📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সুলায়মান (আ)-এর রাজত্বের সময়কাল ও ইন্তিকাল

📄 সুলায়মান (আ)-এর রাজত্বের সময়কাল ও ইন্তিকাল


রাজত্বের সময়সীমা: Old Testament -এর বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায় যে, সুলায়মান (আ) ৪০ বৎসর যাবত ফিলিস্তীনে রাজত্ব পরিচালনা করিয়াছিলেন। এই সময়ে তিনি বনু ইসরাঈলের সকল গ্রুপের রাজা ছিলেন (১ম রাজাবলী, ১১: ৪২-৪৩; দ্বিতীয় বিবরণ, ৯:৩০-৩১)।
ইমাম যুহরী (র)-এর বর্ণনামতে সুলায়মান (আ)-এর বয়স হইয়াছিল ৫২ বৎসর এবং তিনি রাজত্ব পরিচালনা করিয়াছিলেন ৪০ বৎসর (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., ৩০)।
ইবন আব্বাস (রা)-এর এক বর্ণনা মতে সুলায়মান (আ)-এর রাজত্ব ছিল মাত্র ২০ বৎসরের (আল-বিদায়া, ২খ, ৩০)।
ইন্তিকাল: সুলায়মান (আ)-এর ইন্তিকাল সম্পর্কে কুরআনে স্পষ্ট বর্ণনা আসিয়াছে। ফَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلَى مَوْتِهِ إِلَّا دَابَّةُ الْأَرْضِ تَأْكُلُ مِنْسَا تَهُ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيِّنَتِ الْجِنَّ أَنْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ.
"যখন আমি সুলায়মানের মৃত্যু ঘটাইলাম তখন জিন্নদিগকে তাহার মৃত্যু বিষয় জানাইল কেবল মাটির পোকা যাহা সুলায়মানের লাঠি খাইতেছিল। যখন সুলায়মান পড়িয়া গেল তখন জিন্নেরা বুঝিতে পারিল যে, উহারা যদি অদৃশ্য বিষয়ে অবগত থাকিত তাহা হইলে উহারা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ধ থাকিত না” (৩৪: ১৪)।
সুলায়মান (আ) মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইবাদতের নিমিত্তে একাকী বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করিতেন, এমনকি মাঝে-মধ্যে এক মাস, দুই মাস বা এক বৎসর, দুই বৎসর পর্যন্তও এইভাবে কাটাইয়া দিতেন। তিনি তাঁহার সহিত খাদ্যদ্রব্য এবং পানীয় লইয়া যাইতেন। একদা তিনি তাঁহার লাঠিতে ভর করিয়া সালাত আদায় করিতেছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার ইন্তিকাল হইল। তিনি ইন্তিকালের পূর্বে আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ করিলেন, জিন্নরা যেন তাঁহার মৃত্যু সম্পর্কে জানিতে না পারে, তাহা হইলে ইহা দ্বারা প্রমাণিত হইবে যে, জিন্নরা অদৃশ্যের সংবাদ জানে না (ইব্‌ন কাছীর, ১খ., ১৭৬)। সুলায়মান (আ)-এর মৃত্যুর এক বৎসর পর মাটির পোকা তাঁহার লাঠি খাইয়া ফেলিবার পর যখন তিনি পড়িয়া গেলেন কেবল তখনই জিন্নরা তাঁহার মৃত্যু সম্পর্কে জানিতে পারিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., ৩০; আয-যামাখশারী, ৩খ., ৫৭৩)।
কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, জিন্নরা যেখানে কাজ করিতেছিল সুলায়মান (আ) তথায় তাঁহার লাঠি দাঁড় করাইয়া রাখিয়া আসিয়াছিলেন। ইত্যবসরে তাঁহার মৃত্যু হইয়া যায় এবং মাটির পোকা এই লাঠি খাইয়া ফেলিবার পরই জিন্নরা তাঁহার মৃত্যু সম্পর্কে জানিতে পারে (তাব্বারাহ, পৃ. ২৯৬)। তবে জিন্ন ব্যতীত অন্য সবাই তাঁহার মৃত্যু সম্পর্কে পূর্বেই জানিতে পারে এবং তাঁহাকে দাফনও করা হয় আর তাঁহার পুত্র রাজত্বের দায়িত্বও গ্রহণ করিয়াছিল (তাব্বারাহ, পৃ. ২৯৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত সুলায়মান (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি

📄 হযরত সুলায়মান (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি


তাওরাতের কোন কোন বর্ণনায় আসিয়াছে যে, সুলায়মান (আ)-এর সাত শত স্ত্রী এবং তিন শত দাসী ছিল (১ম রাজাবলী, ১১ : ০১)। তবে সহীহ বুখারী শরীফের বর্ণনামতে সুলায়মান (আ)-এর স্ত্রীর সংখ্যা সত্তরজন ছিল। হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীছে উল্লেখ হইয়াছে, নবী করীম (স) বলিয়াছিলেন :
(قال سليمان بن داؤد لا طوفن الليلة على سبعين امرأة كل واحدة منهن تلد مجاهدا في سبيل الله)
"সুলায়মান ইব্‌ন দাউদ (আ) বলিলেন, এই রাত্রে আমি সত্তরজন স্ত্রীর কাছে গমন করিব এবং প্রত্যেকে একজন করিয়া আল্লাহ্র রাস্তায় মুজাহিদ জন্ম দিবে" (ফাতহুল বারী, কিতাবুল আম্বিয়া)।
হযরত সুলায়মান (আ)-এর সন্তানদিগের সর্বমোট সংখ্যা জানা যায় না। তবে তাওরাতের বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁহার তিন সন্তানের নাম পরিলক্ষিত হয় : (ক) রেহবআম "Rehoboam" (খ) তাফাত "طافت (গ) যাসমাত "بسمت" (২য় বিবরণ, ৩ঃ১০)।
সুলায়মান (আ)-এর ইন্তিকালের পর 'রেহবিয়াম' ক্ষমতায় সমাসীন হইয়াছিলেন এবং ১৭ বৎসর রাজত্ব করিয়াছিলেন। তৎপর তদানীন্তন মিসরের ফিরআউন 'মিসাক' ফিলিস্তীন দখল করিয়া নেয় এবং রেহবিয়ামের রাজত্বের অবসান ঘটে (১ম রাজাবলী, ১৪ : ১৫; আরও দ্র. নিবন্ধের সুলায়মান (আ)-এর বৈবাহিক জীবন ও সন্তান-সন্তুতি অনুচ্ছেদ)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গ্রন্থপঞ্জী

📄 গ্রন্থপঞ্জী


(১) আল-কুরআন : উল্লিখিত বিভিন্ন সূরার সংশ্লিষ্ট আয়াত যাহার বর্ণনা ইতোপূর্বে দেওয়া হইয়াছে; (২) আল কুরআনুল করীম (টীকাসহ বঙ্গানুবাদ), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৮৬ খৃ.; (৩) Old Testament, English Translation, New World Translation of Holy Scriptures, New York, Revised 1984; (৪) মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, আল-মুজামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল কুরআন, কায়রো, ১৯৯১ খৃ.; (৫) তাব্বারাহ আফীফ আবদুল ফাত্তাহ, মা'য়াল আম্বিয়া ফিল কুরআন, বৈরুত, ১৯৮৯ খৃ.; (৬) ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত তারীখ, বৈরূত, ১৯৮৭ খৃ.; (৭) মুহাম্মাদ জামিল আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, লাহোর, তা.বি.; (৮) সীউহারবী, হিফজুর রহমান, কাসাসুল কুরআন, দিল্লী ১৯৮০ খৃ.; (৯) ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, হালাব, দারুর রশীদ, তা.বি.; (১০) ইবন হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী, কায়রো; (১১) নদভী, সায়্যিদ সুলায়মান, আরদুল কুরআন, কুতুবখানা রশীদিয়া তা.বি.; (১২) বা'লাবাক্কী, মুনীর, আল-মাওরিয়া, বৈরূত, ১৯৮৯ খৃ.; (১৩) সায়্যিদ কুতুব, ফি যিলালিল কুরআন, কায়রো ১৪১৪ হি.; (১৪) ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, কায়রো ১৪০৮ হি.; (১৫) সাবুনী, মুহাম্মাদ আলী, সাফওয়াতুত তাফাসীর, বৈরূত, ১৪১৩ হি.; (১৬) আয-যামাখশারী, আল-কাশশাফ, বৈরূত, ১৪০৭ খৃ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00