📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ
ঋগ্বেদ ২য় মণ্ডল ৫ম সুক্ত ৯ম মন্ত্রে বলা হইয়াছে:
"সহায় রহিত সুশ্রবা নামক রাজার সহিত যুদ্ধ করার জন্য যে বিংশ নরপতি ও ষাট হাজার অনুচর আসিয়াছিল, হে প্রসিদ্ধ ইন্দ্র! তুমি শত্রুদের অলক্ষ্যে রথচক্র দ্বারা তাহাদিগকে পরাজিত করিয়াছ” (কল্কি অবতার, পৃ. ১০২)।
এখানে লক্ষণীয় যে, ইন্দ্র যাঁহার সাহাযার্থে শত্রুগণকে পরাজিত করেন, তিনি সহায় রহিত অর্থাৎ অনাথ হইবেন। তাঁহার নাম সুশ্রুবা অর্থাৎ প্রশংসিত অর্থবোধক হইবে। তিনি রাজাও হইবেন। তাঁহার শত্রুসংখ্যা বিংশ নরপতিসহ ষাট হাজার নিরানব্বইজন হইবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দিতেছে যে, হযরত মুহাম্মাদ (স) অনাথ ছিলেন। মক্কায় তিনি সহায় রহিত ছিলেন। ফলে তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করিতে বাধ্য হন। ইতিহাস ইহাও বলিতেছে যে, তিনি একাধারে পয়গাম্বর ও রাজা ছিলেন। ইতিহাস আরও সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন সমগ্র আরববাসীর সংখ্যা ষাট হাজার ছিল এবং বিশ গোত্রের বিশ গোত্রপতি ছিল। তাহারা প্রারম্ভে সকলেই ছিল হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর শত্রু।
অথর্ব বেদের ২০ কাণ্ড ৯ম অনুবাক ৩২ সুক্তের ১ম মন্ত্রে বলা হইয়াছে: "নরাশংস ষাট হাজার নব্বুইজন শত্রুর মধ্যে দৃষ্ট হইতেছে” (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ১০২-১০৩)। সুতরাং চতুর্বেদে উল্লিখিত নরাশংস ও সুশ্রবা যে একই ব্যক্তি এবং তিনি হযরত মুহাম্মাদ (স) তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।
উল্লেখ্য, এই মন্ত্রে সুশ্রবা রাজর্ষি মুহাম্মাদ (স)-এর স্বর্গরাজ্য ইন্দ্র তথা আল্লাহ তা'আলার গায়বী মদদে ষাট হাজার নিরানব্বইজন শত্রুর উপর বিজয় লাভের সুসংবাদ দান করা হইয়াছে।
📄 অতিথিগণকে আশ্রয়দাতা
ঋগ্বেদের ১ম মণ্ডল ৫৩ সুক্ত ১০ মন্ত্রে বলা হইয়াছে, “হে ইন্দ্র! তুমি বহু কীর্তিবান শত্রু হত্যাকারী অস্ত্রচালক রাজাকে তোমার পরিত্রাণ ও প্রতিপালন সাধন দ্বারা রক্ষা করিয়াছ। তুমি এই আদর্শ চরিত্রবান পূজনীয় রাজার জন্য সাহায্যকারী অতিথিগণকে আশ্রয় দানকারী ও চলমান মানবজীবনের সহিত ধনবানের ন্যায় মর্যাদাকর আচরণকারী ঋষি দান কর" (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ১০৪)।
ইতিহাসের পাতা বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায় যে, উক্ত আদর্শ চরিত্রবান পূজনীয় শত্রু সংহারক রাজা হইলেন হযরত মুহাম্মাদ (স) এবং তাঁহার সার্থক চলমান অতিথিবৃন্দকে আশ্রয়দাতা ও তাঁহাকে সাহায্যকারী ঋষি হইলেন আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজাশী। তিনি হিজরতকারী সাহাবীগণকে শুধু আশ্রয় দিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, পরন্ত তাহাদের শত্রুদের তাহাদিগকে ফিরাইয়া দেয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি খৃস্টান বাদশাহ
📄 সাহায্যকারী ঋষি
