📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মক্কায় আবরাহার দূত প্রেরণ

📄 মক্কায় আবরাহার দূত প্রেরণ


আল-মুগাম্মিস পৌছিলে আবরাহা বাস্তব অবস্থা জানিবার জন্য একদল সৈন্যসহ আল-আসওয়াদ ইব্‌ন্ন মাকসূদ নামক এক অশ্বারোহীকে মক্কায় প্রেরণ করিল। সে মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রের সম্পদ লুট করিয়া লইয়া আসিল যাহার মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের দুই শত উটও ছিল। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন কুরায়শ গোত্রের সরদার। কুরায়শ, হুযায়ল ও হারাম শরীফের অধিবাসিগণ প্রথমে আবরাহার সহিত যুদ্ধ করার সংকল্প করিল। কিন্তু তাহারা খোঁজখবর লইয়া আবরাহার সুশিক্ষিত বিশাল বাহিনীর সংবাদ জানিতে পারিয়া অনুধাবন করিল যে, তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি-সামর্থ্য তাহাদের নাই। সুতরাং তাহারা উক্ত সংকল্প ত্যাগ করিল (আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল উনুফ, ১খ, পৃ. ২৫৯)।
আবরাহা হুনাতা আল-হিময়ারীকে এই বলিয়া মক্কায় প্রেরণ করিল যে, এই শহরের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও নেতা কে তাহা অনুসন্ধান করিয়া বাহির করিবে এবং তাহাকে বলিবে, বাদশাহ সুস্পষ্টরূপে বলিয়াছেন যে, আমি তোমাদের সহিত যুদ্ধ করিতে আসি নাই; আমি কেবল এই কা'বা ঘর ভাঙ্গিতে আসিয়াছি। তোমরা যদি উহা রক্ষা করিবার নিমিত্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না কর তবে রক্তপাতের আমার কোন ইচ্ছা নাই। সেই নেতা যদি আমার সহিত যুদ্ধ করার সংকল্প না করেন তবে তাঁহাকে আমার নিকট লইয়া আসিও (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ১৭১-৭২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবরাহার দরবারে আবদুল মুত্তালিব

