📄 ঊর্ধ্বতন পুরুষদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
আবদুল মুত্তালিব: তাঁহার নাম ছিল শায়বাতুল হাম্দ, তবে শুধু শায়বাই প্রসিদ্ধি লাভ করে। শায়বা ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি। জনৈক কবি তাঁহার সৌন্দর্য বর্ণনায় বলেনঃ
عَلَى شَيْبَةِ الْحَمْدِ الَّذِي كَأَنَّ وَجْهَهُ + يُضِيئُ ظِلَامَ لِلَّيْلِ كَا لَقَمَرِ الْبَدْرِي "পূর্নিমার চাঁদের ন্যায় শায়বার চেহারা। উহার আলোতে রাতের অন্ধকার আলোকিত হয়" (যুরকানী, শারহু মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা, বৈরূত, ১৩৯৩ হি., ১খ, ৭১)।
শায়বার নামকরণ সম্পর্কে বলা হয়, তাঁহার মাথার কিছু চুল শ্বেতবর্ণের ছিল বলিয়া তাঁহার নাম শায়বা রাখা হয়। কারণ শায়বা শব্দের অর্থ সাদা চুলবিশিষ্ট ব্যক্তি।
আবদুল মুত্তালিব ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পিতামহ। তাঁহার এই নামকরণের ব্যাপারে বহু অভিমত রহিয়াছে। এই যৌগিক শব্দটির শাব্দিক অর্থ হইল মুত্তালিবের দাস। তাঁহার পিতা হাশিমের ইনতিকালের পর তদীয় মাতা নিজ পিত্রালয় মদীনার বানু খাযরাজে কিছুকাল অবস্থান করিয়াছিলেন। আবদুল মুত্তালিব একটু বড় হইলে তাঁহার পিতৃব্য মুত্তালিব তাঁহাকে আনিবার জন্য মক্কা হইতে মদীনায় গমন করেন।
ঘটনার বিবরণে ইবন সা'দ বলেন, ছাবিত ইব্ন মুনযির ছিলেন মুত্তালিবের বন্ধু। তিনি মক্কায় উমরা করিতে আসিয়া তাঁহাকে তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র শায়বার কথা বলিলেন যে, সে মদীনার ছেলেদের সহিত তীর নিক্ষেপ খেলায় অংশগ্রহণ করে। ইহা শুনিয়া মুত্তালিব সন্ধ্যা হইবার পূর্বেই মদীনার পথে রওয়ানা করেন।
মদীনায় উপনীত হইয়া সত্যিই তিনি তাঁহাকে তীর নিক্ষেপ খেলায় মগ্ন পাইলেন। তাঁহার এই হীন অবস্থা দেখিয়া মুত্তালিব কান্নায় বুক ভাসাইয়া দেন। অতঃপর তাঁহাকে একজোড়া ইয়ামানী কাপড় পরাইয়া সঙ্গে করিয়া মক্কায় লইয়া আসিবার জন্য প্রস্তুত হন। ইহাতে তাঁহার মাতা আপত্তি করিলে মুত্তালib বলেনঃ সে অভিজাত পরিবারের ছেলে, আর এখানে সে অবহেলার পাত্র হিসাবে বসবাস করিবে তাহা আমি মানিয়া লইতে পারিব না। অতঃপর তাঁহার মাতাকে বুঝাইয়া তিনি শায়বাকে লইয়া মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করেন। তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া মুত্তালib মক্কায় দুপুরের সময় পৌঁছেন। মক্কাবাসীরা তাঁহাকে দেখিয়া বলিয়া উঠে, এই ছেলেটি আবদুল মুত্তালib বা মুত্তালিবের গোলাম। তিনি তাহাদের কথা প্রত্যাখ্যান করিয়া বলেনঃ না, সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র আমরের পুত্র শায়বা। কিন্তু লোকদের এই উক্তির ফলে তিনি আবদুল মুত্তালিব নামে পরিচিত হন (আত-তাবাকাতুল কুবরা, প্রাগুক্ত)।
আল্লামা শিবলী বলেনঃ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত হইল, শায়বা ছিলেন পিতৃহারা বালক। তাঁহাকে তাঁহার চাচা মুত্তালib অতি যত্নে লালন-পালন করিয়াছিলেন। তাঁহার এই অনুগ্রহের কারণে তাঁহাকে আবদুল মুত্তালিব বা মুত্তালিবের গোলাম আখ্যায়িত করা হয় (শিবলী নু'মানী, ১খ, ১০৬)। আবদুল মুত্তালিব দানশীল ছিলেন। তাঁহার পিতাকে তিনি এই ব্যাপারে অতিক্রম করিয়া যান। এই কারণে আরবরা তাঁহাকে مُطْعِمُ طَيْرَ السَّمَاءِ (আকাশের পক্ষীকুলের আহার দানকারী) খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি নিজে শরাব পান করিতেন না। রমযানুল মুবারক আগত হইলে বিশেষভাবে দরিদ্র ও নিঃস্বদিগকে খাবার দিতেন। হেরা গুহায় একাগ্রচিত্তে আল্লাহ্র ধ্যান মগ্ন হওয়ার প্রচলন 'আবদুল মুত্তালিব হইতেই শুরু হইয়াছিল (যুরকানী, ১খ, ৭১)।
