📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভৌগোলিক অবস্থান

📄 ভৌগোলিক অবস্থান


'আরব' কথাটি সামীয় (সেমেটিক) জনগোষ্ঠীর হিব্রু ভাষায় 'এরেব'রূপে উচ্চারিত হয়, মানে মরুভূমি। আর আরবী ভাষায় 'আরাব' মানে যাযাবর মরুচারী। তবে 'আরব' একটি প্রাচীন নাম। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিশ্ব-বাণিজ্য পথের মধ্যবিন্দুতে স্থল-সংযোগরূপে অবস্থিত হওয়ায় আদিযুগ হইতে আরবদেশ বিশ্ববাসীর নিকট পরিচিত ছিল। ভূভাগ হিসাবে আরব একটি বিশাল দেশ। ইহার আয়তন ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল। কিন্তু সাধারণ অনুমানে ইহার প্রায় ৯৫% শতাংশ মরুময় বিক্ষিপ্ত অঞ্চল, মাত্র ৫% শতাংশ জনবসতির উপযোগী। ফলে এই বিস্তীর্ণ এলাকা বড়জোর দেড় হইতে দুই কোটি জনসংখ্যা ধারণ করিতে পারে। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আরবের উপরিভাগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে মরুভূমি। ইহার পার্শ্ববর্তী কাঁচায়-কিনারে যৎসামান্য বসবাসের উপযোগী জমি বিদ্যমান। এই কাঁচা-কিনারা সমুদ্রের পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত। যখন জনসংখ্যা এই সামান্য অঞ্চলের ধারণ ক্ষমতার বাহিরে চলিয়া যায়, তখন তাহারা অন্যত্র স্থানান্তরণের সুযোগ খুঁজে। কিন্তু এই উদ্বৃত্ত জনসংখ্যা মরুভূমির অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করিতে পারে না, আবার বহিরচক্রে সমুদ্রেও স্থান পায় না।"
অতএব তাহারা আরবদেশের পশ্চিম তীর ধরিয়া সিনাই হইয়া মিসর ও আফ্রিকার দিকে যাত্রা করে অথবা উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সিরিয়ার দিকে বা উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ইরাকের দিকে ধাবিত হয়। এরূপে হিট্টির মতে প্রতি হাজার বৎসরের মাথায় এই মূল ভূমি হইতে উদ্বৃত্ত সামীয় জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগের মাধ্যমে মিসরের হামীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যুদয় হয় (৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। পরবর্তী সহস্রকে (২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) আমোরীয় ও কানানীয় গোষ্ঠীর অভ্যুদয় ঘটে ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তীন অঞ্চলে। ১৫০০ হইতে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিব্রু ও আরামীয়রা সিরিয়া-ফিলিস্তীন এলাকায় একই ধরনের দেশান্তর প্রক্রিয়ায় আরবীয় মূল ভূমি হইতে বাহির হইয়া আসে। ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে নাবাতীয়রা পেট্রাকে কেন্দ্র করিয়া সিনাই এলাকায় ছড়াইয়া পড়ে। সর্বশেষে ৭০০-৮০০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের পতাকা ধারণ করিয়া মুসলিম আরবগণ বিশ্বব্যাপী ছড়াইয়া পড়ে। মানবজাতির ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে তাহারা বিভিন্ন সংস্কৃতির সৃষ্টি করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি বেবিলনিয়ান সভ্যতা, আসীরিয়ান, কালদীয়ান, আমোরিয়ান, আরামীয়ান, ফিনিসিয়ান, হিব্রু, আরবীয় ও আবিসিনিয়ান সভ্যতার উল্লেখ করেন (হিস্ট্রী অব দি এ্যারাব্স, পৃ. ১-১৫)।
