📄 দম্ভ প্রদর্শন
এমনিভাবে হযরত ঈসা (আ) কোন মু'জিযা বা কোন যুক্তি প্রদর্শন করিলে মূল বিষয়ে না যাইয়া ফরিশীরা শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিয়াই ক্ষান্ত হইত না, বরং তাহারা দম্ভ প্রদর্শন ও গালিগালাজ করিতেও কুণ্ঠাবোধ করিত না। যেমন বার্ণাবাসের বাইবেলে উল্লেখ আছে যে, ইয়াহূদীদের প্রধান রাব্বির সঙ্গে ঈসা (আ)-এর এক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হইয়াছিল এবং ইহাতে পরাজয় বরণ করে। তখন প্রধান রাব্বি বলিল, "এখন আমরা বুঝতে পারিয়াছি আপনার কাঁধের ওপর শয়তান সওয়ার হইয়াছে; আর আপনি একজন সুমেরীয়, আল্লাহর মনোনীত প্রধান রাব্বির প্রতি আপনার কোনো সম্ভ্রমবোধ নাই" (বার্ণাবাসের বাইবেল, page ২৪৬)।
📄 প্রকাশ্যে কুফুরী ঘোষণা
হযরত ঈসা (আ) যখন তাঁহার দাওয়াত পেশ করেন তখন ইয়াহুদীরা সদন্তে উহা প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রকাশ্যে কুফুরী ঘোষণা করে। আল-কুরআনে এই ধরনের একটি তথ্য স্পষ্টভাবেই আসিয়াছে:
ফَلَمَّا أَحَسَّ عِيْسَى مِنْهُمُ الكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى الله . "যখন ঈসা তাহাদের অবিশ্বাস উপলব্ধি করিল তখন বলিল, আল্লাহর পথে কাহারা আমার সাহায্যকারী" (৩ঃ ৫২)?
আল্লামা তাবারী বলেন, এই আয়াতের অর্থ হইল, আল্লাহ তা'আলা যাহাদের নিকট হযরত ঈসা (আ)-কে পাঠাইয়াছিলেন, সেই বনূ ইসরাঈলের পক্ষ হইতে যখন নবুওয়াতের অস্বীকৃতি, তাঁহার বক্তব্য প্রত্যাখ্যানের মনোভাব দেখিতে পাইলেন এবং আল্লাহ্র পথে আহবানে তাহাদের পক্ষ হইতে বাধার সম্মুখীন হইলেন তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী কে আছ? অর্থাৎ আল্লাহর প্রমাণ প্রত্যাখ্যানকারী ও তাঁহার নবীর নবুওয়াতের অস্বীকারকারী লোকদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাথে আমার সাহায্যকারী কে আছে (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪১০)।
উহা হইতে বুঝা যায় যে, ইয়াহুদীদের দ্বারা হযরত ঈসা (আ)-এর দাওয়াতকে মুখের উপর প্রত্যাখ্যান করার পন্থাটি ছিল গুরুতর। তাহারা প্রকাশ্যে কুফুরীর ঘোষণা দিয়া বেড়াইত।
📄 পাথর নিক্ষেপ
হযরত ঈসা (আ)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীরা বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ও পাথরের আঘাতে ঈসা (আ)-কে রক্ত রঞ্জিত করিয়া দেওয়ার চেষ্ট করিত। বার্ণাবাসের বাইবেলে বর্ণিত হইয়াছে যে, প্রধান রাব্বী পরাজয় বরণ করার পর হযরত ঈসা (আ)-এর প্রতি গোস্বায় ফাটিয়া পড়িল এবং বিকট চিৎকার করিয়া বলিল, "পাথর মারো এই বেঈমান লোকটিকে। সে আসলে একটা ইসমাঈলী, আর সে মূসার নিন্দা করে এবং আল্লাহ্ আইনের বিরুদ্ধাচরণ করে (বার্ণাবাসের বাইবেল, page ২৪৮)।
তাফসীরে মাজেদীতে উল্লেখ আছে যে, তখন তাঁহার উপর ছুড়িয়া মারার জন্য পাথর তুলিয়া লইল, কিন্তু যীশু অন্তর্হিত হইলেন ও ধর্মধাম হইতে বাহিরে গেলেন" (যোহন, ৮ : ৫৯)। আরও বলা হয়, "তাহারা আবার তাঁহাকে ধরিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু তিনি তাহাদের হাত এড়াইয়া বাহির হইয়া গেলেন" (যোহন, ১০: ৩৯; তাফসীরে, মাজেদী, খ. ২, page ৬৫৯)।
📄 জন্মভূমি হইতে বিতাড়িত করা
ইবন জারীর তাবারী সূদ্দী হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর নিদের্শমত দাওয়াতী কাজ আরম্ভ করিলে তাঁহার প্রতি ইসরাঈলীরা বিক্ষুব্ধ হইল এবং তাঁহাকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিল। হযরত ঈসা (আ) ও তাঁহার মাতা স্বদেশ হইতে বিতাড়িত হইয়া দেশে দেশে ঘুরিতে থাকেন (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪১০)। হযরত ঈসা (আ) দুঃখ করিয়া বলিয়াছিলেন, নিজের গ্রাম ও নিজের বাড়ি ছাড়া সমস্ত জায়গাতেই নবীরা সম্মান পান (মথি, ১৩ঃ ৫৭)।