📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 স্তুতিপাঠ

📄 স্তুতিপাঠ


খৃস্টানদের দ্বিতীয় রীতি স্তুতি পাঠ যাহা সম্মিলিতভাবে গির্জায় পালিত হয়। সাধারণত ভোরবেলা লোকেরা গির্জায় একত্র হইয়া বাইবেল পাঠ করিতে থাকে এবং সেইসঙ্গে নেপথ্যে সঙ্গীতের সুর বাজিতে থাকে (Encyclopaedia Britannica, ৫খ, ৫৪)। প্রবন্ধকারের মতে স্তুতি পাঠের সহিত সঙ্গীতের সুর বাজান খৃ. চতুর্থ শতাব্দীতে প্রথমবারের মত শুরু হয়। এইজন্য কিছু লোক উহার বিরোধিতাও করিয়াছিল। স্তুতি পাঠের পর দাঁড়াইয়া হাঁটু ভাঙ্গিয়া দু'আ করা হয় (F.C. Burkitt. The Christian Religion, ক্যামব্রিজ, ৩খ, ১৫২-১৫৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রভুর স্মরণে নৈশ ভোজোৎসব

📄 প্রভুর স্মরণে নৈশ ভোজোৎসব


খৃষ্ট ধর্মের ইহা এক বিশেষ উৎসব, যাহা ঈসা (আ)-এর প্রকাশ্য আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। ইহার নিয়ম এই যে, রবিবার দিন গির্জায় প্রার্থনা ও সঙ্গীতের পর খাদ্য ও পানীয় আনা হয় এবং সভার প্রধান উহা হাতে লইয়া পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নিকট বরকতের জন্য প্রার্থনা করে, যাহার উপর উপস্থিত সকলে 'আমীন' বলিতে থাকে। অতঃপর উক্ত খাদ্য ও পানীয় উপস্থিত সকলের মধ্যে বিতরণ করিয়া দেওয়া হয়। খৃস্টানদের বিশ্বাস, এই আনুষ্ঠানিকতার ফলে উক্ত খাদ্য ও পানীয় (যথাক্রমে) ঈসা (আ)-এর শরীর ও রক্তে রূপান্তরিত হয় (প্রাগুক্ত, ৩খ, ১৪৯)। ইহা অবশ্য সর্বদাই বিতর্কের বিষয় হইয়া রহিয়াছে যে, খাদ্য ও পানীয় কি করিয়া দেখিতে দেখিতে ঈসা (আ)-এর শরীর ও রক্তে রূপান্তরিত হইতে পারে। এই কারণে প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায় ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিতে অস্বীকার করিয়াছে (দ্র. Encyclopaedia Britannica, ৮খ., ৭৯৫, সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ)। ইসলামী শিক্ষ অনুসারে এই সকল রীতিনীতি ও আচরণ পাদ্রীদের নিজস্ব সৃষ্ট, ঈসা (আ)-এর শিক্ষা নহে। ইবাদত ও ইবাদতের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ঈসা (আ)-এর নিজস্ব ধারণা প্রাচীন পয়গাম্বরদের ধারণার অবিকল অনুরূপ ছিল (ইসলামী বিশ্বকোষ, ১৪খ, page ৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রবিবার: সাপ্তাহিক সম্মিলিত প্রার্থনা দিবস