📄 আবরাহার দরবারে আবদুল মুত্তালিব


অতঃপর হুনাতার প্রস্তাব মত তাহার সহিত আবদুল মুত্তালিব কয়েকজন পুত্রসহ আবরাহার নিকট গমন করিলেন এবং যূনাফ্র-এর সন্ধান করিয়া বন্দীখানায় তাহার সহিত সাক্ষাত করিলেন। যূনাফ্র ছিলেন তাঁহার পুরাতন বন্ধু। আবদুল মুত্তালিব তাহাকে বলিলেন, হে যূনাফ্র! আমরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হইয়াছি সে সম্পর্কে কি আপনার কিছু করণীয় আছে? যুনাফ্র বলিলেন, বাদশাহর হাতে বন্দী এক ব্যক্তি, যে প্রতীক্ষায় প্রহর গুনিতেছে যে, সকালে বা সন্ধ্যায় তাহাকে হত্যা করা হইবে, তাহার আর কিইবা করণীয় থাকিতে পারে। আপনাদের ব্যাপারে আমার কিছুই করণীয় নাই। তবে উনায়স নামে আমার এক বন্ধু আছে যে আবরাহার হস্তীচালক। আমি আপনাকে তাহার নিকট পাঠাইতেছি। আমি আপনার সম্পর্কে তাহাকে অনুরোধ করিব। আপনার মর্যাদা সম্পর্কে তাহাকে অবহিত করিব। বাদশাহর সহিত আপনার সাক্ষাৎ লাভের ব্যবস্থা করিয়া দিতে আনুরোধ করিব যাহাতে আপনি তাহার সাক্ষাতে আপনার যাহা ইচ্ছা বলিতে পারেন। আবদুল মুত্তালিব বলিলেন, ইহাই আমার জন্য যথেষ্ট। অতঃপর যূনাফ্র আবদুল মুত্তালিবকে উনায়সের নিকট প্রেরণ করিলেন এবং তাহাকে বলিয়া পাঠাইলেন যে, আবদুল মুত্তালিব কুরায়শ গোত্রের সরদার এবং মক্কার কূপ (যমযম)-এর তত্ত্বাবধায়ক। এক বর্ণনামতে কূপ-এর স্থলে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রধান বলা হইয়াছে (দ্র. আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল উনুফ, ১খ, পৃ. ২৬১)। তিনি মানুষকে এমনকি বন্য জন্তুকেও আহার-করান।
বাদশাহের সৈন্যরা তাঁহার দুই শত উট লইয়া আসিয়াছে। তাই আপনি বাদশাহর নিকট তাঁহার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করুন এবং আপনার সাধ্যমত তাঁহার উপকার সাধন করুন। হস্তীচালক যূনাফ্রকে প্রতিশ্রুতি দিয়া বলিল, আমি ঐরূপ করিব।
অতঃপর উনায়স এই ব্যাপারে আবরাহাকে বলিল, হে রাজন! কুরায়শ সরদার আপনার দ্বারে আপনার অনুমতি প্রার্থনা করিতেছেন। তিনি মক্কার যমযম কূপেরও তত্ত্বাবধায়ক। অনুগ্রহ করিয়া তাঁহাকে আপনার সহিত সাক্ষাতের অনুমতি দান করুন। তিনি আপনার সহিত' তাঁহার কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ করিবেন। ইহা শুনিয়া আবরাহা তাঁহাকে অনুমতি প্রদান করিল (আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২১৭-১৮; ইব্‌ন কাছীর, আস-সীরাতুন-নাবাবিয়্যা, ১খ., পৃ. ৩৩-৩৪; আল-আযরাকী, আখাবারু মাক্কা, ১খ., পৃ. ১৪৩-৪৪)।
আবদুল মুত্তালিব ছিলেন খুবই সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ও সুমহান ব্যক্তি। তাঁহার ব্যক্তিত্ব অন্যকে আকৃষ্ট করিত। আবরাহা তাঁহাকে দেখিয়া খুবই সম্মান করিল। সে তখন শাহী আসনে উপবিষ্ট ছিল। এমতাবস্থায় আবদুল মুত্তালibকে নিচে বসাইতে তাহার বিবেকে বাধিল। আবার নিজের শাহী আসনের পার্শ্বে হাবশাবাসিগণ আবদুল মুত্তালিবকে আসনে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখুক তাহাও সে অপছন্দ করিল। তাই আবরাহা নিজে আসন হইতে অবতরণ করিয়া গালিচায় বসিল এবং আবদুল মুত্তালibকে তাহার পার্শ্বে বসাইল (প্রাগুক্ত)।
অতঃপর দোভাষীর মাধ্যমে আবরাহা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, আপনার প্রয়োজন কি? তিনি বলিলেন, আপনার লোকজন আমার দুই শত উট লইয়া আসিয়াছে, আমাকে তাহা ফেরত দেওয়া হউক। ইহা শুনিয়া আবরাহা দোভাষীর মাধ্যমে বলিল, আপনাকে দেখিয়া প্রথমে আমি খুবই জ্ঞানী-গুণী ও বুদ্ধিমান বলিয়া মনে করিয়াছিলাম। কিন্তু আপনার দুই শত উট ফেরত পাওয়ার আবেদনে আমি হতবাক হইয়াছি। আপনি জানেন যে, আমি কা'বা গৃহ ধ্বংস করিতে আসিয়াছি, যাহা আপনাদের দৃষ্টিতে সর্বাধিক সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র গৃহ। আপনি সে সম্পর্কে কিছুই বলিলেন না; বরং একটি অতি সামান্য ও ক্ষুদ্র বিষয় লইয়া আমার সহিত আলাপ করিলেন (সিউহারবী, কাসাসুল কুরআন, ৩খ, ৩৬৬)। আবদুল মুত্তালিব বলিলেন, বাদশাহ! আমি হইলাম এই উটের মালিক (তাই আমি সে সম্পর্কে আপনার নিকট আবেদন করিয়াছি)। আর কা'বা গৃহেরও একজন মালিক আছেন, তিনিই উহা রক্ষা করিবেন। আবরাহা বলিল, কেহই আমা হইতে উহা রক্ষা করিতে পারিবে না। আবদুল মুত্তালিব বলিলেন, উহা আপনার ও তাঁহার ব্যাপার (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন-নাবabিয়্যা, ১খ, পৃ. ৬৫)।-
কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, আবদুল মুত্তালিবের সহিত বাক্স গোত্রের নেতা ইয়া'মুর ইন নুফাছা এবং হুযায়ল গোত্রের নেতা খুওয়ায়লিদ ইব্‌ন ওয়াছিলা আবরাহার নিকট গমন করিয়াছিলেন। তাঁহারা কা'বা শরীফ ধ্বংস না করিয়া ফিরিয়া যাওয়ার শর্তে আবরাহাকে তিহামার এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ প্রদান করিতে প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু আবরাহা ইহাতে রাজী হইল না (আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল-উনুফ, ১খ, পৃ. ২৬; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ, পৃ. ১৭২)। অতঃপর আবরাহা আবদুল মুত্তালিবের অনুরোধ রক্ষা করিয়া তাঁহার উটগুলি ফেরত দিল। আবুল মুত্তালিব সেইগুলির গলায় রশি বাঁধিলেন, মাল্য পরিধান করাইলেন এবং বায়তুল্লাহ্ জন্য হারাম শরীফে ছাড়িয়া দিলেন (আস-সুহায়লী, প্রাগুক্ত, ১খ, ২৬৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবরাহা ও তাহার বাহিনীর প্রতি আবদুল মুত্তালিবের বদদু'আ

