📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পাহাড়ে ঈসা (আ) প্রদত্ত উপদেশ

📄 পাহাড়ে ঈসা (আ) প্রদত্ত উপদেশ


হযরত ঈসা (আ) ছিলেন অনলবর্ষী বাগ্মী। তিনি বিভিন্ন স্থানে গিয়া হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপমা ও উদাহরণের মাধ্যমে ওয়াজ-নসীহত করিতেন। তিনি যেখানেই যাইতেন লোকদের মধ্যে একটা সাড়া পড়িয়া যাইত। লোকেরা তাহার জন্য জীবন উৎসর্গ করিতে প্রস্তুত হইয়া যাইত (আনওয়ারে আম্বিয়া, page ২৮৭)।
এইভাবে যখন তিনি গালীল প্রদেশে ঘুরিয়া ফিরিয়া শিক্ষা দিতেছিলেন এবং নানারকম রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে সুস্থ করিতেছিলেন তখন তাঁহার পিছনে অনেক লোকজন চলিতে শুরু করিল। মথি সুসমাচারের বর্ণনামতে, সেখানে গালীল, দিকাপলি, জেরুসালেম, এহুদিয়া ও জর্ডানের অন্য পার হইতে আগত অনেক লোক ছিল। তাহারা কফরনাহুম-এর রাস্তার এক পাহাড়ের পাদদেশে আসিলে ঈসা (আ) এক দীর্ঘ ভাষণ প্রদান করেন (মথি, ৪ঃ ২৩-২৫)। উহা ঈসা (আ)-এর ঐতিহাসিক পাহাড়ী খুতবা (Sarmon on the mount) হিসাবে খ্যাতি লাভ করিয়াছে। হযরত ঈসা (আ) সুযোগ বুঝিয়া প্রায়ই খুৎবা দিতেন, যাহা সুসমাচারসমূহে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়াইয়া ছিটাইয়া আছে। কিন্তু ঐ খুৎবাটি দীর্ঘ যাহা মথি সুসমাচারে ৫-৭ পর্যন্ত তিনটি অধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে। বাইবেলের নানা বিকৃতি সত্ত্বেও উক্ত পাহাড়ী খুৎবাটিতে একসংগে ঈসা (আ)-এর অনেক শিক্ষা সন্নিবেশিত হইয়াছে বলিয়া গবেষকগণ মনে করেন। ইহার বিশেষ কয়েকটি অংশ নিম্নরূপ:
"ধন্য যাহারা আত্মাতে দীনহীন, কারণ স্বর্গরাজ্য তাহাদেরই।
ধন্য যাহারা শোক করে, কারণ তাহারা সান্ত্বনা পাইবে।
ধন্য যাহারা মৃদুশীল, কারণ তাহারা দেশের অধিকারী হইবে।
ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধিত ও তৃষিত, কারণ তাহারা পরিতৃপ্ত হইবে।
ধন্য যাহারা দয়াশীল, কারণ তাহারা দয়া পাইবে।
ধন্য যাহারা নির্মূলান্তঃকরণ, কারণ তাহারা ঈশ্বরের দর্শন পাইবে।
"তোমরা পৃথিবীতে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় করিও না, এখানে কীটে ও মর্ত্যায় ক্ষয় করে, চোরেও সিঁধ কাটিয়া চুরি করে। কিন্তু স্বর্গে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় কর। সেখানে কীটে ও মর্ত্যায় ক্ষয় করে না। সেখানে চোরেও সিঁধ কাটিয়া চুরি করে না।
"তোমরা বিচার করিও না, যেন বিচারিত না হও। কেননা যেরূপ বিচারে তোমরা বিচার কর সেই রূপ বিচারে তোমরাও বিচারিত হইবে এবং যে পরিমাণে পরিমাণ কর, সেই পরিমাণে তোমাদের নিমিত্ত পরিমাণ করা যাইবে। আর তোমার ভ্রাতার চক্ষে যে কুটা আছে, তাহাই কেন দেখিতেছ? কিন্তু তোমার চক্ষে যে কড়িকাঠ আছে, তাহা কেন ভাবিয়া দেখিতেছ না?
"অতএব যে কেহ আমার এই সকল বাক্য শুনিয়া পালন করে, তাহাকে এমন একজন বুদ্ধিমান লোকের তুল্য বলিতে হইবে, যে পাষাণের উপর আপন গৃহ নির্মাণ করিল। পরে বৃষ্টি নামিল, বন্যা আসিল, বায়ু বহিল এবং সেই গৃহে লাগিল, তথাপি তাহা পড়িল না। কারণ পাষাণের উপরে তাহার ভিত্তিমূল স্থাপিত হইয়াছিল। আর যে কেহ আমার এই সকল বাক্য শুনিয়া পালন না করে, তাহাকে এমন একজন নির্বোধ তুল্য বলিতে হইবে, যে বালুকার উপর আপন গৃহ নির্মাণ করিল। পরে বৃষ্টি নামিল, বন্যা আসিল, বায়ু বহিল এবং সেই গৃহে আঘাত করিল, তাহাতে তাহা পড়িয়া গেল ও তাহার পতন ঘোরতর হইল" (দ্র. মথি, ৫:৪৩-৪৮, ৬:১-৩৪, ৭:২৪-২৭)।
উক্ত ভাষণের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ কয়েকটি দিক হইল: ইবাদতের ক্ষেত্রে রোযা রাখিবার বিষয়ে শিক্ষা (৬: ১৬-১৮), দান করিবার বিষয়ে শিক্ষা (৬: ৫-৭), ইখলাসের বিষয়ে শিক্ষা (৬: ১-৫, ১৬-১৮), এক আল্লাহর ইবাদত করিবার শিক্ষা (৬: ২৪), বেহেস্তের পাথেয় সংক্রান্ত শিক্ষা (৬: ১৯-২১), ইবাদতে মধ্য পন্থা অবলম্বন ও বাহুল্য পরিহারের শিক্ষা (৫: ৭), কপটতা পরিহারের শিক্ষা (৬: ১৬-১৮), প্রচার কাজে ঘর হইতে বহির হওয়ার শিক্ষা (৬: ২৬-২৯), হেকমত ও দীনের তত্ত্বকথা যথাস্থানে ব্যবহারের শিক্ষা (৭:৬)।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ তাহার তরজমানুল কুরআন নামক গ্রন্থে এবং মুহাম্মদ জামীল আহমাদ তাঁহার আম্বিয়ায়ে কুরআন নামক গ্রন্থে হযরত ঈসা (আ)-এর শিক্ষা, বিশেষ করিয়া পাহাড়ী খুৎবার শিক্ষা ও বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করিয়াছেন? কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার মধ্যে সামঞ্জস্যের বিষয়টি রহিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ঈসা (আ)-এর দাওয়াতের পদ্ধতি