📄 রবিবার: সাপ্তাহিক সম্মিলিত প্রার্থনা দিবস


খৃস্টানগণ "রবিবারকে সাপ্তাহিক সম্মিলিত প্রার্থনা দিবস" হিসাবে পালন করিয়া থাকে এবং সমগ্র খৃস্টান বিশ্বে ও তাহার প্রভাবাধীন অখৃস্টান দেশসমূহে ঐ দিনটি সাপ্তাহিক ছুটি হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু হযরত ঈসা (আ) এই দিবসটি নির্দিষ্ট করিয়া সাপ্তাহিক ইবাদত ও ছুটি দিবস হিসাবে পালনের কোন নির্দেশ দেন নাই, বরং মূসা (আ)-এর শরীআতের সত্যায়নকারী (দ্র. আল-কুরআন ৩:৫০) হিসাবে তিনি ও তাঁহার অনুসারীগণ "শনিবারকেই সাপ্তাহিক বিশ্রাম দিবস" হিসাবে পালন করিয়া যান। হযরত ঈসা (আ) শনিবারকে বিশ্রাম দিবস হিসাবে পালনের ধর্মীয় রীতিনীতি বাতিল করিয়া যান নাই, তবে তাহা পালনে ইয়াহুদীদের কঠোরতাকে শিথিল করিয়াছেন বলা যায়। বর্তমান বাইবেলের নূতন নিয়মেও ইহার কিছু ইশারা-ইঙ্গিত আছে (দ্র. মথি, ১২:১২; মার্ক, ২:২৩-২৮, ৩:২-৫; লুক, ৬:১-২)। প্রাথমিক যুগের খৃস্টানগণ শনিবারকেই যে বিশ্রাম দিবস তথা সাব্বাথ (Sabbah) দিবস হিসাবে পালন করিতেন তাহা কেম্ব্রিজ হইতে প্রকাশিত রেড লেটার বাইবেলের (ইংরেজী) বাইবেল ডিকশনারী অংশে খৃস্টান পণ্ডিতগণ স্পষ্টভাবে বলিয়াছেন (দ্র. বাইবেল ডিকশনারী, page ৮৮, শিরো. Sabbah)।
পরবর্তীতে খৃস্টান ধর্ম অ-ইসরাঈলীদের মাঝে প্রচারিত হইলে খৃস্টানগণ রবিবারকে প্রভু দিবস (The Lord's Day) হিসাবে গ্রহণ করে, যাহার প্রতি ঈসায়ী বাইবেলের কোন প্রমাণ বা সমর্থন নাই। বাইবেল সমর্থিত 'সাব্বাথ'-এর বিধান অমান্য করিয়া 'রবিবারে প্রার্থনা'র প্রচলন তাহাদের পথভ্রষ্টতার প্রমাণ বহন করে। মহানবী (স)-ও তাহাদের এই ভ্রষ্টতার প্রতি ইংগিত করিয়াছেন। তিনি বলেন:
فَهُذَا يَوْمُهُمُ الذى اخْتَلَفُوا فيه هدانا الله له قال يوم الجمعة فاليوم لنا وغـدا لليهود وبعد غد للنصارى.
"তাহারা যে দিনটি সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হইয়াছে সেই দিন সম্পর্কে আল্লাহ আমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়াছেন অর্থাৎ শুক্রবার। অতএব এই দিনটি আমাদের, তৎপরবর্তী দিন ইয়াহুদীদের এবং তৎপরবর্তী দিন খৃস্টানদের" (মুসলিম, জুমুআহ, বাব হিদায়াতু হাযিহিল উম্মাহ লি-ইয়াওমিল জুমুআহ, নং ১৯৮০ (২০)-১৯৮২ (২২); আরও দ্র. নাসাঈ, জুমুআহ, বাব ঈজাবিল জুমুআহ, নং ১৩৬৯; মুসনাদ আহমাদ, ২খ, page ২৪৩, নং ৭৩০৮, আরও বহুস্থা.; বুখারী, জুমুআহ, page ৬৯, নং ৮৭৬, page ৭০, নং ৮৯৬, রিয়াদ সং.)।
বস্তুত ঈসা (আ)-এর উর্দ্ধগমনের দুই শত বৎসরের মধ্যেই গোটা খৃস্টান জগত ঈসা (আ)-এর শরীআত হইতে বিচ্যুত হইয়া যায়। তাহা মহানবী (স) এক হাদীছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন:
عن أبي الدرداء عن النبي (ص) قال لقد قبض الله داود (ص) من اصحابه فما فتنوا وما بدلوا ولقد مكث اصحاب المسيح من بعده على سنته وهديه مائتي سنة.
"আবু দারদা (রা) হইত বর্ণিত। নবী (স) বলেন: দাউদ (আ)-কে তাঁহার সাহাবীগণের উপস্থিতিতে আল্লাহ তা'আলা মৃত্যু দান করেন। ফলে তাহারা বিভ্রান্ত হয় নাই এবং পরিবর্তিতও হয় নাই। অপর দিকে ঈসা মাসীহ (আ)-এর সঙ্গীগণ তাঁহার পরে মাত্র দুই শত বৎসর তাঁহার রীতিনীতির উপর ও তাঁহার প্রদর্শিত পথের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল” (মুসনাদ আবূ ইয়ালা ও তাবারানীর আল-মুজামুল কাবীর-এর বরাতে কানযুল উম্মাল, ১১খ, নং ৩২৩২৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঈসা (আ) সান অফ গড না সান অফ ম্যান?

