📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ্র জন্ম

📄 আবদুল্লাহ্র জন্ম


আবু সাঈদ নিশাপুরী কা'ব আল-আহবার (র) হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নূর যখন আবদুল মুত্তালিবের প্রতি স্থানান্তরিত হয় তখন একদা তিনি আল-হিজরে (আল-হাতীমে) ঘুমাইয়া পড়েন। জাগ্রত হইবার পর তাঁহার গায়ে তৈল, চোখে সুরমা ও অত্যন্ত মনোরম একজোড়া কাপড় পরিধানে দেখা গেল। এই কাজটি কে করিলেন, সেই সম্পর্কে তিনি অবহিত হইতে পারেন নাই। আকস্মিক ঘটনায় তিনি হতচকিত হইয়া পড়িলেন। এই ঘটনা অবহিত হইয়া 'আবদুল মুত্তালিবকে লইয়া তাঁহার পিতা কুরায়শ গোত্রের জ্যোতিষদের নিকট গমন করিলেন। তাহারা বিষয়টি শুনিয়া বলিলেন, নভোমণ্ডলের স্রষ্টা কর্তৃক এই ছেলেটির বিবাহের সময় হইবার ইহা একটি বার্তা। অতঃপর তাঁহার পিতা আবদুল মুত্তালিবকে কায়লা (قيلة) নাম্নী এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ দান করিলেন। এই স্ত্রীর গর্ভে আল-হারিছ নামীয় এক পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হইবার পর তিনি ইনতিকাল করেন। ইহার পর হিন্দ বিন্ত 'আমর নাম্নী এক মহিলার সঙ্গে তাঁহার বিবাহ হয়। তাঁহার সহিত 'আবদুল মুত্তালিব পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হইবার পরই আবরাহা কর্তৃক কা'বা গৃহ ধ্বংস করিতে উদ্যত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স)-এর আগমনী বার্তার উসীলায় আবরাহার সেই চক্রান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইবার পরে আবদুল মুত্তালিব খুবই স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করিতেছিলেন।
একদা তিনি আল-হিজরে ঘুমাইয়া পড়িলেন। তখন তিনি বিরাট একটি স্বপ্ন দেখিলেন। ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া ঘুম হইতে জাগিয়াই তিনি কুরায়শ গোত্রের স্বপ্নবিশারদদের শরণাপন্ন হন। ঘটনার বিবরণ শুনিয়া তাহারা বলিলেন, যদি তোমার স্বপ্ন সত্য হয় তাহা হইলে তোমার পৃষ্ঠদেশ হইতে অচিরেই এমন এক মহান ব্যক্তির আবির্ভাব হইবে যাঁহার দ্বারা ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের অধিবাসীরা স্বস্তি লাভ করিবে। তিনি হইবেন মানবজাতির শান্তির এক দূত। অতঃপর আবদুল মুত্তালিব মাখযূম গোত্রের ফাতিমা নাম্নী এক মহিলাকে বিবাহ করিলেন। তাঁহার গর্ভেই 'আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ্র মাতার পরিচয়

📄 আবদুল্লাহ্র মাতার পরিচয়


ফাতিমার পিতার নাম ছিল 'আমর। তাঁহার বংশতালিকা নিম্নরূপ : ফাতিমা বিনত 'আমর ইবন আইয ইবন 'ইমরান ইবন মাখযূম ইবন ইয়াকযাহ ইবন মুররাহ ইবন কা'ব ইবন লুয়াই ইবন গালিব ইন্ন ফিত্র ইবন মালিক ইবন'ন নাদ্র। আবদুল্লাহ ছাড়াও ফাতিমার গর্ভে আবূ তালিব, যুবায়র ও সাফিয়্যা এবং অপরাপর কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।
