📄 উপমহাদেশের ধর্মগ্রন্থসমূহে বিধৃত ভবিষ্যদ্বাণী ও সুসংবাদ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 বুদ্ধদেবের ভবিষ্যদ্বাণী
“বুদ্ধ” শব্দের অর্থ 'বুদ্ধি দ্বারা যুক্ত”। বৌদ্ধ ধর্মে নবী ও রাসূলগণকে 'বুদ্ধ' বলা হয়। গৌতম বুদ্ধ তাঁহার অন্তিম শয্যায় প্রিয় শিষ্য আনন্দকে অন্তিম বুদ্ধ বা সর্বশেষ রাসূল সম্পর্কে এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনাইলেন :
"আনন্দ! এই পৃথিবীতে আমি প্রথম বুদ্ধ নহি এবং অন্তিম বুদ্ধও নহি। এই পৃথিবীতে সত্য এবং পরোপকার শিক্ষা দান করার জন্য সময়মত একজন বুদ্ধ আবির্ভূত হইবেন। তিনি পূতঃপবিত্র অন্তকরণের হইবেন। তাঁহার হৃদয় পরিশুদ্ধ হইবে। তিনি জ্ঞানী ও প্রতিভাবান হইবেন। তিনি সকল লোকের নায়ক ও পথপ্রদর্শক হইবেন। যদ্রূপ আমি পৃথিবীতে সত্যের শিক্ষা দিয়াছি, তিনিও অদ্রূপ পৃথিবীতে সত্যের শিক্ষা প্রদান করিবেন। তিনি পৃথিবীতে এমন জীবন দর্শন প্রতিষ্ঠা করিবেন যাহা একাধারে পবিত্র ও পূর্ণাঙ্গ হইবে। আনন্দ! তাহার নাম হইবে মৈত্রেয়” (বেদ ও পুরাণে হযরত মুহাম্মদ (স), ডঃ দেব প্রকাশ উপাধ্যায়, পৃ. ৬৩)।
📄 মৈত্রেয় বুদ্ধের বৈশিষ্ট্য
'ধর্মপদ'সহ বৌদ্ধধর্ম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রন্থে বৌদ্ধ ও বিশেষ অন্তিম বুদ্ধের যেসব বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ রহিয়াছে তাহা নিম্নরূপ :
১। তিনি ধনৈশ্বর্যের অধিকারী হইবেন।
২। তিনি স্ত্রী, সংসার ও সন্তানাদির অধিকারী হইবেন।
৩। তিনি শাসনক্ষমতার অধিকারী হইবেন।
৪। তিনি স্বীয় পূর্ণ আয়ু পর্যন্ত জীবিত থাকিবেন।
৫। তিনি স্বীয় কার্যাদি স্বয়ং সম্পাদন করিবেন।
৬। তিনি আজীবন ধর্মপ্রচারে ব্যাপৃত থাকিবেন।
৭। তিনি 'তথাগত'ও হইবেন। যখন তিনি নিঃসঙ্গ ও নিরালায় অবস্থান করিবেন, তখন আল্লাহ্ তরফ হইতে ঐশীদূত আসিয়া তাঁহাকে ঐশীবাণী শুনাইবেন।
৮। তিনি তাঁহার অনুগামিগণকে পূর্ববর্তী বুদ্ধগণের কথা স্মরণ করাইবেন।
১০০ ৯। তিনি তাঁহার অনুসারিগণকে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করিবেন।
১০। তাঁহাকে ও তাঁহার সহচরবৃন্দকে কেহই পথভ্রষ্ট করিতে পারিবে না এবং তাঁহার সহচরগণ তাঁহার পার্শ্বে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান করিবেন।
১১। পৃথিবীতে তাঁহার কোন গুরু থাকিবে না।
১২। তিনি পার্থিব অথবা অপার্থিব হইতে বোধিবৃক্ষের তলায় দিব্যজ্ঞান লাভ করিবেন এবং দিব্যদৃষ্টি দ্বারা উহাতে দৃষ্টিপাত করিবেন। বোধিবৃক্ষের নিম্নে তিনি সভা করিবেন।
১৩। সাধারণ মানুষের ঘাড় অপেক্ষা তাঁহার ঘাড়ের হাড় অত্যধিক দৃঢ় হইবে। ফলে ঘাড় ঘুরাইবার সময় তাঁহাকে সমস্ত শরীর ঘুরাইতে হইবে (ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, বেদ ও পুরাণে হযরত মুহাম্মদ, পৃ. ৬৪-৬৫)।
১৪। তিনি যখন পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন তখন অন্য কোন বুদ্ধ পৃথিবীতে থাকিবেন না। কেননা তিনি পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য প্রেরিত হইবেন।
এক্ষণে বিচার্য বিষয় এই যে, বুদ্ধদেবের ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তিম বুদ্ধের এই গুণাবলী কাহার ভিতরে পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায়? নিঃসন্দেহে তিনি হইবেন অন্তিম বুদ্ধ মৈত্রেয়। কুরআন পাকে হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে সম্বোধন করিয়া আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَوَجَدَكَ عَائِلاً فَأَغْنُی "তিনি তোমাকে নির্ধন পাইয়াছেন, অতঃপর তোমাকে তিনি ধনাঢ্য ও ঐশ্বর্যবান করিয়াছেন"।
