📄 যাকারিয়্যা (আ)-এর মর্যাদা
আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যা (আ)-কে অত্যন্ত মর্যাদাবান করিয়াছিলেন। আল-কুরআনে বিভিন্ন স্থানে ইহার বর্ণনা আসিয়াছে। সূরা আন'আমে তাঁহাকে প্রথম কাতারের নবীদের মধ্যে গণ্য করিয়া 'সৎকর্মশীল' বলা হইয়াছে: “এবং প্রত্যেককে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছিলাম এবং ইহাদিগের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাহাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম” (আন'আম : ৮৫-৮৭)।
"উহাদিগকে কিতাব, কর্তৃত্ব এবং নবুওয়াত দান করিয়াছি” (আন'আম : ৮৯)। বিশ্বনবী (সা)-কে আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যাসহ উল্লিখিত অন্যান্য নবীদিগের অনুসরণের নির্দেশ দিয়াছেন: "উহাদিগকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন। অতএব তুমি তাহাদিগের পথের অনুসরণ কর" (আন'আম: ৯০)।
আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যা (আ)-কে স্বীয় বান্দা হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন, তাঁহার নিজের সহিত যাকারিয়্যাকে সম্বন্ধযুক্ত করিয়াছেন। নিঃসন্দেহে ইহা মহান মর্যাদা। "ইহা তোমার প্রতিপালকের অনুকম্পার বিবরণ তাঁহার বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি" (মারয়াম: ২)।
অন্যান্য নবীদের সঙ্গে যাকারিয়্যা (আ)-এর প্রশংসায় কুরআনে আসিয়াছে: "নিশ্চয় তাহারা কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করিত এবং আশা ও ভীতির সহিত আমাকে ডাকিত, আর তাহারা ছিল আমার নিকট বিনীত” (আম্বিয়া: ৯০)।
📄 যাকারিয়্যা (আ) কোন্ কিতাবের অনুসরণ করিতেন?
যাকারিয়্যা (আ)-কে যে নবুওয়াত দান করা হইয়াছিল তাহার প্রমাণ কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে রহিয়াছে। সবচাইতে স্পষ্ট প্রমাণ হইল আল্লাহর বাণী- "আমি উহাদিগকে কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করিয়াছি" (আনআম: ৮৯)।
কিন্তু প্রশ্ন হইল তিনি কোন কিতাবের অনুসরণ করিতেন? তাফসীর এবং ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায় যে, যাকারিয়্যা (আ) তাওরাত কিতাবের অনুসরণ করিতেন। তাওরাতে নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী নিজে চলিতেন, বিচার-ফয়সালা করিতেন, লোকদিগকে ইহার দিকে আহ্বান জানাইতেন এবং নিজ হাতে তাওরাত লিখিয়া লোকদের মধ্যে বিতরণ করিতেন।
📄 যাকারিয়্যা (আ) এবং মুহাম্মাদ (স)-এর মধ্যে সাদৃশ্য
(ক) আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যা (আ)-কে এবং মুহাম্মাদ (স)-কে নিজের বান্দা বলিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিয়াছেন। যাকারিয়্যা (আ)-এর ক্ষেত্রে বলিয়াছেন- "ইহা তোমার প্রতিপালকের অনুকম্পার বিবরণ তাঁহার বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি" (মারয়াম: ২)। আর মুহাম্মাদ (সা)-এর ক্ষেত্রে বলিয়াছেন- "আমি আমার বান্দার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকিলে তোমরা তাহার অনুরূপ কোন সূরা আনায়ন কর" (বাকারা: ২৩)।
তবে পার্থক্য এইটুকু যে, নবী করীম (স)-কে আমার বান্দা আর যাকারিয়্যা (আ)-কে তাঁহার বান্দা বলা হইয়াছে (দ্র. রাহমাতুললিল-'আলামীন, ২খ, ৩২৬)।
📄 গ্রন্থপঞ্জী
