📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহে হযরত মুহাম্মদ (স)

📄 বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহে হযরত মুহাম্মদ (স)


বৈদিক ধর্মে নবী ও রাসূলকে অবতার বলা হয়। আল্লাহ্ তরফ হইতে অবতারিত মহাপুরুষকে অবতার বলা হয়। বৈদিক ধর্মের প্রাচীনতম গ্রন্থ পুরাণে বর্ণিত চব্বিশজন অবতারের তেইশতম অবতার হইলেন বুদ্ধদেব। হিন্দু পণ্ডিতবর্গের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত ইহাই। এক্ষণে তাহারা তাহাদের চব্বিশতম বা অন্তিম অবতার তথা কল্কি অবতার হিসাবে হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে নির্ধারণ করিয়াছেন। বৈদিক শাস্ত্রবিদ ধর্মাচার্য ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, পুরাণে বর্ণিত চতুর্বিংশতম অবতারের বর্ণনা এবং ভগবত পুরাণের দ্বাদশ অধ্যায়ে যাবতীয় বৃত্তান্ত দেখিয়া প্রমাণিত যে, একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-এর সঙ্গে উহার পরিপূর্ণ মিল রহিয়াছে। তখন আমার বিশ্বাস হইল যে, তিনিই কল্কি অবতার এবং তাঁহার প্রদর্শিত ধর্ম দ্বারা বৈদিক ধর্ম নূতনরূপে পরিপুষ্টতা লাভ করিয়াছে। এমন একদিন নিশ্চয় আসিবে যখন সকলে এই তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করিবে এবং ভারতের ব্রাহ্মণ, শৈব, শাক্ত, জৈন হউক বা বৌদ্ধ হউক, সকল
১০৩ শ্রেণীর মানুষ দ্বারা ইসলাম ধর্ম স্বীকৃতি লাভ করিবে (ডঃ দেব প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৫৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভবিষ্য পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স)

📄 ভবিষ্য পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স)


ভবিষ্য পুরাণের প্রতিসর্গ পর্বের ৩য় খণ্ড ৩য় অধ্যায়ে ৫ম হইতে ৮ম মন্ত্রে বলা হইয়াছে: "রাজা ভোজের রাজত্বকালে মোহাম্মাদ (স) আবির্ভূত হন। কারণ, পৃথিবীব্যাপী ধর্মের অধঃপতন দেখিয়া রাজা ভোজ আরব গমন করেন। সেই সময় সহচর পরিমণ্ডিত অবস্থায় মোহাম্মদ (স) নামক ম্লেচ্ছ আচার্য সেখানে অবস্থান করিতেছিলেন। রাজা ভোজ মরুস্থল নিবাসী মহাদেবকে গঙ্গাজল স্নাত করিয়া পঞ্চাগব্যযুক্ত চন্দনাদি দ্বারা পূজা করিয়া শিবকে সন্তুষ্ট করেন। অতঃপর এই প্রার্থনা করেন, হে মরুস্থলবাসী ত্রিপুরাসুর নামক উন্নত জ্ঞানের অধিকারী, ম্লেচ্ছগণ দ্বারা সুরক্ষিত, পবিত্র ও সত্য, চৈতন্য ও স্বরূপানন্দ শঙ্করী! আপনাকে নমস্কার। আমাকে আপনি চরণতলে উপস্থিতরূপে গ্রহণ করুন (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ., ৫১)।
পুরাণের উক্ত অধ্যায়ের পঞ্চদশ হইতে সপ্তদশ মন্ত্রে বলা হইয়াছেঃ "রাজা ভোজের নিকট একটি প্রস্তর নির্মিত মূর্তি ছিল। মোহাম্মদ (স) উহা দেখিয়া বলিলেন, যাহাকে তোমরা পূজা কর উহাও আমার উচ্ছিষ্ট খাইতে পারে। ইহা বলিয়া সত্যই মূর্তিটিকে উচ্ছিষ্ট খাওয়াইয়া দিলেন। এতদশ্রবণে ও দর্শনে রাজা ভোজ হতবাক হইয়া গেলেন এবং তিনি ম্লেচ্ছ ধর্ম গ্রহণ করিলেন।"
