📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জিন্ন জাতির উপর কর্তৃত্ব

📄 জিন্ন জাতির উপর কর্তৃত্ব


অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে একটি অদৃশ্যমান ও অজড় জাতি জিন্নদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দান করিয়াছিলেন। হযরত সুলায়মান (আ)-এর রাজত্বের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এই যে, মানবজাতিসহ জিন্ন জাতি তাঁহার কর্তৃত্বাধীন ছিল। তিনি ইহাদের উপর যাবতীয় ধরনের নিয়ন্ত্রণ লাভ করিয়াছিলেন। ইহারা সমুদ্রের তলদেশ হইতে তাঁহার জন্য দুর্লভ মুক্তা আহরণ করিত। তিনি ইহাদের দ্বারা নূতন নূতন শহর ও প্রাসাদ নির্মাণ করাইতেন, বৃহদাকারের হাঁড়ি-পাতিল ও পত্রাদি তৈয়ারি করাইতেন। ইহাদের মধ্যে কেহ বিদ্রোহী বা অবাধ্য হইলে তিনি উহাকে জিঞ্জীরাবদ্ধ করিয়া রাখিতেন। মোটকথা, আল্লাহ তাআলা তাঁহাকে জিন্নদের উপর এতখানি নিয়ন্ত্রণক্ষমতা দান করিয়াছিলেন যে, তিনি যথেচ্ছা ইহাদিগকে ব্যবহার করিতে পারিতেন। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَمِنَ الشَّيْطِينِ مَنْ يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ لَهُ عَمَلا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حُفِظِينَ .
“এবং শয়তানদের মধ্যে কতক তাহার জন্য ডুবুরীর কাজ করিত, ইহা ব্যতীত অন্য কাজও করিত; আমি উহাদের রক্ষাকারী ছিলাম" (২১:৮২)।
বাইবেল হইতে এই সম্পর্কে যৎসামান্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়ঃ "আর হীরমের যে সকল জাহাজ ওফীর হইতে স্বর্ণ লইয়া আসিত, সেই সকল জাহাজ ওফীর হইতে বিস্তর চন্দনকাঠ ও মনিও আনিত” (১ম রাজাবলী, ১০: ১১)।
وَمِنَ الْجِنَّ مَنْ يُعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِاذْنِ رَبِّهِ .
"তাহার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিন্নদের কতক তাহার সম্মুখে কাজ করিত" (৩৪: ১২)।
والشَّيْطينَ كُلِّ بَنَّا ، وغَواصِ وَآخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ .
“এবং শয়তানদিগকে (তাহার অধীন করিয়া দিলাম), যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে" (৩৮: ৩৭-৩৮)।
সুলায়মান (আ)-কে ইহাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দান করা হইয়াছিল এবং ইহার জন্য তাঁহাকে কোনরূপ জবাবদিহি করিতে হইত না (বিদায়া, ২খ, পৃ. ৩০)। মহান আল্লাহ বলেন:
هذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ .
“এইসব আমার অনুগ্রহ, ইহা হইতে তুমি অন্যকে দিতে অথবা নিজে রাখিতে পার। ইহার জন্য তোমাকে হিসাব দিতে হইবে না" (৩৮: ৩৯)।
কতক লোক জিন্নের অস্তিত্বকে অস্বীকার করিয়া বলে যে, কুরআন মজীদে জিন্ন দ্বারা তৎকালের অসম শক্তিশালী, বিরাটকায় ও দুর্ধর্ষ একটি জাতিকে বুঝানো হইয়াছে যাহাদেরকে হযরত সুলায়মান (আ) ব্যতীত অপর কেহ নিয়ন্ত্রণে আনিতে পারে নাই (কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১০৬; নির্বাচিত রচনাবলী, ২খ, পৃ. ৯৩)। যে জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, সেই জিনিসকে কেবল ধর্মগ্রন্তের সনদের ভিত্তিতে বাস্তব বলিয়া মানিয়া নিতে ইহারা দ্বিধাবোধ করে। তাই তাহারা কুরআন ব্যাখ্যার নামে উহার বিকৃতি সাধনে তৎপর হয়। বস্তুত জিন্ন মানবজাতির মতই একটি অদৃশ্যমান স্বতন্ত্র জাতি। কুরআন মজীদের ১৬টি সূরায় জিন্ন সম্পর্কে বক্তব্য আছে।
উদাহরণস্বরূপ:
৬. আল-আন'আম : ১০০, ১১২, ১২৮, ১৩০
৭. আল-আ'রাফ: ৩৮, ১৯৭
১১. হুদ: ১১৯
১৫. আল-হিজরঃ ২৭
১৭. আল-ইসরা: ৮৮
