📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সামরিক বাহিনী

📄 সামরিক বাহিনী


আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে মানবজাতি, জিন্ন জাতি ও বিহঙ্গকূলের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, দক্ষ ও প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী সামরিক বাহিনী দান করিয়াছিলেন। কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَحُشِرَ لِسُلَيْمَنَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنَّ وَالْإِنْسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ .
"সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে- জিন্ন, মানুষ ও বিহঙ্গকুলকে এবং উহাদিগকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যুহে” (২৭:১৭)।
হযরত সুলায়মান (আ) যখন কোন অভিযানে যাত্রা করিতেন, তখন জিন্ন, মানুষ ও বিহঙ্গকুল, এই তিন বাহিনী হইতে প্রয়োজন মাফিক সৈন্য সঙ্গে লইতেন (তাফসীরে উছমানী, পৃ. ৫০৪, টীকা ১)। ইহাদের মধ্যে বিহঙ্গকুল পাখা বিস্তার করিয়া মনুষ্য বাহিনীকে ছায়া দান করিত (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৯) এবং জিন্ন বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের শ্রমসাধ্য কর্মে নিয়োগ করা হইত, যাহা কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। কতক ডুবুরির কাজ করিত (২১: ৮২); কতক অন্যান্য কাজ করিত (৩৪: ১২), কতক প্রাসাদ, ভাস্কর্য ও চৌবাচ্চা সদৃশ্য রন্ধনপাত্র নির্মাণ করিত।
وَمِنَ الْجِنَّ مَنْ يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِاذْنِ رَبِّهِ وَمَنْ يُزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ . يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيْبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَسِيت .
"তাহার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিন্নদের কতক তাহার সম্মুখে কাজ করিত। উহাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করে তাহাকে আমি অগ্নি-শাস্তি আস্বাদন করাইব। উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, হাওয সদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিত" (৩৪: ১২-১৩)।
والشَّيْطَينَ كُلِّ بَنَّا ، وَغَواصِ وَآخَرِيْنَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ .
“এবং শয়তানদিগকেও (তাহার অধীন করিয়াছিলাম), যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে” (৩৮: ৩৭-৩৮; আরও দ্র. বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৮)।
কোন কোন তাফসীরকার ও ঐতিহাসিক হযরত সুলায়মান (আ)-এর সৈন্যসংখ্যার কল্পনাতীত প্রাচুর্য প্রদর্শন করিয়াছেন, যাহার কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নাই। বাইবেলে তাঁহার সেনাবাহিনীর একটি পরিসংখ্যান বিদ্যমান। "শলোমনের রথের নিমিত্ত চল্লিশ সহস্র অশ্বশালা ও বারো সহস্র অশ্বরোহী ছিল” (১ম রাজাবলী, ৪: ২৬-২৭)। "আর শলোমন অনেক রথ ও অশ্বারোহী সংগ্রহ করিলেন; তাঁহার এক সহস্র চারি শত রথ ও বারো সহস্র অশ্বারোহী ছিল” (১ম রাজাবলী, ১০ঃ ২৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সুলায়মান (আ) সম্পর্কে অলীক কাহিনী

📄 সুলায়মান (আ) সম্পর্কে অলীক কাহিনী


আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে মু'জিযাস্বরূপ বেশ কিছু অতি প্রাকৃতিক ক্ষমতা দান করিয়াছিলেন। যেমন অজড়দেহী জিন্ন জাতির উপর তাঁহার কর্তৃত্ব, পিপীলিকা ও পশু-পাখির ভাষা অনুধাবনশক্তি, বায়ুর উপর নিয়ন্ত্রণলাভ, মুহূর্তকালের মধ্যে সাবার রাণীর সিংহাসন আনয়ন ইত্যাদি, যে সম্পর্কে কুরআন মজীদেই প্রমাণ বিদ্যমান। তাঁহার সম্পর্কে প্রসিদ্ধ একটি রূপকথা এই যে, তাঁহার একটি অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন আংটি ছিল যাহা তাঁহাকে ঊর্ধ্ব জগত হইতে প্রদান করা হইয়াছিল। চারি কোণবিশিষ্ট উক্ত আংটির এক কোণে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, মুহাম্মাদ আবদুহু ওয়া রাসূলুহু", দ্বিতীয় কোণে
اللهم مالك الملك تؤتى الملك من تشاء وتنزع الملك ممن تشاء وتعز من تشاء وتذل من تشاء تباركت .