উক্ত অধ্যায়ের ত্রয়োবিংশতম মন্ত্র হইতে অষ্টাবিংশতম মন্ত্রের বলা হইয়াছে: "রাত্রিতে এক দেবদূত পৈশাচদেহ ধারণ করিয়া রাজা ভোজকে বলিলেন, হে রাজন! যদিও তোমার ধর্ম সর্বাপেক্ষা উত্তম ধর্ম, কিন্তু এক্ষণে ঈশ্বরের। আজ্ঞানুসারে উহাকে পৈশাচ ধর্ম নামে আখ্যায়িত করিব। এবার লিঙ্গচ্ছেদিত, টিকিবিহীন শ্মশ্রুধারী, উচ্চস্বরে আহবানকারী (আযান দানকারী) আমার প্রিয় হইবে। তিনি বিশুদ্ধ পশু ভক্ষণকারী হইবেন, কুশ দ্বারা যদ্রুপ সংস্কার হয়, তদ্রুপ তিনি মুসল দ্বারা সংস্কার করিবেন। এইভাবে মুসলমান জাতি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মসমূহকে সংস্কার করিবেন, ইহাই আমার পৈশাচ ধর্ম হইবে। ইহা বলিয়া দেবদূত অন্তর্হিত হইলেন” (ডঃ দেবপ্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৫৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অথর্ববেদে হযরত মুহাম্মদ (স)

📄 অথর্ববেদে হযরত মুহাম্মদ (স)


বৈদিক ধর্মের শাস্ত্র গ্রন্থ হইল চতুর্বেদ। যথা ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। এই চতুর্বেদেই মুহাম্মাদ (স)-এর নাম ও পরিচিতি রহিয়াছে। এক্ষণে অথর্ববেদে মুহাম্মাদ (স) সম্পর্কিত বর্ণনার উল্লেখ করা হইতেছে।
অথর্ববেদের 'অথকুন্তাপ সুজ্ঞানী' পর্বের প্রথম মন্ত্রে যে ঋষির প্রশংসাগীত হইয়াছে, তাঁহার নাম 'নরাশংস'। নরাশংস অর্থ হইল প্রশংসিত, প্রশংসার্হ। মুহাম্মাদ অর্থও প্রশংসিত, প্রশংসার্হ।
১০৪ উক্ত মন্ত্রে সেই ঋষির পরিচয়ে 'কৌরম' শব্দ ব্যবহার করা হইয়াছে। কৌরম অর্থ দেশত্যাগী। মন্ত্রে আরও বলা হইয়াছে, দেশত্যাগী ব্যক্তিকে ষাট হাজার নব্বই ব্যক্তির মধ্যে পরিদৃষ্ট হইতেছে (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৬)।
আমরা ইতিহাসে দেখিতে পাই যে, হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর যুগে আরবদেশের লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ষাট হাজার (এই নির্ধারিত সংখ্যার স্বপক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না)। ইতিহাসে আরও দেখা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁহার মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় চলিয়া যান।
তখন প্রায় সমগ্র আরবদেশের ষাট হাজার মানুষ তাঁহার সঙ্গে বৈরিতা পোষণ করিত। সুতরাং দেখা যাইতেছে যে, নরাশংস, কৌরম উভয় পরিভাষাই হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় মন্ত্রে উক্ত ঋষির তিনটি পরিচয় প্রদত্ত হইয়াছে। প্রথমত তিনি উষ্ট্রে আরোহণকারী হইবেন। এই পরিচয়ের মাধ্যমে ইহাও ব্যক্ত হয় যে, তিনি মরু দেশের অধিবাসী হইবেন। তিনি ভারত বর্হিভূত অহিন্দু জাতি হইতে আবির্ভূত হইবেন। কারণ, মরুদেশ ছাড়া উট পাওয়া যায় না এবং হিন্দু ব্রাহ্মণের জন্য মনু সংহিতায় উষ্ট্রে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে (১১: ২০১), এমনকি মনু সংহিতায় উটের দুধ ও গোশত খাওয়াও নিষিদ্ধ করা হইয়াছে (৫: ৮ ও ১১ঃ ১৫৭) (ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৬)।
