📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইবন হিশামের মতে আদনান হইতে ইসমা'ঈল (আ) পর্যন্ত বংশ তালিকা

📄 ইবন হিশামের মতে আদনান হইতে ইসমা'ঈল (আ) পর্যন্ত বংশ তালিকা


আদনান হইতে ইসমা'ঈল (আ) পর্যন্ত বংশতালিকা এইরূপঃ
১। আদনান ইন্ন
২। উদ ইবন
৩। মুকাওওয়াম ইন্ন
৪। নাহুর ইন্ন
৫। তায়রাহ ইব্‌ন
৬। ইয়া'রাব ইন্ন
৭। ইয়াশজাব ইব্‌ন
৮। নাবিত ইন্ন
৯। ইসমাঈল (আ) (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ১খ, পৃ. ৫)

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইবরাহীম (আ) হইতে আদম (আ) পর্যন্ত বংশতালিকা

📄 ইবরাহীম (আ) হইতে আদম (আ) পর্যন্ত বংশতালিকা


ইব্‌ন সা'দ তাবারী মানসূরপুরী বয়স ইবরাহীম ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন ইবরাহীম (আ) ১৭৫ আযার --- --- --- তারাহ তারাহ (আযার),, তারাহ (আযার) ২০৫ নাহুর নাহুর নাহুর ১৫৯ সারুগ সারু' সারুজ ২৩২ আরগু আরগু রাউ ২৩৯ ফালিগ বালিগ (ফালিজ),, ফাইজ ২৩৯ 'আবির আবির আবির ৪৬০ শালিখ শালিখ --- আরফাখশাদ আফাখশাদ আরফাশাদ ৪৩৮ সাম সাম সাম ৬০২ নূহ্ (আ) নূহ্ (আ) নূহ্ (আ) ৯৫০ লামাক লামাক লামাক ৭৭৭ মুতাওয়াশশালিখ,, মুতাওয়াশশালিখ,, মুতাওয়াশশালিহ ৯৬৯ খানূখ [ইদরীস (আ)],, খানূখ [ইদরীস (আ)],, খানূখ [ইদরীস (আ)] ৩৬৫ ইয়ারয ইয়ারদ ইয়ারদ ইব্‌ন ৯৬২ মাহলাঈল মাহলাঈল মাহলাঈল ইব্‌ন ৮৯৫ কায়নান কায়নান কায়নান ইব্‌ন ৯১০ আনুশ আনৃশ আনুশ ইব্‌ন ৯০৫ শীদৃ (আ) শীছ ('আ) শদৃ ('আ) ইব্‌ন ৯১২ আদম ('আ) আদম ('আ) আদম ('আ) ৯৩০
(আত-তাবাকাতুল কুবরা, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৫৯; তারীখুল উমাম ওয়াল-মুলুক, প্রাগুক্ত, ১/২খ, ১৯৪; রাহমাতুললিল 'আলামীন, দিল্লী, প্রাগুক্ত, ২খ, পৃ. ২১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঊর্ধ্বতন পুরুষদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

