📄 ঈসা (আ)-এর ভূমিষ্ট হওয়ার স্থান
ঈসা (আ)-এর ভূমিষ্ট হওয়ার সময় নিকটবর্তী হইলে হযরত মারয়াম জেরুসালেম হইতে নয় মাইল দূরে সারাত (সাঈর) পর্বতের একটি টিলায় চলিয়া গেলেন যাহা বর্তমানে 'বেথেলহাম' নামে প্রসিদ্ধ (সিওহারবী, কাসাসুল কুরআন, ৪খ., page ৩৫)। অধিকাংশ আলিমের মতে এইখানেই হযরত ঈসা (আ) ভূমিষ্ট হন'।
বার্ণাবাসের বাইবেলে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, রোম সম্রাট অগাষ্টাস-এর এক ডিক্রিবলে ঐ সময় ইয়াহুদা রাজ্যের শাসক ছিলেন হেরোদ। অগাষ্টাস সীজারের ফরমান অনুসারেই গোটা সাম্রাজ্যে শুমারী প্রথা চালু ছিল, যে কারণে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ প্রদেশে গিয়া আপন আপন গোত্রের নামে সরকারী করদভুক্ত প্রজারূপে গণ্য হইত। সীজারের এই ডিক্রি অনুযায়ী নিজেকে করদভুক্ত করার জন্য ইউসুফ অন্তঃসত্তা মারয়ামকে লইয়া গ্যালিলী অঞ্চলের নাসারত শহর ত্যাগ করিয়া বায়তুল লাহমে গেলেন। কেননা দাউদ-এর বংশধারার লোকদের বাসভূমিরূপে ইহা ছিল তাহাদের নিজস্ব শহর। ইউসুফ ক্ষুদ্র শহর বাইতুল-লাহামে গিয়া দেখিলেন, অধিবাসীরা অধিকাংশই বহিরাগত যাহাদের কাছে তাঁহার আশ্রয় পাইবার সম্ভাবনা নাই। তাই শহরতলীতে রাখালদের জন্য নির্মিত সাধারণ ছাউনিতে তিনি অবস্থান করিতে লাগিলেন (বার্নাবাসের বইবেল, page ৩-৪)।
মারয়াম (আ)-এর সন্তান প্রসব প্রসঙ্গে আল কুরআনে উল্লিখিত হইয়াছে: فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يُلَيْتَنِي مِنْ قَبْلَ هُذَا وَكُنْتُ نَسَبًا مَنْسِيًّا , فَنَادَهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكَ تَحْتَكِ سَرِيًّا , وَهُزِئ إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسْقِطَ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
“প্রসব বেদনা তাহাকে এক খর্জুর বৃক্ষতলে আশ্রয় লাইতে বাধ্য করিল। সে বলিল, হায়! ইহার পূর্বে আমি যদি মরিয়া যাইতাম ও লোকের স্মৃতি হইতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হইতাম। ফেরেশতা তাহার নিম্ন পার্শ্ব হইতে আহ্বান করিয়া তাহাকে বলিল, তুমি দুঃখ করিও না। তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করিয়াছেন। তুমি তোমার দিকে এক খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ডে নাড়া দাও। উহা তোমাকে সুপক্ক তাজা খর্জুর দান করিবে” (১৯ : ২৩-২৫)।
উপরিউক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, মারয়াম (আ) স্বীয় সন্তান (ঈসা) প্রসবের জন্য খর্জুর বৃক্ষবিশিষ্ট কোন বাগানে আশ্রয় লইয়াছিলেন এবং তাঁহার সন্তানের বরকতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেইখানে একটি নহর জারি করিয়া দেন। কিন্তু এই স্থানটি কোথায় সুনির্দিষ্টভাবে তাহার উল্লেখ করা হয় নাই।
ওয়াহ্ ইব্ন মুনাব্বিহের ধারণা যে, ঈসা (আ) মিসরে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন কাছীর ইহাকে সঠিক নহে বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ, page ৬৯)। মাওলানা আবুল কালাম আযাদ-এর মতে হযরত ঈসা (আ) নাসীরা নামক স্থানে ভূমিষ্ট হইয়াছিলেন (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, তারজুমানু'ল কুরআন, ২খ, page ৪৩৩)। Encyclopaedia Britannica-তে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, আধুনিক কিছু গবেষকের মতে তাঁহার জন্ম হয় নাযারাথ (Nagarath) পল্লীতে।