দ্বিতীয়ত, তাঁহার একাধিক স্ত্রী থাকিবে।
তৃতীয়ত, তিনি রথে চড়িয়া ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করিবেন।
বলা বাহুল্য, উপরিউক্ত তিনটি পরিচয়ই হযরত মুহাম্মাদ (স) সম্পর্কে সম্পূর্ণ প্রযুক্ত হয়। কারণ তিনি মরুভূমি আরবদেশের অধিবাসী ছিলেন। তিনি জীবনব্যাপী উষ্ট্রে আরোহণ করেন। তাঁহার একাধিক স্ত্রী ছিল। তিনি ঐশী বাহন বোরাকে চড়িয়া সপ্ত আকাশ ও বেহেশতে ভ্রমণ করেন, যাহা মি'রাজ নামে খ্যাত।
তৃতীয় মন্ত্রে উক্ত ঋষির আর একটি নাম দেওয়া হইয়াছে মসিহ। মাশহ শব্দটি সংস্কৃত নহে, উহা বিদেশী শব্দ। মাশহ মূলত আরবী মুহাম্মাদ-এর সংস্কৃত রূপ। ঋগ্বেদে ৫ম মণ্ডল ২৭ মুক্ত ১ মন্ত্রেও মাশহ ঋষির উল্লেখ রহিয়াছে। তৃতীয় মন্ত্রে ইহাও বলা হইয়াছে যে, উক্ত ঋষিকে এক শত স্বর্ণমুদ্রা, দশটি হার, তিন শত অশ্ব এবং দশ সহস্র গাভী প্রদান করা হইবে (ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৭)।
স্বর্ণমুদ্রা, হার, অশ্ব ও গাভী এখানে পার্থিব অর্থে ব্যবহৃত হইতে পারে না। কারণ ঋষি তথা নবীদের বেলায় এইসব পার্থিব বস্তু লাভের দ্বারা কোন মাহাত্ম্য প্রকাশ পায় না, বরং তাঁহার পার্থিব লালসাই প্রকাশ পায়। প্রকৃতপক্ষে এইগুলি আলঙ্কারিক অর্থে ব্যবহৃত হইছে। তাঁহার শিষ্যগণের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা ও ধার্মিকতার ক্ষেত্রে এক শতজন স্বর্ণমুদ্রাস্বরূপ, দশজন গলার
১০৫ হাররুক্কণ, তিন শত ধর্মযোদ্ধা অশ্বারূঢ় এবং দশ হাজার জন সততা ও কল্যাণের প্রতীক গাড়ী স্বরূপ হইবেন। এক্ষণে ইতিহাসের আলোকে ইহার সভ্যতা যাচাই করা যাইতে পারে।
বস্তুত হযরত মুহম্মদ (স)-এর সহচরদের এক শতজন সংসারত্যাগী ও আল্লাহুতে সমর্পিত প্রাণ ছিলেন। ইতিহাসে তাঁহারা আসহাবুস সুফ্ফা নামে খ্যাত। তেমনি দশজন সাহাবা ধর্মে তাঁহাদের পরিপক্ক সফলতার জন্য এই জীবনেই জান্নাত লাভের সুসংবাদ প্রাপ্ত হন। ইতিহাসে তাঁহারা আশারায়ে মুবাশ্‌শারা নামে খ্যাত।
তেমনি হযরত মুহম্মদ (স) মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদিনায় হিজরত করার অনতিপরেই মক্কার কুরায়শগণ এক হাজার সৈন্যসহ মদীনা আক্রমণ করে। হযরত মুহম্মদ (স) তাঁহার তিন শত সহচর নিয়া তাঁহাদের মোকাবেলা করেন। পরিণামে সেই তিন শতের জীবন্ত ও বিক্রমে বিপক্ষের এক হাজার সৈন্য পরাজিত হয় এবং তাহাদের সত্তরজন নিহত হয় ও সত্তর (৭০) জন বন্দী হয়। এইজন্য উক্ত তিন শত সাহাবাকে ধর্মযুদ্ধে অশ্ব উপাধি দান করা হয়। ইতিহাসে তাঁহারা ‘বদরী সাহাবা’ নামে খ্যাত।