ফাতিমা বিনত 'আমরের মাতার নাম ছিল সাখরা বিনত আবদ ইবন 'ইমরান। সাখরার মাতার নাম ছিল তাখমার বিন্ত আবদ ইবন কুসাই (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, বৈরূত, তা, বি, ১খ, পৃ. ১১৩)।
আবদুল্লাহ্ ও তাঁহার ভগ্নি উম্মু হাকীম আল-বায়দা তাঁহাদের পিতা-মাতার যমজ সন্তান ছিলেন (আবদুর রউফ দানাপুরী, আসাহহুস সিয়ার, দেওবন্দ, তা,বি, পৃ. ৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যাবীহ আবদুল্লাহ

📄 যাবীহ আবদুল্লাহ


যমযম কূপ খনন করিবার সময় 'আবদুল মুত্তালিবের সাহায্যকারী ছিলেন তাঁহার একমাত্র পুত্র হারিছ। হারিছ ব্যতীত তাঁহার অন্য কোন পুত্র তখনও জন্মগ্রহণ করে নাই। উক্ত কার্য সম্পূর্ণ করিবার সময় অন্যান্য কুরায়শ গোত্র হইতে তিনি প্রবল বাধার সম্মুখীন হন।
ইবন ইসহাক বলেন, 'আবদুল মুত্তালিব যমযম কূপ খনন করিতে গিয়া যখন কুরায়শ বংশের লোকদের পক্ষ হইতে বাধাপ্রাপ্ত হইয়াছিলেন তখন তিনি মান্নত করিয়াছিলেন যে, যদি তাঁহার দশজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁহার জীবদ্দশায়ই তাহারা বড় হন তাহা হইলে তিনি একটি সন্তানকে আল্লাহ্ নামে কা'বার পাশে কুরবানী করিবেন। অতঃপর তাঁহার সন্তানের সংখ্যা দশে উন্নীত হইলে তিনি তাহাদের সকলকে একত্র করিয়া তাহার মান্নতের কথা অবহিত করিলেন। তাহারা ঐক্যবদ্ধভাবে তাহাতে সম্মতি জানাইলেন। অতঃপর এখন তাহাদের করণীয় সম্পর্কে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা প্রত্যেকে একটি করিয়া তীর লও এবং তাহাতে নিজের নাম লিখিয়া আমার কাছে লইয়া আস। তাহারা একটি করিয়া তীর হাতে লইয়া তাঁহার নিকট আসিলেন, তৎকালীন কা'বার মধ্যবর্তী স্থান একটি কূপে 'হুবাল মূর্তিটি স্থাপিত ছিল। কা'বা ঘরের উদ্দেশে নিবেদিত সকল বস্তুই ঐ কূপে জমা করা হইত। আবদুল মুত্তালিব তাহাদেরকে সঙ্গে লইয়া সেই মূর্তির নিকট গেলেন। আবদুল মুত্তালিব নিজ মান্নতের কথা তীর রক্ষককে অবহিত করিলেন এবং প্রত্যেক পুত্রের নাম লেখা তীরগুলি তাহার নিকট সোপর্দ করিলেন। তীরটানা লোকটি তীর টানিতে শুরু করিলে দেখা গেল তীর আবদুল্লাহর নামে বাহির হইয়াছে। ফলে আবদুল মুত্তালিব তৎক্ষণাৎ হাতে ছোরা লইয়া আবদুল্লাহকে যবাহ করিবার প্রস্তুতি লইলেন। কুরায়শ নেতারা তাঁহাকে এই কাজে বাধা প্রদান করিল। আবদুল্লাহ্র মামা গোত্রীয় লোক মুগীরা ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন 'আম্র বলিলেন, তাঁহাকে অব্যাহতি দিন। মুক্তিপণের প্রয়োজন হইলে আমরাও তাহা প্রদান