📄 যাকারিয়্যা (আ)-এর ইস্তিকালের সময়কাল
এ সম্পর্কে সরাসরি কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনার সাথে সাথেই তাঁহার পিতা যাকারিয়্যা (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটিয়াছিল বলিয়া বিভিন্ন ইতিহাসে উল্লেখ রহিয়াছে (আল-কামিল, ১খ, ১৭৪)। আর ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটিয়াছিল ৩০ খৃস্টাব্দে ঈসা (আ)-কে আসমানে উত্তোলনের মাত্র তিন বৎসর পূর্বে (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, ২৯৪)। এই ঘটনার উপর অনুমান করিয়া বলা যায় যে, যাকারিয়্যা (আ)-ও ৩০ খৃস্টাব্দে শাহাদত বরণ করেন।
📄 যাকারিয়্যা (আ)-এর কবর
যাকারিয়্যা (আ) সারা জীবন বায়তুল মুকাদ্দাসের খেদমতে জীবন উৎসর্গ করিয়াছিলেন। এই পবিত্র মসজিদের চত্বরে তাঁহাকে দাফন করা হইয়াছিল। এখনও পর্যটকগণ বায়তুল মুকাদ্দাসের চত্বরে যাকারিয়া (আ)-এর কবর যিয়ারত করিয়া থাকে (আম্বিয়ায়ে কুরআন: ২খ, ২৬৪-২৬৫)।
📄 যাকারিয়্যা (আ)-এর মর্যাদা
আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যা (আ)-কে অত্যন্ত মর্যাদাবান করিয়াছিলেন। আল-কুরআনে বিভিন্ন স্থানে ইহার বর্ণনা আসিয়াছে। সূরা আন'আমে তাঁহাকে প্রথম কাতারের নবীদের মধ্যে গণ্য করিয়া 'সৎকর্মশীল' বলা হইয়াছে: “এবং প্রত্যেককে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছিলাম এবং ইহাদিগের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে, তাহাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম” (আন'আম : ৮৫-৮৭)।
"উহাদিগকে কিতাব, কর্তৃত্ব এবং নবুওয়াত দান করিয়াছি” (আন'আম : ৮৯)। বিশ্বনবী (সা)-কে আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যাসহ উল্লিখিত অন্যান্য নবীদিগের অনুসরণের নির্দেশ দিয়াছেন: "উহাদিগকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন। অতএব তুমি তাহাদিগের পথের অনুসরণ কর" (আন'আম: ৯০)।
আল্লাহ তা'আলা যাকারিয়্যা (আ)-কে স্বীয় বান্দা হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন, তাঁহার নিজের সহিত যাকারিয়্যাকে সম্বন্ধযুক্ত করিয়াছেন। নিঃসন্দেহে ইহা মহান মর্যাদা। "ইহা তোমার প্রতিপালকের অনুকম্পার বিবরণ তাঁহার বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি" (মারয়াম: ২)।
অন্যান্য নবীদের সঙ্গে যাকারিয়্যা (আ)-এর প্রশংসায় কুরআনে আসিয়াছে: "নিশ্চয় তাহারা কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করিত এবং আশা ও ভীতির সহিত আমাকে ডাকিত, আর তাহারা ছিল আমার নিকট বিনীত” (আম্বিয়া: ৯০)।
📄 যাকারিয়্যা (আ) কোন্ কিতাবের অনুসরণ করিতেন?
যাকারিয়্যা (আ)-কে যে নবুওয়াত দান করা হইয়াছিল তাহার প্রমাণ কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে রহিয়াছে। সবচাইতে স্পষ্ট প্রমাণ হইল আল্লাহর বাণী- "আমি উহাদিগকে কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করিয়াছি" (আনআম: ৮৯)।
কিন্তু প্রশ্ন হইল তিনি কোন কিতাবের অনুসরণ করিতেন? তাফসীর এবং ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায় যে, যাকারিয়্যা (আ) তাওরাত কিতাবের অনুসরণ করিতেন। তাওরাতে নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী নিজে চলিতেন, বিচার-ফয়সালা করিতেন, লোকদিগকে ইহার দিকে আহ্বান জানাইতেন এবং নিজ হাতে তাওরাত লিখিয়া লোকদের মধ্যে বিতরণ করিতেন।