📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আরব সমাজে নারী জাতির দুর্দশা

📄 আরব সমাজে নারী জাতির দুর্দশা


মহানবী (স)-এর আবির্ভাবকালে সমগ্র পৃথিবীতে নারী জাতির অবস্থা ছিল অতি শোচনীয় ও মর্মান্তিক। আরব সমাজেও নারীর অবস্থা উহার তুলনায় মোটেই উন্নততর ছিল না। নারী তাহার দেহের রক্ত দিয়া মানব বংশধারা অব্যাহত রাখিলেও তাহার সেই অবদানের কোন স্বীকৃতি ছিল না। সে পিতা, ভ্রাতা, স্বামী সকলের দ্বারাই নিগৃহীত হইত। যুদ্ধবন্দী হইলে হাটে-বাজারে দাসীরূপে বিক্রয় হইত চতুষ্পদ পশুর ন্যায়। আরব সমাজে কন্যা সন্তানের জন্মই ছিল এক অশুভ লক্ষণ, সম্মান হানিকর ও আভিজাত্যে কুঠারাঘাততুল্য। তাই কন্যার জন্মগ্রহণের সংগে সংগে তাহার জন্মদাতা লজ্জায় ও অপমানে মুখ লুকাইয়া বেড়াইত এবং হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হইয়া তাহাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করিত না। কুরআন মজীদে তাহা এইভাবে তুলিয়া ধরা হইয়াছেঃ
وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِالْاُنْثٰى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَّهُوَ كَظِيْمٌ يَّتَوَارٰى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْءِ مَا بُشِّرَ بِهِ اَيُمْسِكُهُ عَلٰى هُوْنٍ اَمْ يَّدُسُّهُ فِي التُّرَابِ اَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُوْنَ.
"তাহাদের কাহাকেও যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তাহার মুখমণ্ডল কালো হইয়া যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাহাকে যে সংবাদ দেওয়া হয় উহার গ্লানিহেতু সে নিজ সম্প্রদায় হইতে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে, হীনতা সত্ত্বেও সে উহাকে রাখিয়া দিবে, না মাটিতে পুঁতিয়া ফেলিবে। সাবধান! তাহারা যাহা সিদ্ধান্ত করে তাহা কত নিকৃষ্ট” (১৬: ৫৮-৫৯; আরও দ্র. ৪৩:১৭)।
وَاِذَا الْمَوْءُدَةُ سُئِلَتْ بِاَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ.
"যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হইবে, কী অপরাধে তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল” (৮১:৮-৯)?
এই প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত হাদীছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা বর্ণিত হইয়াছে যাহার বিবরণ শ্রবণ করিয়া মহানবী (স) তাঁহার দুই চোখের পানি ছাড়িয়া দেন :
إِنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا أَهْلُ جَاهِلِيَّةٍ وَعَبَدَةُ أَوْثَانِ فَكُنَّا نَقْتُلُ الْأَوْلَادَ وَكَانَتْ عِنْدِي ابْنَةٌ لِي فَلَمَّا أَجَابَتْ وَكَانَتْ مَسْرُورَةٌ بِدُعَائِي إِذَا دَعَوْتُهَا فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا فَاتَّبَعَتْنِي فَمَرَرْتُ حَتَّى أَتَيْتُ بِئْرًا مِنْ أَهْلِي غَيْرَ بَعِيدٍ فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَرَدَّيْتُ بِهَا فِي الْبِئْرِ وَكَانَ آخِرُ عَهْدِي بِهَا أَنْ تَقُولَ يَا أَبَتَاهُ يَا اَبْنَاهُ فَبَكَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى وَكَفَ دَمْعُ عَيْنَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِّنْ جُلَسَاء رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْزَنْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ كَفَّ فَإِنَّهُ يَسْئَلُ عَمَّا أَهَمَّهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ أَعِدْ عَلَى حَدِيثَكَ فَأَعَادَهُ فَبَكَى حَتَّى وَكَفَ الدَّمْعُ مِنْ عَيْنَيْهِ عَلَى لِحْيَتِهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ وَضَعَ عَنِ الْجَاهِلِيَّةِ مَا عَمِلُوا فَاسْتَأْنِفْ عملك.
"এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা ছিলাম জাহিলী যুগের লোক এবং প্রতীমা পূজারী। আমরা সন্তানদিগকে হত্যা করিতাম। আমার একটি কন্যা সন্তান ছিল। আমি ছিলাম তাহার খুব প্রিয়। আমি ডাকিলে সে আমার ডাকে খুবই আনন্দিত হইয়া সাড়া দিত। একদিন আমি তাহাকে ডাকিলে সে আমার নিকট চলিয়া আসে। আমি (তাহাকে সঙ্গে লইয়া) অনতি দূরে আমাদের পরিবারের একটি কূপের নিকট আসিলাম। আমি তাহার হাত ধরিয়া তাহাকে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করিলাম। তাহার শেষ বাক্য যাহা আমার কর্ণগোচর হইয়াছে তাহা হইল, আব্বা, হায় আব্বা। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ (স) কাঁদিলেন, এমনকি তাঁহার দুই চক্ষু হইতে অশ্রুর ফোটা পড়িতে লাগিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে উপস্থিত এক ব্যক্তি লোকটিকে বলিল, তুমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বেদনাতুর করিয়াছ। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন: থামো, যে বিষয় তাহাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করিয়াছে সে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতেছে। অতঃপর তিনি তাহাকে বলিলেন: আমার নিকট তোমার ঘটনাটির পুনরাবৃত্তি কর। সে তাহার পুনরাবৃত্তি করিলে তিনি আবারও কাঁদিলেন, এমনকি তাঁহার চক্ষুদ্বয় হইতে অশ্রুর ফোটা গড়াইয়া তাঁহার দাড়িতে পতিত হইল। অতঃপর তিনি তাহাকে বলেন: জাহিলী যুগে তাহারা যাহা করিয়াছে, তাহা আল্লাহ ক্ষমা করিয়াছেন। অতএব তুমি এখন নূতন উদ্যমে কাজ কর" (সুনানুদ দারিমি, মুকাদ্দিমা, প্রথম বাব, হাদীছ নং ২)।
প্রখ্যাত আরব কবি ফারাযদাকের পিতামহ সা'সা'আ ইব্‌ন নাজিয়া আল-মুজাশিঈ (রা) বলিলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জাহিলী যুগে কিছু উত্তম কাজও করিয়াছি। তন্মধ্যে একটি এই যে, আমি ৩৬০টি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত হওয়া হইতে রক্ষা করিয়াছি। ইহাদের প্রত্যেকের জীবনের জন্য আমাকে দুইটি করিয়া উট বিনিময় মূল্যরূপে প্রদান করিতে হইয়াছে। আমি কি ইহার সওয়াব পাইব? নবী (স) বলিলেন: হাঁ, তোমার জন্য সওয়াব রহিয়াছে। তাহা এই যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দান করিয়াছেন" (তাবারানীর বরাতে তাফহীমুল কুরআন, উর্দু সংস্করণ, ৬খ, পৃ. ২৬৬, টীকা ৯)।
জাহিলী যুগে কোন মেয়েকে জীবন্ত কবরস্থ করিতে দেখিলে যায়দ ইবন আমর ইব্‌ন নুফায়ল অর্থব্যয়ে তাহাকে ক্রয় করিয়া মুক্ত করিয়া দিতেন। স্বীয় কন্যাকে জীবন্ত কবরস্থ করার মনোভাব কোন লোকের মধ্যে দেখিলে তিনি তাহাকে বলিতেন, "তুমি তাহাকে হত্যা করিও না, বরং আমি তোমাকে তাহার যথাযথ বিনিময় প্রদান করিতেছি, তাহার বদলে মেয়েটি আমাকে প্রদান কর।" এইভাবে তিনি মেয়ে গ্রহণ করিতেন। তাহার পর মেয়েটি যখন অস্থিরতা প্রদর্শন করিত, তিনি তাহার পিতাকে বলিতেন, তুমি চাহিলে তাহাকে তোমার নিকট ফিরাইয়া দিব, আর তুমি চাহিলে তাহার পূর্ণ বিনিময় দিয়াই গ্রহণ করিব (ইমাম বুখারী, আল-জামি, মানাকিবুল আনসার, বাব হাদীছ যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল, নং ৩৮২৮)।