১৮. আল-কাহফঃ ৫০
২৭. আন-নামল: ১৭, ৩৯
৩২. আস-সাজদা: ১৩
৩৪. সাবা: ১২, ১৪, ৪১
৩৭. আস-সাফ্ফাত: ১৫৮
৪১. হা-মীম-সাজদা: ২৫, ২৬
৪৬. আল-আহকাফ: ১৮, ২৯
৫১. আয-যারিয়াত: ৫৬
৫৫. আর-রহমান: ১৫, ৩৩, ৩৯, ৫৬, ৭৪
৭২. আল-জিন্ন: ১, ৫, ৬
১১৪. আন-নাস: ৬
উপরিউক্ত আয়াতসমূহে ৩২বার জিন্ন, জান্ন, জিন্নাতুন শব্দসমূহ উদ্ধৃত হইয়াছে এবং কোন কোন আয়াতে জিন্ন সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য বিদ্যমান আছে। উদাহরণস্বরূপ:
وَخَلَقَ الْجَانَّ مِنْ مَّارِجٍ مِّنْ نَّارٍ . "এবং তিনি জিন্নকে সৃষ্টি করিয়াছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হইতে” (৫৫: ১৫)।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ . "আমি জিন্ন ও মানুষকে এইজন্য সৃষ্টি করিয়াছি যে, তাহারা আমারই ইবাদত করিবে” (৫১: ৫৬)।
بمَعْشَرَ الْجِنَّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ . "হে জিন্ন ও মনুষ্য সম্প্রদায়! তোমরা যদি আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা অতিক্রম করিতে পার তবে অতিক্রম কর, কিন্তু তোমরা অতিক্রম করিতে পারিবে না সনদ ব্যতিরেকে" (৫৫: ৩৩)।
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ . "স্মরণ কর, যখন আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করিয়াছিলাম একদল জিন্নকে, যাহারা কুরআন পাঠ শুনিতেছিল” (৪৬: ২৯)।
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا "বল, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হইয়াছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে, আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করিয়াছি” (৭২ : ১)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীছেও জিন্ন একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে স্বীকৃত হইয়াছে। মহানবী (স) বলেন:
خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُ مِنْ مَّارِجٍ مِّنْ نَارٍ وَخُلِقَ أَدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ . "ফেরেশতাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হইয়াছে; জিন্নকে সৃষ্টি করা হইয়াছে নির্ঘুম অগ্নিশিখা দ্বারা এবং আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হইয়াছে তোমাদের নিকট বর্ণিত বস্তু দ্বারা" (মুসলিম, যুহদ, বাব ফী আহাদীছ মুতাফাররিকা, ২ খ.)।
لا تَسْتَنْجُوا بِالرُّوث ولا بالعظامِ فَإِنَّهُ زَادُ اخْوَانِكُمْ مِّنَ الْجِنَّ . "তোমরা না শুষ্ক গোবর দ্বারা আর না হাড় দ্বারা শৌচকার্য করিবে। কারণ এইগুলি তোমাদের ভ্রাতৃকুল জিন্নদিগের খাদ্য” (তিরমিযী, তাহারাত, বাব কারাহিয়াতি মা ইয়ুসতানজা বিহী, ১খ, আরও দ্র. বুখারী, মানাকিবুল আনসার, বীব মা জাআ মিনাল জিন্ন, নং ৩৫৭৩)।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُوْنَ وَالْمُشْرِكُونَ والجن والانس . "ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মহানবী (স) সূরা আন-নাজম-এ সিজদা করিলে তাঁহার সহিত মুসলমান, মুশরিক, জিন্ন ও মানব সকলে সিজদা করে" (বুখারী, তাফসীর সূরা নাজম; আরও দ্র. তিরমিযী, আবওয়াবুস সাফার, বাব মা জাআ ফিস-সাজdaতি ফিন-নাজম, ১ খ.)।
কুরআন মজীদ ও হাদীছ শরীফে জিন্নদিগের সম্পর্কে বহুবিধ তথ্য বিদ্যমান যাহা দ্বারা ইহারা স্বতন্ত্র জাতি প্রমাণিত হয়। সুতরাং মু'মিন মুসলমানদের ঈমান এই যে, ইহারা আল্লাহ পাকের একটি বিশেষ সৃষ্টি।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তামার প্রস্রবণ

