📄 সুরম্য গীর্জা নির্মাণ
আবরাহা খৃষ্ট ধর্মের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত থাকায় সে রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে বহু ধর্ম প্রচারক নিযুক্ত করে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গীর্জা নির্মাণ করে। রাজধানী সানআয় নির্মাণ করে সর্ববৃহৎ গীর্জা, আরবগণ যাহাকে 'আল-কুলায়স' বা 'আল-কুল্লায়স' বলিয়া আখ্যায়িত করে। আরবীতে 'আল-কালানসুওয়া' অর্থ টুপি। উক্ত প্রাসাদ এত উঁচু ছিল যে, উহার শীর্ষদেশের প্রতি তাকাইলে মাথার টুপি পড়িয়া যাইত। এইজন্য তাহারা উহার এইরূপ নামকরণ করিয়াছিল (আস-সালিহী আশ-শামী, সুবুলুল-হুদা ওয়ার- রাশাদ ফী সীরাতি খায়রিল 'ইবাদ, ১খ, পৃ. ২১৫)।
ইন জারীর ও ইন্ন কাছীর-এর বর্ণনামতে ইহা ছিল নির্মাণ শিল্পের দিক দিয়া অতুলনীয় এক প্রাসাদ যাহার সমতুল্য প্রাসাদ পূর্বে আর কখনও দেখা যায় নাই। আস-সুহায়লী বলেন, এই প্রাসাদ নির্মাণে আবরাহা অনেক অমানুষিক অত্যাচার করে। ইয়ামানবাসীদিগকে জোর-যবরদস্তিমূলকভাবে সে ইহার জন্য শ্রম দিতে বাধ্য করে। সে আইন করিয়াছিল যে, কেহ সূর্যোদয়ের পূর্বে আসিতে না পারিলে তাহার হস্ত কর্তন করা হইবে। একদিন এক শ্রমিকের ঘুম হইতে জাগ্রত হইতে সূর্য উদিত হইয়া গেল। তাহাকে লইয়া তাহার মাতা আবরাহার দরবারে আগমন করিল এবং তাহার হস্ত কর্তন না করিবার জন্য অনুরোধ করিল। কিন্তু আবরাহা তাহার অনুরোধ রক্ষা করিতে রাজি হইল না। অবশেষে নিরাশ হইয়া মহিলা বলিল, আচ্ছা কর, যাহা তোমার ইচ্ছা। আজিকার দিন তোমার এবং আগামী কল্য অন্যের। বাদশাহ বলিল, তোমার অনিষ্ট হউক, কি বলিলে! মহিলাটি বলিল, হাঁ, এই রাজত্ব এক সময় অন্যের ছিল, অন্যের নিকট হইতে তোমার নিকট আসিয়াছে। এমনিভাবে ইহা আবার অন্যের নিকট চলিয়া যাইবে। মহিলার এই উপদেশ তাহার মনে গভীর রেখাপাত করিল। তাই সে ইহার পর হইতে উক্ত আইন বাতিল করিয়া দিল (সালিহী আশ-শামী, সুবুলুল হুদ-ওয়ার-রাশাদ, ১খ, পৃ. ২১৫-১৬)।
উক্ত গীর্জা নির্মাণে আবরাহা ইয়ামানের অঢেল সম্পদ ও হীরা-জহরত, মণি-মানিক্য অকাতরে ব্যয় করে। আবার রাণী বিলকীসের প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ হইতে মহামূল্যবান প্রস্তর ও মণি-মুক্তা আনিয়া উহাকে সুসজ্জিত করে এবং হাতির দাঁত ও আবলুসের দ্বারা মনোরম নকশা তৈরি করে। উহাতে স্বর্ণ-রৌপ্যের ক্রুশ অংকন করিয়া উহাকে আরও সুসজ্জিত করে (প্রাগুক্ত)।
📄 নাজাশীর নিকট আবরাহার পত্র
উক্ত গীর্জার নির্মাণ কর্ম সমাপ্ত হইলে আবরাহা নাজাশীর নিকট এক পত্র লিখিয়া জানাইল, আমি আপনার জন্য সান'আয় এমন একটি গীর্জা নির্মাণ করাইয়াছি যে, পূর্বেকার ইতিহাসে কোনও বাদশাহর জন্য ইহার সমকক্ষ কোনও গীর্জা নির্মাণ করা হইয়াছে বলিয়া জানা যায় না। ইহাতেই আমি ক্ষান্ত নই। এখন আমার আকাঙ্ক্ষা হইল, শহর-নগর চারিদিকের যে সকল লোক মক্কায় কা'বা শরীফের হজ্জ করিবার জন্য গমন করিত তাহারা এই গীর্জায় আগমন করত ইহারই তাওয়াফ ও হজ্জ সমাপন করুক। ইহাই সমগ্র আরববাসীর হজ্জকেন্দ্র হউক (সিউহারবী, কাসাসুল কুরআন, ৩খ, ৩৬৩; ইন্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ১খ, পৃ. ৫৮)।