📄 ঈসা (আ) সান অফ গড না সান অফ ম্যান?


হযরত ঈসা (আ) ঈশ্বর পুত্র ছিলেন না মনুষ্য পুত্র, এই বিষয়টি সম্পর্কে খৃস্টান জগতেও কম বিতর্ক হয় নাই। ঈসা (আ) যে বাণী রাখিয়া গিয়াছেন তাহাতে কোথাও এমন কোন দাবি বা উক্তি নাই যে, তিনি নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র (SON OF GOD) বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। এমনকি খৃস্টানদের স্বীকৃত বর্তমান বাইবেলের কোথাও ঐ ধরনের উক্তি পাওয়া যায় না। যদিও বাইবেলে কিছু কিছু তথ্য এমন পাওয়া যায় যে, তাঁহার কোন কোন অনুসারী তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া সম্বোধন করিয়াছে (দ্র. মথি, ১৪ : ৩৩, ১৬ : ১৬; লুক, ৪ : ৪১; যোহন, ৩: ১৮, ২০ : ৩১)। যদিও তিনি বলিয়াছেন, "আমার পিতা" (My Father) তোমাদের পিতা (Your Father), তাহাও বিশেষ অর্থে। অর্থাৎ তিনি ও তাঁহার অনুসারীগণ আল্লাহ্র প্রিয় ও বিশেষ মর্যাদার পাত্র ছিলেন এই অর্থে। আর এই কথা সকলের জানা যে, প্রাথমিক যুগের বাইবেলসমূহ সুরিয়ানী ও ইবরানী ভাষা হইতে গ্রীক ভাষায় অনূদীত হয়। আর গ্রীকরা ছিল পৌত্তলিক। তাই 'আল্লাহ' নির্দেশক বাইবেলের মূল ভাষার বিশেষ শব্দটি গ্রীক অনুবাদে পৌত্তলিক প্রতিরূপ গ্রহণ করে। বর্তমান ইংরাজী বাইবেল ঐ গ্রীক অনুবাদের প্রতিরূপ। এক ভাষা হইতে অপর ভাষায় বারবার ভাষান্তর হওয়ায় ঈশ্বর এবং প্রিয়পাত্র হিসাবে সন (Son) বা পুত্র অর্থে রূপান্তরিত হয়। যেমন কুরআন মজীদের গিরীশ সেনের বঙ্গানুবাদে 'আল্লাহ' শব্দের বঙ্গানুবাদ করা হইয়াছে 'ঈশ্বর'। অথচ ঈশ্বর এমন এক সত্তা যাহার নিম্নতর ও উচ্চতর বংশধারা রহিয়াছে। আর এই ঈশ্বর শব্দটি আরবী আল্লাহ শব্দের বঙ্গানুবাদ মোটেই যথাযথ নহে, বরং মারাত্মক বিভ্রান্তিকর। কারণ আল্লাহ্র ঊর্ধ্বতন বা নিম্নতর কোন বংশধারা নেই, তিনি নিজ সত্তায় এক ও একক। এইভাবে ভাষান্তরে ভাবান্তর হয়। আর বাইবেলে ঈসা (আ) নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া তো দাবি করেনই নাই, বরং ৮০টি স্থানে তিনি নিজেকে 'মনুষ্য পুত্র' বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন (দ্র. বাইবেল ডিকশনারী, রেড লেটার বাইবেল-এর সংযুক্তি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00