📄 তামার প্রস্রবণ


হযরত দাউদ (আ)-এর জন্য যেমন লৌহকে মোলায়েম ও নমনীয় করিয়া দেওয়া হইয়াছিল (দ্র. ৩৪ : ১০), অদ্রূপ হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য তাম্রের প্রস্রবণ প্রবাহিত করা হইয়াছিল। তিনি প্রয়োজনমত ইহা দালান-কোঠা, দুর্গাদি, নৌযান ইত্যাদি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করিতেন। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ القطر . "আমি তাহার জন্য গলিত তামের এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করিয়াছিলাম” (৩৪ : ১২)।
কতক তাফসীরকার বলেন যে, আল্লাহ তাআলা ইয়ামানে গলিত তামার একটি প্রস্রবণ প্রবাহিত করিয়া উহা হযরত সুলায়মান (আ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া দিয়াছিলেন (মাওদিহুল কুরআন-এর বরাতে আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১০৫)। কতক মুফাসসির বলেন যে, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-এর প্রয়োজন মাফিক তাম্রকে গলাইয়া দিতেন এবং ইহা ছিল আল্লাহ প্রদত্ত তাঁহার এক মু'জিযা (কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১১১)। আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার বলেন, ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত উপাদানের কারণে যে স্তরে তাম্র বিগলিত অবস্থায় থাকে, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে উহার সন্ধান দিয়াছিলেন। তৎপূর্বে কেহই এই সম্পর্কে অবহিত ছিল না (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৩৯৩)। ইন্ন কাছীর (র) হযরত কাতাদা (র)-এর বরাতে বলেন যে, গলিত তাম্রের এই প্রস্রবণ ইয়ামানে অবস্থিত ছিল, যাহা আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য উন্মুক্ত করিয়াছিলেন (বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৮)। সুদ্দী (র) বলেন, তিনি ইহা নির্মাণ ইত্যাদি কর্মে ব্যবহার করিতেন (ঐ, পৃ. ২৮)। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে আকাবা উপসাগরের তীরে ঈলাত (বর্তমান আকাবা)-এর পশ্চিমে প্রায় পঁচিশ বর্গমাইল এলাকা জুড়িয়া তাম্র খনির প্রাচীন নিদর্শন আবিস্কৃত হইয়াছে, যাহা হইতে সুলায়মান (আ)-এর যুগে তাম্র উত্তোলন করা হইতে (আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১০৬, টীকা ১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সামুদ্রিক নৌবহর