📄 হযরত ঈসা (আ)-এর দাওয়াতের পদ্ধতি


হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর নির্দেশে তাহার সমকালীন প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করিয়া তাঁহার দাওয়াতী পদ্ধতি গ্রহণ করেন।
তাঁহার সেই দা'ওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিম্নে আলোচনা করা হইল. (দ্র. নিবন্ধকারের মানহাজুদ দাওয়াহ ওয়াদ দু'আত ফিল-কুরআনিল কারীম, ১৯৯৭ খৃ., page ২৩১-২৩৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাওয়াতকে দীনের মৌলিক বিষয় বস্তুর উপর কেন্দ্রীভূত করণ

📄 দাওয়াতকে দীনের মৌলিক বিষয় বস্তুর উপর কেন্দ্রীভূত করণ


তিনি অন্যান্য নবী-রাসূলগণের মত আকীদা, ইবাদত ও আখলাকের উপর তাঁহার দা'ওয়াতকে কেন্দ্রীভূত করেন। 'আকীদার ক্ষেত্রে হযরত ঈসা (আ) তাওহীদ ভিত্তিক দাওয়াত দান করিয়াছেন। তাওহীদ হইল একত্ববাদ। আল্লাহ্ সত্তাগত দিক, গুণগত দিক এবং সমস্ত কার্যক্রমের দিক হইতে এক ও অদ্বিতীয়। হযরত ঈসা (আ) এই আহবান ইসরাঈলী জনগণকে দিয়াছেন। যেমন পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছেঃ
وَقَالَ الْمَسِيحُ يُبَنِي إِسْرَ ا مِبْلَ اعْبُدُوا اللهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ.
"আর মসীহ বলিয়াছিল, হে বনূ ইসরাঈল! তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত কর। কেহ আল্লাহ্ শরীক করিলে আল্লাহ তাহার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই" (৫:৭২)।
হযরত ঈসা (আ) আল্লাহ পাকের সত্তা, গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একত্ব তথা তাওহীদের প্রতি আহবান করিয়ছিলেন। ঈসা (আ)-এর দাওয়াতে আল্লাহ পাক এমন সত্তা যাহা বিভাজ্য নহে, নশ্বর কোন কিছুর তিনি তুল্য নহেন। তাঁহার মধ্যে কোন ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা নাই। হযরত ঈসা (আ)-এর সেই সুস্পষ্ট তাওহীদের দাওয়াত সম্পর্কে আল-কুরআনে আরও বলা হয়:
وَإِذْ قَالَ اللهُ يُعِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأَمَّى الهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَنَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقِّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْنَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلامُ الغُيُوب . مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللهَ رَبِّي وَرَبِّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادَكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الحكيم .
"আর আল্লাহ যখন বলিবেন, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তুমি কি লোকদিগকে বলিয়াছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর? সে বলিবে, তুমিই মহিমান্বিত! যাহা বলার অধিকার আমার নাই, তাহা বলা আমার পক্ষে শোভন নহে। যদি আমি তাহা বলিতাম তবে তুমি তো তাহা জানিতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা আমি অবগত নহি! তুমি তো অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত। তুমি আমাকে যে আদেশ করিয়াছ তাহা ব্যতীত তাহাদিগকে আমি কিছুই বলি নাই; তাহা এই: তোমরা আমার ও তোমাদিগের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত কর এবং যত দিন আমি তাহাদিগের মধ্যে ছিলাম তত দিন আমি ছিলাম তাহাদিগের কার্যকলাপের সাক্ষী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলিয়া লইলে তখন তুমিই তো ছিলে তাহাদিগের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী। তুমি যদি তাহাদিগকে শাস্তি দাও তবে তাহারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাহাদিগকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" (৫: ১১৬-১১৮)।
উপরিউক্ত আয়াতগুলি পর্যালোচনা করিলে তাওহীদের ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ঈসা (আ) ও তাঁহার মাতা মা'বুদ ছিলেন না, বরং তাঁহারা ছিলেন আল্লাহ্র বান্দা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, খৃস্টানগণ পরবর্তীতে ত্রিত্ববাদ (Trinity)-এর মাধ্যমে এক আল্লাহকে বিভাজিত করিয়া তিন খোদা বানাইয়াছে। আকীদা বিষয়ে হযরত ঈসা (আ) রেসালতের আকীদাকে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছিলেন। তিনি দাবি করেন নাই যে, তিনি আল্লাহর পুত্র বা মানুষের প্রভু, বরং ঘোষণা করিয়াছিলেন, আমি তোমাদের প্রতি প্রেরিত আল্লাহ্র রাসূল ও নবী। যেমন- আল-কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَإِذْ قَالَ عِبْسَى بْنُ مَرْيَمَ يُبَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِى اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ .
"আর স্মরণ কর, মারয়াম তনয় ঈসা বলিয়াছিল, হে বনূ ইসরাঈল! আমি তোমাদিগের নিকট আল্লাহ্র রাসূল এবং আমার পূর্ব হইতে তোমাদিগের নিকট যে তাওরাত রহিয়াছে আমি তাহার সমর্থক এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসিবে আমি তাহার সুসংবাদদাতা। পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ ইহাদিগের নিকট আসিল উহারা বলিতে লাগিল, ইহা তো এক স্পষ্ট যাদু" (৬১:৬)।
এমনিভাবে আখেরাতের 'আকীদা-বিশ্বাসের দিকেও তিনি বনূ ইসরাঈলকে দাওয়াত দিয়াছেন। আল-কুরআনে এই সম্পর্কে তাঁহার উক্তি উল্লেখ করা হইয়াছে:
وَالسَّلَامُ عَلَى يَوْمَ ولدتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أَبْعَثُ حَيَا .
"আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুত্থিত হইব" (১৯:৩৩)।
এমনিভাবে তিনি তাঁহার অনুসারীদেরকে বেহেশত-দোযখের কথা বর্ণনা করিয়াছেন। যেমন আয়াতে কুরআনে আসিয়াছে, ঈসা (আ) বলিয়াছিলেন:
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ .
"কেহ আল্লাহ্ শরীক করিলে আল্লাহ তাঁহার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করিবেন" (৫: ৭২)।
আর ইবাদতের ক্ষেত্রেও তাঁহার দিকনিদের্শনা ছিল। তিনি লোকজনকে সালাত ও যাকাত আদায়ের জন্য আদেশ করিতেন। আল-কুরআনে উল্লেখ করা হইয়াছে:
وأوصني بالصلوة والزكوة مَا دُمْتُ حَيا .
"তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়াছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করিতে" (১৯:৩১)।
সুতরাং সেই ইবাদতগুলি তিনি নিজে পালন করিতেন এবং অপরকে পালন করিতে আদেশ দিতেন। সুসমাচারসমূহেও ইহার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় (দ্র. মথি সুসমাচার: ১৬-১৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাওয়াত উপস্থাপনের বৈচিত্র