গ্রন্থপঞ্জী: (১) আল-কুরআনুল কারীম, (টাকাসহ বঙ্গানুবাদ) ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৮৬ খৃ; (২) আল-কুরআনুল কারীম (টীকাসহ উর্দু অনুবাদ, আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী), লাহোর, তা.বি., পৃ. ১৩৩; (৩) Old Testament (English translation) new world translation of the holy scriptures. Newyork revised 1984; (৪) New Testament (English translation) new world translation of the holy scriptures, New York revised 1984; (৫) The New Encyclopaedia Britannica, 15th edition, v. 10, 869; (৬) Collier's Encyclopedia, Macmillan, Educational Corporation, New York v. 23,745; (৭) মুহাম্মাদ ফুওয়াদ আবদুল বাকী, আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল কুরআন, কায়রো ১৯৯৯ খৃ., পৃ. ৪২০; (৮) আল-মু'জামুল মুফاهরাস লি-আলফাযিল হাদীস, ইস্তাম্বুল ১৯৮৮ খৃ., ৮খ, ৮৭; (৯) আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, বৈরূত তা. বি., পৃ. ৪৩৯; (১০) আফীফ আবদুল ফাত্তাহ তাব্বারাহ, মা'আল আম্বিয়া ফিল কুরআন, বৈরূত ১৯৮৯ খৃ., পৃ. ৩১৩-৩১৫; (১১) ইবন আতিয়্যাহ, আল-মুহাররারুল ওয়াজিব, কাতার, ১ম সংস্করণ, ৩খ, স্থা.; (১২) ইব্ন আছীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, বৈরূত, ৭ম সংস্করণ, ১খ; ১৬৯, স্থা.; (১৩) ইব্ন মানজুর, লিসানুল আরাব, বৈরূত, ১৯৯৯ খৃ. শিরো, 'যিক্স'; (১৪) আবু জাফর তাবারী, জামিউল বায়ান ফী তাফসীরি আই'ল কুরআন, বৈরূত ১৪১৫ হি, ৩খ, ৩৬২, ৩৬৪-৩৬৫; (১৫) আল-ফারুমী, আল-মিসবাহুল মুনীর, বৈরূত ১৯৯০ খৃ. শিরো 'যিক্র'; (১৬) মুহাম্মাদ জামীল আহমদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, লাহোর তা. বি., ২খ, ২৬০-২৭৭; (১৭) আবুল আলা মাওদূদী, তাফহীমুল কুরআন (বঙ্গানুবাদ), ঢাকা ১৯৯৭ খৃ, ২খ, ২৬; (১৮) হিফযুর রহমান সীউহারবী, কাসাসুল কুরআন, করাচী ১৯৯৪ খৃ., ২খ, স্থা.; (১৯) আল- মুজামুল ওয়াসীত, কায়রা, মাজমাউল লুগাহ আল-আবারিয়্যা, শিরো; (২০) রাগিব ইস্পাহানী, আল-মুফরাদাত ফী গারীবিল কুরআন, বৈরূত, তা.বি, শিরো; (২১) বদরুদ্দীন আয়নী, উমদাতুল কারী, বৈরূত, দারুল ফিকর, তা.বি, ৮খ, ২০, ২২; (২২) ইন্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, হালাব, দারুর রশীদ, তা.বি, ২খ, স্থা; (২৩) ইব্ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআন আল-আযীম, কায়রো ১৪০৮ হি., ১খ, স্থা.; (২৪) ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা ১৯৯৬ খৃ., ২১খ, ৪৮৫-৮৭; (২৫) আবু হায়্যন, আল-বাহরুল মুহীত, বৈরূত ১৪১৩ হি., ১খ, ৪৬০; (২৬) ফখরুদ্দীন রাযী, আত-তাফসীরুল কাবীর, বৈরূত ১৪১১ হি, ৮খ, ২৬; (২৭) আল-আলুসী, রূহুল মায়ানী, বৈরূত ১৪১৫ হি, ২খ, ১৪৩; (২৮) মাহাল্লী ও সুয়ূতী, জালালায়ন, বৈরূত, তা.বি. পৃ. ১৭; (২৯) আবদুর রহমান সা'দী, তাইসিরুল কারীমির রহমান ফি তাফসীরে কালামিল মান্নান, বৈরূত ১৪১৭ হি, পৃ-১০৬; (৩০) মুহাম্মাদ আল-আমীন শাক্বীতী, আদওয়াউল বায়ান, বৈরূত ১৪১৭ হি, ১খ, ১২৮; (৩১) আল-জাসসাস, আহকামুল কুরআন, বৈরূত ১৪১৫ হি., ২খ, ১৬; (৩২) কুরতুবী, আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন, কায়রো ১৪১৬ হি., ৪খ, ৯১-৯৪; (৩৩) ডঃ মুহাম্মাদ মাহমূদ হিজাযী, আত-তাফসীর আল-ওয়াদিহ, কায়রো ১৩৮৯ হি., ৩খ, ৫৭; (৩৪) বুতরুস আল-বুসতানী, দাইরাতুল মা'আরিফ, বৈরূত, তা.বি, ৯খ, ২৩২; (৩৫) যামাখশারী, আল-কাশশাফ, কায়রো ১৪০৭ হি., ১খ, পৃ.৩৫৮; (৩৬) বায়দাবী, আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তা'বীল, বৈরূত ১৪০৮ হি, ১খ, ১৫৭ ও স্থা; (৩৭) মুহাম্মাদ আলী সাবৃনী, সাফওয়াতুত তাফাসীর, দামেশক ১৪০৩ হি., ১খ, ১৯৯; (৩৮) সায়্যিদ কুতব, ফী যিলালিল কুরআন, কায়রো ১৪১৪ হি ১খ, ৩৯২; (৩৯) শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, কায়রো, তা.বি, ১খ., ৩৩৯; (৪০) ইমাম মুসলিম, সাহীহ মুসলিম, কায়রো ১৪০৭ হি, ৫খ, ১৫৩; (৪১) ইব্ন মাজা, সুনান, বৈরূত, তা.বি, ২খ, ৭২; (৪২) ইব্ন হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী, কায়রো ১৪০৯ হি., ৫খ, ৩৪৫; (৪৩) সুলায়মান মানসূরপূরী, রাহমাতুললিল আলামীন, করাচী, ১৪১১ হি, ২খ, ৩২৬, ৩২৭; (৪৪) ফীরুযাবাদী, আল-কামূস আল-মুহীত, বৈরূত, ১৪১৩ হি,, শিরো; (৪৬) আল-মা'লুফ, আল-মুনজিদ, (২৮ তম সংস্করণ) বৈরূত, তা.বি, শিরো.
মুহাম্মদ আবদুর রহমান