📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সাহায্যকারী ঋষি

📄 সাহায্যকারী ঋষি


হইলেও মনেপ্রাণে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন। তাই হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁহার মৃত্যসংবাদ পাওয়ার পর তাঁহার জন্য গায়েবানা জানাযা আদায় করেন। মন্ত্রে হয়ত এই কারণেই ঋষি বলা হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দশ হাজার অনুচরসহ মামহ

📄 দশ হাজার অনুচরসহ মামহ


ঋগ্বেদ ৫ম মণ্ডল ২৭ সুক্ত ৯ম শ্লোকে আছে, “চক্রবিশিষ্ট যানের অধিকারী সত্যবাদী ও সত্যপ্রিয় চরম জ্ঞান, শক্তিশালী ও মুক্তহস্ত 'মামহ' আমাকে তাহার বাণী দ্বারা অনুগ্রহ করিয়াছেন। সর্বশক্তিমানের পুত্র সকল সৎ গুণের অধিকারী নিখিল বিশ্বের হিতকারী দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হইবেন” (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ১০৫)।
ঋগ্বেদে মোট উনিশটি স্থানে মামহ ঋষির উল্লেখ রহিয়াছে এবং তাঁহার কাছে বিভিন্ন মন্ত্রে বিভিন্নরূপে অনুগ্রহ ও সাহায্য প্রার্থনা করা হইয়াছে। ১০৯ সুক্ত দ্বিতীয় শ্লোকে 'জামাত' ও 'সালাত' শব্দও ব্যবহৃত হইয়াছে। মূলত 'মামহ', 'জামাত' ও 'সালা' শব্দ সংস্কৃত ভাষার নহে। সম্ভবত উহা হিব্রু ও ইরানী ভাষা হইতে আহরিত হইয়াছে। শাস্ত্রে উল্লিখিত সকল ঋষির মধ্যে একমাত্র মামহকে নূতন ঋষি বলা হইয়াছে। বেদের বিভিন্ন স্থানে মামহ ঋষির যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পাইয়াছে তাহা একত্রে নিম্নে প্রদত্ত হইল:
(এক) অথর্ব বেদে ২০তম মণ্ডল ৯ম অনুবাক ৩১ সুক্তমতে 'মাল্লহ' ঋষি মরুস্থলবাসী উষ্ট্রারোহী হইবেন।
(দুই) ঋগ্বেদ ৫ম মণ্ডল ২৭ সুক্তমতে মামহ ঋষি দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হইবেন।
(তিন) ঋগ্বেদ ১ম মণ্ডল ১০৯ সুক্ত ২য় শ্লোকমতে মামহ ঋষির যুগে বেদ ছাড়া অন্য গ্রন্থ রচিত হইবে এবং যজ্ঞে উহা প্রকাশ্যে পঠিত হইবে (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, পৃ. ১০৭)।
উক্ত লক্ষণাবলী হইতে জানা গেল, মামহ মহাপুরুষ আর্যজাতি বহির্ভূত মরুনিবাসী অষ্ট্রারোহী হইবেন। যেহেতু আর্যজাতির জন্য মনু সংহিতামতে উষ্ট্রারোহণ, উষ্ট্রের মাংস ভক্ষণ ও দুগ্ধ পান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও জঘন্য পাপ, তাই উক্ত ঋষি আর্যভুক্ত হইতে পারেন না। তেমনি আর্য ঋষিগণের কেহই দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হন নাই। তেমনি আর্যশাস্ত্র বেদ ছাড়া নূতন স্তোত্র রচনা করিয়া যজ্ঞে পাঠ করিবার অনুমতি নাই। সুতরাং উক্ত ঋষি অবশ্যই ভারত ও আর্য বহির্ভূত ঋষি হইবেন।
এক্ষণে ইতিহাসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিলে দেখা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদ (স) আরবের মরুস্থলবাসী ও উষ্ট্রারোহী ছিলেন। তিনি দশ সহস্র অনুচরসহ মক্কাবিজয় করিয়া পৃথিবীখ্যাত হন। তেমনি তাঁহার উপর কুরআন নামক নূতন স্তোত্র অবতীর্ণ হয় যাহা প্রতিটি নামায ও বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানে পাঠ করা অপরিহার্য করা হইয়াছে। সুতরাং আরব মুরুনিবাসী উষ্ট্রারোহী নূতন স্তোত্র পাঠকারী ও দশ সহস্র অনুচর-এর নেতা হযরত মুহাম্মাদ (স)-ই যে 'মামহ' ঋষি তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মহাভারতের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 মহাভারতের ভবিষ্যদ্বাণী


