📄 রচনার স্থান
রচনাকাল ও ভাষ্য সম্পর্কে যেমনি মতানৈক্য রহিয়াছে তেমনিভাবে ইহা কোথায় রচিত হইয়াছিল সেই স্থান নির্ধারণেও প্রচুর মতানৈক্য পাওয়া যায়। ইবন হাযমের মতে, (১) সিরিয়ার ইয়াহুদীয়া অঞ্চলের কোন এক স্থানে তাহা লিখা হয়। (২) আলুসীর মতে ইহা ফিলিস্তীন এলাকায় রচিত। এই মতটি অন্যভাবে ইবন বিতরীক ও যারযিস যোবিন বলেন, ইহা বায়তুল মুকাদ্দাসে রচিত (আবু যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৪৩-৪৪)। আর যাহারা বলেন যে, ইহা একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক রচিত তাহারা নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেন না। তবে আলেকজান্দ্রিয়া হওয়ার পক্ষেই তাহাদের ধারণা প্রবল। কারণ সেখানেই জুডিও খৃস্টানগণ বাস করিতেন (ড. মরিস বুকাইলি, প্রাগুক্ত, page ৯৯)।
একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক রচনা হওয়ার বিষয়টি আধুনিক গবেষকদের ভিতর অনেকেই সমর্থন করিয়াছেন। ইনসাইক্লোপেডিয়া আমেরিকানার মতে, As a result we can not even be certain that Mathew was the author of the first Gospel. এসব কারণেই অমেরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি না যে, প্রথম সুসমাচার মথিই লিখিয়াছেন। কোন কোন আধুনিক সমালোচক দাবি করেন যে, এই সুসমাচারটি একদল লেখকের রচনা, কোন একক লেখকের নয়। তবু আধুনিক পণ্ডিতেরা এ বিষয়ে একমত যে, মথি তাহার লেখার উৎসরূপে ব্যবহার করিয়াছেন মার্ক-এর সুসমাচার বিক্ত দলিল এবং বিশেষ ধরনের জনশ্রুতি (The Ency. Americana, vol. 18, 1983, page 514)। উপরিউক্ত বক্তব্যের আলোকে আলোচনা করিলে কয়েকটি দিক স্পষ্ট হইয়া উঠে।
প্রথমত, এই সুসমাচারের রচনাকাল অজ্ঞাত। এই ব্যাপারে খৃস্টান জগতও প্রায় একমত।
দ্বিতীয়ত, ইহার লেখকও অজ্ঞাত। অন্ততপক্ষে লেখক সম্পর্কে মতানৈক্য রহিয়াছে।
তৃতীয়ত, ইহা হযরত ঈসা (আ)-এর অবস্থার প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে লেখা নয়। কারণ ইহার লেখক মথি হিসাবে ধরিয়া লইলেও সেই মথি হাওয়ারী ছিলেন কি না বা অন্য কোন মথি, এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় নাই। পঞ্চমত, ইহা কোন ভাষায় রচিত তাহা লইয়াও ঐতিহাসিকগণের মাঝে মতনৈক্য রহিয়াছে। তাহারা একমত যে, ন্যূনতমপক্ষে ইহার অস্তিত্ব খুঁজিয়া বাহির করা সম্ভব হয় নাই। ইহার আসল পাণ্ডুলিপি না থাকায় অনুবাদকৃত পাণ্ডুলিপির সাথে ইহার তুলনা করা সম্ভব হয় নাই। মোটকথা, ইহা ঈসা (আ)-এর জীবনের প্রকৃত ঘটনা ও বাণী সম্বলিত কি না সেই ব্যাপারে সন্দেহ রহিয়াছে।