ঐতিহাসিক মুফাস্সিরগণের প্রসিদ্ধ মতে হযরত ঈসা (আ)-এর জন্মস্থান হইল বেথেলহাম। মহানবী (সা)-এর মি'রাজ সম্পর্কিত বর্ণিত যে হাদীছ আছে, তাহাতে বেথেলহামকেই ঈসা (আ)-এর ভূমিষ্ট হওয়ার স্থান বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। এই হাদীছটি ইমাম নাসাঈ আনাস (রা) সূত্রে এবং ইমাম বায়হাকী শাদদাদ ইব্ন আউস (রা) হইতে এবং সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেন। তাই এই হাদীছের বক্তব্যের পরিপন্থী মত গ্রহণযোগ্য নহে (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ., page ৬৯)।
বেথেলহামে ঈসা (আ)-এর ভূমিষ্ট হওয়ার জায়গায় রোমান সম্রাটগণ একটি গীর্জা নির্মাণ করিয়াছিলেন (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত; আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার, প্রাগুক্ত, page ৩৮১)। পূর্ববর্তী আম্বিয়ার মাধ্যমে এই কথা বলা হইতেছিল যে, মাসীহ দাউদ (আ)-এর নগরীতে জন্মগ্রহণ করিবেন (মথি, ২:৪,৫-৬)। আর বাইবেলে আসিয়াছে যে, হযরত দাউদ (আ)-এর জন্ম হইয়াছিল বেথেলহামে। হযরত মারয়াম বেথেলহামে থাকিতেই তাঁহার সন্তান ঈসা (আ)-এর জন্ম হয় (লূক সুসমাচার, ২:৪-৭)।
📄 বার্ণাবাসের বাইবেলের বিষয়বস্তু ও তাহার তাৎপর্য
বার্ণাবাসের সুসমাচারে অন্যান্য সুসমাচারের মতই হযরত ঈসা (আ)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলী ও বাণী সংকলিত হইয়াছে। তবে বিষয়বস্তুগত দিক দিয়া বার্ণাবাসের গ্রন্থটি কয়েকটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবিদার।
(১) ঈসা (আ) যে ইলাহ ছিলেন না, তাহা বার্ণাবাসের সুসমাচারে বারবার ব্যক্ত করা হইয়াছে। এই গ্রন্থের মতে ঈসা আল্লাহর পুত্র নহেন, বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর বান্দাও রাসূল।
(২) এই গ্রন্থের মতে ইবরাহীমের সন্তানগণের মাঝে যাহাকে কুরবানী দেওয়া হইয়াছিল তিনি ইসহাক নহেন, বরং তিনি হইলেন ইসমাঈল (আ)।
(৩) এই গ্রন্থে হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর আগমনের সুসংবাদটি বারবার উল্লেখ করা হইয়াছে।
(৪) এই সুসমাচারে মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করিয়া হত্যা করিবার ঘটনাকে অস্বীকার করা হইয়াছে। বরং যাহারা দাবি করেন যে, ঈসা (আ)-কে ক্রুশে বিদ্ধ করা হইয়াছিল, তাহাদেরকে মূর্খ বলা হইয়াছে।
(৫) এই সুসমাচারে ত্রিত্ববাদকে প্রত্যাখ্যান করা হইয়াছে।
(৬) সুসমাচারে তাকওয়া, তওবা, তথা অনুতাপ ও গোনাহর জন্য ক্রন্দন পদ্ধতি, নামায, রোযা, আল্লাহ্র স্মরণের প্রকৃতি, ঈসা (আ) ও বার্ণাবাসের মধ্যে সরাসরি কথোপকথন, পাপ মোচন তত্ত্বকে কমনির্ভরকরণ ইত্যাদি বিষয় আসিয়াছে, যাহা অন্যান্য গ্রন্থে এইভাবে আসে নাই।
(৭) অন্যান্য সুসমাচারের তুলনায় বার্ণাবাসের বাইবেলে ঈসা (আ)-এর বাণী বেশী আসিয়াছে এবং সেই বাণীগুলি সংযত ও যুক্তিসংগত শৈলীতে পরিবেশিত।
(৮) আদম ও হাওয়া (আ)-এর ঘটনা, ইবরাহীম (আ)-এর ঘটনাসহ উপমাস্বরূপ অতীত কাহিনীও উল্লেখ করা হইয়াছে, যাহাতে বিভিন্ন নসীহতমূলক কথাবার্তা রহিয়াছে।
📄 ঈসা (আ)-এর জন্ম তারিখ
