদী সং, নং ২২৫৯/১০৮, পৃ. ৮৩১)
'আল্লামা ইবনুল জাওযী এই হাদীছটি সম্পর্কে বলেন, এই হাদীছটি এইভাবে একমাত্র ইমাম মুসলিম বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর জাওযী আবূ বুরায়দার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেনঃ
عَنْ أَبِي بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَفَ عَلَى عُسْفَانَ فَنَظَرَ يَمِينًا وَشِمَالاً وَأَبْصَرَ قَبْرَ أُمِّه فَوَرَدَ الْمَاءَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَلَمْ يَفْجَأَنَا الأَ بِكَانَهُ فَبَكَيْنَا لِبُكَاءِ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا الَّذِي أَبْكَاكُمْ قَالُوا بَكَيْتَ فَبَكَيْنَا يَا رَسُولَ الله قَالَ وَمَا ظَنَنْتُمْ ؟ قَالُوا ظَنَنَّا أَنَّ الْعَذَابَ نَازِلُ عَلَيْنَا قَالَ لَمْ يَكُنْ مِنْ ذَالِكَ شَيْئً فَقَالُوا فَظَنَنَّا أَنَّ أُمَّتَكَ كُلَّفَتْ مِنَ الْأَعْمَالَ مَا لَا تُطِيقُ قَالَ لَمْ تَكُنْ مِنْ ذلِكَ شَيْءٍ وَلَكِنَى مَرَرْتُ بِقَبْرِ أُمِّى فَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَاسْنَاذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ اسْتَغْفِرَ لَهَا فَنُهِيْتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ عُدتُّ فَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَاسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ اسْتَغْفِرْ لَهَا فَرُجَرْتُ زَجْرًا فَعَلَا بُكَائِي ثُمَّ دَعى براحلته فَركَبَهَا فَمَا سَارَ إِلَّا هُنَيَّةٌ حَتَّى قَامَتِ الرَّاحِلَةُ بِثِقْلِ الْوَحْيِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِى قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْهِدُكُمْ إِنِّي بَرِى مِنْ آمِنَةَ كَمَا تَبَرَّأَ إِبْرَاهِيمُ مِنْ أَبِيْهِ.
"আবূ বুরায়দার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে আসিতেছিলাম। তিনি 'উসফানে (একটি স্থানের নাম) আসিয়া অবস্থান গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ডানে-বামে তাকাইয়া তাঁহার মাতার কবর দেখিতে পান। এই সময় তিনি পানির নিকটে গিয়া উযূ করেন এবং দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন। তখন তাঁহার কান্না আমাদিগকে ব্যাকুল করিয়া ফেলিল। আমরাও তাঁহার কান্না দেখিয়া কাঁদিতে শুরু করিলাম। অবস্থা দৃশ্যে তিনি আমাদের দিকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তোমরা কাঁদিতেছ কেন? আমরা বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কাঁদিতেছেন, তাই আমরাও কাঁদিতেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ এই কান্নার কারণ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি? আমরা বলিলাম: আমাদের আশংকা হইল, হয়ত আমাদের উপর কোন ধরনের আযাব অবতীর্ণ হইতেছে। তিনি বলিলেনঃ না, এমন কিছু হইতেছে না। আমরা বলিলাম, তাহা হইলে কি আপনার উম্মতকে এমন কোন কাজের জন্য বাধ্য করা হইতেছে যাহার সাধ্য তাহাদের নাই? তিনি বলিলেনঃ এই ধরনের কিছু নয়, বরং আমি আমার মাতার কবরের পাশ দিয়া গমন করিতেছিলাম, তখন আমি দুই রাক'আত সালাত আদায় করিয়া আমার প্রতিপালকের দরবারে তাহার মাগফিরাত কামনার অনুমতি প্রার্থনা করিলাম, আমাকে উহা নিষেধ করিয়া দেওয়া হইল। অতঃপর আরও দুই রাক'আত সালাত আদায় করিয়া আমার প্রতিপালকের নিকট তাঁহার মাগফিরাত কামনার অনুমতি চাহিলাম, তখন আমাকে কঠোরভাবে স্মরণ করান হইল, ফলে আমার কান্নার তীব্রতা বৃদ্ধি পাইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সওয়ারীকে ডাকাইয়া আরোহণ করিলেন। সওয়ারীটি একটু দূর অগ্রসর না হইতেই ওহীর ভারে দাঁড়াইয়া গেল। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: নবী ও ঈমানদারদের জন্য উচিৎ নয় মুশরিকদের ব্যাপারে মাগফিরাত কামনা করা, যদিও তাহারা নিকটাত্মীয় হইয়া থাকেন, এই কথা স্পষ্ট হইবার পর যে, তাহারা জাহান্নামবাসী" (৯:১১৩)।
তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখিয়া বলিতেছি যে, "আমি আমিনার ব্যাপারে নারায যেমন ইবরাহীম তাঁহার পিতার ব্যাপারে নারায ছিলেন"।
সীরাত আল-হালাবী উপরিউক্ত বিবরণ উদ্ধৃত করিতে গিয়া বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বানু লিয়ান যুদ্ধ হইতে ফিরিবার প্রাককালে আল-আবওয়া নামক স্থানে অবস্থান করিয়া ডানে এবং বামে তাকাইয়া তাঁহার মাতা আমিনার কবর দেখিতে পান। বাকী বিবরণ আবূ বুরায়দার পিতার বিবরণের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ। আস-সুহায়লী রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক তাঁহার মাতার কবর যিয়ারত ও ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি না দেওয়া সম্পর্কিত উপরোল্লিখিত হাদীছটি সহীহ বলিয়া আখ্যায়িত করিয়া বলেন, মুসনাদ আল-বাযযারে বুরায়দা কর্তৃক বর্ণিত হাদীছে রহিয়াছে:
إِنَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ اَرَادَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لأُمِّهِ ضَرَبَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي صَدْرِهِ وَقَالَ لَهُ لَا تَسْتَغْفِرْ لِمَنْ كَانَ مُشْرِكًا فَرَجَعَ وَهُوَ حَزِينٌ.
"রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন তাঁহার মাতার মাগফিরাত কামনা করিতে চাহিলেন তখন জিবরাঈল (আ) তাঁহার বুকে আঘাত হানিয়া বলিলেনঃ যে মুশরিক ছিল, তাহার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিও না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) ভগ্ন হৃদয়ে ফিরিয়া আসিলেন"।
অতঃপর সুহায়লী বলেন, আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতা-মাতা সম্পর্কে এইরূপ উক্তি করা ঠিক হইবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: لا تُؤْذُوا الأَحْيَاءَ بِسَبَ الأَمْوَاتِ "মৃতদেরকে গালি দিয়া তোমরা জীবিতদেরকে কষ্ট দিও না"। আল-কুরআনেও ইরশাদ হইয়াছে, .إِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولُهُ "যাহারা আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলকে কষ্ট দিবে"।
সুহায়লী আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক তাঁহার পিতাকে জাহান্নামী বলিয়া আখ্যায়িত করিবার কারণ হইল, জনৈক প্রশ্নকর্তাকে সান্ত্বনা দেওয়া। কারণ লোকটি তাঁহার জাহিলিয়্যা যুগে মৃত পিতার গন্তব্য সম্পর্কে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি তাহাকে জাহান্নামী বলিয়া ঘোষণা করিয়াছিলেন। তাঁহার পিতাকে জাহান্নামী বলায় স্বাভাবিকভাবে লোকটি মনে ব্যথা অনুভব করিয়াছিল। কোন কোন রিওয়ায়াতে এইরূপও বর্ণিত আছে যে, লোকটি তাহার পিতার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হইয়া বলিয়াছিল, তাহা হইলে আপনার পিতা কোথায়? উহার জওয়াবে রাসূলুল্লাহ (স) উপরিউক্ত কথা বলিয়াছিলেন। বর্ণনাটি এইরূপ:
إِنَّ رَجُلاً قَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللهِ أَيْنَ أَبِي فَقَالَ فِي النَّارِ فَلَمَّا وَلَى الرَّجُلُ قَالَ عَلَيْهِ السَّلَامِ إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ.
কিন্তু সামার ইবন রাশিদের বর্ণনায় কথাটি নাই آن ابى وابا ك في النار "আমার পিতা ও তোমার পিতা জাহান্নামে" সেই রেওয়ায়াতে আছে, রসূলুল্লাহ্ (স) লোকটির প্রশ্নের উত্তরে বলিয়াছিলেনঃ إِذا مَرَرْتَ بِقَبْرِ كَافِرِ فَبَشره بالنار "যখন তুমি কোন কাফিরের কবরের পাশ দিয়া গমন করিবে তখন তাহাকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দান কর"।
সুহায়লী আরও বলেন, একটি অখ্যাত হাদীছ যাহা সহীহ পর্যায়ের, উহাতে এইরূপ বর্ণিত আছেঃ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَخْبَرَتْ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يُحْيَ أَبَوَيْهِ فَأَحْيَاهُمَا لَهُ وَآمَنَا بِهِ ثُمَّ أَمَاتَهُمَا.
