📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াহইয়া (আ)-এর দৈহিক গঠন (হুলিয়া)

📄 ইয়াহইয়া (আ)-এর দৈহিক গঠন (হুলিয়া)


আল্লাহ্ প্রদত্ত সুসংবাদ অনুযায়ী যাকারিয়‍্যা (আ)-এর উত্তরসুরিরূপে ইয়াহ্ইয়া (আ) জন্মলাভ করিলেন। "তাঁহার জন্ম হইলে তাঁহার পিতা তাঁহাকে দেখিতে পাইলেন এক সুশ্রী শিশু, হালকা কেশ, ক্ষুদে ক্ষুদে আংগুলবিশিষ্ট, ভ্রূদ্বয় সংযুক্ত ও ক্ষীণ স্বর বিশিষ্টরূপে এবং শৈশব হইতে আল্লাহর ইবাদতে সক্ষমরূপে” (আল-কামিল, ১খ, ২৩০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাইবেলে ইয়্যাহ্ইয়া (আ)-এর জন্মবৃত্তান্ত

📄 বাইবেলে ইয়্যাহ্ইয়া (আ)-এর জন্মবৃত্তান্ত


এই সম্পর্কে বলা হইয়াছে, "একদা যখন সখরিয় নিজ পালার অনুক্রমে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে যাজকীয় কার্য করিতেছিলেন,.... সমস্ত লোক (মন্দিরের) বাহিরে থাকিয়া প্রার্থনা করিতেছিল, তখন প্রভুর এক দূত ধূপবেদির দক্ষিণ পার্শ্বে দাঁড়াইয়া তাঁহাকে দর্শন দিলেন। দেখিয়া সখরিয় ত্রাসযুক্ত হইলেন, ভয় তাঁহাকে আক্রমণ করিল। কিন্তু দূত তাঁহাকে বলিলেন, সখরিয়, ভয় করিও না, কেননা তোমার মিনতি গ্রাহ্য হইয়াছে, তোমার স্ত্রী ইলীশাবেৎ তোমার জন্য পুত্র প্রসব করিবেন ও তুমি তাহার নাম যোহন রাখিবে।......... তখন সখরিয় দূতকে কহিলেন, কিসে ইহা জানিব? কেননা আমি বৃদ্ধ এবং আমার স্ত্রীরও অধিক বয়স হইয়াছে। দূত উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, আমি গাব্রিয়েল (জিবরীল), সদাপ্রভুর সম্মুখে দাঁড়াইয়া থাকি, তোমার সহিত কথা কহিবার ও তোমাকে এই সকল বিষয়ের সুসমাচার দিবার জন্য প্রেরিত হইয়াছি। আর দেখ, এই সকল যেদিন ঘটিবে, সেই দিন পর্যন্ত তুমি নীরব থাকিবে; কথা কহিতে পারিবে না;...... আর লোকসকল সখরিয়ের অপেক্ষা করিতেছিল এবং মন্দিরের মধ্যে তাঁহার বিলম্ব হওয়াতে তাহারা আশ্চর্য জ্ঞান করিতে লাগিল। পরে তিনি বাহিরে আসিয়া তাহাদের কাছে কথা কহিতে পারিলেন না; তখন তাহারা বুঝিল যে, মন্দিরের মধ্যে তিনি কোন দর্শন পাইয়াছেন; আর তিনি তাহাদের নিকট নানা সংকেত করিতে থাকলেন এবং বোবা হইয়া রহিলেন।...... এই সময়ের পরে তাঁহার স্ত্রী ইলীশাবেৎ গর্ভবতী হইলেন, আর তিনি পাঁচ মাস আপনাকে সংগোপনে রাখিলেন, বলিলেন, লোকদের মধ্যে আমার (বন্ধ্যা হওয়ার) অপযশ খণ্ডাইবার নিমিত্ত এই সময় দৃষ্টিপাত করিয়া প্রভু আমার প্রতি এইরূপ ব্যবহার করিয়াছেন।....... পরে ইলীশাবেতের প্রসবকাল সম্পূর্ণ হইলে তিনি পুত্র প্রসব করিলেন" (লুক, ১ঃ ৮-১৩, ১৮-২৫, ৫৭)। জিবরীল (আ) যখন মরয়াম (আ)-এর নিকট আগমন করিয়া তাঁহাকে ঈসা (আ)-এর জন্মের সুসংবাদ দিয়াছিলেন তখন তাঁহাকে এই কথাও বলিয়াছিলেন, "আর দেখ, তোমার জ্ঞাতি যে ইলীশাবেৎ, তিনিও বৃদ্ধ বয়সে পুত্র সন্তান গর্ভে ধারণ করিয়াছেন; লোকে তাঁহাকে বন্ধ্যা বলিত, এই তাঁহার ষষ্ঠ মাস" (কাসাসুল কুরআন, ২খ, ২৬২, ২৬৩; বরাত লুক, ১৪ ২৬,৩৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নামকরণ ও ন্যামের বৈশিষ্ট্য