تباركت الهى لا شريك لك كل شيئ هالك الا وجهه দ্বিতীয় কোণে বর্ণিত ছিল। তিনি উহা পরিধান করামাত্র তাঁহার নিকট মানব, দানব (জিন্ন), খেচর, শয়তান, বায়ু, মেঘমালা ইত্যাদি আসিয়া সমবেত হইত এবং তিনি ইহার সাহায্যে শাসনকার্য চালাইতেন (তাহযীব তারীখ দিমাশক্, ৬খ, পৃ. ২৬৫; আরও দ্র. আরাইস, পৃ. ৩৪৮)। হাদীছ শরীফে তাঁহার আংটির উল্লেখ থাকিলেও উহার কোন অলৌকিক শক্তির উল্লেখ নাই। মহানবী (স) বলেন:
تَخْرُجُ الدَّابَّةٌ وَمَعَهَا خَاتِمُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ .... وَتَخْتِمُ أَنْفَ الْكَافِرِ بِالْخَاتِمِ..
"একটি পশু ভূগর্ভ থেকে আবির্ভূত হইবে এবং উহার সহিত থাকিবে দাউদ (আ)-এর পুত্র সুলায়মান (আ)-এর আংটি... পশুটি উহা দ্বারা কাফের ব্যক্তির নাকে চিহ্ন অংকন করিবে... (ইবন মাজা, ফিতান, বাব দাব্বাতুল আরদ, ২খ, পৃ. ২৯৫)।
তাঁহার সম্পর্কে এই জাতীয় অলীক কাহিনীর প্রমাণ হাদীছ শরীফ হইতেও পাওয়া যায়। উম্মুল মু'মিনীন হযরত আইশা (রা) বলেন:
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ أَوْ خَيْبَرَ وَفِي سَهْوَتِهَا سِتْرٌ فَهَبَّتِ الرِّيحُ فَكَشَفَتْ نَاحِيَةَ السَّتْرِ عَنْ بَنَاتِ لِعَائِشَةَ لُعْبٌ فَقَالَ مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ قَالَتْ بَنَاتِي وَرَأَى بَيْنَهُنَّ فَرَسًا لَهُ جَنَحَانِ مِنْ رِقَاعِ فَقَالَ مَا هَذَا الَّذِي أَرَى وَسَطَهُنَّ قَالَتْ فَرَسٌ قَالَ وَمَا هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ قُلْتُ جَنَاحَانِ قَالَ فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ قَالَتْ أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلًا لَهَا أَجْنِحَةٌ قَالَتْ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ .
"রাসূলুল্লাহ (স) তাবুক অথবা খায়বার-এর যুদ্ধ শেষে ফিরিয়া আসিলেন। আমার হুজরার তাকে (বা দেয়ালের গর্তে) পর্দা ঝুলান ছিল। বায়ু প্রবাহিত হইলে কাপড়ের তৈরী আমার খেলনা পুতুলগুলি হইতে পর্দা অপসারিত হইয়া গেল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আইশা! ইহা কি? তিনি বলেন, আমার পুতুল। তিনি ঐগুলির মধ্যখানে কাপড়ের দুই পাখাবিশিষ্ট একটি ঘোড়ার পুতুল দেখিতে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, এইগুলির মধ্যখানে যাহা দেখিতেছি তাহা কি? তিনি বলেন, একটি ঘোড়া। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, উহার উপর ইহা কি? আমি বলিলাম, দুইটি পাখা। তিনি বলিলেন, দুই পাখাবিশিষ্ট ঘোড়া! আমি বলিলাম, আপনি কি শুনেন নাই যে, সুলায়মান (আ)-এর কয়েকটি পক্ষবিশিষ্ট একটি ঘোড়া ছিল? আইশা (রা) বলেন, (আমার কথায়) রাসূলুল্লাহ (স) এমন হাসি দিলেন যে, আমি তাঁহার সামনের পাটির দাঁত দেখিতে পাইলাম” (আবূ দাউদ, কিতাবুল আদাব, বাব ফিল-লাআব বিল-বানাত, ২খ.)।
তাঁহার সম্পর্কে যুগ যুগ ধরিয়া যে অযাচিত পরিমাণ রূপকথা ও উপাখ্যান রচিত হইয়াছে বা প্রচলিত আছে, মনে হয় পৃথিবীর আর কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে, বিশেষত কোনও নবী সম্পর্কে, এত অধিক উপাখ্যান রচিত হয় নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সুলায়মান (আ)-এর বৈবাহিক জীবন ও সন্তান-সন্তুতি

📄 সুলায়মান (আ)-এর বৈবাহিক জীবন ও সন্তান-সন্তুতি


সুলায়মান (আ)-এর বৈবাহিক জীবন ও সন্তান-সন্তুতিঃ সুলায়মান (আ) সর্বপ্রথম মিসর-রাজ ফিরআওনের কন্যাকে বিবাহ করেন এবং উপঢৌকনস্বরূপ জিয়ার (Gezer) শহর লাভ করেন। (Colliers Ency., ২১ খ, পৃ. ১৯৩)। ইহা ব্যতীত তিনি মুআবীয়, আম্মোনীয়, ইদোমীয়, সীদোনীয় ও হিত্তীয় সম্প্রদায়ের কন্যাগণকে বিবাহ করেন (দ্র. ১ম রাজাবলী, ১১: ১)। তিনি সাবার রানীকেও বিবাহ করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত (বরাত সস্থানে উক্ত হইবে)। কোন কোন বর্ণনায় তাঁহার এক স্ত্রী গোপনে মূর্তি পূজায় লিপ্ত ছিল বলা হইয়াছে এবং তাহার কারণে তিনি কঠিন বিপদে পতিত হইয়াছিলেন (দ্র. আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৮২-৩)। তাঁহার স্ত্রীর সংখ্যাও অতিরঞ্জিত হইয়াছে। কোনও বর্ণনায় তাহাদের সংখ্যা এক হাজার (সাত শত স্ত্রী এবং তিন শত বাঁদী অথবা ইহার বিপরীত), কোন বর্ণনায় এক হাজার এক শত স্ত্রী (৭০০ স্ত্রী এবং ৪০০ বাঁদী; বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৯) এবং কোন বর্ণনায় ২০০ স্ত্রী (তাহযীব, ৬খ, পৃ. ২৬৬) উল্লেখ আছে। স্পষ্টরূপেই উপরিউক্ত তথ্য বাইবেল হইতে গৃহীত হইয়াছে (দ্র. ১ম রাজাবলী, ১১: ৩, যেখানে তাঁহার স্ত্রীর সংখ্যা এক হাজার উল্লেখ আছে)। কিন্তু সহীহ হাদীছসমূহে তাঁহার স্ত্রীর সংখ্যা সর্বনিম্ন ষাট এবং সর্বোচ্চ এক শত উল্লেখ আছে। যেমন এক হাদীছে মহানবী (স) বলেনঃ
قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلامُ لَاطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى مِائَةِ امْرَأَةٍ أَوْ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ كُلُّهُنَّ يَأْتِي (تَأْتِي) بِفَارِسٍ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَلَمْ يَقُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَلَمْ يَحْمِلْ (تَحْمِلْ) مِنْهُنَّ إِلَّا امْرَأَةً وَاحِدَةً جَاءَتْ بِشِقِّ رَجُلٍ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُرْسَانًا أَجْمَعُونَ .
