📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঈসা (আ)-এর শিক্ষালাভ

📄 ঈসা (আ)-এর শিক্ষালাভ


ঈসা (আ) ছিলেন আল্লাহর নবী। তাই তাঁহার মূল শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহই তাঁহাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের গভীর ব্যুৎপত্তি দান করিয়াছিলেন। আল-কুরাআনেও সরাসরি সেই শিক্ষা দেওয়ার নেয়ামত সম্পর্কে উল্লেখ আছে। বলা হইয়াছে-
"আল্লাহ বলিবেন, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর: পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলিতে, তোমাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দিয়াছিলাম" (১৯:১১০)।
ঈসা (আ)-এর লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যাপারে বাইবেলেও কিছু কিছু ইশারা পাওয়া যায়। "পরে বালকটি বাড়িয়া উঠিতে ও বলবান হইতে লাগিলেন, জ্ঞানে পূর্ণ হইতে থাকিলেন, আর ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাহার উপর ছিল" (লুক, ২:৪০)। বার বৎসর বয়সে জেরুসালেমে যাত্রাশেষে যখন আবার তিনি নাসরাতে ফিরিয়া যান সেই অবস্থা সম্পর্কেও নিম্নরূপ বিবরণ রহিয়াছে: "পরে যীশু জ্ঞানে ও বয়সে এবং ঈশ্বরের ও মনুষ্যের নিকটে অনুগ্রহে বৃদ্ধি পাইতে থাকিলেন (লুক, ২ঃ ৫২; আরো দ্র. বার্নাবাসের বাইবেল, page ৭)।
মোটকথা, আল্লাহই তাঁহাকে ইলহাম ও ওহীর মাধ্যমে সব শিক্ষা দেন। প্রাচীন তাফসীর গ্রন্থসমূহেও এমন একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহাতে তাঁহার মাতা তাঁহাকে শিক্ষালয়ে ভর্তি করিয়া দেওয়ার একটি ধারণা সৃষ্টি হয়।
ইবন জারীর তাবারী স্বীয় তাফসীরে ইবন ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, হযরত ঈসা (আ)-এর বয়স যখন নয় কি দশ তখন তাঁহার মাতা তাঁহাকে এক মকতবে ভর্তি করিয়া দিলেন। জনৈক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি থাকিতেন। কিন্তু তাঁহাকে কোন কিছু শিখাইতে গেলে তিনি নিজেই তাহা বলিয়া দিতেন। শিক্ষক বলিতেন, আরে এই ছেলের কাণ্ড দেখিয়া তোমরা কি বিস্মিত হইতেছ না? আমি কিছু শিখাইতে গেলে দেখি উক্ত বিষয়ে সে আমার চাইতেও বেশী জানে (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪০৩)। ইবন কাছীর বলেন, তাঁহার বয়স যখন ৭ বৎসর তখন তাঁহার মা তাঁহাকে মকতবে শিক্ষার জন্য পাঠান কিন্তু কোন বিষয় শিক্ষক বলিবার পূর্বেই তিনি তাহা বলিয়া দিতে শুরু করিতেন (প্রাগুক্ত, page ৭১)।
আলুসী এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ইহাই প্রমাণ করে যে, তাঁহার ইল্ম ছিল পুরাটিই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত (তাফসীর, ৩খ, page ১৬৭)। এইজন্য দেখা যায়, তাঁহার জন্ম সম্পর্কে তাঁহার মায়ের নিকট যখন সুসংবাদ দেওয়া হইয়াছিল তখন তাঁহাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাহা কিছু শিক্ষা দিবেন তাহার কথাও বলিয়া দেওয়া হইয়াছিল। যেমন আল্লাহ্র বাণী:
وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَبَ والحِكْمَةَ وَالتَّوْرَة وَالْإِنْجِيلَ .
"এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জীল" (৩ঃ৪৮)।
উপরিউক্ত আয়াতে কিতাব শিক্ষা দিবেন বলার সূত্র ধরিয়া মুফাসসিরীনে কিরাম বলেন যে, আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আ)-কে সুন্দর হাতের লিখা শিক্ষা দিয়াছিলেন (আলাউদ্দীন বাগদাদী, তাফসীরুল খাযিন, ১খ, page ২৫১; আরও দ্র. তাফসীরে মাযহারী, ২খ, page ২৯২)। ইবন জারীর তাবারী বলেন যে, তারপর তাঁহাকে কিতাব অর্থাৎ লিখন পদ্ধতি শিক্ষা দেন (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৩৯৬)। আর হিকমত শিক্ষার অর্থ হইল বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শরীয়তের বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া (তাফসীরুল খাযিন, প্রাগুক্ত)।
বর্ণিত আছে যে, তিনি রঞ্জন বিদ্যাও অর্জন করিয়াছিলেন। তাঁহার মা এক রঙ কারকের (সাব্বাগ) নিকট তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন যেন তাঁহাকে এই বিষয়ে শিক্ষা দেন। অথচ ঐ সাব্বাগ যখন তাহাকে কিছু শিক্ষা দিতেন তখন মনে হইত যেন ঈসা (আ)-ই তাহার চাইতে বেশী জানেন। একদা ঐ সাব্বাগ কোন এক কাজে কোথাও চলিয়া গেলেন এবং বলিয়া গেলেন, এখানে বিভিন্ন প্রকারের কাপড় আছে এবং প্রত্যেকটিতে চিহ্ন দেওয়া আছে, এইগুলিকে ঐসকল রঙ দ্বারা রঞ্জিত কর। অতঃপর ঈসা (আ) এক ধরনের দানা জ্বালাইলেন এবং তাহাতে সব কাপড় রাখিয়া দিলেন আর বলিলেন, আমি যেরূপ ইচ্ছা করি আল্লাহ্র নির্দেশে সেরূপ হইয়া যাও। অনন্তর সেই সাব্বাগ ফিরিয়া আসিল। আর ঈসা (আ) যাহা করিয়াছিলেন সেই ব্যাপারে তাহাকে অবহিত করিলেন।
তখন সে বলিল, তুমি তো সব কাপড় নষ্ট করিয়া দিয়াছ। ঈসা (আ) বলিলেন, যান, অতঃপর দেখুন। অনন্তর সেই ব্যক্তি কাপড় বাহির করা শুরু করিল যাহা একটি তাহার চাহিদামত ছিল লাল, অন্যটি সবুজ, আরেকটি হলুদ। অতঃপর উপস্থিত সকলেই তাহা দেখিয়া আশ্চর্য হইল (আলুসী, প্রাগুক্ত, ৩খ, page ১৭৬)।
Encyclopaedia Britannica-এর বর্ণনামতে ঈসা (আ) কৃষিজীবি মানুষের মধ্যে বসবাস করিতেন (Vol. 13, page 15)। তাই সম্ভবত তিনি কৃষি বিদ্যাতেও পারদর্শী হইয়া উঠিয়াছিলেন।
Encyclopedia Americana মন্তব্য করে যে, ঈসা গালিলীতে বাস করার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন পথের সংস্পর্শে ছিলেন, যেখান হইতে ব্যবসায়ীরা মিসর ও উত্তর আফ্রিকা, ব্যাবিলন, ভারতবর্ষ, স্পেন ইত্যাদি এলাকার লোকজনের আসা-যাওয়া ছিল। তাহা ছাড়া গালিল ছিল ইয়াহুদী, অ-ইয়াহুদী, পৌত্তলিক, ধনী, গরীব, বিভিন্ন ধরনের লোকের বাসস্থল। তাই গরীব ও নিম্ন শ্রেণীর লোকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা তাঁহার বৈশিষ্ট্য ছিল (vol. 16, page 42)।
মোটকথা, তাঁহার নবুওয়ত-পূর্ব জীবন সম্পর্কে সঠিক তথ্য কমই জানা যায়। ইবন কাছীর (র) ইসহাক ইবন বিশর-এর সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, ঈসা (আ) সেই শিশুকালে যখন কথা বলিতে শুরু করেন তখন প্রথমেই আল্লাহ্র প্রশংসামূলক স্তুতি এমনভাবে করিতে শুরু করিয়াছিলেন যাহা মানুষ কখনও শুনে নাই। তিনি সূর্য, চন্দ্র, পাহাড়, নদী, ঝরনা এই ধরনের কোন কিছুকেই ডাকেন নাই বা তাহাদের কাছে প্রার্থনা করেন নাই, বরং একমাত্র আল্লাহরই মাহাত্ম্য ঘোষণা করিয়াছেন। ইবন কাছীর এই সূত্রে হযরত ঈসা (আ)-এর এক দীর্ঘ দু'আর উল্লেখ করিয়াছেন (দ্র. প্রাগুক্ত)। মোটকথা, বার বৎসর হইতে উনত্রিশ বৎসর বয়স পর্যন্ত ঈসা (আ) কিভাবে অতিবাহিত করেন, কোথায় ছিলেন, বাইবেলগুলি এই ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করে। আল-কুরআন ও হাদীছে এই ব্যাপারে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

ঈসা (আ) ছিলেন আল্লাহর নবী। তাই তাঁহার মূল শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহই তাঁহাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের গভীর ব্যুৎপত্তি দান করিয়াছিলেন। আল-কুরাআনেও সরাসরি সেই শিক্ষা দেওয়ার নেয়ামত সম্পর্কে উল্লেখ আছে। বলা হইয়াছে-