📄 ঊর্ধ্বতন পুরুষদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ


আবদুল মুত্তালিব: তাঁহার নাম ছিল শায়বাতুল হাম্দ, তবে শুধু শায়বাই প্রসিদ্ধি লাভ করে। শায়বা ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি। জনৈক কবি তাঁহার সৌন্দর্য বর্ণনায় বলেনঃ
عَلَى شَيْبَةِ الْحَمْدِ الَّذِي كَأَنَّ وَجْهَهُ + يُضِيئُ ظِلَامَ لِلَّيْلِ كَا لَقَمَرِ الْبَدْرِي "পূর্নিমার চাঁদের ন্যায় শায়বার চেহারা। উহার আলোতে রাতের অন্ধকার আলোকিত হয়" (যুরকানী, শারহু মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা, বৈরূত, ১৩৯৩ হি., ১খ, ৭১)।
শায়বার নামকরণ সম্পর্কে বলা হয়, তাঁহার মাথার কিছু চুল শ্বেতবর্ণের ছিল বলিয়া তাঁহার নাম শায়বা রাখা হয়। কারণ শায়বা শব্দের অর্থ সাদা চুলবিশিষ্ট ব্যক্তি।
আবদুল মুত্তালিব ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পিতামহ। তাঁহার এই নামকরণের ব্যাপারে বহু অভিমত রহিয়াছে। এই যৌগিক শব্দটির শাব্দিক অর্থ হইল মুত্তালিবের দাস। তাঁহার পিতা হাশিমের ইনতিকালের পর তদীয় মাতা নিজ পিত্রালয় মদীনার বানু খাযরাজে কিছুকাল অবস্থান করিয়াছিলেন। আবদুল মুত্তালিব একটু বড় হইলে তাঁহার পিতৃব্য মুত্তালিব তাঁহাকে আনিবার জন্য মক্কা হইতে মদীনায় গমন করেন।
ঘটনার বিবরণে ইবন সা'দ বলেন, ছাবিত ইব্‌ন মুনযির ছিলেন মুত্তালিবের বন্ধু। তিনি মক্কায় উমরা করিতে আসিয়া তাঁহাকে তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র শায়বার কথা বলিলেন যে, সে মদীনার ছেলেদের সহিত তীর নিক্ষেপ খেলায় অংশগ্রহণ করে। ইহা শুনিয়া মুত্তালিব সন্ধ্যা হইবার পূর্বেই মদীনার পথে রওয়ানা করেন।
মদীনায় উপনীত হইয়া সত্যিই তিনি তাঁহাকে তীর নিক্ষেপ খেলায় মগ্ন পাইলেন। তাঁহার এই হীন অবস্থা দেখিয়া মুত্তালিব কান্নায় বুক ভাসাইয়া দেন। অতঃপর তাঁহাকে একজোড়া ইয়ামানী কাপড় পরাইয়া সঙ্গে করিয়া মক্কায় লইয়া আসিবার জন্য প্রস্তুত হন। ইহাতে তাঁহার মাতা আপত্তি করিলে মুত্তালib বলেনঃ সে অভিজাত পরিবারের ছেলে, আর এখানে সে অবহেলার পাত্র হিসাবে বসবাস করিবে তাহা আমি মানিয়া লইতে পারিব না। অতঃপর তাঁহার মাতাকে বুঝাইয়া তিনি শায়বাকে লইয়া মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করেন। তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া মুত্তালib মক্কায় দুপুরের সময় পৌঁছেন। মক্কাবাসীরা তাঁহাকে দেখিয়া বলিয়া উঠে, এই ছেলেটি আবদুল মুত্তালib বা মুত্তালিবের গোলাম। তিনি তাহাদের কথা প্রত্যাখ্যান করিয়া বলেনঃ না, সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র আমরের পুত্র শায়বা। কিন্তু লোকদের এই উক্তির ফলে তিনি আবদুল মুত্তালিব নামে পরিচিত হন (আত-তাবাকাতুল কুবরা, প্রাগুক্ত)।
আল্লামা শিবলী বলেনঃ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত হইল, শায়বা ছিলেন পিতৃহারা বালক। তাঁহাকে তাঁহার চাচা মুত্তালib অতি যত্নে লালন-পালন করিয়াছিলেন। তাঁহার এই অনুগ্রহের কারণে তাঁহাকে আবদুল মুত্তালিব বা মুত্তালিবের গোলাম আখ্যায়িত করা হয় (শিবলী নু'মানী, ১খ, ১০৬)। আবদুল মুত্তালিব দানশীল ছিলেন। তাঁহার পিতাকে তিনি এই ব্যাপারে অতিক্রম করিয়া যান। এই কারণে আরবরা তাঁহাকে مُطْعِمُ طَيْرَ السَّمَاءِ (আকাশের পক্ষীকুলের আহার দানকারী) খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি নিজে শরাব পান করিতেন না। রমযানুল মুবারক আগত হইলে বিশেষভাবে দরিদ্র ও নিঃস্বদিগকে খাবার দিতেন। হেরা গুহায় একাগ্রচিত্তে আল্লাহ্র ধ্যান মগ্ন হওয়ার প্রচলন 'আবদুল মুত্তালিব হইতেই শুরু হইয়াছিল (যুরকানী, ১খ, ৭১)।
যমযম কূপ ইসমা'ঈল (আ)-এর বরকতে আল্লাহ্ তা'আলা দান করিয়াছিলেন। কালের বিবর্তনে এই কূপ বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছিল। বহুকাল পর 'আবদুল মুত্তালিব যখন মক্কার নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন তখন তাঁহার দ্বারা ইহা পুনরাবিষ্কৃত হয়। ইদরীস কানধালাবী ঘটনাটির বিবরণ এইরূপ প্রদান করিয়াছেন: আল্লাহ যখন কূপটি প্রকাশ করিয়া দিবার ইচ্ছা করিলেন তখন খনন করিবার জন্য স্বপ্নযোগে ইহার অবস্থান স্থল 'আবদুল মুত্তালিবকে দেখানো হইল। 'আবদুল মুত্তালিব বলেন, আমি কা'বার হাতীমে নিদ্রাবিভোর ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আগন্তুক আমার নিকট আসিয়া বলিলেনঃ احفر طيبة (তায়বাহকে খনন কর)। আমি বলিলাম, তায়বাহ কি? কিন্তু তিনি কোন কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন। দ্বিতীয় দিন আবার আমি পূর্বোক্ত স্থানে নিদ্রামগ্ন হইলে এই লোকটি আমাকে বলিলেন: حفر برةَ। বাররাহকে খনন কর। আমি তাহাকে বাররাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি আমার্কে কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন। তৃতীয় দিন আবার একই স্থানে ঘুমাইয়া পড়িলাম। এই লোকটি আমাকে বলিলেন: احفر الْمَصْنُونَةَ মাদনূনাহকে খনন কর। আমি তাহাকে মাদনূনাহ্ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কোন কিছু না বলিয়াই চলিয়া গেলেন।
চতুর্থ দিবসে সেই একই স্থানে নিদ্রা গেলাম। তখন সেই একই লোক আমাকে বলিলেনঃ احفر زمزم যমযম খনন কর। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, যমযম কি? সেই দিন তিনি উত্তর দিলেন: لا تُنْزِحُ أَبَدًا وَلَا تُدَمُ تَسْقِى الْحَجِيجَ الْأَعْظَمَ " উহা হইল পানির একটি কুয়া; উহার পানি কখনও নিঃশেষ হয় না, কোন সময় দূষিত হয় না, অগণিত হজ্জ পালনকারীকে পানি পান করাইয়া তৃষ্ণা মিটায়।" অতঃপর স্থানটি চিহ্নিত করিয়া বলিলেন, এখানেই খনন কর। একই স্বপ্ন বারবার দেখায় আবদু'ল মুত্তালিব উহার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হইলেন।
অতঃপর তিনি কুরায়শ গোত্রের অন্যান্যদের নিকট তাঁহার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করিয়া এই স্থানটি খনন করিবার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করিলেন। তাহারা ইহাতে আপত্তি জানাইল। তিনি ইহার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করিয়া স্বীয় পুত্র হারিছকে সঙ্গে লইয়া স্থানটি খনন করিতে লাগিলেন। 'আবদুল মুত্তালিব খনন করিতেন এবং হারিছ মাটি অপসারণ করিতেন। তিনদিন খনন কাজ চালাইবার পর যমযমের চিহ্ন প্রকাশ পাইল। আনন্দে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়া 'আবদুল মুত্তালib বলিলেন: هذا طهى اسماعيل ইহাই ইসমাঈল ('আ)-এর কূপের নিদর্শন (ইদরীস কানধালাবী, সীরাতুল মুসতাফা, দিল্লী ১৯৮১ খৃ., ১খ, পৃ. ৩৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল মুত্তালিবের সন্তানাদি