আবরাহার পত্রের প্রতিক্রিয়া : কা'বা শরীফ ছিল ধর্মগোত্র নির্বিশেষে সকলের নিকট সম্মান ও ভক্তির প্রতীক। সকলেই নিজ নিজ আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী উহার হজ্জ আদায় করা ফরয বলিয়া মনে করিত। আর এই কারণেই খোদ কা'বা শরীফেই বিভিন্ন গোত্রের ৩৬০টি মূর্তি ছিল। এমনকি হযরত ইবরাহীম (আ); ইসমাঈল, ঈসা ও মারয়াম (আ)-এর প্রতিকৃতিও সেখানে স্থাপিত ছিল, যাহা মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে অপসারণ করা হয় (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, বাব ফাতহ মাক্কা, হাদীছ নং ৪২৮৮; সিউহারবী, কাসাস, ৩খ, ৩৬৪)।
নাজাশীর নিকট লিখিত আবরাহার উক্ত পত্রের ভীষণ প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। বলিতে গেলে গোটা আরব ভিতরে ভিতরে ফুঁসিয়া উঠিল। কিন্তু আবরাহার ভয়ে সরাসরি প্রকাশ্যে তাহারা কিছুই বলিতে পারিল না। তখন কিনানা গোত্রের শাখা বনূ ফুকায়স ইবন আদিয়্যি-এর এক লোক ইহা শুনিয়া ভীষণ রাগান্বিত হইল। সে তথায় উপস্থিত হইল (এক বর্ণনামতে সে তখন সান'আয় অবস্থান করিতেছিল) এবং চুপিসারে উক্ত গীর্জায় প্রবেশ করিল। অতঃপর সেখানে মলত্যাগ করিয়া স্বদেশে চলিয়া আসিল (ইন্ন হিশাম, আস-সীরাঃ, ১খ., ৬১; সিউহারবী, কাসাস, ৩খ, ৩১৪)। ইবন সা'দ-এর বর্ণনামতে নুফায়ল ইব্ন্ন হাবীব আল-খাছ'আমী নামক এক লোক এক রাত্রে যখন লোকজনের কোন সাড়াশব্দ ছিল না তখন বিষ্ঠা লইয়া উহার কিবলায় লেপন করিয়া দিল এবং কিছু মরা জন্তুর দেহ একত্র করিয়া উহার মধ্যে ফেলিয়া আসিল (আস্-সালিহী আশ-শামী, সুবুলুল-হুদা ওয়ার-রাশাদ, ১খ, পৃ. ২১৬)।
📄 কা'বা শরীফ ধ্বংসের জন্য আবরাহার প্রস্তুতি
সকাল বেলায় এই সংবাদ শুনিয়া আবরাহা ক্রোধে অস্থির হইয়া পড়িল। সে জিজ্ঞাসা করিল, কে এই কর্ম করিয়াছে? তখন লোকজন তাহাকে জানাইল যে, সমগ্র আরববাসী মক্কায় অবস্থিত যে ঘরের হজ্জ করে সেই ঘরের অনুরক্ত এক লোক যখন আপনার এই কথা শুনিয়াছে যে, আপনি আরববাসীর হজ্জ ও তাওয়াফ এই ঘর কেন্দ্রিক করার নির্দেশ দিয়াছেন তখন রাগান্বিত হইয়া সে আসিয়া এই কর্ম করিয়াছে। আবরাহা ইহা শুনিয়া তেলেবেগুনে জ্বলিয়া উঠিল এবং শপথ করিল, সে অবশ্যই কা'বা গৃহাভিমুখে রওয়ানা হইবে, অতঃপর উহা ধ্বংস করিয়া ফিরিবে (প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪১; ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ, পৃ. ১৭০)। সে আরও শপথ করিল যে, কা'বা গৃহের প্রতিটি প্রস্তর চূর্ণ-বিচূর্ণ করিবে। সে নাজাশীকে পত্র লিখিল এবং এই কাজে তাহার সাহায্যে সে হাতী পাঠাইয়া দিতে অনুরোধ জানাইল। বাদশাহ নাজাশীর মাহমূদ নামে বিরাট একটি হাতী ছিল। এত বিশালকায় ও শক্তিশালী হাতী তখন সারা বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। নাজাশী উহা আবরাহার নিকট পাঠাইয়া দিলেন। অতঃপর ষাট হাজারের সুসজ্জিত বাহিনী লইয়া আবরাহা মক্কাভিমুখে রওয়ানা হইল (আস-সালিহী আশা-শামী, সুবুলুল-হুদা ওয়ার-রাশাদ, ১খ, পৃ. ২১৬)।
