📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ১. হযরত মূসার ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ১. হযরত মূসার ভবিষ্যদ্বাণী


হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতর সুসংবাদ
যেই জাতির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা কোন নবী পাঠান, পূর্ব হইতেই আগের নবীগণ তাঁহার আগমনের সুসংবাদ দিতে থাকেন, যাহাতে তাঁহার দাওয়াতের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হযরত ঈসা (আ) সেই সকল রাসূল-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কারণে বনূ ইসরাঈলের নবীগণের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক নবী তাঁহার আগমনের পূর্ব হইতে তাঁহার সম্পর্কে সুসংবাদ দিতে থাকেন। এই সুসংবাদের কারণেই বনূ ইসরাঈলের লোকেরা দীর্ঘকাল ধরিয়া তাঁহার আগমনের প্রতীক্ষা করিতে থাকে।
বাইবেলে নানা ধরনের বিকৃতি সত্ত্বেও তাহাতে এই ধরনের কতিপয় সুসংবাদ বাণী এখনও বর্তমান রহিয়াছে, যাহা হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের সহিত সম্পৃক্ত। হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের পূর্বে কয়েক জন নবীর ভবিষ্যদ্বাণী ও সুসংবাদ নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল: Old Tastament-এর দ্বিতীয় বিবরণে আছে, "তিনি (মূসা) বলিলেন, সদাপ্রভু সিনাই হইতে আসিলেন এবং সেয়ীর হইতে তাহাদের প্রতি উদিত হইলেন" (৩৩:২)।
এই সুসংবাদের মধ্যে "সিনাই হইতে সদাপ্রভুর আগমন" হযরত মূসা (আ)-এর নবুওয়তের প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে এবং সেয়ীর হইতে উদিত হওয়া বাক্যাংশ দ্বারা হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াত বুঝানো হইয়াছে। কেননা এই পাহাড়ের বেথেলহাম নামক স্থানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতর সুসংবাদ
যেই জাতির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা কোন নবী পাঠান, পূর্ব হইতেই আগের নবীগণ তাঁহার আগমনের সুসংবাদ দিতে থাকেন, যাহাতে তাঁহার দাওয়াতের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হযরত ঈসা (আ) সেই সকল রাসূল-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কারণে বনূ ইসরাঈলের নবীগণের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক নবী তাঁহার আগমনের পূর্ব হইতে তাঁহার সম্পর্কে সুসংবাদ দিতে থাকেন। এই সুসংবাদের কারণেই বনূ ইসরাঈলের লোকেরা দীর্ঘকাল ধরিয়া তাঁহার আগমনের প্রতীক্ষা করিতে থাকে।
বাইবেলে নানা ধরনের বিকৃতি সত্ত্বেও তাহাতে এই ধরনের কতিপয় সুসংবাদ বাণী এখনও বর্তমান রহিয়াছে, যাহা হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের সহিত সম্পৃক্ত। হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের পূর্বে কয়েক জন নবীর ভবিষ্যদ্বাণী ও সুসংবাদ নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল: Old Tastament-এর দ্বিতীয় বিবরণে আছে, "তিনি (মূসা) বলিলেন, সদাপ্রভু সিনাই হইতে আসিলেন এবং সেয়ীর হইতে তাহাদের প্রতি উদিত হইলেন" (৩৩:২)।
এই সুসংবাদের মধ্যে "সিনাই হইতে সদাপ্রভুর আগমন" হযরত মূসা (আ)-এর নবুওয়তের প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে এবং সেয়ীর হইতে উদিত হওয়া বাক্যাংশ দ্বারা হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াত বুঝানো হইয়াছে। কেননা এই পাহাড়ের বেথেলহাম নামক স্থানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঈসা আঃ এর নবুওত এর সুসংবাদ ভুমিকা

📄 ঈসা আঃ এর নবুওত এর সুসংবাদ ভুমিকা


হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতর সুসংবাদ
যেই জাতির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা কোন নবী পাঠান, পূর্ব হইতেই আগের নবীগণ তাঁহার আগমনের সুসংবাদ দিতে থাকেন, যাহাতে তাঁহার দাওয়াতের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হযরত ঈসা (আ) সেই সকল রাসূল-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কারণে বনূ ইসরাঈলের নবীগণের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক নবী তাঁহার আগমনের পূর্ব হইতে তাঁহার সম্পর্কে সুসংবাদ দিতে থাকেন। এই সুসংবাদের কারণেই বনূ ইসরাঈলের লোকেরা দীর্ঘকাল ধরিয়া তাঁহার আগমনের প্রতীক্ষা করিতে থাকে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ২. হযরত যিশাইয় ও মীখা-এর ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ২. হযরত যিশাইয় ও মীখা-এর ভবিষ্যদ্বাণী