"আল্লাহ বলিবেন, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর: পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলিতে, তোমাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দিয়াছিলাম" (১৯:১১০)।
ঈসা (আ)-এর লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যাপারে বাইবেলেও কিছু কিছু ইশারা পাওয়া যায়। "পরে বালকটি বাড়িয়া উঠিতে ও বলবান হইতে লাগিলেন, জ্ঞানে পূর্ণ হইতে থাকিলেন, আর ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাহার উপর ছিল" (লুক, ২:৪০)। বার বৎসর বয়সে জেরুসালেমে যাত্রাশেষে যখন আবার তিনি নাসরাতে ফিরিয়া যান সেই অবস্থা সম্পর্কেও নিম্নরূপ বিবরণ রহিয়াছে: "পরে যীশু জ্ঞানে ও বয়সে এবং ঈশ্বরের ও মনুষ্যের নিকটে অনুগ্রহে বৃদ্ধি পাইতে থাকিলেন (লুক, ২ঃ ৫২; আরো দ্র. বার্নাবাসের বাইবেল, page ৭)।
মোটকথা, আল্লাহই তাঁহাকে ইলহাম ও ওহীর মাধ্যমে সব শিক্ষা দেন। প্রাচীন তাফসীর গ্রন্থসমূহেও এমন একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহাতে তাঁহার মাতা তাঁহাকে শিক্ষালয়ে ভর্তি করিয়া দেওয়ার একটি ধারণা সৃষ্টি হয়।
ইবন জারীর তাবারী স্বীয় তাফসীরে ইবন ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, হযরত ঈসা (আ)-এর বয়স যখন নয় কি দশ তখন তাঁহার মাতা তাঁহাকে এক মকতবে ভর্তি করিয়া দিলেন। জনৈক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি থাকিতেন। কিন্তু তাঁহাকে কোন কিছু শিখাইতে গেলে তিনি নিজেই তাহা বলিয়া দিতেন। শিক্ষক বলিতেন, আরে এই ছেলের কাণ্ড দেখিয়া তোমরা কি বিস্মিত হইতেছ না? আমি কিছু শিখাইতে গেলে দেখি উক্ত বিষয়ে সে আমার চাইতেও বেশী জানে (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪০৩)। ইবন কাছীর বলেন, তাঁহার বয়স যখন ৭ বৎসর তখন তাঁহার মা তাঁহাকে মকতবে শিক্ষার জন্য পাঠান কিন্তু কোন বিষয় শিক্ষক বলিবার পূর্বেই তিনি তাহা বলিয়া দিতে শুরু করিতেন (প্রাগুক্ত, page ৭১)।
আলুসী এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ইহাই প্রমাণ করে যে, তাঁহার ইল্ম ছিল পুরাটিই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত (তাফসীর, ৩খ, page ১৬৭)। এইজন্য দেখা যায়, তাঁহার জন্ম সম্পর্কে তাঁহার মায়ের নিকট যখন সুসংবাদ দেওয়া হইয়াছিল তখন তাঁহাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাহা কিছু শিক্ষা দিবেন তাহার কথাও বলিয়া দেওয়া হইয়াছিল। যেমন আল্লাহ্র বাণী:
وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَبَ والحِكْمَةَ وَالتَّوْرَة وَالْإِنْجِيلَ .
"এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জীল" (৩ঃ৪৮)।
উপরিউক্ত আয়াতে কিতাব শিক্ষা দিবেন বলার সূত্র ধরিয়া মুফাসসিরীনে কিরাম বলেন যে, আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আ)-কে সুন্দর হাতের লিখা শিক্ষা দিয়াছিলেন (আলাউদ্দীন বাগদাদী, তাফসীরুল খাযিন, ১খ, page ২৫১; আরও দ্র. তাফসীরে মাযহারী, ২খ, page ২৯২)। ইবন জারীর তাবারী বলেন যে, তারপর তাঁহাকে কিতাব অর্থাৎ লিখন পদ্ধতি শিক্ষা দেন (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৩৯৬)। আর হিকমত শিক্ষার অর্থ হইল বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শরীয়তের বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া (তাফসীরুল খাযিন, প্রাগুক্ত)।
বর্ণিত আছে যে, তিনি রঞ্জন বিদ্যাও অর্জন করিয়াছিলেন। তাঁহার মা এক রঙ কারকের (সাব্বাগ) নিকট তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন যেন তাঁহাকে এই বিষয়ে শিক্ষা দেন। অথচ ঐ সাব্বাগ যখন তাহাকে কিছু শিক্ষা দিতেন তখন মনে হইত যেন ঈসা (আ)-ই তাহার চাইতে বেশী জানেন। একদা ঐ সাব্বাগ কোন এক কাজে কোথাও চলিয়া গেলেন এবং বলিয়া গেলেন, এখানে বিভিন্ন প্রকারের কাপড় আছে এবং প্রত্যেকটিতে চিহ্ন দেওয়া আছে, এইগুলিকে ঐসকল রঙ দ্বারা রঞ্জিত কর। অতঃপর ঈসা (আ) এক ধরনের দানা জ্বালাইলেন এবং তাহাতে সব কাপড় রাখিয়া দিলেন আর বলিলেন, আমি যেরূপ ইচ্ছা করি আল্লাহ্র নির্দেশে সেরূপ হইয়া যাও। অনন্তর সেই সাব্বাগ ফিরিয়া আসিল। আর ঈসা (আ) যাহা করিয়াছিলেন সেই ব্যাপারে তাহাকে অবহিত করিলেন।