📄 সামুদ্রিক নৌবহর


হযরত সুলায়মান (আ)-ই প্রথম ইসরাঈলী শাসক যিনি সামুদ্রিক নৌবহর গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করিয়াছিলেন। তিনি ইসিয়ূন জাবির নামক স্থানে এক বিরাট নৌবহর গঠন করেন। সূর (লেবানন)-এর শাসক ১ম হীরাম (দাউদ ও সুলায়মান (আ)-এর মিত্র)-এর অভিজ্ঞ ও সচেতন নাবিকগণ ঐ নৌবহরের পরিচালক ছিল। এই সম্পর্কে বাইবেলে বিবৃত আছে: "আর শলোমন রাজা ইদোম দেশে সূফসাগরের তীরস্থ এলতের নিকটবর্তী ইৎসিয়োন-গেবরে কতকগুলি জাহাজ নির্মাণ করিলেন। পরে হীরম শলোমনের দাসদের সহিত সামুদ্রিক কার্যে নিপুণ আপন দাসদিগকে সেই সকল জাহাজে প্রেরণ করিলেন। তাহা ও ফীরে গিয়া তথা হইতে চারি শত বিশ তালন্ত স্বর্ণ লইয়া শলোমন রাজার নিকটে আনিল" ১ম রাজাবলী, ৯: ২৬-২৮)। হযরত সুলায়মান (আ) তাঁহার শাসনামলে ব্যাপক আকারে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁহার নৌবহর একদিকে ইসিয়ূন জাবির হইতে লোহিত সাগরস্থ ইয়ামানে এবং দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় দেশসমূহে যাতায়াত করিত, অপরদিকে রোম সাগরস্থ বন্দর হইতে পশ্চিম অঞ্চলের দেশসমূহে যাতায়াত করিত (তাফহীমুল কুরআন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৭৬, টীকা ৭৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সামরিক বাহিনী

📄 সামরিক বাহিনী


আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে মানবজাতি, জিন্ন জাতি ও বিহঙ্গকূলের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, দক্ষ ও প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী সামরিক বাহিনী দান করিয়াছিলেন। কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَحُشِرَ لِسُلَيْمَنَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنَّ وَالْإِنْسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ .
"সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে- জিন্ন, মানুষ ও বিহঙ্গকুলকে এবং উহাদিগকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যুহে” (২৭:১৭)।
হযরত সুলায়মান (আ) যখন কোন অভিযানে যাত্রা করিতেন, তখন জিন্ন, মানুষ ও বিহঙ্গকুল, এই তিন বাহিনী হইতে প্রয়োজন মাফিক সৈন্য সঙ্গে লইতেন (তাফসীরে উছমানী, পৃ. ৫০৪, টীকা ১)। ইহাদের মধ্যে বিহঙ্গকুল পাখা বিস্তার করিয়া মনুষ্য বাহিনীকে ছায়া দান করিত (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৯) এবং জিন্ন বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের শ্রমসাধ্য কর্মে নিয়োগ করা হইত, যাহা কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। কতক ডুবুরির কাজ করিত (২১: ৮২); কতক অন্যান্য কাজ করিত (৩৪: ১২), কতক প্রাসাদ, ভাস্কর্য ও চৌবাচ্চা সদৃশ্য রন্ধনপাত্র নির্মাণ করিত।
وَمِنَ الْجِنَّ مَنْ يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِاذْنِ رَبِّهِ وَمَنْ يُزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ . يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيْبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَسِيت .
"তাহার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিন্নদের কতক তাহার সম্মুখে কাজ করিত। উহাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করে তাহাকে আমি অগ্নি-শাস্তি আস্বাদন করাইব। উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, হাওয সদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিত" (৩৪: ১২-১৩)।
والشَّيْطَينَ كُلِّ بَنَّا ، وَغَواصِ وَآخَرِيْنَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ .
“এবং শয়তানদিগকেও (তাহার অধীন করিয়াছিলাম), যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে” (৩৮: ৩৭-৩৮; আরও দ্র. বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৮)।
কোন কোন তাফসীরকার ও ঐতিহাসিক হযরত সুলায়মান (আ)-এর সৈন্যসংখ্যার কল্পনাতীত প্রাচুর্য প্রদর্শন করিয়াছেন, যাহার কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নাই। বাইবেলে তাঁহার সেনাবাহিনীর একটি পরিসংখ্যান বিদ্যমান। "শলোমনের রথের নিমিত্ত চল্লিশ সহস্র অশ্বশালা ও বারো সহস্র অশ্বরোহী ছিল” (১ম রাজাবলী, ৪: ২৬-২৭)। "আর শলোমন অনেক রথ ও অশ্বারোহী সংগ্রহ করিলেন; তাঁহার এক সহস্র চারি শত রথ ও বারো সহস্র অশ্বারোহী ছিল” (১ম রাজাবলী, ১০ঃ ২৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00