অনুরূপভাবে এসব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সম্বন্ধে জন রিচার্ডসন রচিত ডিকশনারী: পার্সিয়ান, এ্যারাবিক এণ্ড ইংলিশ উইথ এ ডিসার্টেশন অন দি ল্যাংগুয়েজেস, লিটারেচার, ম্যানার্স অব ইস্টারন ন্যাশনস (লন্ডন ১৮০৬ খ্রি.) প্রথম ৪০ পৃষ্ঠায় আরবী ভাষার বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য প্রাচীন ভাষার সহিত ইহার সম্পর্ক দেখা যাইতে পারে। পৃথিবীর মানচিত্রে আরব একটি প্রচণ্ড উষ্ণ ও ঊষর মরুভূমির দেশ। ইহার তিন দিকে সমুদ্র ও উত্তরে সিরিয়া-ইরাক মরুপ্রান্তে স্থলভূমি অবস্থিত। আরবের অধিবাসীরা ইহাকে 'জাযীরাতুল আরাব' বা 'আরব উপদ্বীপ' নামে অভিহিত করে। আরবজাতি যেখানে যেভাবেই থাকুক না কেন, ইহার জনগোষ্ঠী বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানুষের মৌলিক পরিচয় যেমন প্রধানত গ্রাম কেন্দ্রিক তেমনি আরবদের মৌলিক পরিচয় গোত্রীয় সম্পর্কের দ্বারা নির্ণীত। আরবদের গোত্রভাবাপন্নতার প্রধান কারণ ভৌগোলিক পরিবেশ। কেননা সমুদ্র তটের কিনারায় স্থায়ী বসবাসের উপযোগী কৃষিক্ষেত্রে আরবদেশের মোট জনসংখ্যার এক-দশমাংশও ঠাই পায় না। কাজেই ৯০% শতাংশ লোক যাযাবর মরুচারী হইতে বাধ্য হইত। এ মরুচারীরা সাধারণভাবে উট, ছাগল ও মেষ পালন করিয়াই জীবিকা নির্বাহ করিত। তাই তাহারা মরুভূমির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা পানির উৎস কেন্দ্রিক ছোট-বড় মরূদ্যান ও বৎসরে ছয় মাসে সামান্য পশলা বৃষ্টির বদৌলতে ক্ষণস্থায়ীভাবে উদগত উদ্ভিদ, ঘাস, লতাপাতা ইত্যাদির খোঁজে তাঁবু মাথায় নিয়া পরিবার-পরিজনসহ দিগ্বিদিক পরিভ্রমণ করিত। তাহাদের কষ্টসাধ্য কৃষিকর্ম অথবা দুরূহ যাযাবর বৃত্তিক পশুচারণের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের কঠোর সীমাবদ্ধতার দরুন বৃহদাকার পরিবার পোষণ করার যে কোন উদ্যোগ তাহাদের জন্য আর্থিক বিপর্যয় ডাকিয়া আনিত। আবার অন্যদিকে মরু প্রান্তরের দুর্ধর্ষ যাযাবর জীবন, সার্বক্ষণিক অভাব-অনটন, কঠোর পরিশ্রম ইত্যাদি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাধারণভাবে আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্ম দিত। ফলে জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদের সংরক্ষণের খাতিরে জনগণ মরিয়া হইয়াও জোটবদ্ধ জীবন যাপন করিতে বাধ্য হইত। সুতরাং আরবদের জীবনধারা একদিকে ছোট ছোট পরিবারে বিভক্তির শিকার হইত, আর অন্যদিকে তাহাদের জন্য বৃহৎ হইতে বৃহত্তর নিরাপত্তামূলক জোট গঠন অপরিহার্য ছিল। এই দুই বিপরীতমুখী সাংগঠনিক টানাপড়েন আরবদের সমাজ ক্রমাগত ছোট হইতে বড় ও বড় হইতে ছোট হইতে থাকে। ইহাতে গোত্রীয় ও পারিবারিক এই বিভক্তির কারণে একদিকে প্রায়শ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হইত; আবার অন্যদিকে নিরাপত্তামূলক জোটবদ্ধতার প্রক্রিয়ায় সংকটের মুখে মাঝে মধ্যে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা লাভ করিত। ফলে সর্বক্ষণ বৃহত্তর উপজাতীয় বা বংশগত সংহতির প্রতি আনুগত্যের মনোভাব সৃষ্টি হয়, সুযোগ-সুবিধামত গোত্রীয় জীবনধারার সহিত সম্পর্কিত হইয়া তাহারা কঠোর পরিশ্রমসিদ্ধ কর্মতৎপরতা অবলম্বন করে। সচেতন আত্মসম্মান অনুভূতির ভিত্তিতে আরবগণ এক একটি গোত্রীয় সমাজে বিভক্ত হয়, তাহাদের গোত্রের মাধ্যমেই প্রাথমিক পরিচিতি। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করিয়া বলা যায়, আরবদের সমাজ সাংগঠনিক জীবন যাপন ক্ষেত্রে এক একটি তাঁবুকে এক একটি পরিবাররূপে গণনা করা হয়। দ্বিতীয় স্তরে তাঁবুগুচ্ছের শিবির বা ছাউনীকে একটি 'হায়্যি' (حی) (রক্ত সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী) বলা হয়। এক একটি 'হায়্যি'-এর সদস্যগণ একত্রে একটি 'কওম' (قوم) নামে পরিচিত হয়। এরূপ হায়্যিগুলি ছড়াইয়া থাকিলেও তাহাদের রক্তের বিশুদ্ধতা ও গৌরবময় ঐতিহ্যের টানে তাহারা গোষ্ঠীগত একাত্মতা পোষণ করে। এইরূপ একাত্মতা পোষণকারী কওমগুলির জোটকে একত্রে একটি 'কাবীলা' (قبيلة) বা গোত্র বলে। কাবীলার লোকদেরকে 'বানু' (بنو) বা বংশ নামেও ডাকা হয়। ইসলামের অভ্যুদয়কালে ইহাই ছিল আরবদেশের সমাজ ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক কালে আধুনিকতার প্রভাবে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত 'উমদাহ' (عمدة) উপাধিধারী গোত্রীয় সরদারেরা পুরাতন ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সহিত এক নূতন প্রশাসনিক মাত্রা যুক্ত করিয়াছেন। ইব্‌ন খালদূনের 'কিতাবুল ইবার' গ্রন্থে (মুকাদ্দিমা, বৈরূত ১৯৭৯ খ্রি., ২য় খণ্ড) যেমন বর্ণনা করা হইয়াছেঃ আরবীয় ঐতিহ্যে এক একটি 'কাবীলার' সদস্যদিগকে একই রক্ত-সম্পর্কযুক্ত 'আসাবিয়া' (عصبية) অর্থাৎ সংহত গোত্ররূপে গণ্য করা হয় এবং তাহারা দলবদ্ধ হইয়া কাবীলার প্রধানতম ব্যক্তিকে গোত্রীয় সরদার বা 'শায়খ'রূপে মান্য করে। এরূপ গোত্রীয় সংগঠন আরবীয় সমাজিক জীবনের ভিত্তি রচনা করে (আনসাবুল আরাব, পৃ. ২৫১-২৭১)। এই ব্যবস্থা আরবের মূল ভূমিতে প্রচলিত। তবে যায়দান বলেন (হিস্ট্রী অব দি ইসলামিক সিভিলাইযেশন, চতুর্থ খণ্ড, নয়াদিল্লী ১৯৭৮ খ্রি., পৃ. ৪-৯), কয়েকটি পরিবারকে একত্রে 'ফাখিয', গোষ্ঠীকে 'বাতন', গোত্রকে 'ইমারা' ও উপজাতিকে 'কাবীলা', কয়েকটি কাবীলার সমষ্টিকে "শা'ব" বলা হয়। আরবরা প্রাচীন কাল হইতে প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল। কেহ গোত্রের মধ্যে নরহত্যা করিলে তাহাকে কেহই নিরাপত্তা দিত না। গোত্রের বাহিরে নরহত্যা বংশগত প্রতিহিংসার জন্ম দিত। হত্যাকারীর স্বগোত্র নিহত ব্যক্তির গোত্রের প্রতিহিংসার লক্ষ্য হইত। তখন নিহত ব্যক্তির স্বগোত্রীয়রা হত্যাকারীর গোত্রভুক্ত যে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করিত। আঘাতের বদলে আঘাত, জানের বদলে জান রীতি অনুযায়ী 'হত্যার বদলে হত্যা' (قصاص) ছাড়া অন্য কোন শাস্তি গ্রহণযোগ্য হইত না। তবে হত্যার বদলা নেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় নিহত ব্যক্তির নিকটতম আত্মীয়ের উপর। রোষানল বংশ পরম্পরায় চলিতে থাকিত। এইরূপ বংশগত প্রতিহিংসার সংঘাত যুগ যুগ ধরিয়া চলিত। যেমন ইসলামের অভ্যুদয়ের পূর্বে বানু বাক্সের সহিত বানু তাগলিবের' 'বাসুস যুদ্ধ' চল্লিশ বৎসর ধরিয়া চলিয়াছিল। এইরূপ বিরোধপূর্ণ সংঘাতের দিনগুলিকে 'আইয়ামুল আরাব' অর্থাৎ আরবদের স্মরণীয় যুদ্ধের দিন বলা হইত। আরবদের জীবনধারায় 'আসাবিয়া' অর্থাৎ গোত্রীয় সংহতির চাইতে উচ্চতর কোন মূল্যবোধ ছিল না। আসাবিয়া ছিন্ন হওয়া হইতে বড় আপদ আরবদের মধ্যে কল্পনা করা যাইত না। আরবে গোত্রহীন লোক ছিল অত্যন্ত অসহায়। আরবদের স্বদেশপ্রেম বলিতে স্বগোত্র প্রেম বুঝায়। স্বগোত্রীয়দের প্রতি সীমাহীন ও শর্তহীন আনুগত্যের বায়আতজনিত সংhতি বা 'আসাবিয়া' বহির্জগতের দেশপ্রেমের সঙ্গে তুলনীয়। ইব্‌ন খালদুন এইরূপ আসাবিয়া তথা গোত্রপ্রীতির সাদৃশ্য 'আসাবিয়া' বা সামাজিক সংহতিকে মানুষের জীবন ধারণের প্রথম ও প্রধান অবলম্বন এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে উপস্থাপন করেন (আল-মুকাদ্দিমা দ্র.).