তখন সে বলিল, তুমি তো সব কাপড় নষ্ট করিয়া দিয়াছ। ঈসা (আ) বলিলেন, যান, অতঃপর দেখুন। অনন্তর সেই ব্যক্তি কাপড় বাহির করা শুরু করিল যাহা একটি তাহার চাহিদামত ছিল লাল, অন্যটি সবুজ, আরেকটি হলুদ। অতঃপর উপস্থিত সকলেই তাহা দেখিয়া আশ্চর্য হইল (আলুসী, প্রাগুক্ত, ৩খ, page ১৭৬)।
Encyclopaedia Britannica-এর বর্ণনামতে ঈসা (আ) কৃষিজীবি মানুষের মধ্যে বসবাস করিতেন (Vol. 13, page 15)। তাই সম্ভবত তিনি কৃষি বিদ্যাতেও পারদর্শী হইয়া উঠিয়াছিলেন।
Encyclopedia Americana মন্তব্য করে যে, ঈসা গালিলীতে বাস করার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন পথের সংস্পর্শে ছিলেন, যেখান হইতে ব্যবসায়ীরা মিসর ও উত্তর আফ্রিকা, ব্যাবিলন, ভারতবর্ষ, স্পেন ইত্যাদি এলাকার লোকজনের আসা-যাওয়া ছিল। তাহা ছাড়া গালিল ছিল ইয়াহুদী, অ-ইয়াহুদী, পৌত্তলিক, ধনী, গরীব, বিভিন্ন ধরনের লোকের বাসস্থল। তাই গরীব ও নিম্ন শ্রেণীর লোকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা তাঁহার বৈশিষ্ট্য ছিল (vol. 16, page 42)।
মোটকথা, তাঁহার নবুওয়ত-পূর্ব জীবন সম্পর্কে সঠিক তথ্য কমই জানা যায়। ইবন কাছীর (র) ইসহাক ইবন বিশর-এর সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, ঈসা (আ) সেই শিশুকালে যখন কথা বলিতে শুরু করেন তখন প্রথমেই আল্লাহ্র প্রশংসামূলক স্তুতি এমনভাবে করিতে শুরু করিয়াছিলেন যাহা মানুষ কখনও শুনে নাই। তিনি সূর্য, চন্দ্র, পাহাড়, নদী, ঝরনা এই ধরনের কোন কিছুকেই ডাকেন নাই বা তাহাদের কাছে প্রার্থনা করেন নাই, বরং একমাত্র আল্লাহরই মাহাত্ম্য ঘোষণা করিয়াছেন। ইবন কাছীর এই সূত্রে হযরত ঈসা (আ)-এর এক দীর্ঘ দু'আর উল্লেখ করিয়াছেন (দ্র. প্রাগুক্ত)। মোটকথা, বার বৎসর হইতে উনত্রিশ বৎসর বয়স পর্যন্ত ঈসা (আ) কিভাবে অতিবাহিত করেন, কোথায় ছিলেন, বাইবেলগুলি এই ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করে। আল-কুরআন ও হাদীছে এই ব্যাপারে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কোন কোন বিধান সহজীকরণ

📄 কোন কোন বিধান সহজীকরণ


হযরত ঈসা (আ) তাওরাতের শরীআতকে নূতনভাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠা ও সত্যায়ন করিয়াছিলেন। ইয়াহুদীদের অবাধ্যতা ও সীমালংঘনের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ পাক কিছু কিছু বস্তু তাহাদের উপর হারাম করিয়াছিলেন এবং ইয়াহুদী আহবাররাও নিজেদের মনগড়া বিধিবিধান প্রচলন করিয়াছিল। ঈসা (আ) আল্লাহর নির্দেশে এসব হারাম বিধিবিধানের মধ্য হইতে কিছু কিছু বিধান হালাল ঘোষণা দিয়াছিলেন। তাই আল-কুরআনে উল্লিখিত আছে:
وَلَأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ. "তোমাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতকগুলিকে বৈধ করিতে এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি” (৩:৫০)।
কাতাদা হইতে বর্ণিত হইয়াছে যে, হযরত ঈসা (আ)-এর শরীআত হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতের তুলনায় সহজতর ছিল। হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতে তাহাদের জন্য উটের গোশত, চর্বি ও কিছু পাখির গোশত হারাম ছিল। হযরত ঈসা (আ)-এর শরীআতে তাহা হালাল করা হয় (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪০৭)। হযরত ঈসা (আ)-এর শিক্ষা ও আদর্শে হযরত মূসা (আ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শরীআতের কোন কোন বিধানকে সহজতর করার উল্লেখ সুসমাচারেও পাওয়া যায় (দ্র. মথি, ১১ঃ ২৮-৩০)।

হযরত ঈসা (আ) তাওরাতের শরীআতকে নূতনভাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠা ও সত্যায়ন করিয়াছিলেন। ইয়াহুদীদের অবাধ্যতা ও সীমালংঘনের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ পাক কিছু কিছু বস্তু তাহাদের উপর হারাম করিয়াছিলেন এবং ইয়াহুদী আহবাররাও নিজেদের মনগড়া বিধিবিধান প্রচলন করিয়াছিল। ঈসা (আ) আল্লাহর নির্দেশে এসব হারাম বিধিবিধানের মধ্য হইতে কিছু কিছু বিধান হালাল ঘোষণা দিয়াছিলেন। তাই আল-কুরআনে উল্লিখিত আছে:
وَلَأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ. "তোমাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতকগুলিকে বৈধ করিতে এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি” (৩:৫০)।
কাতাদা হইতে বর্ণিত হইয়াছে যে, হযরত ঈসা (আ)-এর শরীআত হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতের তুলনায় সহজতর ছিল। হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতে তাহাদের জন্য উটের গোশত, চর্বি ও কিছু পাখির গোশত হারাম ছিল। হযরত ঈসা (আ)-এর শরীআতে তাহা হালাল করা হয় (তাফসীরে তাবারী, ৫খ, page ৪০৭)। হযরত ঈসা (আ)-এর শিক্ষা ও আদর্শে হযরত মূসা (আ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শরীআতের কোন কোন বিধানকে সহজতর করার উল্লেখ সুসমাচারেও পাওয়া যায় (দ্র. মথি, ১১ঃ ২৮-৩০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নবুওয়ত প্রাপ্তি ও ইঞ্জীল লাভ

📄 নবুওয়ত প্রাপ্তি ও ইঞ্জীল লাভ


হযরত ঈসা (আ) ওহীর মাধ্যমে যখন ইনজীল লাভ করিলেন, তখন তাহা বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রচার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু কখন, কিভাবে, কোথা হইতে তাঁহার দাওয়াতী কার্যক্রম সূচনা করিয়াছিলেন, তাহা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় নাই। প্রচলিত সুসমাচারসমূহে এই সম্পর্কে বিভিন্ন রকম বর্ণনা পাওয়া যায়।
মথি সুসমাচারের বর্ণনায় জানা যায় যে, হযরত ইয়াহইয়া (আ) যত দিন সর্বসাধারণের মধ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম চালাইয়া যাইতেছিলেন ততদিন হযরত ঈসা (আ) নীরব থাকেন। কিন্তু ইতোমধ্যে হযরত ইয়াহইয়া (আ) গ্রেফতার হইয়া জেলখানায় বন্দী হইয়া যান। হযরত ঈসা (আ) তাহা জানিতে পারিয়া গালীলে চলিয়া যান এবং স্বীয় নাসরত গ্রাম ছাড়িয়া সবূলুন ও নপ্তালি এলাকার মধ্যে মগের পাড়ের কফরনাহুর শহরে তাঁহার প্রচার কার্যক্রমের সূচনা করিয়া ঘোষণা করিলেন : "মন ফিরাও, কেননা স্বর্গরাজ্য সন্নিকট হইল" (মথি, ৪:১৭)।
অর্থাৎ “তওবা কর, কেননা আসমানী বাদশাহী সন্নিকটে আসিয়াছে"। অতঃপর ঈসা (আ) গালীল শহরের তীরবর্তী এলাকায় দাওয়াতী কাজ করিতে লাগিলেন এবং সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় সিবাদিয়ের দুই পুত্র ইয়া'কুব ও ইউহান্নাকে তাহার দাওয়াতের প্রতি আকৃষ্ট করিতে সক্ষম হন। অবশ্যই তাহারা দুইজন ঈসা (আ)-এর সাথী হইয়া যান। অতঃপর ঈসা (আ) তাহার সাথীদ্বয়কে লইয়া গালীল প্রদেশের সমস্ত জায়গায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া ইয়াহুদীদের ভিন্ন ভিন্ন মজলিসখানায় শিক্ষা দিতে লাগিলেন। ইহা ছাড়া তিনি বেহেশতী রাজ্যের সুখবর প্রচার করিতে এবং লোকদের সমস্ত রকম রোগ ভাল করিতে লাগিলেন। সমস্ত সিরিয়া প্রদেশে তাঁহার কথা ছড়াইয়া পড়িল। যে সমস্ত লোক নানা রকম রোগে ও ভীষণ যন্ত্রণায় কষ্ট পাইতেছিল, যাহাদের ভূতে ধরিয়াছিল এবং যাহারা মৃগী ও পক্ষাঘাত রোগে ভুগিতেছিল, লোকেরা তাহাদিগকে ঈসা (আ)-এর নিকট আনিল। তিনি তাহাদের সকলকে সুস্থ করিলেন। গালীল, দিকাপালি, জেরুসালেম এহুদিয়া এবং জর্ডানের অন্য পার হইতে অনেক লোক ঈসার পিছনে চলিল (মথি, ৪:২৩-২৫; আরও দ্র. মার্ক, ১:১৪)।
লুক সুসমাচারের বর্ণনা অনুযায়ি প্রায় ৩০ বৎসর বয়সে ঈসা (আ) তাঁহার কার্য আরম্ভ করেন (লুক ৩:২৩)। যোহন সুসমাচারে আরও বলা হইয়াছে, দিবসে ঈসা (আ) প্রকাশ্য কার্যের আরম্ভ করিলেন। আর তাহা ছিল কান্না নগরে এক বিবাহ অনুষ্ঠানে, যেখানে তিনি পানিকে দ্রাক্ষারসে পরিণত করেন। সেই অনুষ্ঠানে তাঁহার মা জননী মারয়ামের সঙ্গেও সাক্ষাত হয়। এইভাবে কিছু দিন পর ইয়াহুদীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সন্নিকটে হইলে ঈসা জেরুসালেমে চলিয়া যান। অতঃপর তিনি ইবাদতখানায় দেখিতে পাইলেন যে, লোকেরা ইবাদতখানার মধ্যে গরু, ভেড়া আর কবুতর বিক্রী করিতেছে এবং টাকা বদল করিয়া দিবার লোকেরাও বসিয়া আছে। এই সমস্ত দেখিয়া তিনি দড়ি দিয়া একটা চাবুক তৈরী করিলেন আর তাহা দিয়া সমস্ত গরু, ভেড়া এবং লোকদেরও সেই জায়গা হইতে তাড়াইয়া দিলেন। টাকা বদল করিয়া দিবার লোকদের টাকা-পয়সা ছড়াইয়া দিয়া তিনি তাহাদের টেবিলগুলি উল্টাইয়া ফেলিলেন (যোহন ২: ১-১৫)। উপরিউক্ত বর্ণনায় দেখা যায় যে, ঈসা (আ) তাঁহার প্রকাশ্যে দাওয়াতী কাজের সূচনা করিয়াছিলেন গালীল প্রদেশে। মথির বর্ণনামতে, তাহা শুরু করেন তিনি কফরনাতুন শহরে এবং পরবর্তীতে গালীল সাগরের পাড়ে।