যমযম কূপ ইসমা'ঈল (আ)-এর বরকতে আল্লাহ্ তা'আলা দান করিয়াছিলেন। কালের বিবর্তনে এই কূপ বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছিল। বহুকাল পর 'আবদুল মুত্তালিব যখন মক্কার নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন তখন তাঁহার দ্বারা ইহা পুনরাবিষ্কৃত হয়। ইদরীস কানধালাবী ঘটনাটির বিবরণ এইরূপ প্রদান করিয়াছেন: আল্লাহ যখন কূপটি প্রকাশ করিয়া দিবার ইচ্ছা করিলেন তখন খনন করিবার জন্য স্বপ্নযোগে ইহার অবস্থান স্থল 'আবদুল মুত্তালিবকে দেখানো হইল। 'আবদুল মুত্তালিব বলেন, আমি কা'বার হাতীমে নিদ্রাবিভোর ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আগন্তুক আমার নিকট আসিয়া বলিলেনঃ احفر طيبة (তায়বাহকে খনন কর)। আমি বলিলাম, তায়বাহ কি? কিন্তু তিনি কোন কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন। দ্বিতীয় দিন আবার আমি পূর্বোক্ত স্থানে নিদ্রামগ্ন হইলে এই লোকটি আমাকে বলিলেন: حفر برةَ। বাররাহকে খনন কর। আমি তাহাকে বাররাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি আমার্কে কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন। তৃতীয় দিন আবার একই স্থানে ঘুমাইয়া পড়িলাম। এই লোকটি আমাকে বলিলেন: احفر الْمَصْنُونَةَ মাদনূনাহকে খনন কর। আমি তাহাকে মাদনূনাহ্ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কোন কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন।
চতুর্থ দিবসে সেই একই স্থানে নিদ্রা গেলাম। তখন সেই একই লোক আমাকে বলিলেনঃ احفر زمزم যমযম খনন কর। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, যমযম কি? সেই দিন তিনি উত্তর দিলেন: لا تُنْزِحُ أَبَدًا وَلَا تُدَمُ تَسْقِى الْحَجِيجَ الْأَعْظَمَ " উহা হইল পানির একটি কুয়া; উহার পানি কখনও নিঃশেষ হয় না, কোন সময় দূষিত হয় না, অগণিত হজ্জ পালনকারীকে পানি পান করাইয়া তৃষ্ণা মিটায়।" অতঃপর স্থানটি চিহ্নিত করিয়া বলিলেন, এখানেই খনন কর। একই স্বপ্ন বারবার দেখায় আবদু'ল মুত্তালিব উহার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হইলেন।
অতঃপর তিনি কুরায়শ গোত্রের অন্যান্যদের নিকট তাঁহার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করিয়া এই স্থানটি খনন করিবার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করিলেন। তাহারা ইহাতে আপত্তি জানাইল। তিনি ইহার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করিয়া স্বীয় পুত্র হারিছকে সঙ্গে লইয়া স্থানটি খনন করিতে লাগিলেন। 'আবদুল মুত্তালিব খনন করিতেন এবং হারিছ মাটি অপসারণ করিতেন। তিনদিন খনন কাজ চালাইবার পর যমযমের চিহ্ন প্রকাশ পাইল। আনন্দে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়া 'আবদুল মুত্তালib বলিলেন: هذا طهى اسماعيل ইহাই ইসমাঈল ('আ)-এর কূপের নিদর্শন (ইদরীস কানধালাবী, সীরাতুল মুসতাফা, দিল্লী ১৯৮১ খৃ., ১খ, পৃ. ৩৪)।
