📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মায়ের গর্ভে হযরত ঈসা (আ)

📄 মায়ের গর্ভে হযরত ঈসা (আ)


কোন কোন বর্ণনামতে, জিবরাঈল (আ) মারয়াম (আ)-কে ঐ সুসংবাদ শুনাইয়া তাঁহার মুখের ভিতর হযরত ঈসা (আ)-এর রূহ মুবারক ফুঁকিয়া দেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ মতে জিবরাঈল (আ) মারয়াম (আ)-এর জামার কলারের ফাঁক দিয়া ফুঁক দিলেন আর এইভাবে তাঁহার গর্ভে ঈসা (আ)-এর রূহ পৌঁছিয়া গেল (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ, page ৫৯)।
যাই হউক, এইভাবে কিছুকাল পর তিনি নিজেকে অন্তঃসত্তা অনুভব করিলেন। এই প্রসঙ্গে বলা হইয়াছে:
"আরও দৃষ্টান্ত দিতেছেন ইমরান তনয়া মারয়ামের, যে তাহার সতীত্ব রক্ষা করিয়াছিল, ফলে আমি তাহার মধ্যে রূহ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং সে তাহার প্রতিপালকের বাণী ও তাহার কিতাবসমূহ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল; সে ছিল অনুগতদিগের একজন" (৬৬:১২)।
উল্লেখ্য, হযরত মারয়াম অন্তঃসত্তা হওয়ার পর হযরত ঈসা (আ) তাঁহার গর্ভে কত সময় ছিলেন সে সম্পর্কে প্রচুর মতবিরোধ রহিয়াছে। তন্মধ্যে নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হইল :
হযরত মারয়াম ঈসা (আ)-কে গর্ভে ধারণের সাথে সাথেই প্রসব করেন। ইবনুল জাওযীর বর্ণনা মতে ইহা ইব্‌ন আব্বাসের মত। আর উহার অর্থ তাঁহার গর্ভ ধারণের সময়কাল দীর্ঘ ছিল না। তবে ইহার অর্থ এই নয় যে, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সন্তান প্রসব করেন। কেননা আল্লাহ পাক বলিয়াছেন:
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا . فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يُلَيْتَنِي مِنْ قَبْلَ هُذَا وَكُنْتُ نَسِيَا مُنْسِيًّا
"তৎপর সে গর্ভে উহাকে ধারণ করিল, অতঃপর তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেল, প্রসব বেদনা তাহাকে এক খর্জুর বৃক্ষতলে আশ্রয় লইতে বাধ্য করিল” (১৯ : ২২-২৩)।
এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, গর্ভ ধারণ আর প্রসব করিবার মাঝামাঝি এতটুকু সময় ছিল যাহাতে দূরবর্তী স্থানে যাওয়া সম্ভব হয় (ইবনুল জাওযী, যাদুল মাসীর, ৫খ., page ১৫৪)।
গর্ভধারণের ক্ষণকাল পরই প্রসব করেন। ইহা ছা'লাবীর মত (প্রাগুক্ত)। ইহার সমর্থনে দলীল হিসাবে নিম্নোক্ত আয়াতটি উল্লেখ করা হয় : إِنَّ مَثَلَ عِيْسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ "আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তাহাকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, অতঃপর তাহাকে বলিয়াছিলেন, 'হও', ফলে সে হইয়া গেল" (৩ঃ ৫৯)।
অতএব আল্লাহ তা'আলা যেখানে বলিলেন, "হইয়া যাও", সেখানে গর্ভ ধারণের সময়কাল সম্পর্কে চিন্তা করা যায় না (আলুসী, রূহুল মা'আনী, ১৬খ, page ৭৯)।
এতদ্ব্যতীত তাঁহার গর্ভকাল ৩ ঘণ্টা, ৯ ঘণ্টা, ৬ মাস, ৭ মাস, ও ৮ মাস ছিল বলিয়া বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লিখিত হইয়াছে (আল-মাওয়ারদী, তাফসীর, ৩খ, page ৬২; দ্র. আলুসী, প্রাগুক্ত, page ৭৯-৮০)।
ঐ গর্ভকালীন সময় ছিল ৯ মাস। ইব্‌ন কাছীর এই মতটিকেই অগ্রাধিকার দিয়াছেন। আর আলুসী ইহাকে ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন। ইহার প্রবক্তাদের মতে, অন্যান্য নারী স্বাভাবিকভাবে ৯ মাসে যেমনি করিয়া সন্তান প্রসব করে তেমনি ৯ মাস পর মারয়াম (আ) হযরত ঈসা (আ)-কে প্রসব করিয়াছিলেন (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত; আলুসী, প্রাগুক্ত)। ইন্ন কাছীর ইহার সহিত আরও বলিয়াছেন যে, এই সময়ের ব্যতিক্রম হইলে অবশ্যই তাহা কুরআন-হাদীছে উল্লেখ থাকিত (ইন্ন কাছীর, প্রাগুক্ত)। আলুসীর মতে এই বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোন বর্ণনা সহীহ নহে (দ্র. আলুসী, প্রাগুক্ত)। প্রখ্যাত তাবিঈ হযরত মুজাহিদ (র) হইতে বর্ণিত, মারয়াম বলিয়াছেন-
"আমি যখন একাকী থাকিতাম তখন সে (ঈসা) আমার সহিত কথা বলিত। আর যখন আমি মানুষের মধ্যে থাকিতাম সে আমার পেটে তাসবীহ পাঠ করিত" (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত)।
বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে হযরত ঈসা যখন তাঁহার মায়ের পেটে ছিলেন তখন তাঁহার মা মারয়াম আপন জাতির ইউসুফ নামে একজন সৎ মিস্ত্রীকে নিজের জীবনসঙ্গী করিয়া লইয়াছিলেন (লুক সুসমাচার, ২ঃ ৫-৬; বার্ণাবাসের বইবেল, page ২)। ইন্ন কাছীর বলেন, সালাফে সালেহীনের মধ্যে অনেকেই উল্লেখ করিয়াছেন যে, হযরত মারয়ামের গর্ভধারণের আলামত যখন স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছিল তখন প্রথম জানিতে পারেন ইউসুফ আন্-নাজ্জার। তিনি মারয়ামের খালাত ভাই ছিলেন। মারয়ামের একদিকে পূত পবিত্রতা ও ইবাদত-পরহেযগারি, অন্যদিকে তাঁহার ঐ অবস্থা অবলোকন করিয়া তিনি খুবই আশ্চর্যান্বিত হন। একদিন তিনি মারয়ামকে জিজ্ঞাসা করিয়া প্রকৃত অবস্থা তথা ফেরেস্তার সুসংবাদ জানিয়া লইয়া আর কিছু বলেন নাই (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ. page ৬০)। কিন্তু বাইবেলে আসিয়াছে যে, ইউসুফ মারয়ামের সহিত বিবাহের পূর্ব-চুক্তি ভঙ্গ করিয়া বিচ্ছিন্ন থাকিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে স্বপ্নে ফেরেশতা কর্তৃক প্রকৃত অবস্থা জানিয়া তাহার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করিয়া লইয়াছিলেন (মথি, ১: ২০-২১; বার্ণাবাসের বাইবেল, page ৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বার্ণাবাসের ধর্মীয় মর্যাদা