তেমনি অষ্টম হিজরীতে হযরত মুহম্মদ (স) দশ হাজার সহচরসহ মক্কাভিমুখে অগ্রসর হন। মক্কাবাসিগণ সামান্য প্রতিরোধ করার পর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। মহানবী (স) তাঁহাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তাঁহার দশ হাজার সাহাবীও তাঁহাদের সহিত উদার ব্যবহার করেন। এইজন্য তাঁহাদিগকে গাভীর ন্যায় কল্যাণের প্রতীকস্বরূপ চিহ্নিত করা হইয়াছে। ইতিহাসে এই ঘটনা মক্কা বিজয় নামে খ্যাত। অতএব তৃতীয় মন্ত্রের বর্ণনা দ্বারাও হযরত মুহম্মদ (স)-কেই নির্দেশ করা হইয়াছে।
চতুর্থ মন্ত্রে বলা হইয়াছে : হে রেবত, সত্য প্রচারক! বেদের হিন্দু ভাষ্যকারগণ ‘রেবত’-এর অর্থ করিয়াছেন, যিনি প্রশংসা করেন বা প্রশংসাকারী। ফলে রেবত দ্বারা এমন মহাপুরুষকে সম্বোধন করিয়া সত্য প্রচার করার ঐশী আদেশ দেওয়া হইয়াছে যাঁহার নামের অর্থ প্রশংসাকারী। ‘আহমদ’ অর্থও প্রশংসাকারী। রেবত পরিভাষাটি উহার সংস্কৃত রূপ। বস্তুত পাক কুরআনেও তাঁহাকে সত্য প্রচারের জন্য বারংবার নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কন্ধি অবতার এবং মোহম্মদ সাহেব, পৃ.৬৬)।
পঞ্চম মন্ত্রে মক্কা বিজয় যাত্রার বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে। বলা হইয়াছে, প্রশংসাকারীর দল প্রশংসা করিতে করিতে চলিয়াছেন আর তাঁহাদের সন্তান-সন্তুতি তাঁহাদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কন্ধি অবতার ও মোহম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৯)। বস্তুত মুহম্মদ (স) ও তাঁহার অনুসারীগণ সর্বক্ষেত্রে মহান প্রভুর প্রশংসা করিয়া থাকেন। কারণ কুরআনের প্রথম সূরাটিই প্রভুর গুণগানের শিক্ষা প্রদান করিয়াছে।
ষষ্ঠ মন্ত্রেও রেবত ঋষিকে জ্ঞানময় প্রশংসাগীতি সহকারে দক্ষ তীরন্দাজের মত প্রচারের সুনিপুণ পন্থা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে (কন্ধি অবতার ও মোহম্মদ সাহেব, ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়- পৃ. ৬৯)।
১০৬ বলা বাহুল্য হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর উপর অবতীর্ণ কুরআনকে ‘কুরআনে হাকীম’ বলা হয় অর্থাৎ উহা জ্ঞানময় গ্রন্থ। তেমনি উহাতে হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে হিকমাতের সহিত অর্থাৎ সুনিপুণ পন্থায় মানুষকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।
সপ্তম মন্ত্রে আলোচ্য মহামানবকে রাজক্ষমতার অধিকারীরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, তিনি রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইয়া দেশে শান্তি স্থাপন করিবেন (ডঃ বেদ প্রকাশ-উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৯)।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত মুহাম্মাদ (স) রাজ-সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইয়া সমগ্র আরবে অজ্ঞতা ও বর্বরতার অবসান ঘটাইয়া শান্তির সুশীতল বাতাস প্রবাহিত করেন, এমনকি তাঁহার প্রবর্তিত ইসলামী শাসন ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সমগ্র বিশ্বে অনাবিল শান্তিধারা প্রবাহিত করে।