📄 আবদুল মুত্তালিবের সন্তানাদি
তাঁহার কতজন সন্তানাদি ছিলেন সেই সম্পর্কে কোন সর্বসম্মত অভিমত নাই। আল্লামা দানাপুরী বলেন, সীরাতবিদগণ বলেন, তাঁহার পুত্র সন্তান ছিল দশজন। কিন্তু যেই সকল নাম উল্লেখ করা হয় তাহাতে দেখা যায় দশের অধিক। ইবন হিশাম রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পিতা আবদুল্লাহ্ আবদুল মুত্তালিবের পুত্র দশজন লিখিয়াছেন। ইবন হিশামের বর্ণনামতে তাঁহারা হইলেন: (১) হামযা, (২) আব্বাস, (৩) আবূ তালিব বা আবদে মানাফ, (৪) আবু লাহাব, (৫) যুবায়র, (৬) মুকাওয়াম, (৭) দিরার, (৮) মুগীরা (উপাধি হাজাল), (৯) আবদুল্লাহ্ ও (১০) আল-হারিছ। ইব্নুল আছীর অতিরিক্ত আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করিয়াছেন, তাঁহারা হইলেন: (১১) আবদুল কা'ব, (১২) আল-গীদাক ও (১৩) কাছাম। ইবন হিশামের মতে সম্পদের প্রাচুর্যের দরুণ মুগীরা বা হাজালকে গীদাক বলা হইত। কিন্তু ইবনুল আছীরের বর্ণনামতে তাহারা স্বতন্ত্র দুইজন সন্তান ছিলেন। ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ কোন কোন সূত্রমতে আবদুল মুত্তালিবের আরও একজন পুত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহার নাম আল- আওয়াম।
📄 কন্যা সন্তান
ইবন হিশামের মতে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সন্তান ছিলেন ছয়জন। তঁহারা হইলেন: (১) সাফিয়্যা, (২) উম্মু হাকীম আল-বায়াদা, (৩) আতিকা, (৪) উমায়মা, (৫) আরওয়া, (৬) বাররাহ। সন্তানাদির মধ্যে আল-হারিছ ছিলেন সবার বড় এবং আব্বাস ছিলেন সবার ছোট। তাহাদের মধ্যে কেবল আব্বাস ও হামযা ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। আবু তালিব, আবদুল্লাহ্, যুবায়র, আবদুল কা'ব, উম্মু হাকীম, আল বায়াদা, আতিকা, বাররা, উমায়মা, আরওয়া প্রমুখের মাতার নাম ছিল ফাতিমা বিনত 'আয়য।
হামযা, মুকাওয়াম, হাজাল ও সাফিয়্যার মাতা ছিলেন হালাহ বিন্ত উহায়ব। এই হালাহ-ই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (স) জননী আমিনার চাচাত বোন।
আব্বাস ও দিরারের মাতার নাম ছিল নাতীলা বিনত যয়নাব।
হারিছ ও কাছামের মাতা ছিলেন সাফিয়্যা বিন্ত জুনদুব।
পঞ্চমা স্ত্রী ছিলেন লুবনা বিন্ত হাজির। তাহার পক্ষের সন্তান ছিল আবু লাহাব 'আবদুল উযযা।
ষষ্ঠ স্ত্রী ছিলেন মুন্নি'আ বিন্ত আমর। তাহার পক্ষের সন্তান ছিল গীদাক, যাহার নাম নাওফাল অথবা মুস'ঈব ছিল। ইবনুল আছীর বলেন, কেহ কেহ বলিয়াছেন, কাছামও তাহার পক্ষের সন্তান ছিল। ইবন হিশাম লিখিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ধাত্রী ফাতিমা বিন্ত 'আমর ইবন 'আইযের মাতার নাম ছিল সাখরা বিন্ত 'আবদ ইব্ন 'ইমরান। সাখরার মাতার নাম ছিল তাখাম্মার বিন্ত 'আবদ ইব্ন কুসায়্যি ('আবদুর রউফ দানাপুরী, আসাহহুস সিয়ার, দেওবন্দ তা.বি., পৃ. ২)।
আবু লাহাব ও আবদুল উযযার মাতা ছিলেন লাবনা বিনত হাজিব।
আল-গীফাকের মাতার নাম ছিল মুমনি'আ বিন্ত আমর, গীফাকের নাম নাওফাল অথবা মুস'আব ছিল। দানাপুরী ইবনুল আছীরের সূত্রে বলেন, কেহ কেহ মনে করেন, কাছামও মুমনি'আর সন্তান ছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, দেওবন্দ তা. বি., পৃ. ২)।
📄 হাশিম