"সুলায়মান ইব্‌ন দাউদ (আ) বলিয়াছিলেন, আজ রাত্রে আমি অবশ্যই এক শত অথবা নিরানব্বইজন স্ত্রীর নিকট গমন করিব এবং তাহাদের প্রত্যেকে আল্লাহ্ পথে জিহাদকারী একজন বীর মুজাহিদ প্রসব করিবে। তাঁহার এক সঙ্গী তাঁহাকে বলিলেন, ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ্ মর্জি হইলে), কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ বলেন নাই। সুতরাং তাঁহার একজন স্ত্রী ব্যতীত অপর কেহই গর্ভধারণ করে নাই এবং সেও একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: সেই সত্তার শপথ, যাঁহার হস্তে মুহাম্মাদের প্রাণ! তিনি যদি "ইনশাআল্লাহ" বলিতেন তাহা হইলে (তাঁহার সকল স্ত্রীই গর্ভধারণ করিত এবং এমন সন্তান প্রসব করিত) যাহারা সকলে অবশ্যই অশ্বারোহী মুজাহিদরূপে আল্লাহ্র পথে জিহাদ করিত" (বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, বাব মান তালাবাল ওয়ালাদ লিল-জিহাদ, ১খ, পৃ. ৩৯৫)।
একই হাদীছ গ্রন্থের কিতাবুল আম্বিয়ায় ৭০ ও ৯০জন (বাব ওয়া ওয়াহাবনা লি-দাউদা সুলায়মান, ১খ, পৃ. ১৮৭); কিতাবুন নিকাহ-এ ১০০জন (বাব কাওলির রাজুল লাআতৃষ্ণান্নাল লায়লাতা...., ২খ, পৃ. ৭৮৮); কিতাবুল আয়মান (বাব কায়ফা কানা ইয়ামীনুন নাবিয়্যী, ২খ, পৃ. ৯৮২) ও কিতাবুল কাফফারাত (বাবুল ইসতিছনা ফিল আয়মান, ২খ, পৃ. ৯৯৪)-এ ৯৯ জন এবং কিতাবুত তাওহীদ (বাব ফিল মাশয়াতি ওয়াল ইরাদাহ, ২খ, পৃ. ১১১৩)-এ ৬০জন স্ত্রীর উল্লেখ আছে। সহীহ মুসলিমের কিতাবুল আয়মানে (বাবুল ইসতিছনা, ২খ, পৃ. ৪৯) চারটি রিওয়ায়াতে ৭০জন ও ৯০জন স্ত্রীর উল্লেখ আছে। জামে আত-তিরমিযীর আবওয়াবুল আয়মান (বাব মা জাআ ফী ইনশাআল্লাহ, ১খ, পৃ. ১৮৫)-এ ৭০ ও ১০০ জন স্ত্রীর উল্লেখ আছে।
উক্ত হাদীছের সবকয়টি সনদসূত্র অত্যন্ত মজবুত এবং ইহার বিশুদ্ধতা সম্পর্কেও আপত্তি উত্থাপনের কোন কারণ বিদ্যমান নাই। তবে দিরায়াতের (যুক্তি) দিক বিবেচনা করিয়া বলা যাইতে পারে যে, মহানবী (স) হয়তো ইয়াহুদীদের আজেবাজে কথাবার্তার উল্লেখ করিতে গিয়া উপমাস্বরূপ উক্ত সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু রাবী উক্ত সংখ্যাকে তাঁহার নিজের বক্তব্য মনে করিয়া তাহাই বর্ণনা করিয়াছেন। অন্যথায় একজন মহান নবীর এইরূপ পত্নীবাহুল্য তাঁহার মর্যাদার পরিপন্থী মনে হয়। তাহা ছাড়া ১০-১২ ঘণ্টার এক রাত্রে ৬০ হইতে ১০০জন স্ত্রীর সহিত মিলিত হওয়া যে কোনও বীর্যবান সুস্থদেহী পুরুষের পক্ষে অসম্ভব। অতএব স্ত্রীর আধিক্যও একটি কল্পকাহিনী হইয়া থাকিবে।
হযরত সুলায়মান (আ)-এর সন্তানদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। তাঁহার পুত্র-কন্যার মধ্যে এক পুত্র ও দুই কন্যার নাম বাইবেলে উক্ত আছে: পুত্র রহবিয়াম (১ম বংশাবলী, ৩ঃ ১০), পিতার ইনতিকালের পর যিনি রাজপদে অভিষিক্ত হইয়াছিলেন (১ম রাজাবলী, ১২:১)। দুই কন্যা-টাফত যিনি দোর এলাকার উচ্চভূমির সরদার বিন-অবিনাদরে স্ত্রী ছিলেন (১ম রাজাবলী, ৪: ১, ১১, ১৫) এবং বাসমাত, যিনি নপ্তালী এলাকার বাসিন্দা অহীমাস-এর স্ত্রী ছিলেন (১ম রাজাবলী, ৪: ১৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সুলায়মান (আ)-এর অশ্বপাল

📄 সুলায়মান (আ)-এর অশ্বপাল