📄 বার্ণাবাসের ধর্মীয় মর্যাদা


বার্ণাবাস ও পল সুদীর্ঘ কাল একই সঙ্গে রহিয়াছিলেন এবং খৃষ্ট ধর্মমত প্রচার করিয়াছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পলের সাথে বার্ণাবাসের বিচ্ছেদ ঘটে। লুকের বর্ণনামতে বিভিন্ন স্থানে প্রচারকাজে বার্ণাবাস তাহার আত্মীয় মার্ককে সংগে রাখিতে চাহিলে পল কোন কারণে আপত্তি করেন। ইহাতেই মতান্তর হয় এবং উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়া যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, পরবর্তীতে পল স্বয়ং মার্ককে সহযাত্রী করিয়া লইলেন কিন্তু বার্ণাবাসের সংগে তাহার মিলন হইল না। প্রকৃতপক্ষে বিরোধ মার্ককে সঙ্গে নেওয়ার কারণে নহে, বরং তাহা ছিল ধর্মীয় মতবিরোধ কেন্দ্রিক। কেননা ভিন্ন জাতীয় লোকদের মধ্য হইতে নবদীক্ষিত খৃস্টানদের বিভিন্ন আচার-আচরণের ব্যাপারে পল ছিল সমর্থক। এমনিভাবে হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতের অনুষ্ঠানাদি এবং খৎনা ইত্যাদি রহিত করাই ছিল তাহার বৈপ্লবিক মতবাদের অন্যতম অঙ্গ। ইহার সমর্থনে তাহার পত্রাবলীতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন যুক্তি দেখাইতেও পল দ্বিধাবোধ করি নই (রোমীয়, ১: ২৫, ৩ঃ৩০)।
সুতরাং পল তাহার নূতন অনুসারীদের পক্ষে খৎনা এবং হযরত মূসা (আ)-এর শরীআতের অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি অবশ্য পালনীয় বলিয়া মনে না করিতে শুরু করেন। অপরদিকে বার্ণাবাস কোন মতেই এই সমস্ত পরিত্যাগ করিতে মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। কারণ ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ)-এর শরীআতে তাহা স্পষ্টভাবেই লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে (আদিপুস্তক, ১৭: ১০-১৪; লেবীয় পুস্তক, ১২:৩)।
বার্ণাবাস প্রথমদিকে সরল বিশ্বাসে পলের সমর্থন এবং তাহার সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখিলেও ক্রমেই তাহার কাছে পলের আসল স্বরূপ প্রকাশ পাইতে থাকে। এমন এক পর্যায় বার্ণাবাস পলের খৃস্ট ধর্ম বিরোধী সকল আকীদা ও মতবাদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তখনই উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়া যায়। আর সেই প্রেক্ষাপটেই বার্ণাবাস তাহার গসপেলটি রচনা করেন, যাহাতে ঈসা (আ)-এর শিক্ষা এবং খৃস্ট ধর্মের প্রকৃত চিত্র পরিবেশন করিয়া পৌলীয় চিন্তাধারার প্রতিবাদ করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত মারয়াম (আ)-এর বায়তুল মুকাদ্দাস ত্যাগ

