📄 মহাভারতের ভবিষ্যদ্বাণী
কল্কি অবতার তথা শেষ নবী সম্পর্কে হিন্দু ধর্মের অন্তত উনিশটি ধর্মগ্রন্থে ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে। তন্মধ্যে হইতে এখানে মহাভারতে উল্লিখিত ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হইতেছে।
মহাভারতের বনপর্বে কল্কি অবতারের যে পরিচয় প্রদান করা হইয়াছে তাহা নিম্নরূপ:
(১) “তিনি মহাবীর্যবান যোদ্ধা এবং তাঁহার বহু যোদ্ধা সহচর থাকিবে”। বলা বাহুল্য হযরত মুহাম্মাদ (স) নিজে যোদ্ধা ছিলেন এবং তাঁহার সহচরবৃন্দ সবাই যোদ্ধা ছিলেন।
(২) “তিনি ধর্মজয়ী সম্রাট”। বৈদিক ধর্মের আর্য-ঋষিদের কাহারও রাজত্বের সহিত কোন সম্পর্ক ছিল না। একমাত্র কল্কি অবতার সম্পর্কেই বলা হইয়াছে যে, তিনি ধর্মজয়ী হইবেন। অতএব তিনি মুহাম্মাদ (স) বৈ অন্য কেহ নন।
(৩) “বিধর্মীদের বিনাশ সাধন শেষে তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞ তথা কুরবানী করিবেন”। হযরত মুহাম্মাদ (স) বহু যুদ্ধে ধর্মদ্রোহী শত্রুগণকে নিপাত করিয়া পরিশেষে মক্কা গমন করেন এবং হজ্জব্রত ও কুরবানী সম্পাদন করেন। এই হজ্জকে বিদায় হজ্জ বলা হয়।
(৪) “তিনি বিধাতা-বিহিত অর্থাৎ ঐশী বিধান লাভ করিবেন”। হযরত মুহাম্মাদ (স) ঐশী বিধান কুরআন প্রাপ্ত হন এবং উহাকে বিশ্বময় প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করেন।
(৫) "তিনি স্বদেশে থাকিবেন না, বরং রক্ষণীয় কাননযুক্ত এক স্থানে গিয়া অবস্থান করিবেন"। হযরত মুহাম্মাদ (স) স্বদেশ ত্যাগ করিয়া মদীনায় গিয়া অবস্থান করেন। মদীনা ছিল অত্যন্ত রক্ষণীয় কাননযুক্ত স্থান।
(৬) "তাঁহার যুগে সভ্য যুগ আসিবে এবং অধর্ম ঘুচিবে"। হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁহার যুগে অধর্ম বিলুপ্ত করিয়া সত্য প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই তাঁহার উপর অবতীর্ণ কুরআন ঘোষণা করিয়াছে, "সত্য আসিয়াছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হইয়াছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হইবে।" (দ্র. ১৭:৮১)।
(৭) “পূর্বে যেই আশ্রমে পাষণ্ডের দল পাপ কোলাহল করিত, কল্কি অবতার উহা উদ্ধার করেন”। মক্কার শ্রেষ্ঠ ধর্মশালা আল্লাহর ঘর কা'বায় প্রতিমা পূজারিগণের ৩৬০-টি প্রতিমা ছিল হযরত মুহাম্মাদ (স) কা'বা শরীফকে আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য প্রতিমামুক্ত করেন।
(৮) "তিনি বদ্ধমুল কুসংস্কারগুলি নির্মূল করিবেন"। হযরত মুহাম্মাদ (স) ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে সকল কুসংস্কার নির্মূল করেন এবং বর্ণভেদ ও জাতিভেদ উচ্ছেদ করিয়া ধর্ম পালনে সকলকে সমান অধিকার প্রদান করেন।
(৯) "তিনি দান ব্রতের নিয়ম প্রবর্তন করিবেন"। ইসলামে প্রত্যেক ধনবান ব্যক্তির আয়ের উপর শতকরা আড়াই টাকা 'যাকাত' প্রদান করা অপরিহার্য করা হইয়াছে।
📄 কল্কি পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স)
হিন্দু ধর্মের বহু ধর্মগ্রন্থে কল্কি অবতার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত গ্রন্থসমূহ উল্লেখযোগ্য: মৎস্য পুরাণ, কর্ম পুরাণ, বরাহ পুরাণ, নরসিংহ পুরাণ, দেবী ভাগবত, শ্রীমদ্ভাগবত, ভবিষ্য পুরাণ, ব্রহ্মকৈবর্ত পুরাণ, সুবাদ পুরাণ, কল্কি পুরাণ, জৈন মহাডস, বহুধর্ম পুরাণ, হরিভ, অগ্নি পুরাণ, বিষ্ণু ধর্মত্র, বায়ু পুরাণ ও মহাভারত। মহাভারতের ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনার পর এক্ষণে আমরা কল্কি পুরাণে উল্লিখিত কল্কি অবতারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলিয়া ধরিতেছি।
📄 (এক) মূর্তিপূজা বিনাশী কল্কি অবতার
কল্কি পুরাণ ৩য় অংশ ১৬শ অধ্যায়ে বলা হইয়াছে, "তিনি রাজ-সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইলে বেদ, ধর্ম, কৃতযুগ, দেবগণ স্থাবর জঙ্গমাত্মক নিখিল জীব সকলেই হৃষ্টপুষ্ট ও সুপ্রীত হইবেন" (বেদ ও পুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ, পৃ. ১২৯)।
📄 (দুই) মাংসভোজী কল্কি
কল্কি পুরাণ, ৩য় অংশ ১৬শ অধ্যায়, ১০ম মন্ত্রে বলা হইয়াছে: "অনন্তর তিনি নানাবিধ চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, পেয়, পূপ, শঙ্কুলি, যাবক, সদ্যোমাংস, ফলমূল ও অপরাপর নানা প্রকার দ্রব্য দ্বারা দ্বিজাতিবর্গকে যথাবিধি ভোজন করান” (ঐ, পৃ. ১১৮)।
বলা বাহুল্য, এইরূপে চর্ব, চোষ্য লেহ্য, পেয়, মাংসভোজী ঋষি এবং মূর্তি সংহারক ধর্মবিজয়ী সম্রাট আর্য-ঋষিদের ইতিহাসে খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। সুতরাং তিনি ম্লেচ্ছ ঋষি হযরত মুহাম্মাদ (স) ভিন্ন অন্য কেহ নহেন।