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আরবদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা

📄 আরবদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা


ভৌগোলিক দিক দিয়া আরবদেশ এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায়, পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপরূপে খ্যাত। ইহা দৈর্ঘ্যে ১২০০ মাইল/ ১৮০০ কি. মি., প্রস্থে গড়ে ৭০০ মাইল/ ১১৫০ কি. মি. ব্যাপিয়া সর্বমোট দশ লক্ষ বর্গমাইলের অধিক ষোল লক্ষ বর্গ কি. মি. বিস্তৃত। অতএব ভূ-বিস্তৃতির দিক দিয়া ইহা সমগ্র ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশের এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক-চতুর্থাংশের সমান। কিন্তু আরবদেশের লোকবসতি সংস্থানের সামর্থ্য অতি কিঞ্চিৎকর। পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগর এবং উত্তরে সিরিয়া-ইরাকী মরুভূমি। এশিয়া আফ্রিকার মূল স্থলভাগ হইতে উত্তর ভাগের মরু অঞ্চল দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আরবদেশকে ইহার অধিবাসিগণ 'জাযীরা' (جزيرة) বা উপদ্বীপ নামে অভিহিত করে। ভূতলে আরবদেশ টেবিল সদৃশ্য একখণ্ড বৃহদাকার পাথরের উপর অবস্থিত। তাই উপরিভাগে আরবদেশকে একটি বিশাল মালভূমি বলা চলে। এই মালভূমিটি পশ্চিম হইতে পূর্বদিকে কিঞ্চিৎ নিম্নমুখী কাৎ হইয়া এক প্রান্তে পারস্য উপসাগরে ও অন্য প্রান্তে ইরাকের নিম্নভূমিতে গিয়া মিলিত হয়। আবার পশ্চিমাঞ্চলের পূর্ণ দৈর্ঘ ব্যাপী, পশ্চিম সীমান্ত ধরিয়া ভূভাগটির মেরুদণ্ডের মত পর্বতসারি চলিয়া গিয়াছে যাহার আকার লোহিত সাগরের প্রান্তে খণ্ডবিখণ্ড ও খাড়া এবং পারস্য উপসাগরের প্রান্তে প্রলম্বিত ও ক্রমান্বয়ে নিম্নগামী। এই পর্বতশ্রেণী পশ্চিমে সমুদ্রতীরের সমান্তরালে চলিয়া গিয়াছে, যাহার উত্তরাংশের মাদয়ান অঞ্চলে পর্বতশ্রেণী ৯,০০০ ফুট উচ্চ; আর দক্ষিণাংশে ইয়ামন এলাকায় ইহার উচ্চতা ১২,০০০ ফুটে উন্নীত। হিজাযের 'সরাহ' এলাকায় পর্বতের উচ্চতা ১০,০০০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছিয়া যায়। দক্ষিণাংশের তিহামা এলাকা সমুদ্র তটের নিম্নভূমির এবং নাজদ এলাকার কেন্দ্রীয় উত্তর মালভূমির উচ্চতা মাত্র ২৫০০ ফুট। পর্বতশ্রেণী ও উচ্চভূমি ব্যতিরেকে পুরা উপদ্বীপটি মরু অঞ্চল ও প্রান্তর বিশেষ। প্রান্তরগুলি প্রায়শ গোলাকার ও সমতল, যাহা একদিকে বালির টিলা দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও অন্যদিকে পাতাল জলাশয় দ্বারা সিক্ত (ডঃ শাহ ইনায়াতুল্লাহ, জিয়োগ্রাফিক্যাল ফ্যাক্টস্ ইন্ এরাবিয়ান লাইফ এণ্ড হিস্ট্রী, লাহোর ১৯৪২ খ্রি., পৃ. ১৫-৩৭ দ্র.)