📄 হযরত মারয়াম (আ)-এর বায়তুল মুকাদ্দাস ত্যাগ


হযরত মারয়াম (আ)-এর অন্তঃসত্তার পর যখন গর্ভধারণের বিভিন্ন আলামত প্রকাশ পাইতে থাকে তখন তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস ত্যাগ করেন। কারণ তিনি আশংকা করিতেছিলেন যে, মানুষ ঘটনার আকস্মিকতায় বিভ্রান্ত হইয়া তাঁহার জীবন অতিষ্ঠ করিয়া তুলিবে। তাই তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, কিন্তু বাহির হইয়া কোথায় গেলেন সেই সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছু জানা যায় নাই। আল-কুরআনে শুধু এতটুকু বলা হইয়াছে, তিনি দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেলেন। আলুসীর মতে, তিনি তাহার পরিবার-পরিজন হইতে দূরে পাহাড়ের আড়ালে চলিয়া গেলেন (আলুসী, প্রাগুক্ত)।
কোন কোন বর্ণনামতে তিনি তাঁহার খালা যাকারিয়‍্যা (আ)-এর স্ত্রীর নিকট চলিয়া গিয়াছিলেন এবং তাঁহার ঐ ধরনের গর্ভধারণের কথা ব্যক্ত করিয়াছিলেন, আর তিন মাস সেখানেই ছিলেন (মথি সুসমাচার, ১: ৩৯-৫৬)। অন্য বর্ণনায় আসিয়াছে, তিনি নবী পরিবারেই ছিলেন কিন্তু গর্ভের আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় লজ্জা বোধ করেন এবং লজ্জায় স্বজাতির লোকজন হইতে বাহির হইয়া পূর্বদিকে চলিয়া যান (আলuসী, প্রাগুক্ত)। এই সব বর্ণনার কোন ভিত্তি নাই। বাইবেলের বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি নাসারত পল্লীতে নিজ গৃহে চলিয়া যান (লুক, ১: ৫৬, ২: ৪; বার্ণাবাসের বাইবেল, page ৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বার্ণাবাসের গসপেলের পরিচয়