হযরত সুলায়মান (আ)-এর আলোচনায় কুরআন মজীদে অতি সংক্ষেপে অশ্বপাল সম্পর্কিত একটি ঘটনার উল্লেখ আছে।
وَوَهَبْنَا لِدَاوُدَ سُلَيْمَانَ نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ . اذ عُرضَ عَلَيْهِ بالعشى الصُّفْنَتُ الْجِيَادُ. فَقَالَ إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبُّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ . رُدُّوهَا عَلَى فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ وَالْأَعْنَاقِ .
"আমি দাউদকে দান করিলাম সুলায়মান। সে ছিল উত্তম বান্দা এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। যখন অপরাহ্নে তাহার সম্মুখে ধাবনোদ্যত উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হইল তখন সে বলিল, আমি তো' আমার প্রতিপালকের স্মরণ হইতে বিমুখ হইয়া ঐশ্বর্যপ্রীতিতে মগ্ন হইয়া পড়িয়াছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হইয়া গিয়াছে। এইগুলিকে পুনরায় আমার নিকট আনয়ন কর। অতঃপর সে উহাদের পদ ও গলদেশ ছেদন করিতে লাগিল" (৩৮: ৩০-৩৩)। উপরিউক্ত আয়াত কয়টিও দ্ব্যর্থবোধক আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইহার ব্যাখ্যায় হযরত আলী (রা)-র একটি মত এবং আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-র দুইটি মত বিদ্যমান আছে। (১) আলী (রা)-র মতে একদা জিহাদের অশ্বগুলি পরিদর্শনের ব্যস্ততায় হযরত সুলায়মান (আ)-এর আসরের নামায ছুটিয়া যায়, এমনকি সূর্য অস্তাচলে চলিয়া গেল, যেমন খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে অনিবার্য কারণে মহানবী (স)-এর আসরের নামায কাযা হইয়াছিল। তিনি সম্বিত ফিরিয়া পাইয়া অশ্বগুলিকে ডাকাইয়া আনাইয়া উহাদিগকে যবাহ করিয়া ফেলিলেন, যেন সম্পদের ভালোবাসাকে আল্লাহ্ ভালোবাসায় কুরবানী করিলেন (তাফসীরে তাবারী, ১০ম বালাম, ২খ, পৃ. ৯৯; তাহযীব তারীখ দিমাস্ক, ৬খ, পৃ. ২৫৮-৯; কাসাসুল কুরআন ২খ, পৃ. ১১২-৩) এবং ইহাই কিঞ্চিত পার্থক্যসহ হাসান বসরী (র)-এর সূত্রে বর্ণিত ইব্‌ন আব্বাস (রা)-মত। আল্লামা আলুসী ও ইব্‌ন কাছীর প্রমুখ এই মত গ্রহণ করিয়া বলেন যে, আগেকার (সালাফ) অধিকাংশ আলেমের এই মত (বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৫)। তিনি আরও বলেন, নামায কাযা হওয়ার ব্যাপারটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।
তিনি আল্লাহ্ মহব্বতে তাঁহার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সর্বোত্তম অশ্বগুলিকে কুরবানী করিলে আল্লাহ তাআলা তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া পুরস্কারস্বরূপ বায়ুকে তাঁহার নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া দিলেন (রূহুল মা'আনী, ২খ, পৃ. ১৯৩; বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৫)। তাঁহারা নিজেদের ব্যাখ্যার সমর্থনে একটি হাদীছ উদ্ধৃত করিয়াছেন:
عَنْ أَبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَوْلِهِ فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ وَالْأَعْنَاقِ قَالَ قَطَعَ سُوقَهَا وَأَعْنَاقَهَا بِالسَّيْفِ .