। আরবদেশে এমন কোন নদী নাই, যাহাতে সারা বৎসর পানির স্রোত বহিয়া চলে অথবা সাগরে পতিত হয়। নদী প্রবাহের বদলে আবহমান কাল হইতে সাময়িক বৃষ্টির পানি চলাচলের জন্য এখানে পরস্পর সংযুক্ত অসংখ্য উপত্যকা বিদ্যমান। এইগুলিকে 'ওয়াদী' বলা হয়। আরবী ভাষায় তাই প্রচলিত অর্থে 'ওয়াদী' মানে নদী। এ ওয়াদীগুচ্ছকে সাধারণভাবে শুষ্ক নদী বা নদীগাত্রের মত দেখায়। বজ্রবৃষ্টি হইলে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া এগুলিতে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। তবে বৎসরের অন্যান্য সময় এইগুলি শুষ্ক থাকে। কিন্তু এইগুলির তলদেশে পানির স্তর বিদ্যমান থাকে, যাহা বিভিন্ন গভীরতায় কূপ খননের মাধ্যমে পানি আহরণ করিতে সাহায্য করে। যেখানে পানির আর্দ্রতা ভূভাগ ছাপাইয়া উপচাইয়া পড়ে সেখানে মরূদ্যান দেখা দেয়। আরবদেশের স্থল-মানচিত্রে দৃষ্টিপাত করিলে ছোট বড় ওয়াদীর ঘনীভূত বৃত্ত বা বিন্দুর চিহ্ন দ্বারা সমগ্র ভূভাগটি পরিপূর্ণ দেখা যায়। এগুলিতে সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ছোট বড় জনবসতি গড়িয়া ওঠে অথবা শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের পথ প্রতিষ্ঠা লাভ করে (পি. কে. হিট্টি, হিস্ট্রী অব দি এ্যারাব্স, লন্ডন ১৯৫৯ খ্রি., পৃ. ১৬, সামনে দ্র.)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভূমি ব্যবস্থা

📄 ভূমি ব্যবস্থা


আরবদেশের ভূমি ব্যবহার প্রক্রিয়া বেশ চিত্তাকর্ষক। ভূমি ব্যবহারের প্রেক্ষিতে আরব উপদ্বীপকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ইহার বিপুলাংশ ভূমি স্থল-মরুর কবলে নিপতিত। এই সামান্য অংশকে যাযাবর বেদুঈন মরুচারিগণ চারণভূমিরূপে ব্যবহার করে। তাহাও সময়ে সময়ে বৃষ্টিপাতের দ্বারা ঘাঁসপাতা জন্মিলে ব্যবহারযোগ্য হয়। এই চারণভূমির কমবেশী এক-দশমাংশ সমুদ্র তটে প্রলম্বিত আর্দ্র ভূমি, যাহাতে অল্পস্বল্প কৃষিকর্ম হইয়া থাকে। এইরূপ কৃষিভূমির আশেপাশে জনবসতি গড়িয়া ওঠে। তাহাতেও শুষ্ক আবহাওয়া ও মাটির লবণাক্ততার দরুন সহজে উদ্ভিদ জন্মায় না। সাধারণভাবে বলা যায়, হিজাযে অধিক পরিমাণে খেজুরের চাষ হয়। ইয়ামানে গমের চাষ হয়, ওমান ও হাসায় ধান জন্মে। মরূদ্যানে এখানে সেখানে বার্লি ও ভুট্টার চাষ হয়। দক্ষিণ উপকূল বিশ্বখ্যাত ফ্রাংকিনসেন্স বা লোবান জাতীয় সুগন্ধির উপাদান প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আশীর এলাকা আরবীয় গামের জন্য প্রসিদ্ধ। মোটকথা, তেল আবিস্কারের পূর্ব পর্যন্ত আরব উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকাকে মরুভূমি ও মরূদ্যান এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হইত। তদনুযায়ী আরবদেশের বাসিন্দারাও দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। ইহাদের এক ভাগ ছিল মরুচারী বেদুঈন (আহলুল বাদ্‌ও) এবং অন্যভাগ হইল স্থায়ী বাসিন্দা (আহলুল হাদূর)। বেদুঈনরা পশু পালন করিয়া জীবন ধারণ করিত এবং গ্রাম ও শহরের স্থায়ী বাসিন্দারা কৃষিকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা জীবিকা উপার্জন করিত। পশু পালনের ক্ষেত্রে উট, ছাগল ও ভেড়াই প্রধান। তবে মধ্য আরবে ও নাজদে ঘোড়া পালনও জনপ্রিয়। সার্বিকভাবে গবেষকরা বলিয়া থাকেন, আরবীয় জনজীবনের প্রধান বেদুঈনদের অবলম্বন উট এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের খেজুর গাছ। লতাপাতা, কাঁটা গাছ-গাছালি খাইয়া এবং কিছু না পাইলে খেজুর বীচি চিবাইয়া জীবন যাপন করার সামর্থ্য উটকে মরুজীবনের একনিষ্ঠ বাহনরূপে উপযুক্ত করিয়া তোলে। ইহা শীতকালে ২৫ দিন ও গরম কালে ৫ দিন পানি পান না করিয়াও থাকিতে পারে। মরুভূমিতে পানির সংকট নিরসনে একটি বৃদ্ধ উটকে যবেহ করিয়া তাহার পেটের সঞ্চিত পানি বাহির করা হইত অথবা তাহার মুখের ভিতরে লাঠি ঢুকাইয়া তাহাকে পানি বমি করানো হইত; আর তাহা দিয়াই বেদুঈনরা সংকট মুহূর্তে তৃষ্ণা নিবারণ করিত। আরবী ভাষায় বিভিন্ন জাত, বয়স ও আকারের উটের প্রায় এক হাজার নাম রহিয়াছে। আদতে উট ছাড়া বেদুঈন জীবন কল্পনা করা যায় না। একজন বে두ঈনের জন্য উট যেরূপ, একজন গ্রামবাসী বা নগরবাসীর জন্য খেজুর গাছ অদ্রূপ। আরবদেশের গাছপালার মধ্যে খেজুর গাছ রাণীর সমতুল্য। একজন যাযাবর বেদুঈনের জন্য উটের দুধ যেমন প্রধান খাদ্য, আর বেদুঈন যেখানে তার দুগ্ধ-খাদ্যের সাথে খেজুর ও ভুট্টা যোগ করিতে চাহে, স্থায়ী বাসিন্দার নিকট দুধ তেমনি প্রিয় খাদ্য। মরূদ্যানবাসীর সম্পদের উৎস খেজুর গাছ। ইহা উষ্ণ মরুতে বর্ধিত হয়, এমনকি লবণাক্ততাও ইহাকে দমাইতে পারে না। খেজুর গাছ তাহাকে একটি উন্নত মানের খাদ্যপ্রাণ যোগায়। ইহার কাণ্ড কাঠের কাজ দেয়। ঘর, বিছানা ও আসবাবপত্র প্রস্তুত করিতে ইহা তাহার কাজে লাগে। ইহার ডাল হইতে সে ঝুড়ি, হাতিয়ার ও অন্যান্য ঘর সাজানোর আসবাব তৈরি করে। ইহার পাতা দিয়া ছাউনী ও মাদুর তৈরি করা হয়। উটের মত, আরবী ভাষায়, খেজুরেরও পাঁচ শতাধিক নাম আছে। মদীনা ও আশেপাশের স্থানগুলিতে শতাধিক প্রকারের খেজুর বিদ্যমান। যাযাবরের সম্পদের পরিমাণ যেমন তাহার পোষ্য পশুর সংখ্যায় নির্ণীত হইত, তেমনি স্থায়ী বাসিন্দার সম্পদ তাহার খেজুর গাছের সংখ্যার দ্বারা নির্ণীত হইত। হিট্টির মতে মরুভূমির সব জীবিত জিনিসের উপর বেদুঈন, উট ও খেজুর গাছের ক্ষমতা সর্বব্যাপী এবং এ তিনের সহিত মরুজীবনের চতুর্থ উপাদান বালুকারাজি (দ্র. হিস্ট্রী অব দি এ্যারাব্স, পৃ. ১৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আরবদেশের সামাজিক অবস্থা

📄 আরবদেশের সামাজিক অবস্থা


উপরিউক্ত ভৌগোলিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি হইতে বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবদের সামাজিক জীবনে চারটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়। এগুলি যথাক্রমে (ক) অন্তর্মুখী মনস্তত্ত্ব ও বিশুদ্ধবাদী মনোভাব, (খ) ঐতিহ্যগত ঐক্যের বলয়ে সামাজিক বিভাজন, (গ) জোটবদ্ধভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার মনোভাব এবং (ঘ) গোত্রীয় রেষারেষি। এই বৈশিষ্ট্যগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