আরবগণ যখন শুনিল যে, আবরাহা বায়তুল্লাহ ধ্বংস করিতে রওয়ানা হইয়াছে তখন তাহারা বিষয়টিকে খুবই গুরুতর মনে করিল এবং তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া তাহাকে প্রতিরোধ করা অবশ্য করণীয় বলিয়া মনে করিল। অতঃপর যূনাফর নামক ইয়ামান-এর এক সম্ভ্রান্ত নেতা তাহার গোত্রের লোকজন সমবেত করিল এবং সমগ্র আরবের বিভিন্ন গোত্রে এই বলিয়া দূত প্রেরণ করিল যে, আমি আবরাহার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিব। এই সৎকাজে আপনারা আমাকে সহায়তা করুন। এইভাবে তিনি বেশ কিছু লোক লইয়া আবরাহার বাহিনীকে প্রতিরোধ করিলেন। কিন্তু তিনি ও তাহার সঙ্গিগণ পরাজিত হইলেন। যূনাফরকে বন্দী করিয়া আবরাহার নিকট উপস্থিত করা হইল। আবraহা তাহাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে যূনাফর বলিলেন, হে রাজন! আমাকে হত্যা করিবেন না। কারণ হয়ত বা আপনার সহিত আমার জীবিত থাকা আপনার জন্য উত্তম হইবে। ইহা শুনিয়া আবরাহা তাহাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করিয়া বন্দী করিয়া রাখিল (আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল-উনুফ, ১খ, পৃ. ২৫৭)।
অতঃপর আবরাহা স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মক্কাভিমুখে তাহার যাত্রা অব্যাহত রাখিল। সে যখন খাছ'আম গোত্রের নিকটবর্তী হইল তখন খাছ'আম গোত্রপতি নুফায়ল ইব্ন হাবীৰ খাছ'আম গোত্রের দুইটি শাখা শাহরান ও নাহিস-এর লোকদিগকে লইয়া এবং অন্যান্য আরব গোত্রের লোকজনসহ আবরাহার প্রতিরোধে যুদ্ধে লিপ্ত হইল। কিন্তু এই বিশাল বাহিনীর সঙ্গে আটিয়া উঠিতে পারিল না। পরাজয় বরণের পর নুফায়লকে বন্দী করিয়া আবরাহার সম্মুখে হাজির করা হইল। আবরাহা তাহাকে হত্যা করিতে উদ্যত হইলে নুফায়ল বলিল, হে বাদশাহ! আমাকে হত্যা করিবেন না। এই আরব ভূমিতে আমি আপনার পথপ্রদর্শকরূপে থাকিব এবং খাছ'আম গোত্রের এই শাহরান ও নাহিস শাখাদ্বয় আপনার অনুগত থাকিবে। আবরাহা তাহাকে হত্যা করিল না (প্রাগুক্ত; আল-আযরাকী, আখবার মাক্কা, ১খ, পৃ. ১৪২)।
অতঃপর তাহাকে লইয়া আবরাহা সম্মুখে অগ্রসর হইল। উক্ত নুফায়লই পথ দেখাইয়া লইয়া যাইতেছিল। তাহারা তায়েফ পৌছিলে মাস'উদ ইব্ন মু'আত্তাব ছাকীফ গোত্রের কিছু লোকসহ আগমন করিয়া নিবেদন করিল, হে রাজন! আমরা আপনার দাস। আপনার কথা শুনিব ও আপনার আনুগত্য করিব। আপনার সহিত আমাদের কোনও বিরোধ নাই। আপনি যে গৃহ ধ্বংসের উদ্দেশে রওয়ানা হইয়াছেন তাহা আমাদের উপাসনা গৃহ নহে। উল্লেখ্য যে, তাহাদের উপাসনা গৃহ ছিল লাত কেন্দ্রিক যাহা তায়েফ অবস্থিত ছিল। তাহারা উহাকে কা'বা গৃহের ন্যায়ই সম্মান করিত। মাসউদ আরও বলিল, আপনি তো সেই গৃহের উদ্দেশেই রওয়ানা হইয়াছেন যাহা মক্কায় অবস্থিত। আমরা আপনার সহিত এমন এক লোককে পাঠাইতেছি যে আপনাকে পথ দেখাইয়া সেখানে লইয়া যাইবে। অতঃপর আবরাহা তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিল। তাহারা প্রতিশ্রুতি মুতাবিক মক্কায় পথ দেখাইয়া লইয়া যাইবার জন্য 'আবু রিগাল' নামক এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করিল। আবরাহা আবূ রিগালকে সঙ্গে লইয়া সেখান হইতে রওয়ানা হইল। 