"উবায়্যি ইব্‌ন কাব (রা) হইতে বর্ণিত। মহানবী (স) আল্লাহ তাআলার বাণী "অতঃপর সে উহাদের পদ ও গলদেশ ছেদন করিতে লাগিল" (৩৮: ৩৩) সম্পর্কে বলেন: সুলায়মান (আ) তরবারির আঘাতে উহাদের পদযুগল ও গলদেশ কর্তন করিলেন" (রূহুল মা'আনী, ২৩খ, পৃ. ১৯৩; দুররে মানছুর, ৫খ, পৃ. ৩০৯)।
আল্লামা হায়ছামী (র) ইমাম তাবারানীর আল-আওসাত গ্রন্থের বরাতে তাঁহার মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থের কিতাবুত তাফসীরে (৭খ, পৃ. ৯৯) হাদীছটি সংকলন করিয়াছেন এবং বলিয়াছেন যে, উক্ত হাদীছের এক রাবী সাঈদ ইব্‌ন বশীরকে শো'বা (র) প্রমুখ নির্ভরযোগ্য বলিয়াছেন এবং ইব্‌ন মাঈন প্রমুখ দুর্বল বলিয়াছেন। হাদীছের অবশিষ্ট সকল রাবী নির্ভরযোগ্য (মাজমাউয যাওয়াইদ, ৭খ, ৯৯-এর বরাতে মাআরিফুল কুরআন, ৭খ, পৃ. ৫১২-৩)। এই হাদীছের ভিত্তিতে পূর্বোক্ত মুফাসসিরগণের মত শক্তিশালী হয়।
তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করিলে কুরআনের বাহিরের তিনটি কথা কল্পনা করিতে হয়: (ক) প্রথমে কল্পনা করিতে হয় যে, হযরত সুলায়মান (আ)-এর আসরের নামায (মতান্তরে ঐ সময়ে তাঁহার বিশেষ ওজীফা) কাযা হইয়া গিয়াছিল; (খ) অতঃপর কল্পনা করিতে হয় যে, সূর্য অস্তাচলে চলিয়া গিয়াছিল; (গ) অতঃপর কল্পনা করিতে হয় যে, সুলায়মান (আ) অশ্বগুলিকে হত্যা করিয়াছেন। এই তিনটি কথা কুরআন মজীদের বক্তব্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না (তাফহীমুল কুরআন, ৪খ, পৃ. ৩৩৩-৪, টীকা ৩৫; কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১১৫-৬)।
অপর একদল তাফসীরকারের মতে حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ এবং رُدُّوهَا عَلَى উভয় বাক্যাংশের সম্পর্ক সূর্যের সহিত। অর্থাৎ যখন আসরের নামায কাযা হইল এবং সূর্য অস্তগমন করিল তখন হযরত সুলায়মান (আ) ফেরেশতাগণকে বলিলেন, সূর্যকে ফিরাইয়া আন, যেন আসরের ওয়াক্ত ফিরিয়া আসে এবং আমি নামায পড়িতে পারি। তদনুযায়ী সূর্য ফিরিয়াও আসিল এবং তিনি নামাযও পড়িলে। কিন্তু এই তাফসীর পূর্বোক্ত তাফসীরের তুলনায় আরও অধিক অগ্রহণযোগ্য। কারণ কুরআন মজীদের বাচনভঙ্গি হইতে উহার কিঞ্চিৎ সমর্থনও পাওয়া যায় না, যদিও মহান আল্লাহ্ পক্ষে ডুবন্ত সূর্যকে ফিরাইয়া আনা মোটেই অসম্ভব নহে (রূহুল মা'আনী, ২৩ খ, পৃ. ১৯৩)। হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য এইরূপ বিরাট একটি মু'জিযা সংঘটিত হইয়া থাকিলে এবং সূর্যের পুনরায় ফিরিয়া আসার অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটিয়া থাকিলে পৃথিবীর ইতিহাসে তাহার অবশ্যই উল্লেখ থাকিত।