"আইশা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ব্যক্ত করেন, রাসূলুল্লাহ (স) আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রার্থনা করিয়াছিলেন তাঁহার মাতা-পিতাকে জীবিত করিয়া দেওয়া হউক। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাহাদেরকে জীবিত করিয়া দেন। উহাতে তাহারা তাঁহার উপর ঈমান আনয়ন করে, পরবর্তীতে আবার তাহাদের ইনতিকাল হয়"।
ইমাম কুরতুবী তাঁহার তাযকিরা গ্রন্থে আবু বাকুর আল-খাতীব ও আবু হাফস 'উমার ইব্‌ শাহীন সূত্রে হযরত 'আইশা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উদ্ধৃত করিয়াছেন:
عن عائشة رضى الله عنها قَالَتْ حَجَّ بِنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةَ الوَدَاعِ فَمَرَّ عَلَى قَبْرِ أُمَّهُ وَهُوَ بَاكَ حَزِينٌ مُعْتَم فَبَكَيْتُ لِبُكَائِهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ إِنَّهُ نَزَلَ فَقَالَ يَا حُمَيْرَاءُ اسْتَمْسِكَى فَاسْتَنَدْتُ إلى جَنْبِ البَعِيرِ فَمَكَثَ عَنِّى طَويلاً مَلِيًّا ثُمَّ أَنَّهُ عَادَ إِلى وَهُوَ فَرْحٌ مُتَبَسَمٌ فَقُلْتُ له بابي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ نَزَلْتَ مِنْ عِنْدِي وَأَنْتَ بَاكَ حَزِينٌ مُعْتَمْ فَبَكَيْتُ لِبُكَائِكَ ثُمَّ عُدْتُ إِلَى وَأَنْتَ فَرِحٌ مَتَبَسَمٌ فَمِمْ ذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ذَهَبْتُ لِقَبْرِ امِنَةَ أُمِّى فَسَأَلْتُ أَن يُحْيِيهَا فَأَحْيَاهَا فَامَنَتْ بِي أَو قَالَ فَامَنَتْ وَرَدُّها الله عز وجل.
“আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে লইয়া বিদায় হজ্জ সম্পন্ন করেন। উহার পর তাঁহার মাতার কবরে তিনি গমন করেন। তখন তিনি ক্রন্দনরত, চিন্তামগ্ন ও বিষণ্ণ ছিলেন। তাহার কান্না দেখিয়া আমিও কাঁদিয়া ফেলিলাম। অতঃপর সেখান হইতে তিনি বাহির হইয়া আসিয়া বলিলেনঃ হে হুমায়রা! তুমি কাঁদিও না। আমি তখন একটি উটের সহিত হেলান দিয়া বসিয়া পড়িলাম। তিনি অনেকক্ষণ আমার দৃষ্টির আড়ালে চলিয়া গেলেন। ফিরিয়া আসিবার পর তাঁহার মধ্যে হাস্যোজ্জ্বল ভাব পরিলক্ষিত হইল। এই অবস্থা দেখিয়া আমি নিবেদন করিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার নিকট হইতে প্রস্থান করিবার সময় আপনি কাঁদিতেছিলেন, আপনার চেহারায় বিষণ্ণ ভাব ছিল, যাহা দেখিয়া আমিও কাঁদিতেছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমার নিকট ফিরিয়া আসিলেন তখন আপনাকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যাইতেছে। উহার কি কারণ হইতে পারে, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলিলেনঃ আমি আমার মাতা আমিনার কবরের নিকট গমন করিয়া আল্লাহ্র নিকট তাঁহাকে জীবিত করিয়া দিবার জন্য প্রার্থনা করিয়াছিলাম। আমার আবেদনে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাকে জীবিত করিয়া দিলেন। অতঃপর তিনি আমার উপর ঈমান আনিলেন। পরবর্তীতে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাকে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া নেন” (আর-রাওদুল উনুফ, ১খ, পৃ. ১৯৫, টীকা; আবূ মুহাম্মাদ আবদুল মালিক ইব্‌ন হিশাম আল মু'আফিরী, আল-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, টীকা, ১খ, পৃ. ১৭৫)।
বিভিন্ন সূত্রে উপরিউক্ত বর্ণনাসমূহ রিওয়ায়াত করিবার পর 'আল্লামা সুহায়লী তাঁহার মতামত ব্যক্ত করিতে গিয়া বলেন, আল্লাহ্ তো সব জিনিসের উপর কর্তৃত্বশীল। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। নবীগণের অবস্থা তো সাধারণের অবস্থা হইতে এমনিতেই স্বতন্ত্র, বিশেষ করিয়া আমাদের নবীর বিষয়টি আরও বেশী মর্যাদাপূর্ণ। তিনি আল্লাহর করুণা লাভের বেশী উপযুক্ত। সুতরাং তাঁহার মাতা-পিতা সম্পর্কে ঈমান আনয়নের জন্য পুনরুজ্জীবিত করা মোটেই অসম্ভব কিছুই নয়। আবু বুরায়দার হাদীছটিকে ইবন সা'দ যথার্থ নয় বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। মুশরিকদের সম্পর্কে ক্ষমা প্রার্থনা না করিবার নির্দেশ আবূ তালিবের ব্যাপারে ছিল বলিয়া জমহুর তাফসীরকারগণ উল্লেখ করিয়াছেন (আর-রাওদুল উনুফ, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ১৯৪)।
ইদরীস কানধালাবী, রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাতা-পিতাকে জীবিত করিয়া ঈমান আনয়নের হাদীছটিকে যঈফ (দুর্বল) আখ্যায়িত করিয়াছেন। অতঃপর তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, অনেক আলিম এই ব্যাপারে নীরবতা পালন করিয়াছেন। আর নীরবতা পালনই উচিৎ বলিয়া অনুমিত হয় (ইদরীস কান্ধালাবী, মাআরিফুল কুরআন, লাহোর ১৪০২/১৯৮২, ৩খ, পৃ. ৪১৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00