যোহন সুসমাচারের মতে বেথানিয়া গ্রামে তাঁহার সঙ্গী-সাথী গ্রহণ কাজের সূচনা করেন এবং কান্না গ্রামের বিবাহভোজ অনুষ্ঠান হইতেই প্রকাশ্য প্রচারকার্য শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তিনি জেরুসালেমে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন করেন। বার্ণাবাসের বাইবেলে আছে যে, ফেরেশতা জিবরাঈল কর্তৃক ইনজীল কিতাব লাভের পর ঈসা (আ) তাঁহার মাতাকে সবকিছু অবগত করিয়া তাঁহার খেদমত হইতে অব্যাহতি চাহিলেন। মারয়াম এই সকল কথা শুনিয়া বলিলেন, "পুত্র! তোমার জন্মের আগেই আমাকে এই সকল বলা হইয়াছে। নুবুওয়াতের কাজে যোগদানের উদ্দেশ্যে জন্মদাত্রীর খেদমত হইতে পূর্ব দিন হইতে তিনি বিদায় গ্রহণ করিলেন। আর জেরুসালেমে প্রবেশ করিলেন। জেরুসালেমের প্রবেশপথে একজন কুষ্ঠ ব্যধিগ্রস্ত ব্যক্তির সাক্ষাত পাইলেন। সে ঈসার নিকট আবেদন করিল যেন তিনি তাহার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেন। অবশেষে ঈসা (আ)-এর দু'আর বরকতে যখন ঐ লোকটি রোগমুক্তি লাভ করিল তখন আনন্দে আত্মহারা হইয়া চিৎকার করিতে শুরু করিল যে, তোমরা আসিয়া দেখ, ইনি আল্লাহর নবী। আর তখন তাঁহাকে ঘিরিয়া লোকজন একত্র হইতে শুরু করে। এই কথা জেরুসালেম শহরে প্রচারিত হওয়ার পর এমনভাবে লোকের সমাগম হয় যে, মসজিদ প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাই পর্যন্ত রহিল না। কর্তব্যরত খাদেমগণ হযরত ঈসার নিকট আরয করিলেন, জনাব! সমবেত জনতা আপনাকে দেখিতে চায়। আপনার কথা শুনিতে চায়। ঐ মিনারায় আরোহণ করিয়া তাহাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। ঈসা (আ) তখন সেই মিনারায় দাঁড়াইয়া জনতার উদ্দেশ্যে ওয়াজ করিলেন। সেই ওয়াজে আল্লাহর অনন্ত মহিমা বর্ণনা, প্রথম মানব আদম (আ)-কে শয়তানের প্ররোচনা, তৎপরবর্তীতে হাবিল-কাবিলের ঘটনা, মহাপ্লাবন ও লোহিত সাগরে ফেরাউনকে ডুবাইয়া ধ্বংস করা ইত্যাদি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনারও উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং ইবরাহীম (আ) ও তাঁহার সন্তানদের প্রতি সনাতন ওয়াদা ও মূসা (আ)-এর মাধ্যমে পবিত্র শরীআত জারী করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সাথে সাথে আল্লাহর বাণী ভুলিয়া যাওয়া এবং মিথ্যা অহমিকায় মত্ত হওয়ার ব্যাপারে জনতাকে সতর্ক করেন এবং ইয়াহুদী রিববীদেরও সমালোচনা করেন। অবশেষে জনতা পাপ মোচনের জন্য দু'আ করিতে ঈসার নিকট আবেদন জানাইল। কিন্তু রিববী ও ধর্মীয় নেতারা নিজেদের প্রতি নিন্দা, তিরস্কার ও ধিককারের কারণে ঈসা (আ)-এর প্রতি মনে মনে বিদ্বিষ্ট হইয়া উঠিল। এমনকি উপস্থিত রিববী, কাতিব ও ধর্মবেত্তারা ঈসার মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 চারিত্রিক ও সামাজিক সংস্কার

📄 চারিত্রিক ও সামাজিক সংস্কার


হযরত ঈসা (আ) দুনিয়াদারিতে কৃষ্ণতাসাধন, বিনয়, নম্রতা, ন্যায়নিষ্ঠা, দয়া-দাক্ষিণ্য, সততা ইত্যাদির শিক্ষা দিতেন। বর্তমানে প্রচলিত সুসমাচারসমূহে এইসব শিক্ষার বিস্তারিত বিবরণ রহিয়াছে। যেমন বিনয় ও নম্রতার শিক্ষায় তিনি বলিয়াছিলেনঃ যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে, কিন্তু যে আপনাকে নত করে তাহাকে উচ্চ করা যাইবে (লুক, ১৮: ১৪)।
লোভ-লালসা হইতে বিরত থাকিবার জন্য শিক্ষা দিতে গিয়া তিনি বলেন: "সাবধান আপনাদিগকে সর্বপ্রকার লোভ হইতে রক্ষা করিও। কেননা উপচিয়া পড়িলে ও মনুষ্য সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না" (লুক, ১২: ১৫-১৬)।
"হে অধ্যাপক ও ফরীশীগণ, কপটীরা! ধিক তোমাদিগকে। কারণ তোমরা চুনকাম করা কবরের তুল্য, যাহা বাহিরে সুন্দর বটে, ভিতরে মরা মানুষের অস্থি ও সর্বপ্রকার অশুচিতা ভরা। তদ্রূপ তোমরাও বাহিরে লোকদের কাছে ধার্মিক বলিয়া দেখাইয়া থাক, কিন্তু ভিতরে তোমরা কাপট্য ও অধর্ম্মে পরিপূর্ণ।"