হইলেও মনেপ্রাণে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন। তাই হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁহার মৃত্যসংবাদ পাওয়ার পর তাঁহার জন্য গায়েবানা জানাযা আদায় করেন। মন্ত্রে হয়ত এই কারণেই ঋষি বলা হইয়াছে।
📄 দশ হাজার অনুচরসহ মামহ
ঋগ্বেদ ৫ম মণ্ডল ২৭ সুক্ত ৯ম শ্লোকে আছে, “চক্রবিশিষ্ট যানের অধিকারী সত্যবাদী ও সত্যপ্রিয় চরম জ্ঞান, শক্তিশালী ও মুক্তহস্ত 'মামহ' আমাকে তাহার বাণী দ্বারা অনুগ্রহ করিয়াছেন। সর্বশক্তিমানের পুত্র সকল সৎ গুণের অধিকারী নিখিল বিশ্বের হিতকারী দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হইবেন” (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ১০৫)।
ঋগ্বেদে মোট উনিশটি স্থানে মামহ ঋষির উল্লেখ রহিয়াছে এবং তাঁহার কাছে বিভিন্ন মন্ত্রে বিভিন্নরূপে অনুগ্রহ ও সাহায্য প্রার্থনা করা হইয়াছে। ১০৯ সুক্ত দ্বিতীয় শ্লোকে 'জামাত' ও 'সালাত' শব্দও ব্যবহৃত হইয়াছে। মূলত 'মামহ', 'জামাত' ও 'সালা' শব্দ সংস্কৃত ভাষার নহে। সম্ভবত উহা হিব্রু ও ইরানী ভাষা হইতে আহরিত হইয়াছে। শাস্ত্রে উল্লিখিত সকল ঋষির মধ্যে একমাত্র মামহকে নূতন ঋষি বলা হইয়াছে। বেদের বিভিন্ন স্থানে মামহ ঋষির যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পাইয়াছে তাহা একত্রে নিম্নে প্রদত্ত হইল:
(এক) অথর্ব বেদে ২০তম মণ্ডল ৯ম অনুবাক ৩১ সুক্তমতে 'মাল্লহ' ঋষি মরুস্থলবাসী উষ্ট্রারোহী হইবেন।
(দুই) ঋগ্বেদ ৫ম মণ্ডল ২৭ সুক্তমতে মামহ ঋষি দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হইবেন।
(তিন) ঋগ্বেদ ১ম মণ্ডল ১০৯ সুক্ত ২য় শ্লোকমতে মামহ ঋষির যুগে বেদ ছাড়া অন্য গ্রন্থ রচিত হইবে এবং যজ্ঞে উহা প্রকাশ্যে পঠিত হইবে (কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, পৃ. ১০৭)।
উক্ত লক্ষণাবলী হইতে জানা গেল, মামহ মহাপুরুষ আর্যজাতি বহির্ভূত মরুনিবাসী অষ্ট্রারোহী হইবেন। যেহেতু আর্যজাতির জন্য মনু সংহিতামতে উষ্ট্রারোহণ, উষ্ট্রের মাংস ভক্ষণ ও দুগ্ধ পান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও জঘন্য পাপ, তাই উক্ত ঋষি আর্যভুক্ত হইতে পারেন না। তেমনি আর্য ঋষিগণের কেহই দশ সহস্র অনুচরসহ বিখ্যাত হন নাই। তেমনি আর্যশাস্ত্র বেদ ছাড়া নূতন স্তোত্র রচনা করিয়া যজ্ঞে পাঠ করিবার অনুমতি নাই। সুতরাং উক্ত ঋষি অবশ্যই ভারত ও আর্য বহির্ভূত ঋষি হইবেন।
এক্ষণে ইতিহাসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিলে দেখা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদ (স) আরবের মরুস্থলবাসী ও উষ্ট্রারোহী ছিলেন। তিনি দশ সহস্র অনুচরসহ মক্কাবিজয় করিয়া পৃথিবীখ্যাত হন। তেমনি তাঁহার উপর কুরআন নামক নূতন স্তোত্র অবতীর্ণ হয় যাহা প্রতিটি নামায ও বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানে পাঠ করা অপরিহার্য করা হইয়াছে। সুতরাং আরব মুরুনিবাসী উষ্ট্রারোহী নূতন স্তোত্র পাঠকারী ও দশ সহস্র অনুচর-এর নেতা হযরত মুহাম্মাদ (স)-ই যে 'মামহ' ঋষি তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।