করিব। কুরায়শ নেতৃবৃন্দ ও আবদুল মুত্তালিবের অন্য ছেলেরা তাঁহাকে হিজাযের জনৈক মহিলা জ্যোতিষের শরণাপন্ন হইতে পরামর্শ দিল। অতঃপর তাঁহাকে লইয়া রওয়ানা করিয়া তাহারা খায়বার নামক স্থানে গিয়া মহিলাটির সাক্ষাত লাভ করিলেন। উল্লেখ্য যে, মহিলাটির নাম ছিল কুতবা, তবে ইবন ইসহাকের বর্ণনায় তাহার নাম ছিল সাজাহ। আবদুল মুত্তালিব তাহার নিকট সমুদয় ঘটনার বিবরণ দিলেন।
সে তাহার অনুগত অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে অবহিত হইয়া বলিল, আমি প্রয়োজনীয় তথ্য অবগত হইয়াছি। তোমরা স্বদেশে ফিরিয়া যাও এবং তোমাদের উদ্দিষ্ট লোক ও পূর্ব প্রথামত দশটি উট লইয়া তীর টান। যদি সংশ্লিষ্ট লোকটির নামে তীর বাহির হয় তাহা হইলে উটের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করিয়া দাও, যতক্ষণ না তোমাদের প্রতিপালক খুশি হইবেন। আর যদি উটের নাম বাহির হয় তাহা হইলে উটগুলি তাঁহার পরিবর্তে যবাহ কর। ইহাতে ধরিয়া নিবেন যে, তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হইয়াছেন এবং তোমাদের সাথী অব্যাহতি পাইয়াছে। অতঃপর তাহারা মক্কায় ফিরিয়া আবদুল্লাহ ও দশটি উটের মধ্যে তীর টানিলেন। ইহাতে আবদুল্লাহর নামই বাহির হইল। অতঃপর আরও দশটি বৃদ্ধি করিয়া তীর টানা হইল এইবারও আবদুল্লাহ্ নাম বাহির হইল। এইভাবে দশটি উট বৃদ্ধি করিয়া আবদুল্লাহ ও উটের মধ্যে তীর টানা অব্যাহত থাকিল। উটের সংখ্যা যখন শতকের কোঠায় উপনীত হইল তখন আবদুল্লাহর পরিবর্তে উটের নামে তীর বাহির হইল। উপস্থিত লোকেরা তখন বলিয়া উঠিল, হে আবদুল মুত্তালib! এখন তোমার প্রতিপালক তোমার উপর সন্তুষ্ট হইয়াছেন। অনেকের মতে এই সম্পর্কে নিশ্চয়তা লাভের উদ্দেশ্যে আবদুল মুত্তালib এক শত উট ও আবদুল্লাহ্ মাঝে তিনবার তীর টানা অব্যাহত রাখিয়াছিলেন। তিনবার একই ফলাফল আসিবার পর আবদুল মুত্তালib স্বস্তি লাভ করিলেন। অতঃপর এক শত উট কুরবানী কুরিয়া ফেলিয়া রাখা হইয়াছিল, কোন মানুষকে উহা হইতে বাধা দেওয়া হয় নাই, ভিন্নমতে কোন পশুকে উহা হইতে বাধা দেওয়া হয় নাই। আবদুল মুত্তালib ও তাঁহার বংশধর কেহই উহা হইতে আহার করেন নাই (ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫৭-১৬১; ঐ বঙ্গানুবাদ, ই,ফা, ১৯৯৪ খৃ., ১খ, পৃ. ১১১-১১৫)।
আল্লামা ইবন কাছীর (র) বলেন, বর্ণিত আছে, উটের সংখ্যা শতকের কোঠায় উপনীত হইবার পরও তীর আবদুল্লাহ্ নামে বাহির হইয়াছিল। অতঃপর আরও এক শত বৃদ্ধি করিয়া দুই শত উট ও আবদুল্লাহর নামে তীর টানা হইলে এইবারও আবদুল্লাহর নামে তীর বাহির হয়। অতঃপর উহার সহিত আরও এক শত বৃদ্ধি করিয়া তিন শত উট ও আবদুল্লাহ্ মধ্যে তীর টানা হইলে তীর উটের নামে বাহির হয়। তখন উটগুলিকে যবাহ করিয়া আবদুল্লাহকে মুক্তি দেওয়া হইল। ইবন কাছীর বলেন, প্রথম বর্ণনাটি সহীহ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বৈরূত, তৃতীয় সংস্করণ ১৯৭৯ খৃ., ২খ, পৃ. ২৪৯)।