তাঁহারা উভয়ে বনূ ইসরাঈলের শেষ যুগ সম্পর্কে উল্লেখ করেন, "সিয়োন হইতে ব্যবস্থা ও যিরুশালেম হইতে সদাপ্রভুর বাক্য নির্গত হইবে "(যিশাইয়, ২: ৩; মীখা, ৪: ২)। এইখানে উল্লেখ্য যে, ফেরেশতা যখন হযরত মারয়াম (আ)-এর নিকট ঈসা (আ)-এর জন্মের সুসংবাদ লইয়া আসিয়াছিলেন তখন তাহাতে হযরত ঈসা (আ)-কে কালিমাতুল্লাহ বা আল্লাহর বাণী বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছিল। এই মর্মে আল-কুরআনেও ইরশাদ হইয়াছে: "হে মারয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাহার কলেমার সুসংবাদ দিতেছেন” (৩ঃ৪৫)।
হযরত যিশাইয় আরও স্পষ্ট করিয়া অন্য স্থানে বলিয়াছেন, "একজনের রব, সে ঘোষণা করিতেছে, তোমরা প্রান্তরে সদা প্রভুর পথপ্রস্তুত কর, মরুভূমিতে আমাদের ঈশ্বরের জন্য রাজপথ সরল কর। প্রত্যেক উপত্যকা উচ্চীকৃত হইবে, প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বত নিম্ন করা যাইবে, বক্রস্থান সরল হইবে, উচ্চ নীচ ভূমি সমস্থলী হইবে। আর সদাপ্রভুর প্রতাপ প্রকাশ পাইবে। আর সমস্ত মর্ত্য একসঙ্গে তাহা দেখিবে, কারণ সদাপ্রভুর মুখ ইহা বলিয়াছে” (যিশাইয়, ৪০: ৩-৫)।
উপরে 'একজনের রব ঘোষণা করিতেছে' যাহা বলা হইয়াছে, সেই সরব ঘোষণাকারী দ্বারা উদ্দেশ্যে হযরত ইয়াহইয়া (আ), আর সদাপ্রভুর পথ বলিতে ঈসা (আ)-এর দাওয়াতে হককে বুঝানো হইয়াছে (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, এম, এ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ৩খ, page ৩০১)। আর "উচ্চ নীচ ভূমি সমস্থলী হইবে"এই কথা দ্বারা হযরত ঈসা (আ)-এর সাম্যের বাণীর প্রতি ঈঙ্গিত করা হইয়াছে। কারণ বনূ ইসরাঈল সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে প্রচণ্ড শ্রেণীপ্রথা ও দলাদলি শুরু হইয়াছিল। ঈসা (আ) আসিয়া তাহার অপনোদন ঘটাইবেন।

তাঁহারা উভয়ে বনূ ইসরাঈলের শেষ যুগ সম্পর্কে উল্লেখ করেন, "সিয়োন হইতে ব্যবস্থা ও যিরুশালেম হইতে সদাপ্রভুর বাক্য নির্গত হইবে "(যিশাইয়, ২: ৩; মীখা, ৪: ২)। এইখানে উল্লেখ্য যে, ফেরেশতা যখন হযরত মারয়াম (আ)-এর নিকট ঈসা (আ)-এর জন্মের সুসংবাদ লইয়া আসিয়াছিলেন তখন তাহাতে হযরত ঈসা (আ)-কে কালিমাতুল্লাহ বা আল্লাহর বাণী বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছিল। এই মর্মে আল-কুরআনেও ইরশাদ হইয়াছে: "হে মারয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাহার কলেমার সুসংবাদ দিতেছেন” (৩ঃ৪৫)।
হযরত যিশাইয় আরও স্পষ্ট করিয়া অন্য স্থানে বলিয়াছেন, "একজনের রব, সে ঘোষণা করিতেছে, তোমরা প্রান্তরে সদা প্রভুর পথপ্রস্তুত কর, মরুভূমিতে আমাদের ঈশ্বরের জন্য রাজপথ সরল কর। প্রত্যেক উপত্যকা উচ্চীকৃত হইবে, প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বত নিম্ন করা যাইবে, বক্রস্থান সরল হইবে, উচ্চ নীচ ভূমি সমস্থলী হইবে। আর সদাপ্রভুর প্রতাপ প্রকাশ পাইবে। আর সমস্ত মর্ত্য একসঙ্গে তাহা দেখিবে, কারণ সদাপ্রভুর মুখ ইহা বলিয়াছে” (যিশাইয়, ৪০: ৩-৫)।
উপরে 'একজনের রব ঘোষণা করিতেছে' যাহা বলা হইয়াছে, সেই সরব ঘোষণাকারী দ্বারা উদ্দেশ্যে হযরত ইয়াহইয়া (আ), আর সদাপ্রভুর পথ বলিতে ঈসা (আ)-এর দাওয়াতে হককে বুঝানো হইয়াছে (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, এম, এ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ৩খ, page ৩০১)। আর "উচ্চ নীচ ভূমি সমস্থলী হইবে"এই কথা দ্বারা হযরত ঈসা (আ)-এর সাম্যের বাণীর প্রতি ঈঙ্গিত করা হইয়াছে। কারণ বনূ ইসরাঈল সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে প্রচণ্ড শ্রেণীপ্রথা ও দলাদলি শুরু হইয়াছিল। ঈসা (আ) আসিয়া তাহার অপনোদন ঘটাইবেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ৩. যিরমিয় কতৃক ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ৩. যিরমিয় কতৃক ভবিষ্যদ্বাণী


