📄 লেখক পরিচিতি
চারটি সুসমাচারের মধ্যে মার্ক লিখিত সুসমাচারটি সবচাইতে ছোট। খৃস্টানদের দাবিতে এই সুসমাচারটি সবচাইতে প্রাচীনও বটে। এই সুসমাচারের লেখক কে ছিলেন, তাহা লইয়া বিভিন্ন রকম বর্ণনা রহিয়াছে। (১) অধিকাংশ খৃস্টান পণ্ডিতের মতে ইহার লেখকের নাম ইউহান্না বা জন, যাহার উপাধি মার্ক। তিনি ঈসা (আ)-এর হাওয়ারী বা সহচর ছিলেন না, তবে জনৈক হাওয়ারীর শিষ্য ছিলেন। কাহারো কাহারো মতে সেই হাওয়ারীর নাম পিতর মার্ক ছিলেন জেরুসালেমের এক ইয়াহুদী পরিবারের সন্তান। বলা হয় যে, তিনি ঈসা (আ)-এর সত্তরজন শিষ্যের অন্যতম ছিলেন। ইহা ছাড়া কথিত আছে যে, পিতর যখন রোমে (এশিয়া মাইনর) ছিলেন তখন মার্ক ছিলেন তাহার শিষ্য। পিতরের লেখা চিঠির শেষ অনুচ্ছেদে ইহার উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৫০ সালের দিকে হেরালেপিস-এর বিশপ পাপিয়াস এই সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়াছিলেন যে, সুসমাচার লেখক মার্ক ছিলেন "পিতরের দোভাষী" এবং সম্ভবত পলের সহযোগী (ড. মরিস বুকাইলি, প্রগুক্ত, page ১০৪)।
প্রেরিতদের কার্যাবলীতে আসিয়াছে যে, ঈসার অন্তর্ধানের পর মার্কের বাড়িতেই তাহার শিষ্যগণ একত্র হইতেন। শায়খ আবু যাহরা উল্লেখ করেন যে, বার্নবা ছিল মার্কের মামা। তিনি বার্নবা ও পৌলের সাথে বর্তমান তুরস্কের এ্যান্টিয়ক শহরে খৃষ্টবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিয়াছিলেন। ইহার পর জেরুসালেমে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর সাইপ্রাসে চলিয়া যান, পরে মিসরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে খৃষ্টবাদ প্রচার করেন। তাহার প্রচারে অনেক মিসরী খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তিনি কখনও রোমে আবার কখনও উত্তর আফ্রিকায় আসা-যাওয়া করিতেন, কিন্তু মিসরই ছিল তাহার আসল আবাসস্থল। আর এখানেই মূর্তি পূজকরা তাহাকে ৬২ খৃস্টাব্দে হত্যা করে (শায়খ আবু যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৪৬)।
লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজী ইন্সটিটিউট-এর প্রফেসর ডঃ নিনহাম মার্ক সুসমাচারের ব্যাখ্যায় (১৯৬৩) বলেন যে, মার্ক নামে এমন কোন ব্যক্তি পাওয়া যায় না, যাহার সহিত ঈসার দৃঢ় সম্পর্ক ছিল কিংবা প্রাথমিক খৃস্টান মণ্ডলিতে এই নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
প্রেরিতদের কার্যাবলী (প্রেরিত, ১২ঃ ১২, ২৫) অথবা পিটারের প্রথম পত্রে ৫: ১৩ অথবা পল-এর গালাতিও পত্রে ৪: ১০ যে ইউহান্নাকে মার্ক বলা হইয়াছে তিনিই মার্ক সুসমাচারের লেখক কিনা তাহা বিশুদ্ধতার ব্যাপারে জোর দিয়া বলা যায় না (Dr. Nenham, Saint Matk, Penguin books, England 1963, page 39)।
ইবনুল বিতরীক মার্ক সুসমাচারের লেখক সম্পর্কে বলেন যে, হাওয়ারীগণের প্রধান পিটার মূলত মার্ক সুসমাচারটি লিখেন রোম শহরে এবং তাহার শিষ্য মার্কের নামে তাহা চালাইয়া দেন। কাহারো কাহারো মতে পিটারের পরিকল্পনা অনুসারে মার্ক এই গ্রন্থটি রচনা করিয়াছিলেন (শায়খ আবূ যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৪৭)।
ডঃ মরিস বুকাইলি বলেন যে, বিশপ পাপিয়াসের দেওয়া তথ্যের দৃষ্টিকোণ হইতে বিচার করিলে দেখা যায় যে, মার্কের সুসমাচারের লেখার সময়কাল ছিল, পিতরের মৃত্যুর পর (ডঃ মরিস বুকাইলি, প্রাগুক্ত, page ১০৪)। অতএব উহা গ্রন্থটি দ্বারা বুঝা যায় যে, গ্রন্থটি পিটারের লিখা নহে, বরং মার্কের দ্বারাই লিখিত। তবে সেই মার্ক-এর পরিচয় অস্পষ্ট।
ডঃ এফ গ্রান্টের মতে, কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, অগাস্টিন এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌছিয়াছিলেন যে, মার্ক সেই অনুসারীদের অন্তর্গত যাহারা সেই মথির ইনজীলকে সংক্ষিপ্ত করিয়াছে (F. Grant, The Gpspels, Their Origins and Their Growth, London 1957, page 74) I
📄 রচনার ভাষা
ইবন হাযমের মতে ইহা গ্রীক ভাষায় লিখিত ছিল, ইহা ছাড়া ফরাসী ভাষায় রচিত বলিয়াও মতামত পাওয়া যায়। কিন্তু তাহার পুরাতন পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় না।
📄 রচনার সময়কাল
(১) ইবন হাযমের মতে, ঈসা (আ)-এর ঊর্ধ্ব গমনের ২২ বৎসর পর তাহা রচিত হয় (ইবন হাযম, প্রাগুক্ত)। (২) আলুসীর মতে, ইহা ঈসা (আ)-এর ঊর্ধ্ব গমনের ১২ বৎসর পর রচিত (আলুসী, প্রাগুক্ত)। (৩) ডঃ মরিস বুকাইলির মতে, ইহা রচিত হইয়াছে ৬৬ খৃ. হইতে ৭০ খৃস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। এই হিসাব সমর্থন করিয়াছেন 'ইক্যুমেনিক্যাল ট্রান্টলেশনে'র ভাষ্যকারগণ।