ঈসা (আ)-এর জন্মস্থান লইয়া যেমন মতপার্থক্য রহিয়াছে, তেমনিভাবে তাঁহার জন্মসন তারিখ নির্ণয়েও মতপার্থক্য রহিয়াছে। যথা : ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট টেইলর (Vincent Taylor)-এর মতে ঈসা-এর জন্ম খৃস্টপূর্ব ৮ সালেও হইতে পারে (J. Lehman, The Jews Report, pages 14-15); Encylopaedia Britannica (vol. 13, page 55)-এর মতে সম্ভবত খৃস্টপূর্ব ৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
খৃস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে ডাইওনেসিয়াস এক্সিগিওস (Disnysius Exigius) দ্বারা প্রণীত এনোডমিনি (Anno Domini সংক্ষেপে AD) নামে খৃস্টীয় পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে হয়রত ঈসা (আ) ১ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার সময় হইতেই খৃস্টীয় সন হিসাব করা হয়। ঈসা (আ)-এর জন্মের তারিখ হিসাবে ঐ সনটিই বেশি প্রচলিত হইয়া আসিতেছে, যাহা মুসলিম ঐতিহাসিকগণও সমর্থন করিয়াছেন (দ্র. ড. মুহাম্মদ আত্-তায়্যিব আন্-নাজ্জার, তারীখুল আম্বিয়া, page ২৭৬)।
ড. সাজ্জাদ হোসাইন উল্লেখ করেন যে, বলা হয় ঈসা (আ) তিন খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন (Syed Sajjad Husain, page 21)। আতাউর রহীম উল্লেখ করেন যে, লুক সুসামাচার অনুসারে দেখা যায়, আদমশুমারীর সময়ে ঈসা (আ) জন্মগ্রহণ করেন আর আদমশুমারী অনুষ্ঠিত হয় ৬ খৃস্টাব্দে (M. Ataur Rahim, Jesus A prophet of Islam, page 17)। মোটকথা ঈসা (আ) কোন সালে জন্মগ্রহণ করেন তাহা সঠিকভাবে জানা যায় না।
বার্নাবাসের বাইবেলে আসিয়াছে যে, খৃস্টীয় সনের সাথে ঈসা (আ)-এর জন্মসনের সম্পর্ক নাই। এইজন্য খৃস্টান পণ্ডিতগণও বর্তমান খৃস্টীয় পঞ্জিকার সমালোচনা করিয়াছেন এবং ইহা যে ঈসার জন্মের তারিখের সহিত সম্পর্কযুক্ত নহে, তাহাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করিয়াছেন (Encylopedia Americana, Vol. 16, page 41)। মোটকথা খৃস্টপূর্ব ১১ হইতে ৪-এর মধ্যে যে কোন সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তবে খৃস্টপূর্ব ৬ সাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
📄 বার্নাবাসের বাইবেল সম্পর্কে একটি সংশয়ের অপনোদন
উল্লেখ, বার্ণাবাসের গসপেলে বর্ণিত বিভিন্ন আকীদা-বিশ্বাস ও দিকনির্দেশনার মত কিছু কিছু বিষয় ইসলামী আকীদা মোতাবেক হওয়ার কারণে পৌলীয় খৃস্টানগণ ধারণা করে যে, এই গ্রন্থটি মুসলমানদের দ্বারা রচিত। তাহারা এই গ্রন্থটি সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করিয়া ইহার গুরুত্বকে খাটো করিবার চেষ্টা অব্যাহত রাখিয়াছে। কিন্তু ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় তাহাদের এই সংশয় অমূলক বলিয়া স্পষ্ট হইয়া যায়।
(১) বার্ণাবাসের বাইবেলটি তাওহীদপন্থী আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যানধারণায় না হইলে খৃস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে তাওহীদপন্থী ইরানিয়াস যুক্তি প্রদর্শনে কেন বার্ণাবাসের বাইবেল ব্যবহার করিতেন ? মুহাম্মাদ (আ)-এর নেতৃত্বে দাওয়াত শুরু হয় সপ্তম শতাব্দীতে। আর তাওহীদের সমর্থনে যুক্তি প্রয়োগে ইরানিয়াস উক্ত গ্রন্থটি ব্যবহার করেন দ্বিতীয় শতাব্দীতে। অতএব ইহা মুসলমানদের রচিত বলিয়া ধারণা অমূলক।
(২) বার্ণাবাসের বাইবেল ত্রিত্ববাদের বিরুদ্ধে এবং তাওহীদের পক্ষে না হইলে, চতুর্থ শতাব্দীতে পৌলিয় খৃস্টানগণ উহা নিষিদ্ধ করিল কেন?