'আল-মুগামিস' নামক স্থানে পৌছিলে আবূ রিগালের মৃত্যু হইল। সে আবরাহার পথপ্রদর্শক হওয়ায় আরববাসী তাহার প্রতিও প্রচণ্ডরূপে ক্ষুব্ধ হয়। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাহার কবরে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে। আরববাসী বংশ-পরম্পরায় তাহার কবরে পাথর নিক্ষেপ করে (আস-সালিহী আশ-শামী, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ২১৭)। ইহার কথা আরব কবিগণ তাহাদের কবিতায়ও উল্লেখ করিয়াছেন। যেমন উমায়্যা যুগের খ্যাতিমান কবি জারীর এই সম্পর্কে বলেনঃ
ইযা মাতা আল-ফারাযদাকু ফারজুমূহু কামা তারমূনাক্বাবরা আবী রিগāl।
"ফারাযদাক যখন মৃত্যুবরণ করিবে তখন তোমরা তাহার কবরে প্রস্তর নিক্ষেপ করিও যেমনিভাবে তোমরা প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়া থাক আবূ রিগালের কবরে" (আল-আযরাকী, আখবার মাক্কা, ১খ, ১৪২-৪৩; ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া, ওয়ান-নিহায়া)।
📄 মক্কায় আবরাহার দূত প্রেরণ
আল-মুগাম্মিস পৌছিলে আবরাহা বাস্তব অবস্থা জানিবার জন্য একদল সৈন্যসহ আল-আসওয়াদ ইব্ন্ন মাকসূদ নামক এক অশ্বারোহীকে মক্কায় প্রেরণ করিল। সে মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রের সম্পদ লুট করিয়া লইয়া আসিল যাহার মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের দুই শত উটও ছিল। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন কুরায়শ গোত্রের সরদার। কুরায়শ, হুযায়ল ও হারাম শরীফের অধিবাসিগণ প্রথমে আবরাহার সহিত যুদ্ধ করার সংকল্প করিল। কিন্তু তাহারা খোঁজখবর লইয়া আবরাহার সুশিক্ষিত বিশাল বাহিনীর সংবাদ জানিতে পারিয়া অনুধাবন করিল যে, তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি-সামর্থ্য তাহাদের নাই। সুতরাং তাহারা উক্ত সংকল্প ত্যাগ করিল (আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল উনুফ, ১খ, পৃ. ২৫৯)।
আবরাহা হুনাতা আল-হিময়ারীকে এই বলিয়া মক্কায় প্রেরণ করিল যে, এই শহরের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও নেতা কে তাহা অনুসন্ধান করিয়া বাহির করিবে এবং তাহাকে বলিবে, বাদশাহ সুস্পষ্টরূপে বলিয়াছেন যে, আমি তোমাদের সহিত যুদ্ধ করিতে আসি নাই; আমি কেবল এই কা'বা ঘর ভাঙ্গিতে আসিয়াছি। তোমরা যদি উহা রক্ষা করিবার নিমিত্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না কর তবে রক্তপাতের আমার কোন ইচ্ছা নাই। সেই নেতা যদি আমার সহিত যুদ্ধ করার সংকল্প না করেন তবে তাঁহাকে আমার নিকট লইয়া আসিও (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ১৭১-৭২)।