(ক) আরবদেশের ভৌগোলিক বিশালতার প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জোটবদ্ধ জীবনধারা অধিবাসীদের মধ্যে এক প্রকার ভূভাগীয় অন্তর্মুখী মানসিকতার জন্ম দেয় যাহা আরবদিগকে বহির্জগত হইতে বিছিন্ন করিয়া রাখিত। ইহা তাহাদের মধ্যে আত্মম্ভরিতা, বিশুদ্ধবাদিতা ও আত্ম-সচেতনতার মনোভাব সৃষ্টি করিত। বলা হয় যে, নৈসর্গিক কারণে আরবী ভাষায় ইহা প্রকটভাবে পরিস্ফুট হইতে দেখা যায়। আরবী ভাষার শব্দ চয়নে ও শাব্দিক বিন্যাসে, ব্যাকরণিক ভাব সংযুক্তিতে এবং ভাষাগত প্রকাশভংগিতে আবহমান কাল ধরিয়া এক প্রকার বিশুদ্ধবাদী ধ্যান-ধারণা পরিলক্ষিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতা স্বাভাবিকভাবে আরবী ভাষার মাহাত্ম্য এবং অন্যান্য ভাষার অপাংতেয়তা প্রকাশ করে। তাই সগর্বে আরবরা নিজেদেরকে শুদ্ধভাষী আরব এবং অন্যান্য ভাষাভাষীকে 'আজম' অর্থাৎ বোবা নামে আখ্যায়িত করে। ইহাতে তাহাদের মধ্যে একটি আত্মম্ভরিতার ভাব সৃষ্টি হয়। ফলে তাহারা অন্যদেরকে হেয় জ্ঞান করিতে অভ্যস্ত ছিল। ইহা হইতে গোত্রীয় মাওয়ালী প্রথার সূচনা হইয়াছিল, যাহাতে একজন বহিরাগত আরব অথবা অনারব কোন রক্ত শপথের মাধ্যমে গোত্রভুক্ত হইতে পারে। তখন সে অন্যান্য গোত্রীয় সদস্যদের সহিত সম-মর্যাদা প্রাপ্ত হয় (জুর্জী যায়দান, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪-৮)।
(খ) আরবদেশের জনসংখ্যার স্বল্পতার তুলনায় ভূমি বিস্তৃতির বিশালতা এবং মরুময় প্রতিবন্ধকতা, বিশেষত উত্তর আরব ও দক্ষিণ আরবের মধ্যবর্তী বিশাল মরুভূমির বিস্তর ব্যবধানের কারণে, উভয় অঞ্চলের আরবগণ জোটবদ্ধ হইতে পারে নাই। অতএব তাহাদের মধ্যে প্রজাতিগত ও ভাষাগত ঐক্য বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, তাহারা জাতিগতভাবে একতাবদ্ধ হইতে অপারগ হয়, বরং তাহারা উত্তর আরবের লোকজনকে 'মুদার' এবং দক্ষিণ আরবের লোকজনকে য়ামানীরূপে আখ্যায়িত করিয়া নিজেরা দ্বিধাবিভক্ত হইয়া পড়ে। পক্ষান্তরে মুদারকে 'আদনান' এবং য়ামানীকে 'কাহতান' বংশরূপে আখ্যায়িত করা হইত। ইব্‌ন খালদুন আরবদের বংশ পরিচয়ের ক্ষেত্রে তাহাদিগকে আদনান, কাহতান ও কুদা'আ এই তিন ভাগে বিভক্ত করেন (কিতাব আল-'ইবার, বৈরূত ১৯৭৯ খ্রি., পৃ. ২৫৮)।
