📄 রচনার স্থান
রচনাকাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ আছে : (১) ডঃ পোস্ট-এর মতে, ৫৮ থেকে ৬০ সালের মাঝে অর্থাৎ জেরুসালেম ধ্বংসের পূর্বেই ঐ গ্রন্থটি সংকলন করা হয়। (২) প্রফেসর লারুনের মতে, পিটার ও পলের মৃত্যুর পর তাহা লিখিত। (৩) ডঃ হওরন বলেন, এই তৃতীয় ইনজীলটি রচিত হয় ৫৩ সালে অথবা ৬৩ বা ৬৪ সালে (শায়খ আবু যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৪৯)। (৪) ইবন হাযমের মতে, ইহা মার্ক সুসমাচারের পরে সংকলিত (ইবন হাযম, প্রাগুক্ত, page ২৫২)। (৫) ডঃ মরিস বুকাইলি বলেন, আধুনিক যুগের গবেষক ও সমালোচকগণ মনে করেন, ইহা রচিত হয় ৮০ থেকে ৯০ খৃস্টাব্দের মধ্যে। ২০০ খৃস্টাব্দের দিকে লুক ও এ্যাক্টস-এর লেখকরূপে লুককে পরিচয় দেওয়ার ধারা চালু হয় (The Ency. Americana, vol. 17, page 84)।
রচনার স্থান : (১) ইবন হাযমের মতে, উহা ইকায়াহ (সিরিয়ার ইফামিয়া বা তুরস্কের ইকনীয় নামে পুরাতন শহর)-এ সংকলন করা হয় (ইবন হাম্, প্রাগুক্ত)।
(২) আলুসীর মতে, উহা আলেকজান্দ্রিয়াতে সংকলন করা হয় (আলুসী, প্রাগুক্ত)।
(৩) ডঃ শায়খ পোস্ট-এর মতে, খুব সম্ভব পল যখন বন্দী অবস্থায় ছিলেন (৫৮-৬০ খৃ.), সেই সময়ে লুক ফিলিস্তীনের কৈসরিয়াতে ইহা সংকলন করেন (শায়খ আবু যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৪৯)।
📄 রচনার উপলক্ষ
(১) শায়খ আবু যাহরা উল্লেখ করেন যে, লুক তাহার ইনজীলকে গ্রীকদের জন্য লিখিয়াছিলেন (প্রাগুক্ত)।
(২) ড. সরকারী বলেন যে, লুক নিজের ব্যক্তিগত প্রেরণায় তাহা লেখেন। তিনি মূলত থিয়ফিল নামে এক ব্যক্তিকে তথ্য সরবরাহের জন্য তাহা সম্পাদন করেন। ইহা ইলহামের দ্বারা নহে কিংবা পবিত্র আত্মার প্রেরণায়ও তাহা লেখেননি বরং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে তাহা করিয়াছেন (শাবকাবী, প্রাগুক্ত, page ১৮২)।
(২) ড. শারকাবী বলেন যে, লুক নিজের ব্যক্তিগত প্রেরণায় তাহা লেখেন। তিনি মূলত থিওফিল নামে এক ব্যক্তিকে তথ্য সরবরাহের জন্য তাহা সম্পাদন করেন। ইহা ইলহামের দ্বারা নহে কিংবা তিনি পবিত্র আত্মার প্রেরণায়ও তাহা লেখেননি, বরং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে তাহা কয়িাছেন (শারকাবী, প্রাগুক্ত, page ১৮২)।
কিন্তু থিওফিল নামে ঐ ব্যক্তিটি যাহাকে লুক মহামহিম ও মাননীয় বলিয়া সম্বোধন করিয়াছেন (লুক; ১:৩) তিনি কে তাহা উল্লেখ করেন নাই। ইবন বিতরিকের মতে, তিনি রোমান বড় কোন কর্মকর্তা। আবার কাহারো মতে তিনি ছিলেন মিসরীয় (শায়খ আবূ যাহরা, প্রাগুক্ত)।
সম্ভবত থিওফিলের মত অভিজাত উচ্চ শ্রেণীর কিছু লোকের খৃষ্টবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে যাইয়া লুক তাহার সুসমাচারটি সম্পাদন করিয়াছিলেন। গবেষকগণের মতে, তাহার বর্ণনাভঙ্গিতে অনেকটা সাহিত্যিকতার ছাপ পরিলক্ষিত হয়। এইজন্য ফাদার কানেন গিয়েসার মন্তব্য করিতে বাধ্য হইয়াছেন, "লুক হইতেছেন ইনজীলের চারজন লেখকের মধ্যে সবচাইতে বেশী আবেগধর্মী এবং সাহিত্যিক প্রতিভার অধিকারী। তাহার মধ্যে বিদ্যমান ছিল একজন সত্যিকারের ঔপন্যাসিকের সকল গুণ" (ডঃ মরিস বুকাইলি, প্রাগুক্ত, page ১১০)।
অতএব মথি এবং মার্কের মত লুকের ইনজীলটিও কখন কিভাবে কাহার মাধ্যমে রচিত তাহা ঐতিহাসিক ও গবেষকদের কাছে বিতর্কিত ও অস্পষ্ট। তাহা ছাড়া লুক ঈসা (আ)-এর শিষ্য তো ছিলেনই না, বরং তাঁহার শিষ্যেরও শিষ্য নহেন। অধিকন্তু নূতন খৃষ্টবাদের প্রবক্তা পলের ছিলেন তিনি সহযাত্রী। তাই তাহার ইনজীলে পলের চিন্তা-চেতনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।