📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াহইয়া (আ)-এর জন্ম

📄 ইয়াহইয়া (আ)-এর জন্ম


আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা পরিপূর্ণতার দিকে অগ্রসর হইল। যাকারিয়া (আ)-এর স্ত্রী 'ঈশা' গর্ভবতী হইলেন। ইয়াহইয়া (আ) গর্ভে থাকিতেই বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ঘটিতে থাকে। উল্লেখ্য যে, 'ঈসা (আ)-এর মাতা মারয়াম এবং ইয়াহ্ইয়ার মাতা 'ঈশা' একই সময়ে গর্ভবতী ছিলেন। ইয়াহ্ইয়া মাতৃগর্ভে থাকিতেই 'ঈসা'-কে সত্য বলিয়া স্বীকৃতি দিয়াছিলেন। "আল্লাহর কালিমা (ঈসা) সত্যতা স্বীকারকারী" (আল 'ইমরান : ৩৯) এই আয়াতের তাফসীরে ইবন আব্বাস (রা) বলিয়াছেন-
"ইয়াহ্ইয়া এবং ঈসা খালাত ভাই ছিলেন। ইয়াহ্ইয়ার মাতা মারয়ামকে বলিতেন, আমার মনে হয় আমার পেটের বাচ্চা তোমার পেটের বাচ্চাকে সিজদা করিতেছে। ইহাই হইল মাতৃগর্ভে ইয়াহইয়ার পক্ষ হইতে ঈসা (আ)-কে সত্য বলিয়া স্বীকৃতি প্রদান। ইয়াহ্ইয়াই সর্বপ্রথম ঈসাকে স্বীকার করিয়া লইয়াছিলেন; আর আল্লাহর কালিমা হইল ঈসা। ইয়াহইয়া (আ) ঈসা (আ) হইতে বয়সে সামান্য বড় ছিলেন" (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ১খ, ৩৪১; আল-কামিল, ১খ, ১৭০)।
গর্ভধারণের নির্ধারিত সময় শেষ হইবার পর যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ঘরে নব চাঁদের উদয় ঘটিল। ইয়াহ্ইয়া দুনিয়াতে আগমন করিলেন। শিশুকাল হইতেই আল্লাহ তাআলা তাঁহাকে অসাধারণ নিয়ামত দান করিয়াছিলেন। ইয়াহ্ইয়া ছিলেন অত্যন্ত ধীশক্তিসম্পন্ন (মাআল আম্বিয়া ফিল কুরআন, পৃ. ৩১৫)। ইবনুল আছীর ইয়াহইয়ার জন্মের সময়ে যাকারিয়‍্যা (আ)-এর আবেগ এইভাবে বর্ণনা করিয়াছেন-
"যখন তিনি জন্মগ্রহণ করিলেন তখন তাঁহার পিতা দেখিলেন যে, বাচ্চাটি অত্যন্ত সুদর্শন, কম চুল, খাট খাট আঙ্গুল, যুগল ক্রবিশিষ্ট, সূক্ষ্ম স্বরবিশিষ্ট এবং ছেলেবেলা হইতে আল্লাহর আনুগত্যে প্রবল” (আল-কামিল, ১খ, ১৭১; বিস্তারিত দ্র. ইয়াহ্ইয়া নিবন্ধ)।
অলৌকিক ঘটনা হিসাবে যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ঘর আলোকিত হইল এবং বৃদ্ধ বয়সে তিনি উপযুক্ত সন্তানের পিতা হইবার সৌভাগ্য অর্জন করিলেন। আল্লাহ তা'আলার এত বিরাট নিয়ামত লাভ করিয়া যাকারিয়‍্যা (আ) রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়ায় বিনয়াবনত হইবেন ইহাই স্বাভাবিক। এই শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম পন্থা হইল অধিক হারে আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য করা। তাই যাকারিয়‍্যা (আ) সন্তান জন্মগ্রহণের পর আরও অধিক আগ্রহ সহকারে আল্লাহর আনুগত্য করিতে থাকিলেন। আল-কুরআনের ভাষায়:
ইন্নাহুম ক্বানু ইউসা'রি'ঊনা ফিল খইরাতি ওয়া ইয়াদ'ঊনানা রাগাবা্ওঁ ওয়া রাহাবা্ওঁ ওয়া ক্বানূ লানা খা'শি'ঈন।
"তাহারা সৎকর্মের প্রতিযোগিতা করিত, তাহারা আশা ও ভীতির সহিত আমাকে ডাকিত এবং তাহারা ছিল আমার নিকট বিনীত" (সূরা-আম্বিয়া: ৯০)।
বাইবেলে এই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং শুকরিয়া আদায়ের বিস্তারিত বর্ণনা আসিয়াছে। উহার কিয়দংশ এইরূপ, "তখন তাহার পিতা সখরিয় পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন, ভাববাণী বলিলেন; তিনি কহিলেন, ধন্য প্রভু, ইস্রায়েলের প্রভু; কেননা তিনি তত্ত্বাবধান করিয়াছেন, আপন প্রজাদের জন্য মুক্তি সাধন করিয়াছেন, আর আমাদের জন্য আপন দাস দায়দের কুলে পরিত্রাণের এক শৃঙ্গ উঠাইয়াছেন, যেমন তিনি পুরাকাল অবধি তাঁহার সেই পবিত্র ভাববাদিগণের মুখ দ্বারা বলিয়া আসিয়াছেন- আমাদের শত্রুগণ হইতে ও যাহারা আমাদিগকে দ্বেষ করে, তাহাদের সকলের হস্ত হইতে পরিত্রাণ করিয়াছেন। আমাদের পিতৃপুরুষগণের প্রতি কৃপা করিবার জন্য, আপন পবিত্র নিয়ম স্মরণ করিবার জন্য। এ সেই দিব্য, যাহা তিনি আমাদের পিতৃপুরুষ আব্রাহামের কাছে শপথ করিয়াছিলেন, আমাদিগকে এই বর দিবার জন্য যে, আমরা শত্রুগণের হস্ত হইতে নিস্তার পাইয়া নির্ভয়ে সাধুতায় ও ধার্মিকতায় তাঁহার আরাধনা করিতে পারিব, তাঁহার সাক্ষাতে যাবজ্জীবন করিতে পারিব। আর হে বালক! তুমি পরাৎপরের ভাববাদী বলিয়া আখ্যাত হইবে, কারণ তুমি প্রভুর সম্মুখে চলিবে, তাঁহার পথ প্রস্তুত করিবার জন্য; তাঁহার প্রজাদের পাপ মোচনে তাহাদিগকে পরিত্রাণের জ্ঞান দিবার জন্য। ইহা আমাদের সদাপ্রভুর সেই কৃপাযুক্ত স্নেহহেতু হইবে, যদ্দ্বারা ঊর্ধ্ব হইতে ঊষা আমাদের তত্ত্বাবধান করিবে, যাহারা অন্ধকারে ও মৃত্যুচ্ছায়ায় বসিয়া আছে, তাহাদের উপরে দীপ্তি দিবার জন্য, আমাদের চরণ শান্তিপথে চালাইবার জন্য" (বাইবেল: লুক, ০১:৬৭-৭৯)।
বাইবেলে উল্লিখিত যাকারিয়‍্যা (আ)-এর এই কৃতজ্ঞতামূলক বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইয়াহ্ইয়া (আ) বনূ ইসরাঈলের জন্য আল্লাহর অনুকম্পা হিসাবেই আগমন করিয়াছিলেন। ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর জন্মকে যাকারিয়‍্যা (আ), পূর্বপুরুষ তথা ইবরাহীম (আ), দাউদ (আ)-সহ পরবর্তী লোকদের জন্যও বিধাতার অপার করুণা বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, ২৭৪-২৭৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর দাওয়াতী কার্যক্রম

📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর দাওয়াতী কার্যক্রম


এই ধরাধামে আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন পথহারা মানবতাকে হিদায়াতের আলোর দিকে দাওয়াত প্রদান করিবার জন্য। প্রত্যেক নবীই তাঁহার উপর অর্পিত এই দায়িত্ব সুচারূপে আঞ্জাম দিয়াছেন। হযরত যাকারিয়‍্যা (আ)-ও এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিয়াছেন। আল্লামা আফীফ তাবারার ভাষায়:
"যাকারিয়‍্যা (আ) আল্লাহর একজন নবী। তিনি তাঁহায় জীবনকে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজে এবং আল-কুদস শরীফের পবিত্র 'ইবাদতখানার খেদমতে ব্যয় করিয়াছেন" (মা'আল আম্বিয়া ফিল কুরআন, পৃ. ৩১৩)।
যাকারিয়‍্যা (আ) আল-কুদস শরীফে যাজকদিগের নেতা ছিলেন। তাই সেই সমাজে তাঁহার অত্যন্ত গ্রহণযোগ্যতা ছিল। আল্লাহর নবী হিসাবে সবাই তাঁহাকে সম্মান করিত এবং তাঁহার নির্দেশ মানিয়া চলিত। 'ইবাদতখানা বা হায়কালের সংরক্ষণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত তৎপর (দাইরাতুল মাআরিফ, ৯খ, ২৩২)। এইভাবে তিনি হায়কালের খেদমতের মাধ্যমে সর্বদা দাওয়াতে লিপ্ত থাকিতেন।
তিনি নিজ হাতে তাওরাত লিখিয়া মানুষের মাঝে বিতরণ করিতেন এবং লোকদিগকে পড়িয়া শুনাইতেন। এই তাওরাত লিখিবার প্রমাণ রহিয়াছে মারয়াম (আ)-এর তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণ করিবার ঘটনার মধ্যে। লটারীর জন্য যাজকগণ যে কলম নিক্ষেপ করিয়াছিলেন ইহা দ্বারা তাওরাতের কপি করা হইত। ইমাম ইব্‌ন জারীর 'ইকরিমার সনদে বর্ণনা করিয়াছেন: "এইজন্য যখন তাহারা লটারী করিল ঐ কলমসমূহের মাধ্যমে যাহা দ্বারা তাহারা তাওরাত লিপিবদ্ধ করিত...." (তাফসীর তাবারী, ৩খ, ৩৬৪-৩৬৫)।
যাকারিয়‍্যা (আ) স্বীয় সম্প্রদায়ের হেদায়াতের জন্য অত্যন্ত পেরেশান ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের জন্য দু'আর একমাত্র কারণ ছিল যেন তাঁহার অবর্তমানে তাঁহার পুত্র দাওয়াতী কাজ অব্যাহত রাখিতে পারেন (দ্র. মা'আল আম্বিয়া ফিল কুরআন পৃ. ৩১৩)।
যাকারিয়‍্যা (আ) কোন জনসমাবেশে বক্তব্য উপস্থাপন করিতে চাহিলে প্রথমে দেখিতেন তথায় ইয়াহইয়া (আ) রহিয়াছেন কিনা। ইয়াহইয়া (আ) উপস্থিত থাকিলে তিনি জান্নাত অথবা জাহান্নামের প্রসংগ বক্তব্যের মধ্যে উল্লেখ করিতেন না (আল-কামিল, ১খ, ১৭১)।
তিনি সবর্দা লোকদিগকে আল্লাহ্ ইবাদত করিবার জন্য দাওয়াত পেশ করিতেন। সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসা করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতেন। লোকেরা সর্বদা তাহার নির্দেশের অপেক্ষা করিত। এমনকি ইয়াহইয়ার জন্মের নিদর্শনস্বরূপ যখন তিন দিন তিনি লোকদের সহিত বাক্যালাপ করিতে পারেন নাই, সেই সময়েও লোকেরা তাঁহার নির্দেশের অপেক্ষা করিতেছিল। তাই তিনি ইংগিতে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ্র মহিমা-কীর্তন করিবার জন্য তাহাদের নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা'আলার ভাষায়:
ফাখরাজা আ'লা ক্বাওmihi মিনাল মিহরাবি ফাআওহা ইলাইhim আন সাব্বিহূ বুকরাতাওঁ ওয়া আ'শিয়া।
"অতঃপর সে কক্ষ হইতে বাহির হইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল ও ইংগিতে তাহাদিগকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করিতে বলিল" (মারয়াম: ১০)।
যাকারিয়‍্যা (আ) প্রমাণ করিয়া গিয়াছেন যে, যাহারা প্রকৃত 'দাঈ ইলাল্লাহ' (আল্লাহ্র পথে আহ্বানকারী) তাহারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মানুষের নিকট প্রতিদান চাহেন না।
ওমা আস'আলুকুম আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা আ'লা রব্বিল আ'লামীন।
"উহার মুকাবিলায় আমি তোমাদের নিকট হইতে কোন প্রতিদান চাহি না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট" (সূরা শুআরা: ১০৯)।
এই বক্তব্যই ছিল যাকারিয়‍্যা (আ)-এর জীবনের মিশন। তিনি নিজের কর্মের মাধ্যমে ইহাও প্রমাণ করিয়াছেন যে, যাহারা 'দাঈ ইলাল্লাহ' তাহারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য যে কোন বৈধ পেশা গ্রহণ করিবেন। তিনি নিজে পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে:
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন-যাকারিয়‍্যা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি বা সুতার" (মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইল, ৫খ, ১৩৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ইন্তিকাল

📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ইন্তিকাল


যাকারিয়‍্যা (আ) কি স্বাভাবিকভাবে ইনতিকাল করিয়াছিলেন, নাকি শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন, এই ব্যাপারে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে সামান্য মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। একদল মনে করেন, তিনি স্বাভাবিকভাবেই ইনতিকাল করিয়াছিলেন। ওয়াহ্ ইবন মুনাব্বিহ-এর বর্ণনা উল্লেখ করিয়া ইব্‌ন কাছীর বলিয়াছেন, "তবে যাকারিয়‍্যা স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করিয়াছেন” (আল-বিদায়া, ২খ, ৪৮)।
তবে প্রসিদ্ধ মত হইল, যাকারিয়‍্যা (আ) শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন। ইসলাম বিরোধী শক্তির হাতে তিনি তাজা লহু বিসর্জন দিয়া আল্লাহর দরবারে পাড়ি জমাইয়াছেন। তিনি কোন্ স্থানে কিভাবে শহীদ হইয়াছিলেন এই প্রসঙ্গে দুইটি মত রহিয়াছে:
(ক) বাইবেলের নূতন নিয়ম হইতে জানা যায় যে, তিনি শত্রু পক্ষের হাতে বায়তুল মাকদিস এবং যবেহখানার মধ্যবর্তী স্থানে শহীদ হইয়াছেন। বাইবেল, মথিতে বলা হইয়াছে, নিদোর্ষ হাবিলের খুন হইতে আরম্ভ করিয়া আপনারা যে, বরখিয়ের ছেলে যাকারিয়‍্যাকে পবিত্র স্থানে ও বেদীর মাঝখানে খুন করিয়াছিলেন সেই যাকারিয়‍্যার খুন পর্যন্ত দুনিয়াতে যত নিদোর্ষ লোক খুন হইয়াছে, আপনারা সেই সমস্ত রক্তের দায়ী হইবেন" (Book of Matthew, 11:51)। বাইবেলের এই বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যাকারিয়‍্যা (আ) 'ইবাদতখানা এবং বেদীর (যবেহখানা) মধ্যবর্তী স্থানে শাহাদত লাভ করিয়াছিলেন।
(খ) ইবনুল আছীর (আল-কামিল, ১খ, ১৭৪-১৭৫) এবং ইন্ন কাছীর (আল-বিদায়া, ২খ, ৪৮) যাকারিয়‍্যা-এর শাহাদাতের ঘটনা ভিন্নভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বাদশাহ হিরোডসের ভ্রাতুষ্পুত্রীর প্ররোচনায় ইয়াহইয়া (আ) নিহত হইবার পর যাকারিয়‍্যা (আ) স্বীয় সম্প্রদায় হইতে পলায়ন করিয়া বায়তুল মাকদিসের নিকটবর্তী এক বাগানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বাদশাহ তাঁহার অনুসন্ধানে লোক পাঠাই। তাহারা যখন বাগানে প্রবেশ করিল তখন তিনি একটি গাছের নিকট দিয়া গমন করিতেছিলেন। গাছটি ডাকিয়া বলিল, হে আল্লাহর নবী! আমার নিকট আশ্রয় নিন। তিনি গাছের নিকট গেলে উহা দুই ভাগ হইয়া গেল এবং তিনি উহার ভিতরে প্রবেশ করিলেন। প্রবেশকালে ইবলীস আসিয়া তাঁহার কাপড়ের অগ্রভাগ গাছের বাহিরে রাখিয়া দিল। এমতাবস্থায় গাছ জোড়া লাগিয়া গেল। অনুসন্ধানকারিগণকে ইবলীস বলিল, তোমরা কি খোঁজ করিতেছ? তাহারা বলিল, যাকারিয়্যাকে। ইবলীস বলিল, সে যাদু করিয়া এই গাছের মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে। তাহারা বলিল, তুমি মিথ্যাবাদী। তখন ইবলীস তাহাদিগকে তাঁহার কাপড়ের অগ্রভাগ দেখাইল। তখন তাহারা বিশ্বাস করিল এবং একটা করাত লইয়া গাছকে দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলিল। আর এইভাবেই যাকারিয়‍্যা (আ) শাহাদাত বরণ করিলেন (আল-কামিল, ১খ, ১৭৪-১৭৫)।
'আল-কামিল' কিতাবের সম্পাদনা এবং পাদটীকা প্রণয়ন বোর্ড ঘটনাকে কাল্পনিক বলিয়া অভিহিত করিয়াছে এবং বলিয়াছেন, ইহার দ্বারা ইবলীসের ক্ষমতার নিকট 'মু'জিযা পরাজিত হয়। তাই এই ঘটনা কাল্পনিক (আল-কামিল বৈরুত, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১খ, ১৭৫, পাদটীকা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ইস্তিকালের সময়কাল

📄 যাকারিয়‍্যা (আ)-এর ইস্তিকালের সময়কাল


এ সম্পর্কে সরাসরি কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনার সাথে সাথেই তাঁহার পিতা যাকারিয়‍্যা (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটিয়াছিল বলিয়া বিভিন্ন ইতিহাসে উল্লেখ রহিয়াছে (আল-কামিল, ১খ, ১৭৪)। আর ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটিয়াছিল ৩০ খৃস্টাব্দে ঈসা (আ)-কে আসমানে উত্তোলনের মাত্র তিন বৎসর পূর্বে (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, ২৯৪)। এই ঘটনার উপর অনুমান করিয়া বলা যায় যে, যাকারিয়‍্যা (আ)-ও ৩০ খৃস্টাব্দে শাহাদত বরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00