📄 নামকরণ ও ন্যামের বৈশিষ্ট্য


হযরত ইয়াহইয়া (আ)-এর নামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রহিয়াছে। উহা এই যে, এই নামটি স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হইতে নির্ধারিত হইয়াছিল এবং তাঁহার জন্মের পূর্বেই উহা বিঘোষিত হইয়াছিল। তদুপরি ইহা ছিল এমন একটি নূতন ও বিরল নাম যাহা ইতোপূর্বে বনূ ইসরাঈল তথা পৃথিবীর কোথাও কাহারও-জন্য রাখা হয় নাই। এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ .بيحي "আল্লাহ তোমাকে ইয়াহ্ইয়ার সুসংবাদ দিতেছেন"। یزَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلْمٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا . "হে যাকারিয়‍্যা আমি তোমাকে এমন একটি সন্তানের সুসংবাদ দিতেছি, যাহার নাম হইবে ইয়াহ্ইয়া, এই নামে পূর্বে আমি কাহারও নামকরণ করি নাই" (১৯:৭)।
শব্দটির অর্থ সমনামের অধিকারী। আয়াতের ব্যাখ্যায় ইব্‌ন আব্বাস (রা), ইকরিমা, কাতাদা, যায়দ ইব্‌ন আসলাম, সুদ্দী ও কালবী প্রমুখ বলিয়াছেন, ইতোপূর্বে অন্য কাহারও নাম 'ইয়াহ্ইয়া' ছিল না। ইব্‌ন জারীরও এই মতটি সমর্থন করিয়াছেন (মুখতাসার ইব্‌ন কাছীর, ২খ, ৪৪৩; কুরতুবী, ৬/১খ, ৮৩; আল-মাসাল, ১খ, ২২৯; ফাতহুল বারী, ৬খ, ৫৩৯; মাজহারী, ৬খ, ৮৪; মা'আরিফুল কুরআন, ৬খ, ১৯; আম্বিয়ায়ে কুরআন, ৩খ, ২৮২; কাসাসুল কুরআন, ২খ, ২৬২)। এই রূপ নামকরণের কারণ ও নামের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলিয়াছেন, বিরল নাম ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা প্রকাশ করে। জন্মের পূর্বেই নাম নির্ধারণ দ্বারা ওয়াদার নিশ্চয়তা প্রদান করা হইয়াছে এবং তাঁহাকে মহিমান্বিত করা হইয়াছে। ইব্‌ন আব্বাস, কাতদা প্রমুখের বর্ণনামতে বিরল ও বিশেষ ধরনের নামকরণ তাঁহার অধিক মর্যাদা ও মাহাত্মেরই পরিচয়। যামাখশারী বলিয়াছেন, ইহা প্রমাণ করে যে, বিরল নামকরণ উহার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার ইঙ্গিতবহ এবং আরবরাও এইরূপ অভিনব নাম রাখাকে প্রশংসনীয় মনে করিত (রূহুল মা'আনী, ৮/২ খ., ৬৫; মাজহারী, ৬খ, ৮৪, ৮৫)। মুফাসসিরদের মতে নামটি অ-আরবী। কেননা, বনূ ইসরাঈলের মধ্যে আরবী নামকরণের ব্যাপক প্রচলন ছিল না। পক্ষান্তরে কেহ কেহ বলিয়াছেন, আরবী ক্রিয়া নাম (বিশেষ্য) রূপে ব্যবহার করা হইয়াছে এবং আরবী হওয়ায় উহা বিরল হওয়ার অন্যতম কারণ। আরবী ক্রিয়াটির অর্থ'বাঁচিয়া থাকিবে' অর্থাৎ যেন যাকারিয়‍্যা (আ)-এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বয়স পর্যন্ত সন্তানটি বাঁচিয়া থাকিবার ইংগিত করা হইয়াছে। বাইবেলে তাঁহার নাম ইউহান্না )يوحنا = যোহন) বলা হইয়াছে। এমন হইতে পারে যে, হিব্রু যূহান্না ও আরবী ইয়াহইয়া সমার্থবোধক অথবা হিব্রু ভাষার যূহান্না আরবীতে 'ইয়াহ্ইয়া' উচ্চারণ পরিগ্রহ করিয়াছ (রূহুল মা'আনী), ৮/২খ, ৬৬; কাসাসুল কুরআন, ২খ, ২৭৫)। নামটির রূপান্তর সম্বন্ধে কেহ বলিয়াছেন যে, নামটি মূলত 'হায়া' ছিল এবং সারা ইিবরাহীম (আ)-এর প্রথম স্ত্রী)-র নাম ছিল 'য়াসারা' অর্থাৎ যে সন্তান জন্ম দেয় না। য়াসারা হইতে সারা বিলুপ্ত করিয়া "ইয়ু"কে 'হায়া'-র পূর্বে যুক্ত করিয়া ইয়াহ্ইয়া বানানো হইয়াছে (কুরতুবী, ২/২খ, ৭৫,৭৬)। নামটির অর্থ বর্ণনায় কাতাদা বলিয়াছেন, এইরূপ নামকরণের কারণ এই যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে ঈমান ও নবুওয়াত দ্বারা 'জীবন্ত' করিয়াছিলেন অথবা তাহার হৃদয়কে ঈমান ও আল্লাহ্র আনুগত্য দ্বারা জীবন্ত করিয়াছিলেন। সুতরাং তিনি কখনও কোন পাপে লিপ্ত হন নাই, এমনকি কোন পাপের ইচ্ছাও করেন নাই। কেহ কেহ বলিয়াছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁহার মাধ্যমে মানব হৃদয়গুলি হিদায়াতের দ্বারা জীবন্ত করিয়াছিলেন। কাহারও মতে তিনি প্রজ্ঞা ও পবিত্রতা দ্বারা জীবন্ত হইয়াছিলেন অথবা মানবজাতিকে হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশা দানের মাধ্যমে তিনি 'জীবন্ত' হইয়াছিলেন। ইন্ন'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত মতে তাঁহার দ্বারা তাঁহার মাতার বন্ধ্যাত্ব অবসান ঘটাইয়া তাহার গর্ভকে জীবন্ত করা হইয়াছিল।। মুকাতিলের মতে আল্লাহ্ নাম 'হণয়্যুন' হইতে নামটি গৃহীত হইয়াছে। কেহ কেহ তাঁহার শাহাদাত মর্যাদা লাভের দ্বারা জীবন্ত হওয়ার কথা বলিয়াছেন (কুরতুবী, ২/২খ, ৭৫; ৬/১খ, ৮২; রূহুল মা'আনী, ৮/২খ, ৬৬; মাজহারী, ২খ, ৪৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খাতনা ও আকীকা অনুষ্ঠান