উপরিউক্ত মতের তাফসীরকারগণ কয়েকটি হাদীছ পেশ করিয়া প্রমাণ করিতে চাহিয়াছেন যে, সূর্যের অস্তাচলে ডুবিয়া যাওয়ার পর উহার পুনরায় ফিরিয়া আসার ঘটনা কয়েকবারই ঘটিয়াছিল।
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُوحَى إِلَيْهِ وَرَاسُهُ فِي حِجْرٍ عَلِيَّ فَلَمْ يُصَلِّ الْعَصْرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّيْتَ يَا عَلِيُّ قَالَ لَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ فِي طَاعَتِكَ وَطَاعَةِ رَسُولِكَ فَارْدُدْ عَلَيْهِ الشَّمْسَ ، قَالَتْ أَسْمَاءُ فَرَأَيْتُهَا غَرَبَتْ ثُمَّ رَأَيْتُهَا طَلَعَتْ بَعْدَ مَا غَرَبَتْ وَوَقَعَتْ عَلَى الْأَرْضِ وَذَلِكَ فِي الصَّهْبَاءِ فِي خَيْبَرَ .
"আসমা বিন্ত উমায়স (রা) হইতে বর্ণিত। মহানবী (স)-এর উপর ওহী নাযিল হইতেছিল। তখন তাঁহার মস্তক আলী (রা)-র কোলে রাখা ছিল। ফলে তিনি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামায পড়িতে পারেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন হে আলী! নামায পড়িয়াছ? তিনি বলিলেন, না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ হে আল্লাহ! সে আপনার আনুগত্যাধীন ও আপনার রাসূলের আনুগত্যাধীন ছিল। অতএব তাহার জন্য সূর্যকে ফিরাইয়া দিন। আসমা (রা) বলেন, আমি সূর্যকে অস্ত যাইতে দেখিয়াছি, পুনরায় অস্ত যাওয়ার পর উহাকে উদিত হইতে এবং ভূ-পৃষ্ঠে উহার আলো পতিত হইতে দেখিয়াছি। ইহা খায়বার এলাকার আস-সাহহ্বা নামক স্থানের ঘটনা" (রূহুল মাআনী, ২৩খ, পৃ. ১৯৩)।
কিন্তু যে ব্যাখ্যার সমর্থনে এই জাতীয় হাদীছ পেশ করা হয় সেই ব্যাখ্যা হইতেও এইগুলি অধিক দুর্বল। হযরত আলী (রা)-র সহিত সংশ্লিষ্ট হাদীছ ইমাম ইব্‌ন তায়মিয়্যা ও ইবনুল জাওযী-এর মতে মওযু' (মনগড়া) এবং ইমাম আহমাদের মতে ইহার কোন ভিত্তি নাই। খন্দকের যুদ্ধকালে সূর্যের ফেরত আসা সংক্রান্ত হাদীছটিও কতক মুহাদ্দিছের মতে দুর্বল এবং কতকের মতে মওযূ' (মনগড়া)। মি'রাজের ঘটনার সহিত সংশ্লিষ্ট হাদীছটি নিম্নরূপ:
لَمَّا أُسْرِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخْبَرَ قَوْمَهُ بِالرِّفْقَةِ وَالْعَلَامَةِ الَّتِي فِي الْعِبْرِ قَالُوا مَتَى يَجِيءُ قَالَ يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ أَشْرَفَتْ قُرَيْشٌ يَنْظُرُونَ وَقَدْ وَلَّى النَّهَارُ وَلَمْ يَجِيءُ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَزِيدَ فِي النَّهَارِ سَاعَةً وَحُبِسَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ .
"মহানবী (স)-কে মি'রাজে নেওয়া হইলে এবং তিনি তাঁহার কওমকে ব্যবসায়ী কাফেলার সহিত সাক্ষাত এবং উহার লক্ষণ বর্ণনা করিলে তাহারা জিজ্ঞাসা করিল যে, উহা কখন প্রত্যাবর্তন করিবে? তিনি বলিলেন: বুধবার। ঐ দিন আগত হইলে কুরায়শগণ উচ্চস্থানে উঠিয়া কাফেলার প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। কিন্তু দিন শেষেও উহা প্রত্যাবর্তন করে নাই। এই অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স) দু'আ করিলে দিনের দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা বাড়াইয়া দেওয়া হয় এবং সূর্যকে আটক করিয়া রাখা হয়" (রূহুল মা'আনী, ২৩খ, পৃ. ১৯৩)।
অপর একটি তাফসীর বর্ণনা করিয়াছেন আবু তালহা (রা)-র পুত্র আলী (র) ইব্‌ন আব্বাস (রা)-র সূত্রে। এক দিন অপরাহ্নে হযরত সুলায়মান (আ) আস্তাবল হইতে অশ্বপাল আনিয়া হাযির করিতে বলিলেন। উহা তাঁহার সামনে উপস্থিত করা হইলে তিনি বলিলেন, এই অশ্বপাল কেবল আমার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য কিংবা ব্যক্তিগত কারণে প্রিয় নহে, বরং এইগুলির সাহায্যে আমি আল্লাহর পথে জিহাদ করিব। অশ্বপাল পুনরায় আস্তাবলে ফিরিয়া গেলে (কাহারও মতে ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠানে দৃষ্টিসীমার বাহিরে চলিয়া গেলে) তিনি সেইগুলিকে পুনরায় ফেরত আনার নির্দেশ দিলেন। অশ্বপাল তাঁহার সম্মুখে উপস্থিত করা হইলে তিনি ভালোবাসার আবেগে অশ্বগুলির পদযুগল ও ঘাড় মলিয়া দিতে লাগিলেন (তাফসীরে তাবারী, ১০ম বালাম, ২৩খ, পৃ. ১০০; তাফসীরে কবীর, ২৬খ, পৃ.; মাআরিফুল কুরআন, ৭খ, পৃ. ৫১৩; তাফহীমুল কুরআন, ৪খ, পৃ. ৩৩৫, টীকা ৩৫; কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১১৪; আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১৩৪-৫; বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৫)। এই তাফসীর কুরআন মজীদে ব্যবহৃত শব্দাবলীর সহিত অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এই ক্ষেত্রে সূর্যকে উহ্য মানার, আসরের নামায কাযা হওয়ার এবং স্পর্শ (মাসহ) অর্থ তরবারির আঘাতে হত্যা করার কল্পনা করার প্রয়োজন হয় না (তাফহীমুল কুরআন, পৃ. স্থা.; কাসাসুল কুরআন, পৃ. স্থা.)।
এই ব্যাখ্যার দৃষ্টিতে إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبِّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْر رَبَّی -এর অর্থ হইবে ঃ "নিশ্চয় আমার মালের মহব্বত আমার প্রভুর স্মরণের অন্তর্ভুক্ত"। কারণ এই মাল তো আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য প্রতিপালন করা হইতেছে। আর توارت بالحجاب -এর অর্থ হইবে : "এমনকি তাহা (অশ্ব) দৃষ্টিসীমার বাহিরে চলিয়া গেল” এবং وطفق مَسْحًا بالسُّوقَ وَالْأَعْنَاقِ -এর অর্থ হইবে: "অতঃপর সে উহার (অশ্বের) পদযুগল ও ঘাড় মলিয়া দিতে লাগিল"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00