উপরিউক্ত বিবরণ হইতে প্রতিভাত হয় যে, কত ব্যাপক হারে কন্যা সন্তানদের হত্যা করা হইত। হযরত উমার ফারুক (রা) বলেন, وَاللَّهِ إِنْ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَا نَعُدُّ لِلنَّسَاءِ أَمْرًا . "আল্লাহ্র শপথ! জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন ধর্তব্যের বিষয় হিসাবে গণ্য করিতাম না" (ইসলামী সমাজে নারী, পৃ. ২৬)।
জাহিলী আরব সমাজে বিবাহের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা ছিল না। যে যত সংখ্যক নারীকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পারিত। নিম্নের হাদীছদ্বয় হইতে ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়: قَالَ ابْنُ عُمَيْرَةَ الْأَسَدِيُّ أَسْلَمْتُ وَعِنْدِى ثَمَانُ نِسْوَةٍ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْتَرْ مِنْهُنَّ أَرْبَعَةً . "ইবন উমায়রা আল-আসাদী (রা) বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার সময় আমার আটজন স্ত্রী ছিল। বিষয়টি আমি নবী (স)-কে জানাইলাম। নবী (স) বলেন: তাহাদের মধ্য হইতে চারজনকে বাছিয়া লও” (আবূ দাউদ, কিতাবুত তালাক, বাব ফী মান আসলামা ওয়া ইনদাহু নিসায়ান আকছারা মিন আরবা 'আও উখতানে, নং ২২৪১)। عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ غَيْلَانَ بْنَ سَلَمَةَ الثَّقَفِيُّ أَسْلَمَ وَلَهُ عَشْرُ نِسْوَة فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَسْلَمْنَ مَعَهُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَخَيَّرَ أَرْبَعًا مِّنْهُنَّ. "ইবন উমার (রা) হইতে বর্ণিত। গায়লান আছ-ছাকাফী (রা) ইসলাম গ্রহণ করিলেন। জাহিলী যুগে তাহার দশজন স্ত্রী ছিল। তাহারাও তাহার সহিত ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (স) তাহাকে তাহাদের মধ্য হইতে চারজনকে বাছিয়া লইবার নির্দেশ দিলেন" (তিরমিযী, কিতাবুন নিকাহ, বাব মা জাআ ফির রাজুলি ইউসলিমু ওয়া ইনদাহু আশru নিসওয়াহ, নং ১১২৮)।
'একইভাবে তালাকের ব্যাপারেও কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল না। পুরুষরা যখনই ইচ্ছা করিত এবং যতবার চাহিত স্ত্রীকে তালাক দিত এবং ইদ্দাত পূর্ণ হইবার পূর্বেই তালাক প্রত্যাহার করিত। হাদীছে বর্ণিত আছে:
إِنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِرَجْعَتِهَا وَإِنْ طَلَّقَهَا ثَلَاثًا .
"কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পর তাহা প্রত্যাহার করিবার অধিকারী হইত, যদিও সে তাহাকে তিন তালাক দিত" (আবূ দাউদ, তালাক, বাব ফী নাসখিল মুরাজাআ বা'দাত তাতলীকাতিছ ছালাছ, নং ২১৯৫)।
এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সে তাহার স্ত্রীকে নাজেহাল করার জন্য বলিল, আমি তোমাকে সঙ্গেও রাখিব না, আবার ত্যাগও করিব না। স্ত্রী বলিল, তাহা কিভাবে? সে বলিল, আমি তোমাকে তালাক দিব এবং ইদ্দাত শেষ হইবার পূর্বে তোমাকে রুজু করিব। ইহার পর আবার তালাক দিব এবং ইদ্দাত শেষ হইবার পূর্বে আবার রুজু করিব (মুসতাদরাক হাকিম, ২খ, পৃ. ২৮০)।
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী নিজ স্বামীর ওয়ারিসদের ওয়ারিসী সম্পত্তিতে পরিণত হইত। তাহাদের কেহ ইচ্ছা করিলে তাহাকে বিবাহ করিত অথবা অপরের নিকট বিবাহ দিত অথবা আদৌ বিবাহ না দেওয়ার ব্যাপারেও তাহাদের এখতিয়ার ছিল, যাহাতে স্বামী প্রদত্ত তাহার সম্পত্তি অপরের হস্তগত না পারে। নিম্নোক্ত হাদীছ হইতে ইহার প্রমাণ পাওয়া যায়ঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضٍ مَا أَتَيْتُمُوهُنَّ قَالَ كَانُوا إِذا مَاتَ الرَّجُلُ كَانَ أَوْلِيَاؤُهُ أَحَقَّ بِامْرَأَتِهِ إِنْ شَاءَ بَعْضُهُمْ تَزَوَّجَهَا وَإِنْ شَاؤُا لَمْ يُزَوَّجُهَا وَهُمْ أَحَقَّ بِهَا مِنْ أَهْلِهَا فَنَزَلَتْ هُذِهِ الْآيَةُ فِي ذلِكَ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত: "হে ঈমানদারগণ! নারীদেরকে যবরদস্তিমূলকভাবে উত্তরাধিকার গণ্য করা তোমাদের জন্য বৈধ নহে। তোমরা তাহাদেরকে যাহা দিয়াছ তাহা হইতে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশে তাহাদেরকে অবরুদ্ধ করিয়া রাখিও না" (৪: ১৯)। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাহার ওয়ারিসগণ তাহার স্ত্রীর উপর কর্তৃত্বশালী হইত। কেহ ইচ্ছা করিলে তাহাকে বিবাহ করিত অথবা চাহিলে অন্যত্র বিবাহ দিত অথবা চাহিলে বিবাহ না দিয়া আটক করিয়া রাখিত। তাহার পরিবারের লোকজনের তুলনায় তাহারাই হইত তাহার উপর কর্তৃত্বশালী। এই সম্পর্কে উপরিউক্ত আয়াত নাযিল হয়” (বুখারী, তাফসীর সূরা আন-নিসা, বাব "লা ইয়াহিলু লাকুম আন অরিছুন নিসাআ কারহান....", নং ৪৫৭৯)।
মৃতের সম্পদে নারীর কোন ওয়ারিসী স্বত্ব স্বীকৃত ছিল না। ছাবিত ইব্‌ন্ন কায়স (রা)-র স্ত্রী নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন, ছাবিত উহুদ যুদ্ধে শহীদ হইয়াছেন। তাহার দুইটি কন্যা সন্তান আছে। কিন্তু ছাবিতের ভাই তাহার সমস্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখল করিয়া নিয়াছে। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের মীরাছ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হয় (দ্র. আবূ দাউদ, ফায়াইদ, বাব মা জাআ ফী মীরাছিস সুলব, নং ২৮৯১; তিরমিযী, ফারাইদ, বাব মা জাআ ফী মীরাছিল বানাত, নং ২০৯২; তিরমিযীতে ছাবিতের স্থলে সাদ ইবনুর রবী' (রা)-এর উল্লেখ আছে)।
নারীকে উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করিয়া আয়াত নাযিল হইলে আরবরা অত্যন্ত বিস্মিত হইল। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! নারী কি অর্ধেকের হকদার? অথচ সে না জানে ঘোড়ায় চড়িতে (যুদ্ধ করিতে) এবং না পারে আত্মরক্ষা করিতে (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ১খ, পৃ. ৪৫৮)। এমনিভাবে জাহিলী আরব সমাজে নারী ছিল অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও অধিকার বঞ্চিত।
গ্রন্থপঞ্জী: বরাত নিবন্ধগর্ভে উক্ত হইয়াছে।
মুহাম্মদ মুসা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00