📄 আবরাহা ও তাহার বাহিনীর প্রতি আবদুল মুত্তালিবের বদদু'আ


অতঃপর আবদুল মুত্তালিব কুরায়শদের নিকট ফিরিয়া আসিলেন এবং তাহাদিগকে সবকিছু অবহিত করিলেন। তিনি তাহাদিগকে আবরাহা বাহিনীর ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের আশংকায় মক্কা হইতে বাহির হইয়া কোনও গিরিগুহায় বা পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় লইতে নির্দেশ দিলেন। আবদুল মুত্তালিব কা'বা শরীফের দরজার কড়া ধরিলেন। কুরায়শদের একটি দলও তাঁহার সহিত অত্যন্ত অনুনয়-বিনয় সহকারে আল্লাহ্র নিকট দুআ করিতে লাগিল। কা'বার দরজার কড়া ধরিয়া আবদুল মুত্তালib নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিলেনঃ
লা হুম্মা ইন্নাল মার'আ ইয়ামনা'উ রহলাহু ফামনা' রহালাক। লা ইয়াগ্লিবান্না সলীবুহুম ওয়া মুখাল্লাফuhum গাদাউন মাহা'লাক। উনসুর আলা আলি সলীব ওয়া আবিদিহিল ইয়াওমা আলিক। বিতনা ফা আমরু মা বি যালিকা ইন কুনতা তারিকাহুম ওয়া কা'ব।
”হে আল্লাহ! প্রত্যেক লোক নিজ গৃহকে শত্রুর আক্রমণ হইতে রক্ষা করিয়া থাকে। অতএব তুমি তোমার গৃহকে রক্ষা কর। তাহাদের ক্রুশ ও শক্তি কোনক্রমেই জয়ী হইতে পারিবে না তোমার ক্ষমতা ও পরাক্রমের বিরুদ্ধে। তাই আজ তুমি তোমার পরবিারবর্গকে সাহায্য কর ক্রুশের পরিবারবর্গ ও উহার উপাসনাকারিগণের বিরুদ্ধে। যদি তুমি তাহাদিগকে ও আমাদের কা'বা গৃহকে এইভাবে ছাড়িয়া দাও (যে, তাহারা কোনরূপ বাধা ব্যতীত কা'বা গৃহ আক্রমণ করে) তবে তাহা তোমার ইচ্ছা” (আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২১৯)।
আবদুল মুত্তালিব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিতেন যে, তাঁহার এই দু'আ কুবল হইবে। এই সীমা লংঘনকারীদিগের প্রতি আল্লাহ্ ভয়ানক শাস্তি অবশ্যই প্রেরণ করিবেন। তাই দু'আ শেষে আবদুল মুত্তালিব কা'বার দরজার কড়া ছাড়িয়া দিলেন এবং কুরায়শ গোত্রের অন্যান্য লোকসহ আত্মরক্ষার্থে নিকটবর্তী পাহাড়ের শীর্ষে গিয়া আরোহণ করিলেন। সেখানে তাহারা ইহা দেখিবার জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিলেন যে, আবরাহা মক্কায় প্রবেশ করিয়া কি করে এবং তাহার কি পরিণতি হয় (ইবন হিশাম, আস-সীরাঃ, ১খ, পৃ. ৬৬)। মুকাতিল (র) বলেন, আবদুল মুত্তালিব তখন উহাদের সহিত মক্কার বাহিরে যান নাই, বরং মক্কায়ই অবস্থান করেন এবং বলেন, আমি এখানেই থাকিব যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁহার ফয়সালা করেন। অতঃপর তিনি ও আবূ মাসউদ আছ-ছাকাফী আবরাহার কীর্তিকলাপ ও তাহার পরিণাম দেখিবার জন্য মক্কার একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করিলেন (আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ., পৃ. ২১৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবরাহার মক্কায় প্রবেশের প্রস্তুতি