ওয়াকিদীর এই সম্পর্কিত বর্ণনাটি উপরিউক্ত বর্ণনা হইতে ভিন্নতর। ওয়াকিদীর বর্ণনায় 'হুবাল' মূর্তির কথা ও আবদুল্লাহ্র পরিবর্তে উট কুরবানীর অভিমতটি মদীনার একজন জ্যোতিষ মহিলার নিকট হইতে গ্রহণ করিবার কথা উল্লেখ নাই। ওয়াকিদীর বর্ণনায় রহিয়াছে, আবদুল মুত্তালib কা'বার খাদেমকে তাঁহার দশ পুত্রের মধ্যে তীর টানার কথা বলিলেন। ইহাতে আবদুল্লাহর নাম বাহির হইল। অতঃপর তিনি আবদুল্লাহকে লইয়া যবাহ স্থলে রওয়ানা করিলেন। এই অবস্থা দেখিয়া আবদুল মুত্তালিবের উপস্থিত কন্যাগণ কান্না শুরু করিয়া দিল। তাঁহাদের একজন বলিল, হারাম এলাকায় আপনার বিচরণশীল উটগুলির বিনিময়ে তাঁহাকে মুক্তি দিন। এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়া আবদুল মুত্তালib কা'বার খাদেমকে দশটি উট ও আবদুল্লাহ্র মধ্যে তীর টানিবার কথা বলিলেন। সে তাহাই করিল। ইহাতে আবদুল্লাহর নামে তীর বাহির হইল। উটের সংখ্যা আরও দশটি বৃদ্ধি করিয়া তীর টানা হইলে একইভাবে তীর আবদুল্লাহ্র নামে বাহির হইল। ক্রমান্বয়ে দশ-দশটি বৃদ্ধি করিয়া আবদুল্লাহ ও উটের মধ্যে তীর টানা অব্যাহত থাকিল। উটের সংখ্যা শতকে উন্নীত হইলে তখন উটের নামে তীর বাহির হইল। ইহাতে আবদুল মুত্তালib ও তাঁহার সঙ্গীরা আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়া উঠিল। আবদুল্লাহ্ ভগ্নীগণ তাহাদের প্রিয় ভাইকে তুলিয়া লইল আর আবদুল মুত্তালib উটগুলিকে সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে কুরবানী দিলেন। ইবন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, উটগুলিকে কুরবানী দিবার পর আবদুল মুত্তালib ও তাঁহার সন্তানগণ ইহার একটুও ভক্ষণ করেন নাই, বরং তাহা সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের ভক্ষণের জন্য রাখিয়া দেওয়া হয়। ইবন আব্বাস আরও বলেন, তৎকালে মুক্তিপণ ছিল মাত্র দশটি উট। আবদুল মুত্তালibই সর্বপ্রথম মুক্তিপণ হিসাবে এক শত উটের প্রথা প্রবর্তন করেন। কুরায়শ ও অন্যান্য আরব পরবর্তী কালে তাহাই অনুসরণ করিতে থাকে। ইসলামী যুগে রাসূলুল্লাহ (স)-ও তাহাই বহাল রাখেন (ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বৈরুত, তা,বি, ১খ, পৃ. ৮৮-৮৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহকে কুরবানী করিতে আবূ তালিবের বাধাদান

📄 আবদুল্লাহকে কুরবানী করিতে আবূ তালিবের বাধাদান