হযরত যিরমিয় হযরত ঈসা (আ) সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করিতে গিয়া বলিয়াছিলেন, "সদাপ্রভু বলেন, দেখ এমন সময় আসিতেছে যে সময়ে আমি ইস্রায়েল কুলের ও যিহুদা কুলের সহিত এক নূতন নিয়ম স্থির করিবে। মিসর দেশ হইতে তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে বাহির করিয়া আনিবার জন্য তাহাদের হস্ত গ্রহণ করিবার দিনে আমি তাহাদের সহিত যে নিয়ম স্থির করিয়াছিলাম সেই নিয়মানুসারে নয়; আমি তাহাদের স্বামী হইলেও তাহারা আমার সেই নিয়ম লঙ্ঘন করিল, ইহা সদাপ্রভু কহেন। কিন্তু সেই সকল দিনের পর আমি ইস্রায়েল কুলের সহিত এই নিয়ম স্থির করিব, ইহা সদাপ্রভু কহেন, আমি তাহাদের অন্তরে আমার ব্যবস্থা দিব ও তাহাদের হৃদয়ে তাহা লিখিব এবং আমি তাহাদের ঈশ্বর হইব ও তাহারা আমার প্রজা হইবে" (যিরমিয়, ৩১: ৩১-৩৩)।
উপরিউক্ত ভবিষ্যতদ্বাণীটির ভাবার্থ সুস্পষ্ট। উহাতে বর্ণিত নূতন নিয়ম দ্বারা ইঞ্জীলকেই বুঝান হইয়াছে। বনূ ইসরাঈলের প্রথম প্রতিশ্রুত নিয়ম বা Old Testament শুরু হয় হযরত ইবরাহীম (আ) হইতে (আদিপুস্তক ১৩: ১৫)।
আল্লাহ বলিলেন, "আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নহে” (সূরা বাকারা: ১২৪)।
সেই 'আহ্দ' বা চুক্তিবদ্ধ নিয়মের নবায়ন হযরত ইসহাক ও ইয়াকূব হইতে চলিয়া আসিতেছিল আর মূসা ও হারুন (আ)-এর যুগে তাহা পূর্ণতা লাভ করে। মূসা (আ)-এর পর সেই নিয়ম চলিতে থাকে, তাঁহার পর হযরত ঈসা (আ) আসিয়া নূতন নিয়ম চালু করেন। আর তাহার মাধ্যমেই বনূ ইসরাঈল নূতন চুক্তিবদ্ধ নিয়ম বা নিউ টেস্টামেন্ট (New Testament) লাভ করে। আর এই কারণে পরবর্তীতে ঈসা (আ)-এর পূর্ববর্তী তাওরাত ও তাহার সংশ্লিষ্ট কিতাবগুলি লইয়া সংকলিত হয় পুরাতন নিয়ম (Old Testament)। আর চার ইঞ্জীল ও তাহার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিতাব নিয়া সংকলিত হয় নূতন নিয়ম (New Testament)। আর ইহার সমষ্টিই হইল বর্তমান বাইবেল।
উপরিউক্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে ইসরাঈল কুল ও যিহুদা কুল বলিয়া আলাদা আলাদা উল্লেখ করা হয় এবং তাহাদের জন্য এক নূতন নিয়ম স্থির করিবার সুসংবাদ দেওয়া হয়। একথা সত্য যে, হযরত মূসা (আ)-এর পরে বনূ ইসরাঈল জাতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া যায় : (১) যিহূদা কুল ও (২) ইসরাঈল কুল।
হযরত সুলায়মান (আ)-এর পুত্র রাহবিয়ামের সময়ে বনূ ইসরাঈল জাতির ঐ দুই দল আলাদা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাহাদের মধ্যে আরও দূরত্ব বাড়িয়া যায়। হযরত ঈসা (আ) আসিয়া এই দলাদলির অবসান ঘটান এবং তাঁহার শিক্ষা বনু ইসরাঈলের বিশেষ গোত্রের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না, বরং তাঁহার সম্বোধন ছিল-গোটা ইসরাঈল জাতির প্রতি।