বস্তুত মুহাম্মাদ (স) দরিদ্র ও ইয়াতীম ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ পাক নবুওয়াতের পূর্বেই হযরত খাদীজা (রা)-এর সহিত তাঁহার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিয়া তাঁহাকে বিপুল ধনৈশ্বর্যের মালিক করেন। সুতরাং মৈত্রেয় বুদ্ধ হওয়ার প্রথম শর্তটি তাঁহার ভিতর পাওয়া গেল। অবশ্য তিনি তাহা ভোগ না করিয়া দান করেন।
মৈত্রেয় বুদ্ধের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হইল, তাঁহার স্ত্রী, সংসার ও সন্তানাদি থাকিবে। বলা বাহুল্য, মুহাম্মাদ (স)-এর স্ত্রী ও সন্তান ছিলেন। ফলে দেখা যাইতেছে যে, অন্তিম বুদ্ধের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যও পূর্ণাঙ্গভাবেই তাঁহার মধ্যে পাওয়া যাইতেছে।
বুদ্ধের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হইল, তিনি শাসনযুক্ত ব্যক্তি হইবেন। রাসূলুল্লাহ (স)-ও সমগ্র আরবের শাসক হন এবং তাঁহার প্রতিপক্ষগণকে পর্যুদস্ত করিয়া ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন।
মৈত্রেয় বুদ্ধের চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হইল, তিনি তাঁহার পূর্ণ আয়ুষ্কাল পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকিবেন। রাসূলুল্লাহ (স)-ও তাঁহার পূর্ণ আয়ুষ্কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাঁহার অকাল মৃত্যু হয় নাই বা তিনি কাহারো দ্বারা নিহত হন নাই।
মৈত্রেয় বুদ্ধের পঞ্চম লক্ষণ হইল, তিনি নিজের কার্যসমূহ নিজেই সমাধা করিবেন। রাসূলুল্লাহ (স)-ও তাহাই করিয়াছেন।
📄 বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহে হযরত মুহাম্মদ (স)
বৈদিক ধর্মে নবী ও রাসূলকে অবতার বলা হয়। আল্লাহ্ তরফ হইতে অবতারিত মহাপুরুষকে অবতার বলা হয়। বৈদিক ধর্মের প্রাচীনতম গ্রন্থ পুরাণে বর্ণিত চব্বিশজন অবতারের তেইশতম অবতার হইলেন বুদ্ধদেব। হিন্দু পণ্ডিতবর্গের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত ইহাই। এক্ষণে তাহারা তাহাদের চব্বিশতম বা অন্তিম অবতার তথা কল্কি অবতার হিসাবে হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে নির্ধারণ করিয়াছেন। বৈদিক শাস্ত্রবিদ ধর্মাচার্য ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, পুরাণে বর্ণিত চতুর্বিংশতম অবতারের বর্ণনা এবং ভগবত পুরাণের দ্বাদশ অধ্যায়ে যাবতীয় বৃত্তান্ত দেখিয়া প্রমাণিত যে, একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-এর সঙ্গে উহার পরিপূর্ণ মিল রহিয়াছে। তখন আমার বিশ্বাস হইল যে, তিনিই কল্কি অবতার এবং তাঁহার প্রদর্শিত ধর্ম দ্বারা বৈদিক ধর্ম নূতনরূপে পরিপুষ্টতা লাভ করিয়াছে। এমন একদিন নিশ্চয় আসিবে যখন সকলে এই তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করিবে এবং ভারতের ব্রাহ্মণ, শৈব, শাক্ত, জৈন হউক বা বৌদ্ধ হউক, সকল
১০৩ শ্রেণীর মানুষ দ্বারা ইসলাম ধর্ম স্বীকৃতি লাভ করিবে (ডঃ দেব প্রকাশ উপাধ্যায়, কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব, পৃ. ৫৬)।