হাশিম: মূল নাম 'আমর; ইমাম মালিক ও ইমাম শাফি'ঈ (র) এই ব্যাপারে একমত (ইদরীস কানধালাবী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২৯)। এই নামটির উৎস সম্পর্কে আস-সুহায়লী বিশদ আলোচনা করিয়াছেন। কথিত আছে যে, শীত ও গ্রীষ্ম এই দুই ঋতুতে বাণিজ্যের জন্য সফর করার প্রথা হাশিম প্রবর্তন করেন (তাবারী, প্রাগুক্ত, ১/২খ, পৃ. ১৭৯)। হাশিম হজ্জের মৌসুমে হাজ্জীদের সেবা করিতেন। তাহাদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করিতেন। তখন 'আরবদেশ ছিল গোলযোগপূর্ণ। কুরায়শ বংশ যাহাতে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাইতে পারে 'ইহার বিধান নিশ্চিত করিয়াছিলেন হাশিম। এক সময় হাশিম বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়া (শাম) অভিমুখে যাত্রা করিয়াছিলেন। পথিমধ্যে মদীনায় যাত্রাবিরতি করিলেন। এখানে পুরা বৎসর বাজার থাকিত। 'বাজারে একজন বিদূষী মহিলার সহিত তাঁহার সাক্ষাত ঘটিল। মহিলাটির চলনে বলনে আভিজাত্য ফুটিয়া উঠিতেছিল। সে দেখিতেও ছিল সুদর্শনা। হাশিম তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিলেন, সে বনূ নাজজার গোত্রীয় মহিলা। নাম তাহার সালমা (سلمی)। হাশিম তাহার গুণে বিমুগ্ধ হইয়া উঠিলেন। তিনি তাহাকে বিবাহ করিবার প্রস্তাব পাঠাইলেন। সে তাহাতে সম্মত হইলে তাহারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলেন। বিবাহের পর হাশিম তাহার স্ত্রীকে মদীনায় রাখিয়া সিরিয়ায় সফরে যান। গাযা (غزه) নামক স্থানে উপনীত হইবার পর হাশিম ইনতিকাল করেন। সালমা সন্তান সম্ভবা ছিলেন। তাহার কোলে একজন সুসন্তান জন্মগ্রহণ করিল। সেই সন্তান ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পিতামহ 'আবদুল মুত্তালিব (শিবলী নু'মানী, প্রাগুক্ত, ১খ ১০৬)।
হাশিম অত্যন্ত সুদর্শন ছিলেন। তাঁহার ললাটে নবুওয়াতের নূর ঝকমক করিত। বন্ ইসরাঈলের যাজকগণ তাঁহার চরণে লুটাইয়া পড়িত, হাতে চুম্বন করিত। 'আরব গোত্র ও বনূ ইসরাঈলের যাজকরা নিজেদের মেয়েদেরকে তাঁহার নিকট বিবাহ দানের জন্য পেশ করিত। একদা রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস হাশিমকে উদ্দেশ্য করিয়া এই মর্মে চিঠি দিয়াছিলেন যে, আপনার মহানুভবতা সম্পর্কে আমি অবহিত হইয়াছি। আমার রাজকুমারী কন্যা এই যুগের সর্বাধিক সুন্দরী। আমি তাঁহাকে আপনার নিকট স্ত্রী হিসাবে সোপর্দ করিতে ইচ্ছা পোষণ করি। আপনি এখানে চলিয়া আসুন। হাশিম তাহার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলেন। রোম সম্রাটের আসল উদ্দেশ্য ছিল, হাশিমের ললাটে যেই নবুওয়াতের জ্যোতি আলোকিত হইতে দেখা যাইতেছিল তাহা তাহার বংশে লইয়া আসা (যুরকানী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৭২)। হজ্জ মৌসুমে হাশিম সকল হজ্জব্রত পালনকারীকে গোশত, রুটি, ছাতু ও খেজুর দ্বারা আপ্যায়ন করিতেন। যমযমের সুপেয় পানি পান করানোর সুব্যবস্থা করিতেন। হাশিমের মহানুভবতায় উমায়্যা ইবন 'আবদ শামসের ঈর্ষা হইল। সেও হাশিমের ন্যায় লোকজনকে আহার দানের ব্যবস্থা করিল। কিন্তু সম্পদের প্রাচুর্যতা সত্ত্বেও সে হাশিমের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিতে পারিল না। এখান হইতেই বনূ হাশিম ও বনূ উমায়্যার মধ্যে শত্রুতার সুত্রপাত হয় (ইদরীস কানধালাবী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৩১)।