(গ) হিট্টির হিস্ট্রী অব সিরিয়া (১৯৫০ খ্রি., পৃ. ৬২)-এ তিনি আরবদের জোটবদ্ধ দেশান্তরের প্রবণতা ব্যাখ্যা করিয়া বলেন, যেহেতু আরবদেশ তিন দিক হইতে সমুদ্র বেষ্টিত এবং যেহেতু মরু অঞ্চলের পক্ষে জনবসতির সংস্থান করার সাধ্য অতিশয় সীমিত, সেহেতু এই বিশাল উপদ্বীপে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া ভূমির ধারণ ক্ষমতাকে অতিক্রম করিলে বর্ধিত জনগোষ্ঠী বহির্গমনের পথ ধরে। এই অবস্থায় তাহারা উত্তরের সিরিয়া-ইরাক, মরু অঞ্চল পাড়ি দিয়া সিরিয়া, ইরাক, জর্ডান ও ফিলিস্তীন অঞ্চলে উপনীত হয় এবং সেখান হইতে দুনিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়ে। এইভাবে যুগে যুগে তাহারা জোটবদ্ধ হইয়া অভিবাসিত হয়। আরবদেশে সর্বসাকুল্যে পানির অপ্রতুলতা, কৃষির স্বল্পতা, মরু প্রান্তরে উদ্ভিদ ও গাছপালার অভাব, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ সর্বদা প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় বিপুলাংশে ঘাটতিপূর্ণ থাকে। ফলে আরবের সর্বত্র ব্যষ্টিকভাবে লোকজন তেল উৎপাদনের পূর্ব পর্যন্ত অভাবগ্রস্ত থাকিত। বিশেষত মরু অঞ্চলের যাযাবর উপজাতিগুলি সর্বক্ষণ অনাহারক্লিষ্ট থাকিত। বিরাজমান অভাব-অনটন উত্তরণে নগরবাসীরা স্বভাবতই ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকিয়া পড়ে। প্রান্তরবাসী দুর্ধর্ষ উপজাতীয় লোকজন পূর্বকালে সুযোগ পাইলেই দলবদ্ধ হইয়া একে অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনে লিপ্ত হইত। ফলে গোত্রীয় রেষারেষিতে জীবনধারা সর্বদা বিপন্ন থাকিত। সুতরাং একদিকে তাহারা যেমন লুট-তরাজে লিপ্ত হইয়া জীবন যাপনের পরিস্থিতিকে অস্থির, বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ করিয়া তুলিত, অপরদিকে পারস্পরিক নিরাপত্তার খাতিরে যত্রতত্র আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার লক্ষ্যে সমঝোতা, সন্ধি বা সোলেহ-এর মাধ্যমে জোটবদ্ধ হইত। বিরাজমান আনুগত্যের বিবেচনায়, আরবদেশ পূর্বে যেমন বর্তমানেও তেমন অসংখ্য গোত্রের বসবাসস্থল। তাহাদের বেশীরভাগ প্রাকৃতিক কারণবশত বিক্ষিপ্ত বসতিপূর্ণ গ্রাম বা কারিয়ায় বসবাস করে। যেখানে স্বল্প পানি ভাগ্যের জোরে মিলে সেখানে তাহারা কৃষিকর্মে ব্যাপৃত হয়, সুযোগমত ধান, গম, ভুট্টা বা খেজুর চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করে। আর যেখানে শুষ্ক মরুপ্রান্তরে সাময়িক বৃষ্টিপাতে ঘাঁসপাতার উন্মেষ ঘটে, সেখানে আরব বেদুঈনরা উট, ছাগল, মেষ ও দুম্বা পালনে স্থান হইতে স্থানান্তরে বিচরণ করে। তদুপরি সমুদ্রতটে জেলেরা মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত হয়। শহরে-নগরে ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় লোকদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। তাহারা যে যেভাবেই বসবাস করুক না কেন, সবাই নিজেদেরকে সামী বা সেমেটিক জাতির অংশ হিসাবে গণ্য এবং সামী সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত বলিয়া দাবি করে (এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা মাইক্রোপেডিয়া, ১৫শ সংস্করণ, ১৯৯৩-৭৪ খ্রি., ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৪৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00