📄 আবরাহার মক্কায় প্রবেশের প্রস্তুতি


পরদিন আবরাহা হস্তীবাহিনীসহ মক্কায় প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিল। তাহার সঙ্গে কয়টি হাতী ছিল সেই ব্যাপারে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। ইবন জারীর আত-তাবারী বলেন, তাহার সহিত ১৩টি হাতী ছিল। এই বর্ণনাটিই সঠিক বলিয়া মনে হয়। আল-মাওয়ারদী বর্ণনা করেন যে, তাহার সহিত একটিমাত্র হাতী ছিল, যাহার নাম ছিল মাহমুদ। তবে এই বর্ণনাটি কুরআন কারীমের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নহে। কেননা আল্লাহ তা'আলা সূরা ফীলে (১০৫ নং সূরা) হস্তী অধিপতিদের কথা বলিতে গিয়া বহুবচন ব্যবহার করিয়াছেন (১০৫ : ১)।
আলাম তারা কাইফা ফা'আলা রব্বুকা বি-আসহাবিল ফীল।
যদি হাতী একটিই হইত তবে উহার অধিপতিও একজন হইত, সেই ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা একবচন শব্দ ব্যবহার করিতেন (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীর, ৪খ, পৃ. ৫৫১)।
আবরাহা বায়তুল্লাহ ধ্বংস করিয়া ইয়ামান ফিরিয়া যাইবার জন্য কৃৎসংকল্প ছিল। আবরাহা কা'বা ধ্বংসের জন্য হাতী এই উদ্দেশ্যে লইয়া আসিয়াছিল যে, কা'বার স্তম্ভগুলিতে শিকল বাঁধিয়া অপর প্রান্ত হাতীর গলায় বাঁধিয়া তাড়া করিবে যাহাতে উহার দেওয়াল একসঙ্গেই ভাঙ্গিয়া পড়ে (আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২১৯)।
আল্লাহ্র পক্ষ হইতে আবরাহাকে সতর্ক করার পরদিন সকালে তাহারা হাতীকে যখন নগরীর কা'বা শরীফের দিকে মুখ করাইল তখন নুফায়ল ইব্‌ন হাবীব আসিয়া হাতীর পার্শ্বে দাঁড়াইল এবং উহার কান ধরিয়া বলিল, মাহমুদ! তুমি বসিয়া পড় অথবা যেখান হইতে আসিয়াছিলে ভালয় ভালয় সেখানে ফিরিয়া যাও। কারণ তুমি এখন আল্লাহ্র সম্মানিত শহরে রহিয়াছ। ইহা বলিয়া সে হাতীর কান ছাড়িয়া দিল। তখন হাতীটি বসিয়া পড়িল এবং নুফায়ল একটি পাহাড়ে গিয়া উঠিল। অতঃপর তাহারা হাতীটিকে উঠাইবার জন্য প্রহার করিল কিন্তু হাতী উঠিল না। তাহারা কুঠার দ্বারা উহার মাথায় আঘাত করিল কিন্তু ইহাতেও হাতীটি উঠিল না। তখন তাহারা উহার শুঁড়ে লৌহ শলাকা ঢুকাইয়া দিয়া উহাকে রক্তাক্ত করিল, কিন্তু ইহাতেও হাতীটি উঠিল না। অতঃপর তাহারা ইয়ামানের দিকে উহার মুখ করাইয়া দিল যেন তাহারা ফিরিয়া যাইবে। তখন উহা উঠিয়া দ্রুত চলিতে লাগিল। এইবার তাহারা উহাকে পরীক্ষা করিবার জন্য শাম-এর দিকে ফিরাইয়া দিল। এইবারও হাতীটি দ্রুত চলিতে লাগিল। অতঃপর তাহারা উহাকে পূর্বদিকে ফিরাইয়া দিল, এইবারও সে দ্রুত চলিতে লাগিল। আবার তাহারা উহাকে মক্কার দিকে ফিরাইয়া দিলে হাতীটি আবার বসিয়া পড়িল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাঃ, ১খ, পৃ. ৬৭)। উহা মাটিতে মস্তক রাখিয়া চীৎকার করিতে লাগিল (আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২২০)। প্রকৃতপক্ষে ইহা ছিল আল্লাহর পক্ষ হইতে আবরাহা ও তাহার বাহিনীর জন্য সতর্ক সংকেত যে, তাহারা যে কাজ করিতে অগ্রসর হইতেছে তাহা খুবই গর্হিত ও বিপদজনক কাজ। ইহার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। কিন্তু সেদিকে তাহারা নজর না দিয়া বারংবার হাতীটিকে মক্কার দিকে ধাবিত করিবার ব্যর্থ চেষ্টা করিতে লাগিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00