হযরত যিরমিয় হযরত ঈসা (আ) সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করিতে গিয়া বলিয়াছিলেন, "সদাপ্রভু বলেন, দেখ এমন সময় আসিতেছে যে সময়ে আমি ইস্রায়েল কুলের ও যিহুদা কুলের সহিত এক নূতন নিয়ম স্থির করিবে। মিসর দেশ হইতে তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে বাহির করিয়া আনিবার জন্য তাহাদের হস্ত গ্রহণ করিবার দিনে আমি তাহাদের সহিত যে নিয়ম স্থির করিয়াছিলাম সেই নিয়মানুসারে নয়; আমি তাহাদের স্বামী হইলেও তাহারা আমার সেই নিয়ম লঙ্ঘন করিল, ইহা সদাপ্রভু কহেন। কিন্তু সেই সকল দিনের পর আমি ইস্রায়েল কুলের সহিত এই নিয়ম স্থির করিব, ইহা সদাপ্রভু কহেন, আমি তাহাদের অন্তরে আমার ব্যবস্থা দিব ও তাহাদের হৃদয়ে তাহা লিখিব এবং আমি তাহাদের ঈশ্বর হইব ও তাহারা আমার প্রজা হইবে" (যিরমিয়, ৩১: ৩১-৩৩)।
উপরিউক্ত ভবিষ্যতদ্বাণীটির ভাবার্থ সুস্পষ্ট। উহাতে বর্ণিত নূতন নিয়ম দ্বারা ইঞ্জীলকেই বুঝান হইয়াছে। বনূ ইসরাঈলের প্রথম প্রতিশ্রুত নিয়ম বা Old Testament শুরু হয় হযরত ইবরাহীম (আ) হইতে (আদিপুস্তক ১৩: ১৫)।
আল্লাহ বলিলেন, "আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নহে” (সূরা বাকারা: ১২৪)।
সেই 'আহ্দ' বা চুক্তিবদ্ধ নিয়মের নবায়ন হযরত ইসহাক ও ইয়াকূব হইতে চলিয়া আসিতেছিল আর মূসা ও হারুন (আ)-এর যুগে তাহা পূর্ণতা লাভ করে। মূসা (আ)-এর পর সেই নিয়ম চলিতে থাকে, তাঁহার পর হযরত ঈসা (আ) আসিয়া নূতন নিয়ম চালু করেন। আর তাহার মাধ্যমেই বনূ ইসরাঈল নূতন চুক্তিবদ্ধ নিয়ম বা নিউ টেস্টামেন্ট (New Testament) লাভ করে। আর এই কারণে পরবর্তীতে ঈসা (আ)-এর পূর্ববর্তী তাওরাত ও তাহার সংশ্লিষ্ট কিতাবগুলি লইয়া সংকলিত হয় পুরাতন নিয়ম (Old Testament)। আর চার ইঞ্জীল ও তাহার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিতাব নিয়া সংকলিত হয় নূতন নিয়ম (New Testament)। আর ইহার সমষ্টিই হইল বর্তমান বাইবেল।
উপরিউক্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে ইসরাঈল কুল ও যিহুদা কুল বলিয়া আলাদা আলাদা উল্লেখ করা হয় এবং তাহাদের জন্য এক নূতন নিয়ম স্থির করিবার সুসংবাদ দেওয়া হয়। একথা সত্য যে, হযরত মূসা (আ)-এর পরে বনূ ইসরাঈল জাতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া যায় : (১) যিহূদা কুল ও (২) ইসরাঈল কুল।
হযরত সুলায়মান (আ)-এর পুত্র রাহবিয়ামের সময়ে বনূ ইসরাঈল জাতির ঐ দুই দল আলাদা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাহাদের মধ্যে আরও দূরত্ব বাড়িয়া যায়। হযরত ঈসা (আ) আসিয়া এই দলাদলির অবসান ঘটান এবং তাঁহার শিক্ষা বনু ইসরাঈলের বিশেষ গোত্রের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না, বরং তাঁহার সম্বোধন ছিল-গোটা ইসরাঈল জাতির প্রতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00