📄 খৃষ্টবাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান
আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, হযরত ঈসা (আ) নতুন কোন শরীআত বা ধর্মীয় বিধানের প্রবর্তক ছিলেন না, বরং তিনি তাওরাতেরই পূর্বতন বিধানের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী কালে পরিবর্তনের কারণে এই পদ্ধতি ও পাবন্দীকেও উঠাইয়া দেওয়া হয়। সর্বপ্রথম পল-এর আন্দোলনের কারণে "জেরুসালেম কাউন্সিল” এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, "অন্য জাতির খৃস্টানদের জন্য তাওরাতের বিধান (Law) আবশ্যকীয় নহে”। পরবর্তী কালে খৃস্টানরা শুধু ইয়াহূদীদের প্রথম নিজস্ব ধর্মীয় আইনই উপেক্ষা করে নাই, বরং ইয়াহুদী ধর্মমতকেও নিন্দা করিতে শুরু করে এবং বলিতে থাকে যে, আসলে ইয়াহুদীদের কোন ধর্মই নাই (দ্র. ২ঃ১১৩)।
সূরা মারয়াম (১৯: ২১) হইতে জানা যায় যে, খৃস্টীয় ধর্মীয় বিধানে বিশেষ করিয়া সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ অবতীর্ণ হইয়াছিল। কিন্তু এই সম্পর্কিত বিস্তারিত কোন বিবরণ পাওয়া যায় না। দৈনন্দিন বিধিনিষেধ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈসা (আ) পূর্ববর্তী নবীগণের ধর্মীয় বিধানের উল্লেখ করিতেন এবং নিজে উহা পালন করিতেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ১৪খ, page ৪৯)।
পৌলের মাধ্যমেই হযরত ঈসা (আ)-এর ধর্মের অনেক বিধিবিধান পরিবর্তন করা হয়। যেমনঃ (১) বাইবেলের পুরাতন নিয়মে খৎনা করার নিয়মকে চিরকালের নিয়ম বলিয়া আখ্যায়িত করা হয় (আদিপুস্তক ১৭: ৭, ১০: ১৪), এমনকি হযরত ঈসা (আ)-এরও খৎনা করানো হয় (লুক, ২ঃ ২১)। কিন্তু পৌল খৎনা করিবার চিরাচরিত নিয়ম ভঙ্গ করিলেন। তাহার গালাতীয় পত্রে উল্লেখ করেন, "আমি পৌল তোমাদিগকে কহিতেছি, যদি তোমরা ত্বকচ্ছেদ প্রাপ্ত হও, তবে খৃষ্ট হইতে তোমাদের কিছুই লাভ হইবে না" (গালাতীয় পত্র, ৪: ২)। এইভাবে তিনি হযরত মূসা (আ)-এর শরীআত বাতিল করিয়া নূতন ধর্মীয় বিধান চালু করার চেষ্টা করেন।
খৃস্টানরা নিজেদের জন্য শূকরের গোশত ভক্ষণ করা হালাল করে। অথচ বাইবেলে এমন কোন প্রমাণ নাই যে, হযরত ঈসা (আ) তাঁহার অনুসারীদেরকে শূকরের গোশত ভক্ষণ করিতে অনুমতি দিয়াছিলেন।
অথচ লেবীয় ও দ্বিতীয় বিবরণীতে শূকরের গোশত ভক্ষণ হারাম ঘোষণা করা হইয়াছে। যেমন লেবীয়তে বলা হয়, "আর শূকর তোমাদের পক্ষে অশুচি" (লেবীয় ১১ঃ ৭-৮)।
📄 খৃস্টানবাদের ইবাদত পদ্ধতি ও উৎসবাদি
হযরত ঈসা (আ)-কে কেন্দ্র করিয়া বর্তমান খৃস্টান সমাজ নিজেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইবাদত তথা প্রার্থনা রীতি ও উৎসবের উদ্ভব ঘটাইয়াছে। যেমনঃ (১) ব্যাপটিজম (Baptism) ইহা খৃষ্ট ধর্মের প্রাচীনতম রীতির অন্যতম। ইহা এক প্রকার আনুষ্ঠানিক গোসল যাহা খৃস্ট 'ধর্মে' প্রবেশকারী ব্যক্তিকে করান হয় (দ্র. Encyclopaedia Britannica, Baptism শীর্ষক প্রবন্ধ, ৩খ, ৮৩; The Christian Religion, ৩খ, ১০০, ১৫২)।
📄 ব্যাপটিজম
ইহা এক প্রকার আনুষ্ঠানিক গোসল যাহা খৃস্ট 'ধর্মে' প্রবেশকারী ব্যক্তিকে করান হয়।
📄 স্তুতিপাঠ
খৃস্টানদের দ্বিতীয় রীতি স্তুতি পাঠ যাহা সম্মিলিতভাবে গির্জায় পালিত হয়। সাধারণত ভোরবেলা লোকেরা গির্জায় একত্র হইয়া বাইবেল পাঠ করিতে থাকে এবং সেইসঙ্গে নেপথ্যে সঙ্গীতের সুর বাজিতে থাকে (Encyclopaedia Britannica, ৫খ, ৫৪)। প্রবন্ধকারের মতে স্তুতি পাঠের সহিত সঙ্গীতের সুর বাজান খৃ. চতুর্থ শতাব্দীতে প্রথমবারের মত শুরু হয়। এইজন্য কিছু লোক উহার বিরোধিতাও করিয়াছিল। স্তুতি পাঠের পর দাঁড়াইয়া হাঁটু ভাঙ্গিয়া দু'আ করা হয় (F.C. Burkitt. The Christian Religion, ক্যামব্রিজ, ৩খ, ১৫২-১৫৩)।