📄 খাতনা ও আকীকা অনুষ্ঠান


বাইবেলের বর্ণনামতে বুঝা যায় যে, ইয়াহুদী সমাজে শিশুর জন্মের অষ্টম দিবসে তাহার খাতনা ও নামকরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হওয়ার নিয়ম প্রচলিত ছিল। হযরত ঈসা (আ)-এর ক্ষেত্রেও এই নিয়মের উল্লেখ পাওয়া যায় (লুক, ২: ২১)। হযরত ইয়াহইয়া (আ)-এর ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়মানুসারে যাকারিয়‍্যা (আ)-এর প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন ও ভক্ত-অনুরক্তগণ শিশুর জন্মের অষ্টম দিনে সমবেত হইয়া খাতনা ও নামকরণ অনুষ্ঠান উদযাপন করে। এই প্রসংগে বাইবেলের বর্ণনা নিম্নরূপ,...... তোমার স্ত্রী ইলীশাবেৎ তোমার জন্য পুত্র প্রসব করিবেন ও তুমি তাহার নাম যোহন রাখিবে (লুক, ১: ১৩)। পরে ইলীশাবেতের প্রসবকাল সম্পূর্ণ হইলে তিনি পুত্র প্রসব করিলেন। তখন তাঁহার প্রতিবেশী ও আত্মীয়গণ শুনিতে পাইল যে, প্রভু তাঁহার প্রতি মহা দয়া করিয়াছেন, আর তাহারা তাঁহার সহিত আনন্দ করিল। পরে তাহারা অষ্টম দিনে বালকটির ত্বকছেদ (খাতনা) করিতে আসিল, আর তাহার পিতার নামানুসারে তাহার নাম সখরিয় রাখিতে চাহিল। কিন্তু তাহার মাতা উত্তর করিয়া কহিলেন, তাহা নয়, ইহার নাম যোহন রাখা যাইবে। তাহারা তাঁহাকে কহিল, আপনার গোষ্ঠীর মধ্যে এ নামে তো কাহাকেও ডাকা হয় না। পরে তাহারা তাহার পিতাকে সংকেতে জিজ্ঞাসা করিল, আপনার ইচ্ছা কি? ইহার কি নাম রাখা যাইবে? তিনি একখানা লিপি ফলক চাহিয়া লইয়া লিখিলেন, ইহার নাম যোহন। তাহাতে সকলে আশ্চর্য জ্ঞান করিল। আর তখনই তাঁহার মুখ এবং তাঁহার জিহ্বা খুলিয়া গেল। আর তিনি কথা কহিলেন, সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ করিতে লাগিলেন" (লুক; ১:৫৭-৬৫; বরাত কাসাসুল কুরআন, ২খ, ২৭৫; আম্বিয়ায়ে কুরআন, ৩খ, ২৮২, ২৮৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00