কাজী মুহাম্মাদ সুলায়মান মনসূরপুরী তাঁহার সীরাত গ্রন্থে মৌলবী কেরামত আলী দিহলাবীর উদ্ধৃতি দিয়া বলেন, আবদুল্লাহ্র নামে যখন তীর বাহির হইল তখন তাঁহার ভাই আবু তালিব তাঁহাকে কুরবানী দানে বাধা প্রদান করিলেন এবং নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে নিজ দাবি পিতাকে জানাইয়া দিলেন:
كَلَّا وَرَبِّ الْبَيْتِ ذِي الْأَنْصَابَ - مَاذْبَحَ عَبْدُ اللَّهِ بِالتَّلْعَابِ يَا شَيْبُ إِنَّ لِلرِّيحِ ذُو عِقَابِ - إِنَّ لَنَا جَرُّهُ فِي الْخِطَابِ أَحْوَالُ صُدُقَ كَأَسُودِ الْغَابِ
"কখনও নয়, মূর্তি বেষ্টিত কা'বার রবের শপথ! আবদুল্লাহকে খেলনার ছলে যবেহ করা যাইবে না। হে শায়বা! নিশ্চয় বায়ু শাস্তি প্রদানকারী, আমাদের কর্তব্য তাহাকে আহবানের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা। তাহাকে আহবান করিবার সময় সত্যবাদীদের অবস্থা বনের ব্যাঘ্রের ন্যায়”।
আবদুল্লাহ্ মাতুলালয়ের পক্ষ হইতেও বাধা আসিল। মুগীরা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন 'আমর ইব্‌ন মাখযূম নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিলেন:
يَا عَجَبًا من فعل عَبْدِ الْمُطَّلِب - وَذَبْحِهِ ابْنَا كَتَمْثَالَ الذَّهَبِ كَلأَ وَبَيْتِ اللَّهِ مَسْتُورِ الْحَجَبِ - مَا ذُبِحَ عَبْدُ اللَّهِ فِيْنَا بِاللَّعْبِ
"আবদুল মুত্তালিবের কি আশ্চর্যজনক কাণ্ড তাঁহার স্বর্ণতুল্য ছেলেকে যবেহ করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কখনও নয়, গেলাফ আবৃত বায়তুল্লাহ্র শপথ। খেলাচ্ছলে তাঁহাকে আমাদের সম্মুখে যবেহ করা যাইবে না" (রাহমাতুললিল 'আলামীন, লাহোর, তা,বি, ২খ, পৃ. ৮৪)।
আবদুল্লাহ্ এই ঘটনাটি সংঘটিত হইবার পর তিনি 'যাবীহ' হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স)-কে ইব্‌ যাবীহায়ন (দুই কুরবানীর পুত্র) বলিয়া আখ্যায়িত করা হয়।
হযরত মু'আবিয়া (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে ছিলাম। তখন জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতে আসিল এবং তাঁহাকে ইব্‌ন যাবীহায়ন সম্বোধন করিয়া তাঁহার আবেদন পেশ করিল। তাহার আহবান শুনিয়া রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি দিলেন। মু'আবিয়া (রা)-এর এই কথা শুনিয়া তাঁহার মজলিসে বসা এক লোক জিজ্ঞাসা করিল, হে আমীরুল মুমিনীন! দুইজন যাবীহ কাহারা? উত্তরে তিনি তাহাদেরকে আবদুল্লাহর উপরিউক্ত কাহিনীটি শুনাইয়া বলিলেন, দুইজনের একজন হইলেন আবদুল্লাহ, আর অপরজন হইলেন হযরত ইসমাঈল (আ)। এই হাদীছটি আল-হাকিম ও ইব্‌ন জারীর আত-তাবারী বর্ণনা করিয়াছেন, (সুয়ূতী, আল-খাসাইসুল কুবরা, বৈরূত, তা, বি, ১খ, পৃ. ৪৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00