(৩) বর্তমান বার্ণাবাসের গ্রন্থটি মুসলিম সমাজ বা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রিত কোন লাইব্রেরী হইতে উদ্ধার করা হয় নাই, বরং জগৎশ্রেষ্ঠ খৃস্টান পৌলদের লাইব্রেরী হইতে খৃস্টান নেতৃবৃন্দই ইহা উদ্ধার করেন এবং ইহার ইংরাজী অনুবাদকও ছিলেন একজন খৃস্টান। তাহার নাম সাইল। মোটকথা, উদ্ধার সম্পর্কিত ঘটনাবলী খৃস্টীয় পরিমণ্ডলে তাহাদের কর্তৃত্বাধীনে সংঘটিত হইয়াছে বরং খৃস্টানদের হেফাজতেই তাহা সংরক্ষিত হইয়াছে। তাহার পরও কোন মুসলমানকে উহার সহিত জড়াইয়া দেওয়া অবান্তর।
(৪) ইসলামী ভাবধারার সাথে উক্ত গ্রন্থটির সব কথার মিল নাই। যেমন, ঈসা (আ)-কে আকাশে উত্থিত করিবার পর তাঁহার মাতা ও শিষ্যদের সঙ্গে পুনঃসাক্ষাতের ঘটনাটি কুরআন-হাদীছে বর্ণিত নাই।
বার্ণাবাসের সুসমাচারে ৩১ নং অধ্যায়ে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, "সিজারের যাহা প্রাপ্য সিজারকে দাও আর আল্লাহর যাহা প্রাপ্য আল্লাহকে দাও" (মথি: ২২: ২১)। আর ইহা ঈসা (আ)-এর বাণী (page ৩৬)। কিন্তু এই ধারণাটি ইসলামী ভাবধারা বিরুদ্ধ। কেননা ধর্ম ও রাজনীতির এই ধরনের ব্যবচ্ছেদ ইসলাম সমর্থন করে না (অধ্যায়, ২৪, page ২৫)। তেমনিভাবে আসমানের সংখ্যা ৯ বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে (অধ্যায় ১০৫, page ১২৬), কিন্তু কুরআন-হাদীছের বর্ণনা অনুযায়ী আসমানের সংখ্যা ৭টি। এইভাবে প্রচুর অমিল রহিয়াছে।
(৫) আল কুরআন সত্য, তাই বার্ণাবাসে কোন সত্য আসিলে তাহা মিলিয়া যাইতেই পারে। যেমনিভাবে বর্তমান প্রচলিত সুসমাচারসমূহে আসা কিছু কিছু তথ্যের সাথে কুরআনের বর্ণিত তথ্যের কিছু কিছু মিল রহিয়াছে। যেমন, ইনজীল তথা ঈসা (আ)-এর মিশনকে মূসা (আ)-এর মিশনের পরিপূরক ও সত্যায়নকারী হিসাবে ঘোষণা, তাহার প্রদত্ত বক্তৃতার কিছু কিছু বাণী ইত্যাদি। তাই বলিয়া এই সুসমাচারগুলিও মুসলমানগণ লিখিয়াছেন, তাহা কোন খৃস্টান দাবি করিতে পারেন না।
(৬) বাইবেলের পুরাতন নিয়মে ঈসা (আ)-এর আগমনের অনেক সুসংবাদ আসিয়াছে, যাহা পূর্বেই আমরা দেখিয়াছি। এমনকি মথির সুসমাচারে ও ইয়াসাআ নবী কর্তৃক সুসংবাদেও ঈসা (আ) মসীহ্ নাম উল্লেখ করা হইয়াছে, এমনিভাবে তাঁহার জন্মস্থান পর্যন্ত বর্ণিত হইয়াছে। সুতরাং ঈসা (আ)-এর পরে আগত মুহাম্মাদ (স) সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদানে ঈসা (আ) নবী মুহাম্মাদ (স)-এর নাম নেওয়া অবাস্তব কিছু নহে। এই ধরনের নাম উল্লেখ করিলেই তাহা মুসলমানদের দ্বারা লিখিত হইবে এই ধারণা যথাযথ নহে।
(৭) গসপেলটি অনেক দিন গোপনীয় অবস্থায় ছিল। তাই প্রামাণ্য সূত্রগত দিক দিয়া ইহা বিচ্ছিন্ন। তবে এই দিক দিয়া অন্যান্য সুসমাচারের চাইতে ইহার মর্যাদা কম নহে। কারণ সেগুলির এই একই অবস্থা বরং সেইগুলি কোন প্রত্যক্ষদর্শী কর্তৃক রচিত নহে। কিন্তু বার্ণাবাসে আসা ঈসা (আ)-এর বাণীগুলি প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা। গ্রন্থটি এই দিক দিয়া অনন্য।
এই সকল কারণে অন্যান্য সুসমাচারের তুলনায় বার্ণাবাসের সুসমাচারের প্রতি মুসলমানদের আগ্রহ ও কৌতুহল অধিক। তাই বলিয়া তাহা মুসলমানদের রচনা বলা অযৌক্তিক ও বাস্তবতার পরিপন্থী। খৃস্ট সমাজের তাওহীদী ধারার অস্তিত্ব সম্পর্কে খৃস্টান গবেষকগণও দ্বিমত পোষণ করেন নাই। অতএব নির্দ্বিধায় বলা যায়, গ্রন্থটি হয় বার্ণাবাসের স্বহস্তে লিখিত বা নূন্যপক্ষে তাহার চিন্তাধারা ও বর্ণনার উপর ভিত্তি করিয়া তাহার কোন অনুসারী কর্তৃক রচিত।