সামাজিক সম্পর্ক ও স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন সম্পর্কে তিনি বলিয়াছিলেন, "সুতরাং তাহারা আর দুই নয় কিন্তু একাঙ্গ। অতএব ঈশ্বর যাহার যোগ করিয়া দিয়াছেন, মনুষ্য তাহার নিয়োগ না করুক" (মথি, ১৯:৬)।
তিনি তালাক সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "ব্যভিচারের দোষ ব্যতিরেকে যে কেহ আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া অন্যকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে" (মথি, ১৯ঃ ৯)।
লুক সুসমাচারে আসিয়াছে যে, তিনি বলেন, "তোমরা যে শুনিতেছ, আমি তোমাদিগকে বলি, তোমরা আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, যাহারা তোমাদিগকে দ্বেষ করে, তাহাদের মঙ্গল করিও, যাহারা তোমাদিগকে শাপ দেয় তাহাদিগকে আশীর্বাদ করিও, যাহারা তোমাদিগকে নিন্দা করে, তাহাদের নিমিত্ত প্রার্থনা করিও, যে তোমার এক গালে চড় মারে, তাহার দিকে অন্য গালও পাতিয়া দিও এবং যে তোমার চোপা তুলিয়া লয়, তাহাকে আঙরাখাটিও (জামা) লইতে বারণ করিও না। যে কেহ তোমার কাছে যাজ্ঞা করে, তাহাকে দিও এবং যে তোমার দ্রব্য তুলিয়া লয়, তাহার কাছে তাহা আর চাহিও না, আর তোমরা যেরূপ ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও” (লুক, ৬: ২৭-৩২)।
মোটকথা, হযরত ঈসা (আ) ছিলেন মানব দরদী। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করিতে পারিতেন না। তাহাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করিতেন। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও তাহা রক্ষার জন্য তিনি প্রয়াস চালাইতেন। সাথে সাথে তাহার শিষ্যদেরকে এই সকল বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। তাঁহার মত তাহার সাথীগণ এই ক্ষেত্রে আদর্শ হিসাবে প্রতিভাত হন। তাই আল-কুরআনেও তাহাদের গুণসমূহ উল্লেখ করা হইয়াছে এবং তাহাদের প্রশংসা বিবৃত হইয়াছে। আল্লাহপাক বলেন:
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَهُ الْإِنْجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً ورَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةٌ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا .
"অতঃপর আমি তাহাদিগের অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারয়াম-তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদিগের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। কিন্তু সন্ন্যাসবাদ, ইহা তো উহারা নিজেরাই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল, আমি উহাদিগকে ইহার বিধান দেই নাই, অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই" (৫৭ঃ ২৭)।
হযরত ঈসা (আ)-এর প্রচারকাজে দেখা যায়, তিনি অপরাধীদেরকে ঘৃণা করিতেন না, এমনকি তাহাদের সাথে আহার করিতেন। ইহা ইয়াহুদী নেতারা পছন্দ করিত না। তাঁহার সাথীদের মধ্যেও কেহ কেহ তাহা পছন্দ করিত না। তাই তিনি তাহাদেরকে এই বলিয়া সতর্ক করিতেন, অপরাধীকে ঘৃণা করিয়া দূরে সরাইয়া দিলে সে হেদায়াত পাইবে কোথা হইতে? তাহার প্রতি সদয় ব্যবহার করিয়া দীনের প্রতি তাহাকে আকৃষ্ট করাই ছিল হযরত ঈসা (আ)-এর হিকমত।
মোটকথা, হযরত ঈসা (আ)-এর শিক্ষার মধ্যে ক্ষমা, দয়া ও মানবপ্রেম ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের প্রতি ঐকান্তিক দয়া ও ভালবাসার প্রেরণায় স্বজাতির লোকজনের সকল স্তরের ব্যক্তিদের নিকট তিনি গমন করিতেন এবং যথাসম্ভব তাহাদেরকে আপন করিয়া লইয়া হেদায়াত করিতেন।

হযরত ঈসা (আ) দুনিয়াদারিতে কৃষ্ণতাসাধন, বিনয়, নম্রতা, ন্যায়নিষ্ঠা, দয়া-দাক্ষিণ্য, সততা ইত্যাদির শিক্ষা দিতেন। বর্তমানে প্রচলিত সুসমাচারসমূহে এইসব শিক্ষার বিস্তারিত বিবরণ রহিয়াছে। যেমন বিনয় ও নম্রতার শিক্ষায় তিনি বলিয়াছিলেনঃ যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে, কিন্তু যে আপনাকে নত করে তাহাকে উচ্চ করা যাইবে (লুক, ১৮: ১৪)।