আলোচ্য মন্ত্রে সেই রাজর্ষীকে বিশ্বজনীন বলা হইয়াছে অর্থাৎ তিনি কোন বিশেষ জাতি বা দেশের ঋষি হইবেন না, বরং তিনি হইবেন বিশ্বনবী। তাঁহার কাছে ঐরূপ বিশ্বজনীন ঐশী বিধান থাকিবে যাহার সাহায্যে সমগ্র বিশ্বকে শাসন ও পরিচালনা করা সম্ভব হইবে (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৬৯)।
বস্তুত এই মন্ত্রে চিহ্নিত মহামানব একমাত্র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (স) ছাড়া আর কেহ হইতে পারেন না। তেমনি একমাত্র কুরআনই সেই বিশ্বজনীন বিধান হইতে পারে, অন্য কোন ঐশী গ্রন্থ নহে। পাক কালামেও মহানবী (স)-কে বিশ্বনবী ও কুরআনকে বিশ্বজনীন বিধান বলিয়া ঘোষণা করা হইয়াছে।
অষ্টম ও নবম মন্ত্রেও উক্ত ঋষিকে রাজারূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, তাহার রাজ্যে এরূপ শান্তি বিরাজ করিবে যে, একজন কুলবধূও দিবা কি রাত্রি বেলায় বাজার হইতে নির্ভয়ে দধি ক্রয় করিয়া আনিতে পারিবেন (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৭০)। মহানবী (স)-ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে এইরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছিলেন, সুদূর ইয়ামান হইতে একজন কুলবধূ একাকী রাতের আঁধারে নির্ভয়ে মদীনা পর্যন্ত যাতায়াত করিতে পারিবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, তাঁহার এই ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু বাস্তবায়িত হইয়াছিল। এমনকি, তথাকথিত আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার যুগেও সউদী আরবে কিছুমাত্র ইসলামী শাসন চালু থাকায় আযান হওয়ামাত্র সকলে লাখ লাখ টাকার পণ দ্রব্যের উপর একটা চাদর ফেলিয়া দিয়া মসজিদে নির্ভয়ে নামায পড়িতে যায় এবং তাহাদের পণ্যদ্রব্য পাহারাবিহীন অবস্থায় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। তেমনি সেখানকার হিজাব পরা মহিলারা দিবা-রাত্রির যে কোন সময় অনায়াসে পরম নিরাপদে বাজার করিয়া আসে।
দশম মন্ত্রে উক্ত রাজর্ষীকে ‘পরিলক্ষিত’ বা ঐশ্বর্যবান বলা হইয়াছে (বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৭০)। বস্তুত মুহাম্মাদ (স)-এর শাসন ব্যবস্থায় সমগ্র আরবের দারিদ্র্য দূর হইয়া সেখানে সুখ-সমৃদ্ধির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, পণ্ডিত খেমচরণ

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অতর্ব বেদের ভাষ্যে করবানী

📄 অতর্ব বেদের ভাষ্যে করবানী


অথর্ব বেদের ১০ম কাণ্ড ১ম অনুবাক ২য় সুক্ত ২৬ হইতে ৩৩ মন্ত্রে পুরুষ মেধযজ্ঞ বা কুরবানীর বর্ণনা রহিয়াছে। বৈদিক ধর্ম শাস্ত্রের নির্দেশিত পুরুষ মেধযজ্ঞের মূল ভাষ্য এই:
১০৮ "আদিকালে ব্রহ্মার দুই পুত্র ছিল। জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম অথর্ব ও কনিষ্ঠ পুত্রের নাম অঙ্গিরা। ব্রহ্মা ঐশী প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হইয়া জ্যেষ্ঠ পুত্র অথর্বকে বলি দিতে উদ্যত হইলেন। শাস্ত্রে উহাই 'পুরুষ মেধষজ্ঞ' নামে খ্যাত। অদ্যাবধি নরবলির স্থলে পশুবলি দ্বারা উহা পালিত হইতেছে। পশুবলি দেওয়ার সময় উক্ত পুরুষ মেধযজ্ঞের সুক্তগুলি পাঠ করার বিধান রহিয়াছে" (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৭১)।
অথর্ব বেদের ১০ম কাণ্ড ১ম অনুবাক ২য় সুক্তে ২৬ হইতে ৩৩ মন্ত্রের অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হইল (ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার ও মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৭১):
২৬. অথর্ব তাহার মস্তক ও অন্তর ঐশী আদেশের সঙ্গে একান্ত গ্রথিত করিলেন। তখন ধর্মপরায়ণতা তাহার ললাটে আবর্তিত হইতেছিল।
২৭. অথর্বের মস্তক প্রভুর আবাসস্থল। উহা আত্মা, মস্তক ও আত্মার সর্বদিক দিয়া সংরক্ষিত ছিল।
২৮. উহার নির্মাণ উচ্চ এবং উহার প্রাচীরসমূহ সমান হউক বা না হউক, কিন্তু প্রভুকে উহার সর্বত্র দৃষ্ট হয়। যে ব্যক্তি প্রভুর আবাসস্থলকে চিনে, সে উহা জানে। কারণ সেখানে প্রভুকে স্মরণ করা হয়।
২৯. যে ব্যক্তি প্রচুর আধ্যাত্ম অমৃতে পরিপূর্ণ এই পবিত্র ধরাধামকে চিনে, ব্রহ্ম ও ব্রহ্মা তাহাকে অন্তর্দৃষ্টি, প্রাণ ও সন্তানাদি দান করেন।
৩০. যে ব্যক্তি এই পবিত্র গৃহকে অবহিত হয় এবং যাহার অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মিক শক্তি বিদ্যমান, সে কখনও উহাকে ত্যাগ করে না। কারণ সেখানে প্রভুকে স্মরণ করা হয়।
৩১. দেবতাদের এই পবিত্র ধামের আটটি চক্রপরিক্রম ও নয়টি দ্বার আছে। উহা অপরাজেয় এবং উহা হিরন্ময়, অনন্ত জীবন ও স্বর্গীয় জ্যোতিতে সমাবৃত।
৩২. সেখানে হিরন্ময় পবিত্র আত্মা প্রতিষ্ঠিত আছে। উহা তিনটি স্তম্ভ ও তিনটি কড়িকাঠ দ্বারা নির্মিত, কিন্তু উহা ব্রহ্মাত্মার কেন্দ্রবিন্দু।
৩৩. ব্রহ্ম সেখানে অবস্থান করেন, উহা স্বর্গীয় প্রভায় সমুজ্জ্বল ও স্বর্গীয় আশীর্বাদে পরিপূর্ণ। এই ধাম মানুষকে হিরন্ময় পরমাত্মার জীবন দান করে এবং উহা অপরাজেয়।
বস্তুত কুরআন পাকের বর্ণনায় দেখা যায় যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দুই পুত্র ছিলেন। জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম হযরত ইসমাঈল (আ) ও কনিষ্ঠ পুত্রের নাম হযরত ইসহাক (আ)। তিনি ঐশী প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হইয়া তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাঈল (আ)-কে কুরবানী দিতে উদ্যত হইয়াছিলেন। তখন মহাপ্রভু তাঁহাকে একটি স্বর্গীয় দুম্বা প্রদান করেন এবং ইসমাঈল (আ)-এর স্থলে তিনি উহাই কুরবানী করেন। এই প্রথা অদ্যাবধি মুসলমানরা পশু কুরবানীর দ্বারা পালন করিয়া আসিতেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00