📄 বার্ণাবাসের গসপেলের পরিচয়


ঐতিহাসিকগণের মতে ৩২৫ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত এন্টিওক ও আলেকজান্দ্রিয়ার খৃস্টান গির্জাসমূহে বার্ণাবাসের বাইবেল আইন সম্মত গ্রন্থ হিসাবে আচরিত ছিল। ইরানীয়াস (Iranacus, 130-200) (A.D) বিশুদ্ধ একত্ববাদের সপক্ষে প্রচুর লেখালেখি করিয়াছিলেন এবং সন্তু পলের বিরোধিতা করিয়াছিলেন এই কারণে যে, পল প্লেটোর দর্শন এবং রোমক পৌত্তলিকতা খৃস্টধর্মে প্রক্ষিপ্ত করিয়া চলিয়াছেন। ইরানীয়াস বার্ণাবাসের গসপেল করায় ১ম ও ২য় খৃস্টীয় শতকে এই গ্রন্থের যে বহুল প্রচলন ছিল তাহা অনুধাবন করা যায়।
নিকাইয় কাউন্সিল (Nicen council)-এর অধিবেশন বসে ৩২৫ খৃ. তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মূল হিব্রু (ইবরানী) গসপেলগুলি ধ্বংস করিয়া ফেলিতে হইবে এবং কেহ তাহা সংরক্ষণ করিলে তাহাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হইবে। সম্রাট জেনোর রাজত্বকালের চতুর্থ বৎসর (৪৭৮ খৃ.)। বার্ণাবাসের অক্ষত লাশ পুনঃসমাধিস্থ করা হয় এবং তাহারই স্বহস্ত লিখিত এক কপি গসপেল তাহার বুকের উপর রক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায় (Acia Sanctorum, Boland Junni, Tom II pages, 422 and 450, Antwerp 1698). প্রসিদ্ধ একত্ববাদী বাইবেল (Uniterian Bible) ভালগেট গসপেলের উৎস যে এই গসপেলই তাহা স্পষ্ট।
পোপ সিক্সটাস (Pope Sixtus-1585-90)-এর বন্ধু ছিলেন ফ্রামারনো। তিনি পোপের ব্যক্তিগত গ্রন্থশালায় এক খণ্ড ইভানজেলিয়ান বার্ণারি-র সন্ধান পান। ফ্রামারিনো ইরানীয়াসের রচনায় বার্ণাবাসের প্রচুর উদ্ধৃতি পাঠ করিয়া এই বিষয়ে আগ্রহী হইয়া উঠিয়াছিলেন।
আমস্টারডামের একজন বিদগ্ধ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি এই গ্রন্থের মহা ভক্ত ছিলেন, তাহার মৃতুর পর এই ইতালীয় পাণ্ডুলিপিখানি ১৭০৯ সালে প্রোশিয়া রাজের উপদেষ্টা জে.ই ক্রেমারের হাতে পৌঁছায়। ১৭১৩ খৃস্টাব্দে সেভয়ের প্রিন্স ইউজিন, যিনি ছিলেন বিখ্যাত তাত্ত্বিক, ক্রেমার পাণ্ডুলিপিটি তাহাকে উপহার দেন। ১৭৩৮ খৃস্টাব্দে প্রিন্সের সংগ্রহশালাটি ভিয়েনার হফবিব লিয়েথেক-এ স্থানান্তরিত হয়। সেইখানেই পাণ্ডুলিপিটি এখনও বিদ্যমান আছে।
Miscellaneous work (মৃতুর পরে ১৭৪৭ সালে প্রকাশিত)-এর ১ম ভল্যুমের ৩৮০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করিয়াছেন যে, 'গসপেল অব বার্ণাবাস এখনও অবলুপ্ত। পঞ্চদশ অধ্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ৪৯৬ খৃ. গ্লাসিয়ান (Glesion Decvce of 496) ডিক্রিতে নিষিদ্ধ পুস্তকমালার তালিকায় ইভানজেলিয়ান বার্ণাবাসের নাম আছে। ইহার আগে পোপ ইনোসেন্ট ৪৬৫ খৃ. বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, পাশ্চাত্য গির্জাসমূহের ৩৮২ খৃস্টাব্দের ডিক্রিবলে। তাহারও আগে ইহার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী হইয়াছিল।
স্টিফোমেট্রি অব নিসেফেরাস, ক্রমিক নং ৩, এপিসল অব বার্ণাবাস .... পংক্তি ১৩০০ তে বার্ণাবাসের উল্লেখ আছে। তাহা ছাড়া আরও উল্লেখ আছে, ক্রমিক নং ১৭ : ট্রাভেলস এণ্ড টিচিংস অব এপেন্সিলস্ ১৮ : এপিসল অব বার্ণাবাস ২৪ : গসপেল একর্ডিং টু বার্ণাবাস কিছু বিচ্ছিন্ন পাতার অগ্নিদগ্ধ 'গসপেল অব বার্ণাবাস'-এর গ্রীক সংস্করণেরও সন্ধান পাওয়া গিয়াছে।
মিঃ ও মিসেস র‍্যাগ ল্যাটিন টেক্সট-এরই অনুবাদ করিয়াছিলেন এবং অক্সফোর্ডের ক্লোরেন ডেন প্রেসে উহা মুদ্রিত। ইহা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে। অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে বাজার হইতে ইহার সকল কপি উধাও হইয়া যায়। এই ইংরেজী সংস্করণের মাত্র দুই কপি এখন আছে; একটি বৃটিশ মিউজিয়ামে এবং অপরটি ওয়াশিংটন ডিসির লাইব্রেরী অব কংগ্রেসে। দ্বিতীয় দফায় যে সংস্করণ হয় সেইটা লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের মাইক্রো ফিল্মের কপি হইতে গৃহীত (বেগম আয়েশা বাওয়ানী ওয়াকফ করাচী থেকে প্রকাশিত— গসপেল অব বার্ণাবাস-এর অবশিষ্টাংশের দ্রষ্টব্য; আরো দ্র. শায়খ আবু যাহরা, প্রাগুক্ত, page ৬১-৬২; ইউসুফ মুতাওয়াল্লী শালাবী, প্রাগুক্ত, page ৬২-৬৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00