লোভ-লালসা হইতে বিরত থাকিবার জন্য শিক্ষা দিতে গিয়া তিনি বলেন: "সাবধান আপনাদিগকে সর্বপ্রকার লোভ হইতে রক্ষা করিও। কেননা উপচিয়া পড়িলে ও মনুষ্য সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না" (লুক, ১২: ১৫-১৬)।
"হে অধ্যাপক ও ফরীশীগণ, কপটীরা! ধিক তোমাদিগকে। কারণ তোমরা চুনকাম করা কবরের তুল্য, যাহা বাহিরে সুন্দর বটে, ভিতরে মরা মানুষের অস্থি ও সর্বপ্রকার অশুচিতা ভরা। তদ্রূপ তোমরাও বাহিরে লোকদের কাছে ধার্মিক বলিয়া দেখাইয়া থাক, কিন্তু ভিতরে তোমরা কাপট্য ও অধর্ম্মে পরিপূর্ণ।"
সামাজিক সম্পর্ক ও স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন সম্পর্কে তিনি বলিয়াছিলেন, "সুতরাং তাহারা আর দুই নয় কিন্তু একাঙ্গ। অতএব ঈশ্বর যাহার যোগ করিয়া দিয়াছেন, মনুষ্য তাহার নিয়োগ না করুক" (মথি, ১৯:৬)।
তিনি তালাক সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "ব্যভিচারের দোষ ব্যতিরেকে যে কেহ আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া অন্যকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে" (মথি, ১৯ঃ ৯)।
লুক সুসমাচারে আসিয়াছে যে, তিনি বলেন, "তোমরা যে শুনিতেছ, আমি তোমাদিগকে বলি, তোমরা আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, যাহারা তোমাদিগকে দ্বেষ করে, তাহাদের মঙ্গল করিও, যাহারা তোমাদিগকে শাপ দেয় তাহাদিগকে আশীর্বাদ করিও, যাহারা তোমাদিগকে নিন্দা করে, তাহাদের নিমিত্ত প্রার্থনা করিও, যে তোমার এক গালে চড় মারে, তাহার দিকে অন্য গালও পাতিয়া দিও এবং যে তোমার চোপা তুলিয়া লয়, তাহাকে আঙরাখাটিও (জামা) লইতে বারণ করিও না। যে কেহ তোমার কাছে যাজ্ঞা করে, তাহাকে দিও এবং যে তোমার দ্রব্য তুলিয়া লয়, তাহার কাছে তাহা আর চাহিও না, আর তোমরা যেরূপ ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও” (লুক, ৬: ২৭-৩২)।
মোটকথা, হযরত ঈসা (আ) ছিলেন মানব দরদী। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করিতে পারিতেন না। তাহাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করিতেন। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও তাহা রক্ষার জন্য তিনি প্রয়াস চালাইতেন। সাথে সাথে তাহার শিষ্যদেরকে এই সকল বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। তাঁহার মত তাহার সাথীগণ এই ক্ষেত্রে আদর্শ হিসাবে প্রতিভাত হন। তাই আল-কুরআনেও তাহাদের গুণসমূহ উল্লেখ করা হইয়াছে এবং তাহাদের প্রশংসা বিবৃত হইয়াছে। আল্লাহপাক বলেন:
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَهُ الْإِنْجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً ورَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةٌ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا .
"অতঃপর আমি তাহাদিগের অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারয়াম-তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদিগের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। কিন্তু সন্ন্যাসবাদ, ইহা তো উহারা নিজেরাই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল, আমি উহাদিগকে ইহার বিধান দেই নাই, অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই" (৫৭ঃ ২৭)।
হযরত ঈসা (আ)-এর প্রচারকাজে দেখা যায়, তিনি অপরাধীদেরকে ঘৃণা করিতেন না, এমনকি তাহাদের সাথে আহার করিতেন। ইহা ইয়াহুদী নেতারা পছন্দ করিত না। তাঁহার সাথীদের মধ্যেও কেহ কেহ তাহা পছন্দ করিত না। তাই তিনি তাহাদেরকে এই বলিয়া সতর্ক করিতেন, অপরাধীকে ঘৃণা করিয়া দূরে সরাইয়া দিলে সে হেদায়াত পাইবে কোথা হইতে? তাহার প্রতি সদয় ব্যবহার করিয়া দীনের প্রতি তাহাকে আকৃষ্ট করাই ছিল হযরত ঈসা (আ)-এর হিকমত।
মোটকথা, হযরত ঈসা (আ)-এর শিক্ষার মধ্যে ক্ষমা, দয়া ও মানবপ্রেম ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের প্রতি ঐকান্তিক দয়া ও ভালবাসার প্রেরণায় স্বজাতির লোকজনের সকল স্তরের ব্যক্তিদের নিকট তিনি গমন করিতেন এবং যথাসম্ভব তাহাদেরকে আপন করিয়া লইয়া হেদায়াত করিতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00