📄 আবদুল মুত্তালিবের সন্তানাদি


তাঁহার কতজন সন্তানাদি ছিলেন সেই সম্পর্কে কোন সর্বসম্মত অভিমত নাই। আল্লামা দানাপুরী বলেন, সীরাতবিদগণ বলেন, তাঁহার পুত্র সন্তান ছিল দশজন। কিন্তু যেই সকল নাম উল্লেখ করা হয় তাহাতে দেখা যায় দশের অধিক। ইবন হিশাম রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পিতা আবদুল্লাহ্ আবদুল মুত্তালিবের পুত্র দশজন লিখিয়াছেন। ইবন হিশামের বর্ণনামতে তাঁহারা হইলেন: (১) হামযা, (২) আব্বাস, (৩) আবূ তালিব বা আবদে মানাফ, (৪) আবু লাহাব, (৫) যুবায়র, (৬) মুকাওয়াম, (৭) দিরার, (৮) মুগীরা (উপাধি হাজাল), (৯) আবদুল্লাহ্ ও (১০) আল-হারিছ। ইব্নুল আছীর অতিরিক্ত আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করিয়াছেন, তাঁহারা হইলেন: (১১) আবদুল কা'ব, (১২) আল-গীদাক ও (১৩) কাছাম। ইবন হিশামের মতে সম্পদের প্রাচুর্যের দরুণ মুগীরা বা হাজালকে গীদাক বলা হইত। কিন্তু ইবনুল আছীরের বর্ণনামতে তাহারা স্বতন্ত্র দুইজন সন্তান ছিলেন। ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ কোন কোন সূত্রমতে আবদুল মুত্তালিবের আরও একজন পুত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহার নাম আল- আওয়াম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00