কল্কি অবতার তথা শেষ নবী সম্পর্কে হিন্দু ধর্মের অন্তত উনিশটি ধর্মগ্রন্থে ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে। তন্মধ্যে হইতে এখানে মহাভারতে উল্লিখিত ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হইতেছে।
মহাভারতের বনপর্বে কল্কি অবতারের যে পরিচয় প্রদান করা হইয়াছে তাহা নিম্নরূপ:
(১) “তিনি মহাবীর্যবান যোদ্ধা এবং তাঁহার বহু যোদ্ধা সহচর থাকিবে”। বলা বাহুল্য হযরত মুহাম্মাদ (স) নিজে যোদ্ধা ছিলেন এবং তাঁহার সহচরবৃন্দ সবাই যোদ্ধা ছিলেন।
(২) “তিনি ধর্মজয়ী সম্রাট”। বৈদিক ধর্মের আর্য-ঋষিদের কাহারও রাজত্বের সহিত কোন সম্পর্ক ছিল না। একমাত্র কল্কি অবতার সম্পর্কেই বলা হইয়াছে যে, তিনি ধর্মজয়ী হইবেন। অতএব তিনি মুহাম্মাদ (স) বৈ অন্য কেহ নন।
(৩) “বিধর্মীদের বিনাশ সাধন শেষে তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞ তথা কুরবানী করিবেন”। হযরত মুহাম্মাদ (স) বহু যুদ্ধে ধর্মদ্রোহী শত্রুগণকে নিপাত করিয়া পরিশেষে মক্কা গমন করেন এবং হজ্জব্রত ও কুরবানী সম্পাদন করেন। এই হজ্জকে বিদায় হজ্জ বলা হয়।
(৪) “তিনি বিধাতা-বিহিত অর্থাৎ ঐশী বিধান লাভ করিবেন”। হযরত মুহাম্মাদ (স) ঐশী বিধান কুরআন প্রাপ্ত হন এবং উহাকে বিশ্বময় প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করেন।
(৫) "তিনি স্বদেশে থাকিবেন না, বরং রক্ষণীয় কাননযুক্ত এক স্থানে গিয়া অবস্থান করিবেন"। হযরত মুহাম্মাদ (স) স্বদেশ ত্যাগ করিয়া মদীনায় গিয়া অবস্থান করেন। মদীনা ছিল অত্যন্ত রক্ষণীয় কাননযুক্ত স্থান।
(৬) "তাঁহার যুগে সভ্য যুগ আসিবে এবং অধর্ম ঘুচিবে"। হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁহার যুগে অধর্ম বিলুপ্ত করিয়া সত্য প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই তাঁহার উপর অবতীর্ণ কুরআন ঘোষণা করিয়াছে, "সত্য আসিয়াছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হইয়াছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হইবে।" (দ্র. ১৭:৮১)।
(৭) “পূর্বে যেই আশ্রমে পাষণ্ডের দল পাপ কোলাহল করিত, কল্কি অবতার উহা উদ্ধার করেন”। মক্কার শ্রেষ্ঠ ধর্মশালা আল্লাহর ঘর কা'বায় প্রতিমা পূজারিগণের ৩৬০-টি প্রতিমা ছিল হযরত মুহাম্মাদ (স) কা'বা শরীফকে আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য প্রতিমামুক্ত করেন।
(৮) "তিনি বদ্ধমুল কুসংস্কারগুলি নির্মূল করিবেন"। হযরত মুহাম্মাদ (স) ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে সকল কুসংস্কার নির্মূল করেন এবং বর্ণভেদ ও জাতিভেদ উচ্ছেদ করিয়া ধর্ম পালনে সকলকে সমান অধিকার প্রদান করেন।
(৯) "তিনি দান ব্রতের নিয়ম প্রবর্তন করিবেন"। ইসলামে প্রত্যেক ধনবান ব্যক্তির আয়ের উপর শতকরা আড়াই টাকা 'যাকাত' প্রদান করা অপরিহার্য করা হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কল্কি পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স)

📄 কল্কি পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স)


হিন্দু ধর্মের বহু ধর্মগ্রন্থে কল্কি অবতার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত গ্রন্থসমূহ উল্লেখযোগ্য: মৎস্য পুরাণ, কর্ম পুরাণ, বরাহ পুরাণ, নরসিংহ পুরাণ, দেবী ভাগবত, শ্রীমদ্ভাগবত, ভবিষ্য পুরাণ, ব্রহ্মকৈবর্ত পুরাণ, সুবাদ পুরাণ, কল্কি পুরাণ, জৈন মহাডস, বহুধর্ম পুরাণ, হরিভ, অগ্নি পুরাণ, বিষ্ণু ধর্মত্র, বায়ু পুরাণ ও মহাভারত। মহাভারতের ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনার পর এক্ষণে আমরা কল্কি পুরাণে উল্লিখিত কল্কি অবতারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলিয়া ধরিতেছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00