📄 দাওয়াত উপস্থাপনের বৈচিত্র


তিনি অন্যান্য নবী-রাসূলগণের ন্যায় আল্লাহ্ দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করিয়াছেন। তাহা নিম্নরূপ: উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন-এর পন্থায় দাওয়াত প্রদান। যেমন কুরআন কারীমে আসিয়াছে:
فَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأَعَذِّبْهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَصِرِينَ .
"আর যাহারা সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছে আমি তাহাদিগকে ইহকাল ও পরকালে কঠোর শাস্তি প্রদান করিব এবং তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই" (৩ঃ ৫৬)।
وَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ فَيُوَفِّيْهِمْ أَجُورَهُمْ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ .
"আর যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকার্য করিয়াছে তিনি তাহাদের প্রতিফল পুরাপুরিভাবে প্রদান করিবেন। আল্লাহ জালিমদিগকে পছন্দ করেন না" (৩:৫৭; আরও দ্র. ৫: ৭২)।
বর্তমান ইনজীল গ্রন্থেও অনেক ইংগিত পাওয়া যায় যে, ঈসা (আ) লোকদিগকে স্বর্গ ও আসমানী রাজ্যের সুসংবাদ প্রদান করিতেন (দ্র. মথি ২৪ ৪ ১৩-৪৪)।
তিনি দুইভাবে দাওয়াত প্রদান করিতেন: উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে। তবে তাঁহার দাওয়াতে সুসংবাদ প্রাধান্য পাইত। এইজন্যই তাঁহার কিতাবের নামকরণ করা হইয়াছে ইনজীল অর্থাৎ সুসংবাদ। সম্ভবত এই কারণেই বর্তমান নাসারাগণ তাহাদের দাওয়াতকে সুসমাচার হিসাবে অভিহিত করে।
ঈসা (আ)-এর বয়স যখন ১২ বৎসর তখন জেরুসালেমে যান এবং সেখানে বায়তুল মুকাদ্দাসে ইয়াহুদী পণ্ডিতদের সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হইয়াছিলেন। আর তাহারা বালক ঈসা (আ)-এর বুদ্ধিমত্তা ও বিচার-বিশ্লেষণে আশ্চর্য বোধ করে (দ্র. লুক সুসমাচার, ৪-৪৭)। মুসলিম ঐতিহাসিকগণও ইহা উল্লেখ করিয়াছেন (মুহাম্মাদ আলী সাবৃনী, সাফওয়াতুত তাফাসীর, page ১৯৭)।
আল-কুরআনের বর্ণনামতে পরিণত বয়সেও তিনি কথা বলিবেন, ইহার তাৎপর্য হইল, তিনি নবুওয়াত লাভ করার পরও যুক্তিতর্কের সেই ধারা অব্যাহত থাকিবে। এইজন্য বর্তমান সুসমাচার-সমূহে ঈসা (আ)-এর দাওয়াত কথোপকথন পদ্ধতিতে ভরপুর। তিনি তাঁহার সাথীদের প্রশ্ন করিতেন এবং পরে নিজেই উহার উত্তর দিতেন। এমনিভাবে তাঁহার সাথীগণও তাঁহাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করিতেন, তিনি তাহার উত্তর দিতেন। ইহাই ছিল তাঁহার দাওয়াত উপস্থাপনের প্রধান কৌশল তথা হিকমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00